November 19, 2018

কাছের নক্ষত্র থেকে ভেসে এলো শক্তিশালী ‘এলিয়েন সিগনাল’!

প্রযুক্তি ডেস্ক: পৃথিবীতে ভেসে এসেছে একটা শক্তিশালী সংকেত। মহাশূন্যের খুব কাছাকাছি অবস্থিত সূর্যের মতো আরেকটি নক্ষত্র থেকেই আসছে সংকেতটি। আর এ সংকেতের অর্থ বুঝতে উঠেপড়ে লেগেছেন বিজ্ঞানীরা।

২০১৫ সালের মে মাসে বিজ্ঞানীরা রাশিয়া থেকে রেডিও টেলিস্কোপের মাধ্যমে ‘সেটি (সার্চ ফর এক্সট্রাটেরেস্ট্রিয়াল ইন্টেলিজেন্স)’ সংকেত গ্রহণ করেন। এটি আসে এইচডি ১৬৪৫৯৫ থেকে। এই সৌরজগতটি পৃথিবী থেকে ৯৪ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত।

এইচডি ১৬৪৫৯৫ একটিমাত্র গ্রহকে আশ্রয় দিয়েছে। তবে ওই সৌরজগতে আরো গ্রহ লুকিয়ে আছে যেখানে প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে। এসব তথ্য জানা সেটি ইনস্টিটিউটের জ্যোতির্বিজ্ঞানী সেথ সোস্টাক।

তিনি জানান, এই সংকেতটি এত বেশি শক্তিশালী যে একে মহাশূন্যের স্বাভাবিক শব্দতরঙ্গ বলে ধরে নেওয়া যাচ্ছে না। বরং এলিয়েন সভ্যতা থেকে যেমন সংকেত পাঠানোর কথা চিন্তা করা হয়, এটি অনেকটা তেমনি। এই সংকেতের ধরন আমাদের চেয়ে অনেক বেশি আধুনিক। সংকেতটি মোটেও সাধারণ নয়।

যে সংকেতটি এতদূর পাঠানো হয়েছে তা পাঠাতে এলিয়েনদের ১০০ বিলিয়ন বিলিয়ন ওয়াট শক্তির প্রয়োজন। যেখানক থেকে সংকেতটি এসেছে, তাকে বিম আকারে পাঠাতে ১ ট্রিলিয়ন ওয়াট খরচ করতে হবে। সূর্যের আলোকরশ্মি পৃথিবীতে পৌঁছতে যে শক্তি খরচ হয়, ওই সংকেতটি তার চেয়ে শত শত গুন বেশি শক্তি খরচ করে এসেছে।

সেটি ইনস্টিটিউট বর্তমানে অ্যালেন টেলিস্কোপ অ্যারে’র (এআরএ) দিকেই চেয়ে রয়েছে। তারা দেখতে চায় আসলেই সংকেতটি ভিনগ্রহের প্রাণীদের থেকে আসছে কিনা।

দুঃখজনক বিষয় হলো, রাশিয়া-ভিত্তিক বিজ্ঞানীদের দলটি ৩৯ বার এইচডি ১৬৪৫৯৫ নক্ষত্রটিকে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং একবারমাত্র সংকেতটি গ্রহণ করেছেন। যদি এরপর সংকেতটি আর না মেলে তবে তা রহস্যই থেকে যাবে।

এ সংকেত সম্পর্কে আর কোনো তথ্য না মিললে বিষয়টি স্রেফ ‘অদ্ভুত’ হিসাবেই থেকে যাবে।

Related posts