September 26, 2018

কাঁটা তাঁরে ঘেরা জীবন

জুলি রহমান
শোন তাহলে ঐ কথাই পাক্কা। আমরা এবার বাংলাদেশে গিয়ে সেই রকম মজা করবো। এই ধর যমুনা ফিচার; আশুলিয়া ফ্যান্টাসী কিংডাম, । তুই কোথায় উঠবি গুলশান না বনানী?আমি কিন্ত উত্তরায় এক সপ্তাহ থাকবোই।আমার কাজিনরা তাহলে জীবনের আড়ি নিবে।বলে আবন্তি কবীর।

আচ্ছা তাহলে কাল সকালেই আমরা যাচ্ছি। জৈন তারসীকে নিয়ে অনেক মজা হবে। ওর জন্মতো আবার আমাদের পাশের বাড়িতে।জানিস তো!

আবন্তি জানিনা আবার! শোন তাহলে আমরা ঠিক ছটায় জে এফ কে তে মিট করছি ওকে দোস্ত। এখন ঘুমুতে যা।ওকে গুড নাইট।

ভোর ছটায় তিন বন্ধু জে এফকে বিমান বন্দরে এসে হাজির হলো ।সংগে ওদের বাবা মা ও এগিয়ে দিতে আসে।ফারাজ আইয়াজ মায়ের কপালে চুমু দিয়ে বিদায় নিলো।

বিমানে বসেই ওরা স্থির করলো কোথায় কার বাড়িতে ওঠবে।উত্তরা  এয়ারপোটর্ সংলগ্ন বলে আবিন্ত কবীরের বাড়িতেই উঠলো।

জৈন বলে ঢাকা সিটি টা আমেরিকার মতোই লাগছে শুধু রাস্তা গুলো ডাস্টি। আবন্তি বলে, ছোট একটা দেশ জনাধিক্য এতো বেশী সেই তুলনায় ভালোই আছে।ওবামার দেশে যদি আয়তনের তুলনায় লোক সংখ্যা অপ্রতুল হতো কী হতো একবার ভেবে দ্যাখ।

ওদের মুখ থেকে কথা কেড়ে নিয়ে ফারাজ বলে ;আমাদের সোনার বাংলায় দেখার মতো অনেক কিছুই আছে ড্যাড ও মাম্মীর গল্পে বহুবার শুনেছি।যে কটা দিন থাকবো শুধুই ঘুরবো।কী বলিস তোরা?

আবন্তি বা-রে ঘুরতেই তো আসা।আমেরিকাতে গিয়ে সেইতো রুটিন মাফিক জীবন কাজ পড়ালেখা ।একটু রিল্যাক্স হওয়ার জন্যই তো এই বঙ্গে আসা।

জৈন বলে, তোমাদের ভিলেজ নাই। ভিলেজের পরিবেশ আমার বেশী ভালো লাগে।শান্ত নীরব,ফুল পাখি ছোট ঘর।বৃস্টির শব্দ।রোদের ভেতর খোলা বাতাস।দিগন্ত বিস্তৃত ফসলের মাঠ।দাদা দাদুর মধুমাখা আদর।

এই এই জৈন তুমি এসব কোথায় দেখেছো? জৈন কেনো ?আমার দাদুর বাড়ি আসামের এক নিজর্ন পল্লীতে।একবারই গিয়েছিলাম।এর পর বাবা মা আর কখনো যায়নি। সেই একবারের স্নৃতিই আমি আজন্ম কালের খৈণি রুপে পরে আছি।ভাবলাম তোমাদের দেশে এসে আরেক বার এই সুযোগটা নেবো।

ফারাজ, দাঁড়াও ড্যাডকে এখ্খনি ফোন দিচ্ছি। ড্যাডের ও মাম্মীর গ্রামের বাড়ি তোকে নিয়ে যাবো। তাঁর আগে ঢাকা সিটিতে কী কী আছে দেখে নিই? জৈণ খুশি হয়ে ওঠে।

আবন্তি কবীর ব্রেক ফাস্টের জন্য টেবিলে ডাকে জৈণ ও ফারাজকে।একটু পরেই ওরা বের হবে আহসান মন্জিল পরী বিবির মাঝার শহীদ মিনার স্নৃতি সৌধ ঘুরে ওরা ফ্যান্টাসী হয়ে নন্দন পাকরে যাবে।

চলমান গাড়িতে পথের দৃশ্য দেখে ওরা গড়িয়ে চলছে।মোটেও রাস্তা সান্তরাল নয়।ঝাঁকুনী খেতে ওদের ভালোই লাগছে।রাস্তার দুধার ওদের কাছে খুব সরু মনে হয়।গাড়িগুলো এলোপাথারী চলছে।মনে হয় যে কোন মূহূতেই এ্যাকসিডেন্ট হবে।মাঝে মাঝৎ ওরা চিৎকার করে ওঠছে।ট্রাকগুলো দৈত্যের মতো ধেয়ে আসে।

মীরপুরে আসতেই জনস্রোত গাড়ির বহরের এতো ঘনত্ব যে ঠাঁই নাই তিল পরিমান।মানুষগুলো পিপিলিকার মতো বিলিকেটে কেটে চলছে।অনতিদূরে জটলা পাকানো মানুষের ভীড়।ভেতরে বাদ্য যন্ত্রের বিকট শব্দ ফেরিওয়ালার এ্যড।

অপর পাশে ফুটপাথ জুড়ে টিয়া পখির লটারী তোলার অপূবর্ কৌশল।পথচারী ডাব নিচছে।কেউ খাচছে ।তাঁরই নিচে ঈষৎ আঁষটে দন্ধ।মূত্র  আর ডাবের পানির মিশ্রনে যে ভয়ানক দুগর্ন্ধ যান্ত্রিক বাতাসকে ভারী করে তুলেছে।গাড়ির কাঁচ খুলতেই ওদের ঘ্রাণেন্দ্রীয়ে এসে ইথারী বাতসের সংযোগে বদ হাওয়ার ধাক্কা খেতেই ওরা আবার বন্ধ করে দেয়।

যা কিছু অতি দশর্নীয় বাদরের খেলা।সাপের খেলা।ওরা গাড়িতে বসেই দেখছে এসব।ওদের গাড়ির কাঁচে এসে দাঁড়ায় কচি মুখের একটি মেয়ে হাতে তাঁর ফুলের মালা। জীণর্ শরীর ময়লা যুক্ত পোষাক।ওরা তিনটি মালাও কিনলো।পানি হাতে অধর্ বয়স্ক ছোট বড় অনেক কেই দেখলো ওরা। মাম্মী বলেছেন রাস্তার কোন কিছু না খেতে বলে ফারাজ আয়াজ।

ওদের চা কফি একটা কিছু খেতেই হবে।আবন্তি ও জৈন অস্থির করে তুল্ল ফারাজকে।ওরা এখন স্নৃতি সৌধের কাছে প্রায়।রাস্তায় রাস্তায় বহু টি স্টল কিন্ত যে চায়ের কাপ এবং চারপাশের মাছি সমাবেশ তা দেখে ওদের চা খাওয়ার ইচছাটা নিমিষেই কপূর্রের মতোই উড়ে যায়।

এবার ওরা জাহাংগীর নগর ইউনিভাসির্টির বোটানিক্যাল সাইডে ঢুকে।বিশাল চত্বরে ওরা ছায়া শিতল বৃক্ষ রাজির দরাদরিতে চোখ ডুবিয়ে পান করে সবুজের পেলবতা।

