November 18, 2018

কাজের চাপে ইসহাকের ‘সুইসাইড’ মানছে না পুলিশ!

ঢাকাঃ  চট্টগ্রামে বাড়ির ছাদে ব্যাংক কর্মকর্তা ইসহাকের আত্মহত্যা করার বিষয়টি মেনে নিতে পারছে না পুলিশ। পরিবারের সদস্যরা দাবি করছেন, অফিসের কাজের চাপ সইতে না পেরে তিনি সুইসাইড করেছেন, অন্যদিকে পুলিশ বলছে পানির ট্যাংকিতে ওঠার সিঁড়িতে ঝুলে আত্মহত্যা করার ব্যাপারটি পুরোপুরি অস্বাভাবিক।

খুলশী থানা পুলিশ জানায়, ঘটনাটি এখনো রহস্যজনক মনে করছেন তারা। কারণ শুধু অফিসের চাপ সইতে না পেরে একজন লোক আত্মহত্যা করার মতো বিষয়টি বেছে নেবেন তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। এর পেছনে পারিবারিক কোন অশান্তি কিংবা কোন বিরোধ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনাটি আরো নিশ্চিত হওয়ার জন্য পুলিশ ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে। তবে থানার একজন এসআই জানান, নিহত ব্যাংক কর্মকর্তা ইসহাকের বাসায় এক ধরনের কীটনাশকের গন্ধ পাওয়া গেছে। চাকরি জীবনের পাশাপাশি তিনি বিপুল সম্পত্তির মালিক। এসব সম্পত্তি নিয়ে পূর্বশত্রুতার বিষয়টি তদন্ত করতে পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মো. ইসহাক কৃষি ব্যাংকের হাটহাজারী উপজেলার মদনহাট শাখায় নিয়োজিত ছিলেন। তার ওয়াসার মোড়ের হাইলেভেল রোড এলাকায় লোকমান সাহেবের ভবনটি ছিলো শ্বশুরের নামে। তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এখানেই থাকতেন।

পুরো ঘটনাটিকে রহস্যজনক উল্লেখ করে খুলশী থানার ওসি মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন বলেন, রাতের খাবার খেয়ে স্বাভাবিকভাবে ঘুমাতে গিয়েছিলেন ইসহাক। কিন্তু পরে তার লাশ উদ্ধারের কথা শুনে কিছুটা হতবাক হয়েছি বৈ কি! পরিবারের সদস্যদের আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করবো।

ওসি বলেন, ইসহাকের মেয়ে মুমু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্রী। সে জানিয়েছে মারা যাওয়ার আগের রাতে তার সঙ্গে বাবার মৃত্যু নিয়ে কথা হয়েছে। ইসহাক মেয়েকে বলেছে মরে যাওয়ার আগে যেন কাগজপত্র বাড়ির দলিল সব বুঝে নেয় তার মেয়ে।

ইসহাকের শ্যালক ফারুক হোসেন বলেন, ব্যাংকের অতিরিক্ত কাজ করতে হতো দুলাভাইকে। দুলাভাই অফিসিয়াল চাপের কথা প্রায়ই বলতেন। তার একজন কলিগ অবসরে গেছেন আরেকজন মারা গেছেন। কিন্তু দু’জনের কাজই তাকে সামলাতে হতো।

ইসহাকের মেয়ে মুমু বলেন, কয়েকদিন আগে বাড়ি আসি। তখন বাবাকে হতাশাগ্রস্ত দেখি। এমনিতে নানু মারা যাওয়ার পর থেকে মা মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। বাবা আমাকে গত রাতেও বারবার বলেছেন, তুই-ই আমার সব। আমার সব টাকা-পয়সা, সম্পত্তি, কাগজপত্র তোকে দেখিয়ে দিচ্ছি। যদি আমি মরে যাই তুই সব বুঝে নে। মুমু কাঁদতে কাঁদতে জানান, বাবা প্রায়ই বলতেন অফিসের কাজের চাপ আর নিতে পারছেন না।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/৬ মে ২০১৬

Related posts