November 19, 2018

কমবে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন বাড়বে দূর্নীতির সূযোগ

রফিকুল ইসলাম রফিক             
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
মেরিন টেকনোলজির উপরে ডিপ্লোমা পাশ করার পরে ছাত্র-ছাত্রীদের দেয়া হতো সিডিসি নামের একটি সনদ। যার মাধ্যমে তারা বিদেশী জাহাজে চাকরি পেতো। কিন্তু সম্প্রতি সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর সরকারি গেজেট লঙ্ঘন করে একটি অফিস আদেশের মাধ্যমে এ সনদ সরাসরি প্রদান বন্ধ করে দিয়েছে। সিডিসি সনদ প্রাপ্তির জন্য ক্লাস-৫ পরীক্ষা পাশের পরেও এখন পাচ বছরের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে। সরকারি এই সিদ্ধান্তের ফলে মেরিন টেকনোলজিতে পড়াশোনা করা ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা। তারা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে একদিকে এই দক্ষ জনশক্তির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পরিমান কমে যাবে। অন্যদিকে অবৈধভাবে সিডিসি প্রদানের জন্য দূর্নীতির ব্যাপক সূযোগ তৈরী হবে।

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে অবস্থিত বাংলাদেশ ইনষ্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজির (বিআইএমটি) এর মেরিন ডিপ্লোমা চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মোহাম্মদ রাজিব শেখ, আবীর হাসান, নূর তাজ আরা জানান, বাংলাদেশে মেরিন টেকনোলজির ছয়টি সরকারি ও ষাটটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিবছর প্রায় তিনহাজার ছাত্র-ছাত্রী মেরিন টেকনোলজিতে ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করে। এ কোর্স সম্পন্ন করার পর তারা দেশীয় জাহাজে বাধ্যতামূলকভাবে এক বছর চাকরি করে। আগে ছাত্র-ছাত্রীরা মেরিন টোকনোলজির উপরে ডিপ্লোমা শেষ করলেই সিডিসি সনদ পেয়ে যেতো। যার মাধ্যমে তারা বিদেশী জাহাজে চাকরি করতে পারতেন। ২০১১ এর ১৩ ফেব্রোয়ারী এ সনদ পাওয়ার জন্য ‘ক্লাস-৫’ নামের একটি পরীক্ষা চালু করে এ সনদ পাওয়া কঠিন করে দেয় সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর। তবে ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের যোগ্যতায় এ বাধা অতিক্রম করে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েই এতদিন ‘সিডিসি’ সনদ পেতো। কিন্তু এবার এ সনদ সরাসরি প্রদান বন্ধ করে দিয়েছে অধিদপ্তর।

গত ৩ রা মার্চ সমুদ্র পরিবহন অধিপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর এম জাকিউর রহমান ভূইয়া সাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে জানানো হয়, সিডিসি পেয়ে বানিজ্যিক জাহাজে যোগদান করায় কোষ্টাল জাহাজে নিয়োগের জনবল সংকট দেখা দিয়েছে। এ কারনে ক্লাস-৪ এবং ক্লাস-৫ পরীক্ষায় উত্তীর্নদের সিডিসি পাওয়ার জন্য অধিদপ্তরের অনাপত্তিপত্র জারি করা হবেনা মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে। তবে ক্লাস-৪ সনদ পাওয়ার পাচ বছর কোষ্টাল জাহাজে চাকুরির পর এনওসি প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

ক্লাস-৫ পরীক্ষা উত্তীর্ণ হওয়ার পর এক বছর চাকরির অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হয়। এরপর আরেকটি পরীক্ষা দিলে ক্লাস-৪ উত্তীর্ন মেরিন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে গন্য করা হয়।
বিআইএমটি’র সদ্য পাশ করা ছাত্র মারুফ হাসান ও তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মোহাম্মদ রিয়ন আলি জানান, আগে যেখানে ক্লাস-৫ পরীক্ষা উত্তীর্ণ হলেই সিডিসি সনদ দেয়া হতো এখন সেখানে এ পরীক্ষা উত্তীর্ণের পর আরো পাচ বছর জাহাজে চাকরি করতে হবে। এরপর সিডিসি’র জন্য আবেদন করা যাবে। তবে সিডিসি সনদ দেয়া হবে কি হবে না তা পুরোই নির্ভর করবে অধিদপ্তরের উর্ধর্তন কর্মকর্তাদের মর্জির উপর। মারুফ ও রিয়ন আরো জানান, ফলে একদিকে বিদেশি জাহাজে চাকরির সূযোগ কমে যাবে। এ খাতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পরিমান কমে যাবে। অন্যদিকে চোরাপথে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর থেকে সিডিসি নেয়ার প্রবণতা বাড়বে। অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের জন্য তৈরী হবে দূর্নীতির সূযোগ।

