September 26, 2018

কাজের মেয়েকে হত্যা!

460
এ কে আজাদ,চাঁদপুরঃ  চাঁদপুর পুরানবাজারে তানজিলা আক্তারকে (১০) নামের এক শিশু কাজের মেয়েকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগে পুলিশ গৃহিনীসহ ৩জনকে আটক করেছে। আটককৃতরা হলেন, বাড়ির মালিক নান্টুর হাওলাদারের স্ত্রী জোৎনা বেগম, স্থানীয় রওশন আলীর পুত্র নূর মোহাম্মদ হাওলাদার (৬০) ও রওশন কুড়ালীর পুত্র আব্দুল খালেক (৬০)। শিশু তানজিলা সদর উপজেলার রাজরাজেস্বর বাশগাড়ী চরের তৈয়ব আলী বেপারী ও বেগমের মেয়ে। সে পুরাণবাজার মার্চেন্ট একাডেমীর শিশু শ্রেনীর ছাত্রি। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার সন্ধ্যায় পুরানবাজার নিতাইগঞ্জ এলাকায়। আজ দুপুরে লাশ ময়না তদন্তের জন্য চাঁদপুর মডেল থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গত সোমবার দুপুরে তারা তানজিলাকে বাড়ির পাশে খেলাধূলা করতে দেখেছে। রাতের কোনো এক সময়ে এই ঘটনা ঘটে। ওই রাতেই জোৎনা ও তার স্বামী নান্টু হাওলাদার বিষয়টি আশে-পাশের কাউকে বুঝতে না দিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সহযোগিতায় কাথা দিয়ে পেচিয়ে ট্রলার যোগে রাজরাজেশ্বর তার বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে তানজিলার স্বজনরা তার শরীরের বিভিন্ন ক্ষত চিহ্ন দেখতে পেয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করে। পরে রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বার বিষয়টি জানতে পেরে লাশ দাফন করতে বাঁধা প্রদান করে।
461
বিষয়টি পুরানবাজার পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম অবগত হলে  তিনি রাজরাজেস্বর ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে ফোন করে দাফন বন্ধ করে তানজিলার লাশ পুনরায় পুরানবাজারে পাঠাতে বলে। দুপুর আড়াই টায় তানজিলার লাশ ফাড়িতে আনা হয়। এসময় পুরিলশ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে নান্টুর হাওলাদারের স্ত্রী জোৎনা বেগম, মম ফ্যাক্টরীর রওশন আলীর পুত্র নূর মোহাম্মদ হাওলাদার (৬০) ও রওশন কুড়ালীর পুত্র আব্দুল খালেক (৬০) কে আটক করে।

এ দিকে পুরানবাজার পুলিশ ফাড়িতে লাশ আনার পর শত শত উৎসুক জনতা তানজিলার লাশ এক নজর দেখার জন্য ভীড় জমায়। পরে লাশ সুরতাল শেষে পুলিশ ময়না তদন্তের জন্য মডেল থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তানজিলার বাবা তৈয়ব আলী বাদী হয়ে চাঁদপুর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। বিকালে চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ মামুনুর রশিদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন কালে সাংবাদিকদের জানান, শিশুটির লাশ দেখে প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা যাচ্ছে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ ও এলাকাবাসীদের সাথে আলোচনা করলে হত্যার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।

এ ব্যপারে তানজিলার মা বেগম জানায়, গত ৯ মাস পূর্বে আমার খালাতো বোন জোন্সার বাসায় আমর মেয়েকে কাজ করতে দিয়েছি। সোমবার সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের পর খালাতো বোন জোস্না জানায় তানজিলা টয়লেটের দরজা আটকিয়ে ফাসি দিয়েছে। পরে চরে নিয়ে লাশ দাফন করার জন্য জানালে তারা কয়েকজন লাশ নিয়ে আসে। কি কারনে তার মৃত্যু হয়েছে তা জানা নেই। তার শরীরের গলায়, হাতে ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন ছিলো।

এদিকে নান্টুর পার্শ্ববর্তী লোকজন জানায়, তাকে নির্যাতন করে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে টয়লেটের ভিতরে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। নান্টু ও তার স্ত্রী এ হত্যার ঘটনার সাথে জরিত রয়েছে। পৌর ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ আলী মাঝি  জানায়, তানজিলা হত্যার সঙ্গে যারা জড়িত রয়েছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি। এ ঘটনায় নিরাপোরাধ মানুষ যেনো মামলা ও হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে পুলিশকে নজর রাখতে হবে।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts