November 18, 2018

কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ সুপ্রিম কোর্টের

ddনজিরবিহীন পদক্ষেপ ভারতের সুপ্রিম কোর্টের। আদালত এবং বিচারবিভাগের অবমাননার অভিযোগে স্বত্ঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে কলকাতা হাইকোর্টের এক বিচারপতিকে নোটিশ পাঠিয়েছে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত। আপাতত কোনো মামলার বিচার করতে পারবেন না অভিযুক্ত ওই বিচারপতি। কলকাতা হাইকোর্টকে তেমনই নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
যার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ উঠেছে তিনি বিচারপতি সি এস কারনান। তিনি সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখে একাধিক বর্তমান ও প্রাক্তন বিচারপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন। বিচারপতি কারনানের পাঠানো তালিকায় সুপ্রিম কোর্টের কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত বিচরপতির নাম রয়েছে। মাদ্রাজ হাইকোর্টের কয়েকজন কর্মরত বিচারপতির নামও সেখানে রয়েছে। এরা সবাই দুর্নীতিগ্রস্ত বলে অভিযোগ করে বিচারপতি কারনান প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে এদের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীকে লেখা কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতির এই চিঠিকে আদালত তথা বিচারবিভাগের চূড়ান্ত অবমাননা হিসেবেই দেখছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। তাই স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে
আদালত অবমাননার মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। আজ বুধবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জেএস খেহর এবং অন্য সিনিয়র বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত সাত সদস্যের বেঞ্চ শুনানি গ্রহণ করেছে। শুনানিতে ভারত সরকারও বিচারপতি সিএস কারনানের বিপক্ষেই দাঁড়িয়েছে। বিচারবিভাগের সামগ্রিক অবমাননা রুখতে বিচারপতি কারনানের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ করার পক্ষে জোর অভিমত ব্যক্ত করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মুকুল রোহতগি।
সাত বিচারপতির বেঞ্চ বিচারপতি কারনানকে আদালত অবমাননার নোটিশ পাঠিয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টকে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, আপাতত বিচারপতি সিএস কারনানকে কোনো মামলার বিচারের ভার যেন না দেয়া হয়। তাকে কোনো প্রশাসনিক কাজ দেয়ার উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। ১৩ ফেব্রুয়ারি ফের এই মামলার শুনানি হবে। সে দিন বিচারপতি কারনানকে সুপ্রিম কোর্টের সাত বিচারপতির বেঞ্চের সামনে হাজিরা দিতে হবে। কড়া পদক্ষেপের মুখে পড়তে হতে পারে তাকে।
বিচারপতি সিএস কারনান এই প্রথম বার বিতর্কে জড়াননি। তিনি কলকাতা হাইকোর্টে আসার আগে মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতি ছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়াম তাকে বদলি করার পর বিচারপতি কারনান নিজেই নিজের বদলিতে স্থগিতাদেশ জারি করেছিলেন। তার দেয়া বিভিন্ন রায় নিয়েও বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক হয়েছে।

Related posts