জৈন তারুষি ভীষণ খুশি।আবন্তিও সুর মিলায়। ওরা গাড়ি ছেড়ে বার হলো এবং টি স্টলে বসলো।ভাসির্টির ছেলে মেয়েরা জোড় বেঁধে হাঁটছে।কেউ বা নিজর্নে বসে গল্প করছে।কেউবা দল বেঁধে ঘুরছে!টি স্টলে ছেলে মেয়েরা চা খাচ্ছে ।মাছি ভ্যান ভ্যান করছে।চায়ের কাপ গুলো এতো পুরনো যে ভেতরে বাইরে ময়লার স্তর পড়ে গ্যাছে। এসব দেখে ওরা তিন জনেই মুখ চাওয়া চাওয়ি করে।

ড্রাইভারের সৎ পরামশের ওরা নবীনগর সেনানিবাসে গল্ফ ক্লাবে ঢুকে।কফি স্টলে মনোরম পরিবেশ।শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত।কাঁচের অবারিত প্রকোষ্টে ওরা বসলো।বহুদূর বিস্তৃত বাংলার নগর কেন্দ্রিক সভ্যতায় চোখ ডুবিয়ে আয়েস করে খেয়ে নিলো।বয়দের সরল আপ্পায়নেও মুগ্ধ হলো প্রবাসী নতুন প্রজন্মের ত্রি রত্ন বন্ধু স্বজন।খাবার শেষে চা এলে ওরা মুগ্ধ হলো।কিন্তু জৈন বলে একটা ব্যাপার লক্ষ করেছো?এই দেশে ভীষণ রকমের শ্রেণীভেদ খেয়াল করলাম।

আবন্তি বলে তুমি যা ভাবছোঠিক তা নয়।আমাদের ওখানে সস্তা খাবার ম্যাকডুনাল্ডস,
পপাইস,বাগরার,ডানকিন,আবার দামী খাবার সী ফোড, ম্যাক্সিক্যান ফোড,শ্রিম্প, চাইনিজ ইত্যাদি।

না না আমি ঠিক তা বলছি না।চায়ের কাপ গুলো।পরিবেশ সব মিলিয়ে ওদের স্বাস্থহীনতার কথাটা ভাবছি।

ফারাজ সব হলো অভ্যাসের ব্যাপার বুঝলি? আমরা বাইরে আছি বলে ভয় পাই তা-ছাড়া
আমরা যদি এখানে বনর্ হতাম ?ঐ ওদের কাতারেই থাকতাম।বলে ফারাজ।এবার শোন ।আমরা এখন গুলশানেই যাই।কী বলিস?তারপর দিন আমরা মাম্মীর বাবার বাড়ি যাব।ওখান থেকে ড্যাডের বাড়ি।

ওরা এবার রওয়ানা দিলো গুলশানের উদ্যেশ্যে।ঢাকা প্রবেশ করতেই আবার সেই
অসহ্য ট্রাফিক জ্যাম।মানুষ আর যানবাহন সমানে সমান।গাড়ির অসহ্য সাইরেন কানের তালা ফাটানো বিকট আওয়াজ ওদের অনভ্যস্ত কণর্কোহরে যন্ত্রনার এক নতুন বিরক্তি কর অধ্যায় তৈরী করলো।দীঘর্ক্ষণ এই জ্যামে বসে থেকে ওরা অসহ্য হয়েও কোথায় যেনো এক সুখ ভোগ খুঁজে পেলো।

দীঘর্ক্ষণের সময় নিযার্তন দূর করতেই তিনজনই বাবা মার সাথে কথা কথা বলে। এবার ওরা গুলশানের শুনশান নীরব পরিবেশে ঢুকে আয়েসী শ্বাস ছাড়ে।ওরা গুলশান হলি আটর্জানে খাবার খাবে এমন কথা হলো! যার যার মতো ফ্রেশ হয়ে বের হলো খাবার খেতে।

তিনজনই আজ অনেক খুশি।ক্লান্তি ভুলে ওরা এখন রিল্যাক্স।তিনজনেই বসলো।খাবারও অডরার করলো।

