November 20, 2018

কাপড় ব্যবসায়ীদের দখলে জবির টিএসসি; নিশ্চুপ প্রশাসন!

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তন (টিএসসি) দখল করে চলছে শীতকালীন কাপড়ের রমরমা ব্যবসা। জবি ছাত্রলীগের সভাপতি এফ এম শরিফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক এসএম সিরাজুল ইসলামের নির্দেশে টিএসসিতে কাপড়ের ব্যবসা বসানো হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তবে এফ এম শরিফুল ইসলাম এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘টিএসসি দখলের সঙ্গে ছাত্রলীগের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এরা কারা আমি কাউকে চিনি না। এরা ছাত্রলীগের কেউ না।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেটের সামনে রাস্তার উল্টোপাশে অবস্থিত জবির টিএসসি। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে হল উদ্ধারের আন্দোলনের মুখে ওই জায়গা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় তখনকার সমবায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

তবে এরমধ্যেই কিছু মৌসুমী ব্যবসায়ী সেখানে পুরানো কাপড়ের ব্যবসা করায় ক্ষুব্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে এলেও এ ব্যাপারে পদক্ষেপ তো দূরের কথা তারা অনেকটা নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করছেন।

বুধবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, টিএসসির ভেতরের দিকের সামনের অংশে বসানো হয়েছে প্রায় দশটি চা ও কলা-রুটির দোকান। আর পেছনের বড় অংশজুড়ে বসেছে পুরান কাপড়ের দোকান। বড় বড় কাপড়ের বস্তা নিয়ে কমপক্ষে ২০ জন দোকান সাজিয়েছেন।

সাধারণ শিক্ষার্থীরা এসব ব্যবসা বন্ধ করে জায়গা খালি করতে একাধিকবার চেষ্টা করলেও ছাত্রলীগের কেউ কেউ বাধা দিয়েছেন বলেও অভিযোগ আছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রায় একমাস ধরে টিএসসি দখল করে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা শীতকালীন কাপড়ের ব্যবসা শুরু করেছেন। নিজেদের প্রয়োজনে সমবায় ব্যাংক উচ্ছেদ করে তাকে টিএসসি ঘোষণা দিলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় ছাত্রনেতা এখান থেকে ব্যবসা করছেন। উচ্ছেদ করে লাভ কী হলো এমন প্রশ্ন সাধারণ শিক্ষার্থীদের।

জানা যায়, গত বছর অক্টোবরে তিন লাখ টাকার বিনিময়ে পুরান কাপড়ের ব্যবসায়ীদের কাছে টিএসসি ভাড়া দেয় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ। কিন্তু সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে সে সময় বাজার উঠিয়ে নিতে বাধ্য হয় ব্যবসায়ীরা। এ বছর দ্বিতীয়বারের মতো সেখানে পুরান কাপড়ের বাজার বসেছে।

জানা গেছে, ২০১৩ সাল থেকে টিএসসি অধিগ্রহণের চেষ্টা চালিয়ে আসছে জবি প্রশাসন। ২০১৩ সালের ৪ সেপ্টেম্বর হাবিবুর রহমান হলের জমির সঙ্গে টিএসসির জমির অদল-বদল চেয়ে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় বরাবর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিঠি পাঠান। কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকে এখনও চিঠির উত্তর মেলেনি।

টিএসসি দখল করে কাপড়ের ব্যবসা করার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. অহিদুজ্জামান সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts