November 15, 2018

কাঁশি দেওয়ায় ছাত্রের বুকে পা চাপা<<হাসপাতালে ভর্তি!


রহিম রেজা,
ঝালকাঠি থেকেঃ
ঝালকাঠির রাজাপুরে জাহিদুল ইসলাম (৯) নামে ৩য় শ্রেণির এক শিশু ছাত্রকে তারাবির নামাজের মধ্যে কাঁশি দেওয়ার জের ধরে নিষ্ঠুরভাবে বুকে পদদলিত করে নির্যানের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল শনিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে উপজেলার নিজ গালুয়া গ্রামের ইসমাইল খলিফার ছেলে বখাটে নোমান হোসেন (২০) বায়তুন নূর জামে মসজিদের বারান্দায় (গালুয়া হুজুরের বাড়ির মসজিদ) এ ঘটনা ঘটায়। জাহিদ গালুয়া গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে ও গালুয়ার জামিয়া ইসলামীয়া মাহতাব উলুম মাদ্রাসার ৩য় শ্রেণির ছাত্র। আহত ওই ছাত্র রাজাপুর স্বাস্থ্য ভর্তি।

রোববার বিকেলে চিকিৎসাধীন জাহিদুল ইসলাম বলে, ‘‘মুই খতম তারাবির নামাজ পড়তে পড়তে ক্লান্ত হয়ে পড়ি। হের পর মসজিদের বারিন্দায় ফ্লোরে হুইয়া থাহি। এতে কাল (ঠান্ডা) মোর বার বার কাঁশ উঠে। তহন নোমান নামাজ পড়া থুইয়া আইয়া মোর বুকে পাড়া দিয়া কই তোর কি যক্ষ্মা ওইছে। তখন মুই ব্যাথায় চিক্কইর (চিৎকার) দিলে নোমান পলাইয়া যায়। বর্তমানে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন জাহিদ বুকের ব্যাথার কারনে ভারি খাবার খেতে পারছেনা। স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ওই শিশু ছাত্রের সেবারত বায়তুন নূর জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ ইসমাইল হোসেন বলেন, মসজিদের বারান্দায় শুয়ে জাহিদ কাঁশতে থাকলে নোমান গিয়ে তার বুকে পা দিয়ে আঘাত করে।

পরে তাকে উদ্ধার করে রাজাপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করাই। গালুয়ার জামিয়া ইসলামীয়া মাহতাব উলুম মাদ্রাসার সুপার মাও. আব্দুর রহিম খান জানান, শুধু শুধু ছাত্র জাহিদকে অমানুষিকভাবে বুকে পা দিয়ে আঘাত করেছে। নোমান এলাকায় চিহ্নিত চোর ও বখাটে হিসেবে পরিচিত। সে একের পর এক অঘটন ঘটিয়ে চলছে। সুপার এ ঘটনার বিচার দাবি করেন। রাজাপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আবুল খায়ের রাসেল জানান, ওই শিশুকে ভর্তি করে বুক এক্স-রের মাধ্যমে পরীক্ষা করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। রাজাপুর থানার ওসি শেখ মুনীর উল গীয়াস জানান, এ ঘটনায় এখনও কোন অভিযোগ পাইনি, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি এবং অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঝালকাঠির আরও খবর……

মায়ের মামলায় ছেলের যাবজ্জীবন

ঝালকাঠির রাজাপুরের রোলা গ্রামে মাদকের পাঁচশত টাকার জন্য জন্মদাতা পিতাকে হত্যার ঘটনায় মায়ের দায়ের করা মামলায় ছেলে মো. কামাল হোসেন (৩০) কে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে ঝালকাঠি জেলা ও দায়রা জজ আদালত। রোববার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো.শফিকুল করিম এ রায় ঘোষণা দেন। রায়ে কামাল হোসেনকে বিশ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও দুই বছরের সশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় আসামী কামাল হোসেন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক  প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল মান্নান রসূল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার রোলা গ্রামে ২০১৪ সালের ১০ নভেম্বর ভোরে মো. কামাল হোসেন তার মা জয়তুন্নেছাকে এক ছড়া পাকা কলা ঝুড়িসহ মাথায় তুলে দেওয়ার জন্য বলে।

বৃদ্ধ মা মাথায় ঝুড়ি তুলে দেওয়ার সময় তা মাথা থেকে পড়ে গিয়ে পাকা কলা নষ্ট হয়ে যায়। এ ঘটনার রেশ ধরে কামাল হোসেন পিতা সিরাজ হাওলাদার (৬৫) এর কাছে পাঁচশত টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকার করলে ক্ষিপ্ত হয়ে মাদকাসক্ত ছেলে দরজার লাট দিয়ে পিতার মাথায় আঘাত করে। এতে পিতা সিরাজ হাওলাদার অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে রাজাপুর সাস্থ্য কেন্দ্রে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পিতার মৃত্যুর খবর পেয়ে কামাল হাওলাদার পালিয়ে যাওয়ার সময় গ্রামের লোকজন তাকে রাজাপুর থানা পুলিশে সোপর্দ করে।

এ ঘটনায় ছেলে কামাল হোসেনকে একমাত্র আসামি করে তার মা জয়তুন্নেছা রাজাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। রাজাপুর থানার এসআই আঃ বারেক ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ঝালকাঠি জেলা ও দায়রা জজ আদালত ১৮ কার্য দিবসে ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে উপরোক্ত রায় ঘোষনা করেন। রাষ্ট্র্র পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল মান্নান রসূল ও আসামী পক্ষে ছিলেন এস্টেট ডিফেন্স ছিলেন কার্তিক চন্দ্র দত্ত।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি ১৯ মে ২০১৬

Related posts