September 20, 2018

কাঠগড়ায় গভর্নর: দেশে ফিরেছেন ড. আতিউর

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক’ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের টাকা চুরির ঘটনায় বিপাকে পড়েছেন গভর্ণর ড. আতিউর রহমান।

ঘটনাটি জানার পরও কেন অর্থমন্ত্রী বা সরকারের উচ্চ পর্যায়ে জানাননি, তা নিয়ে এখন কাঠগড়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের এই গভর্ণর।

ঘটনাটি ধাপাচাপা দেয়ার অভিযোগে গত কয়েকদিন ধরেই গভর্ণর ড. আতিউরের পদত্যাগের দাবি জোরালো হচ্ছে। বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল তো বটেই, খোদ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও জেষ্ঠ্য নেতারাও তার বিরুদ্ধে গাফিলতি ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ এনেছেন।

এ ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, কি স্বার্থে কাকে বাঁচাতে তিনি এতো বড় ঘটনা চেপে রেখেছেন, তা তদন্ত করতে হবে। তিনি এখন জনতার আদালতে। তাকে এর জবাব দিতে হবে ?

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ পূর্বপশ্চিমকে বলেন, সরকার দেখতে চায় কোন ত্রুটিতে, কার গাফিলতিতে এ ঘটনা ঘটেছে। পরে বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করে বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এত বড় ঘটনা আমাদের বিদেশি পত্রিকার মাধ্যমে জানতে হলো, যা অনভিপ্রেত। কে বা কারা এ চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে তার সবকিছু খুঁজে বের করতে হবে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নুহ-উল-আলম লেনিন ফেইসবুকে এক পোস্টে লিখেছেন, টাকা চুরি যাওয়া এবং তথ্য গোপন করে দায়িত্বহীন আচরণের জন্য অবিলম্বে আতিউরকে গভর্নরের পদ থেকে অপসারণ করা উচিত।

আওয়ামী লীগের এই নেতা পুরো ঘটনার তদন্ত দাবি করেছেন এবং গভর্নর আতিউরকে ‘ড. মুহম্মদ ইউনুসের চেলা’ আখ্যায়িত করে তাকে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি তুলেছেন।

লেনিন পূর্বপশ্চিমকে বলেন, গভর্নর আতিউর রহমান এড়াতে পারেন না। অর্থমন্ত্রী ও ব্যাংকিং বিভাগের সচিবকে জানাননি কেন? তিনি কার স্বার্থে কাজ করছেন এটা খতিয়ে দেখতে হবে।

বিএনপির পক্ষ থেকে গভর্নরের পাশাপাশি অর্থমন্ত্রীকেও এ ঘটনার জন্য দায়ী করে দুজনের পদত্যাগ চাওয়া হয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দুদিন আগে বলেছেন, গভর্নরকে অবশ্যই এর ব্যাখ্যা দিতে হবে।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ রিজার্ভ চুরির ঘটনা প্রতিরোধে ব্যর্থতার অভিযোগে তুলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন।

রিজভী আহমেদ বলেন, ‘বিএনপি’র পক্ষ থেকে অবিলম্বে চুরি যাওয়া অর্থ উদ্ধার ও এর সাথে জড়িতদের শাস্তি দাবি করছি। একই সঙ্গে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত এবং গভর্নর আতিউর রহমানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগেরও দাবি করছি।’

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ২০০৯ সালে সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর ওই বছর ১ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের দশম গভর্নর হিসাবে চার বছরের জন্য দায়িত্ব নেন উন্নয়ন গবেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আতিউর রহমান।

এরপর ১০১৩ সালের এপ্রিলে সরকার তাকে আরও এক মেয়াদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ দায়িত্বে রাখার সিদ্ধান্ত জানায়। সে অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২ অগাস্ট তার গভর্নরের মেয়াদ শেষ হবে।

এদিকে সূত্র জানিয়েছে, বিমান থেকে নেমেই জরুরি ভিত্তিতে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে বলা হয়েছে গভর্নরকে। এ বিষয়ে গভর্নরের দপ্তরকে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।

ভারত সফর শেষে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান। সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টায় তিনি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে নেমেছেন।

বিমান বন্দরে গভর্নরকে রিসিভ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের জিএম (প্রটোকল) আসাদুজ্জামান।

Related posts