November 17, 2018

কমলালেবু চাষ করে সফল বেকার মাসুম!

শামসুজ্জোহা পলাশ,
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার রাজাপুর গ্রামে ৩ বিঘা জমিতে কমলালেবু চাষ করে সবাইকে অবাক করে দিয়েছে হতাশাগ্রস্থ বেকার যুবক মাসুম (২২)।  সে উপজেলার নবগঠিত মনোহার ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের মশিয়ার রহমানের ছেলে।

সংবাদ পেয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হতাশাগ্রস্থ বেকার যবক মাসুম মনের আনন্দে কমলালেবু বাগান পরিচর্চা করছে। কি ভাবে মাসুম এই চাষে আগ্রহী হলো তা জানতে চাইলে সে জানায়, আমি দির্ঘ দিন কোন কাজ কর্ম না পেয়ে হতাস হয়ে পড়েছিলাম, এমতবস্থায়  জীবননগর বাজারের ফল ব্যবসায়ী আলতাপের সঙ্গে বছর দুই আগে আমার সাক্ষাত হয়। তিনি আমাকে বলেন বেকার ঘুরে না বেড়িয়ে যদি জমি থাকে তা হলে কমলালেবুর চাষ কর। এটি আমাদের এলাকায় কেউ চাষ করে না। আমাদের এলাকায় চাষ করা হলে চাষে লাভবান হওয়া যাবে।  তখন আমি তিনাকে বলি আমি যদি এই লেবুর চাষ করি, তা হলে লেবু গাছের চারা কোথায় পাবো আর এটি কি ভাবে চাষ করতে হয় এবং এর পরিচর্চা সম্বন্ধে তো আমার জানতে হবে। তখন তিনি আমাকে বলেন আমি সব ব্যবস্থা করে দেব।

ফল ব্যবসায়ী আলতাপের কথা মত গত দুই বছর আগে ৪৫ টাকা দ্বরে ৩শ কমলালেবুর চারা কিনে এনে (ক্রয় করে) ৩ বিঘা জমিতে লাগাই। বর্তমানে কমলালেবুর বাগান খুব সুন্দর হয়েছে। প্রতিটি গাছে ১শ থেকে ১শ ৫০টি করে লেবু ধরেছে। এই চাষে আমার তেমন খরচও হয়নি। কয়েক দিন আগে গাছে এক ধরনের রোগ লেগে লেবু ঝরে যাচ্ছিলো। জীবননগর কৃষি অফিসে যোগাযোগ করলে তারা জানায় এ বিষয়ে তাদের কোন ধারণা নেই। তখন আমি খুবই হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছিলাম।

অবশেষে বাধ্য হয়ে নিজে সিলেটে গিয়ে এই রোগের ঔষুধ ক্রয় করে নিয়ে আসি এবং গাছে সেই গাছে ব্যবহার করলে লেবু ঝরা বন্ধ হয়ে যায়। তার মতে এলাকা হিসাবে আমাদের এলাকায় কমলালেবুর ফলন ভাল হয়েছে এবং এটি খেতেও স্বুসাদু ও মিষ্ঠি হয়েছে। লেবু উঠানো পর্যন্ত যদি আর কোন সমস্য না হয় তা হলে খরচ খরচা বাদ দিয়ে ২থেকে আড়াই লক্ষ টাকা লাভ হবে বলেও তিনি আশা করছেন।

জীবননগর উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর মাসুমের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান,  আমি শুনেছি রাজাপুর গ্রামে একজন যুবক নিজ উদ্দ্যোগে কমলালেবুর বাগান করেছে। আমি খুব শিগগিরই ওই বাগানে দেখতে যাব এবং কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে তাকে সবোর্চ্চ সহযোগীতা করা হবে।

এদিকে জীবননগর উপজেলায় কমলালেবুর চাষ হচ্ছে শুনে বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন শত শত মানুষ কমলালেবুর সাগান দেখতে আসছেন।

এলাকার সচেতন মানুষের দাবী বিনা প্রশিক্ষণে মাসুম নিজের উদ্দ্যোগে এই এলাকার মাটতে কমলালেবুর বাগান করতে সফল হয়েছে। তাই সরকারী উদ্দ্যোগে এই এলাকার মাটি ও আবহাওয়া পরীক্ষা নিরিক্ষা করে সাধারণ কৃষকদের কমলা চাষে উদ্বুদ্ধ করলে দেশের চাহিদা পুরণ করে তা বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব হবে।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি ৯ মে ২০১৬

Related posts