হঠাৎ বজ্রপাতের মতো বুটের খটাখট শব্দ।কালো কাপড়ে মুখ বেঁ ধে অতি সাধারণ পোশাকে অস্ত্র হাতে তড়িৎ গতিতে । ঝাঁপিয়ে পড়ে কিছু অস্ত্রধারী যুবক।সবাই নিরবাক ভাষাহীন।অস্ত্রের মুখে জিন্মি জীবন ওরা ছবিতে দেখেছে।বাস্তবে ! না ভাবনার ব্যাকুলতায় ওরা অধীর।ওরা কী সত্যিই মরে যাবে?কিন্তু কেনো?ওদের অপরাধ কী?

ভাবনার ভেতরে ধাক্কা দিয়ে জংগী গুন্ডা বলে ওঠে।ফারাজকে এই তুই সুরা ফাতিহা বল।
ফারাজের মা তাকে আরবী শিক্ষাও দিয়েছিলেন।তা-ছাড়া প্রতি শুত্রুবারে বাবার সাথে ফারাজ মসজিদে নামাজে যেতো।তাই সে কাল বিলম্ব না করে সূরা ফাতিহা পড়ে ফ্যালে।

জংগীটি এবার বলে যা তুই চলে যা।

ফারাজ আবন্তি ও তারুষির হাত ধরে।

জংগী এবার পথ আগলে ধরলো ওরা তো মুসলীম না।ওদের ছাড়া যাবে না।

এবার ফারাজ বলে,না ওরাও মুসলীম।ওদের না ছাড়লে আমি তো যাব না।

জংগী বলে মরনের  ইচছা থাকলে মরো। আমরা ওদের দুজনকে ছাড়তে পারিনা।ওরা যদি মুসলমান ওদের হিজাব কেনো নাই?ওরা কেনো পুরুষের পোশাকে আবৃত?

মৃত্যু জন্মের পরই মানুষের পিছু ছুটে তবে সে দৃশ্য অদৃশ্য  অজানা।মানুষ যদি জানতো তবে মৃত্যু ভাবনায় মানুষ অমানুষ হতে পারতো না।আটর্জানের কাঁটা তাঁরে ঘেরা জংগী বন্দী মানুষ গুলো অস্ত্রের মুখে যখন বাকরুদ্ধ।হঠাৎই আল্লাহ যেনো ওদের গলদন্ডের অগর্ল রুদ্ধ করতে নিবার্ক তালা ঝুলিয়ে  দিলো।আর চোখেরা ভাষা পেলো।

সে ভাষায় একে অন্যের মনের কথা  বুঝতে চেষটা করে।

আবন্তি ও জৈন তারুষী ফারাজ আইয়াজকে চলে যেতে বলে।তাওতো আমরা একজন বেঁচে থাকবো।
ফারাজ চোখের জলে বলে-

বন্ধুরে তোদের ছেঁড়ে যাবোনা মরন যদি আসে মরবো তবু একা হবো না বন্ধুরে তোদের ছেঁড়ে যাবোনা—ঐ

আবন্তি কবীর জৈন তারুষী তোদের বড়ই ভালোবাসি। ভারত ছেঁড়ে এলি সোনার বাংলায়
ফারাজ আইয়াজ  মানতো দেবেনা—ঐ

বন্ধু হলো এমন সুজন ঝিনুক বুকে রত্ন যেমন বিশ্বাসী ফুলের এমন মালা খোলা যায় না—ঐ

ওদের কথা শেষ না হতেই জংগীরা মরিয়া হয়ে ওঠে।নিঃশ্বেষ করে দেয় তিনটি জীবন সহ আরজানে অবস্থানরত সবাইকে।

এই গল্পটি সম্পূণ কাল্পনিক।দায়বদ্ধতাও লেখকের।

Related posts