বিআইএমটির তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান ও দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সবুজ হোসেন জানান, কোষ্টাল ও নিয়ার কোষ্টাল জাহাজে লোকবল সংকটের অযুহাত দেখিয়ে সিডিসি দেয়া বন্ধ করা হয়েছে। নিয়ার কোষ্টাল বলতে স্থানীয়ভাবে চলাচলকারি লাইটারেজ জাহাজ ও কোষ্টাল জাহাজ বলতে একটি বা দুইটি দেশের মধ্যে চলাচলকারি জাহাজকে বুঝায়। কিন্তু কোষ্টাল জাহাজে লোকবলের সংকট তো নেই-ই সেখানে প্রয়োজনের তুলনায় লোকজন বেশি আছে। নিয়ার কোষ্টাল অর্থাৎ তেলের ট্যাংকার, পণ্যবাহী জাহাজগুলিতে অষ্টম শ্রেণী-নবম শ্রেনী উত্তীর্ণদের মালিকরা চাকরি দিতে আগ্রহী। কারন এদের বেতন কম দেয়া যায়। ডিপ্লোমাধারিদের নুন্যতম বেতনটুকুও মালিকরা দিতে আগ্রহী না। অন্যদিকে প্রতিবছর মেরিন টেকনোলজিতে ডিপ্লোমা নিয়ে তিন হাজার ছাত্র-ছাত্রী বের হচ্ছে। অথচ এসব নিয়ার কোষ্টাল জাহাজে প্রতিবছর চাকরির সূযোগ রয়েছে মাত্র তিনশ জনের।

২০১১ সালের ১৩ ফেব্রোয়ারী জারি করা নৌ-পরিবহন মন্ত্রনালয়ের মেরিন টেকনোলজির ডিপ্লোমা সংক্রান্ত গেজেট নোটিফিকেশনের সাত ধারায় বলা হয়েছে, এই বিধিমালার অধীন অনুষ্ঠিত যোগ্যতা সনদায়ন পরীক্ষাসমূহে উত্তীর্ন হবার পর বিধিমালার অন্যান্য শর্ত পূরন সাপেক্ষে প্রত্যেক প্রার্থীকে পরিশিষ্ট-৫ এ উল্লিখিত ফরমে যোগ্যতা সনদ ইস্যু করা হবে। সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর নৌ-পরিবহন মন্ত্রনালয়ের এ গেজেট লঙ্ঘন করে সিডিসি সনদ না দেয়া সংক্রান্ত উল্লেখিত অফিস আদেশ জারি করেছে বলে ছাত্র-ছাত্রীরা অভিযোগ করেন।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বিআইএমটি’র ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শরীফা সুলতানা বলেন, সিডিসি দেয়া হবেনা অফিস আদেশে সরাসরি এমন বলা হয়নি। আরো পাচ বছরের অভিজ্ঞতার পর সিডিসি দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলা হয়েছে। এতে বেকারত্ব বাড়বে। ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে হতাশা বাড়বে। আমি বিষয়টি আমাদের মন্ত্রনালয়ে জানিয়েছি। তারা হয়তো আলোচনা করে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবেন।

এ ব্যাপারে কথা বলতে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর এম জাকিউর রহমান ভূইয়ার অফিসের ল্যান্ডফোনে (৯৫১৩৩০৫) ফোন করা হলে তিনি মিটিংয়ে ব্যাস্ত আছেন তাই কথা বলতে পারবেন না বলে জানানো হয়।

নারায়নগঞ্জের আরো কিছু খবর………।

হোসিয়ারি পল্লীতে ৫শ’ কোটি টাকার টার্গেট!

এখনো ঈদের  মাস খানেক বাকী তবে এখনই  ঈদের আমেজ দেখা দিয়েছে নারায়নগঞ্জের হোসিয়ারি পল্লীতে। কাক ডাকা ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত অবধি চলে কেনা কাটার ধুম। দেশের বিভিন্ন  প্রান্ত থেকে ক্রেতারা আসছে তৈরী পোশাক কেনার জন্য।  নারায়নগঞ্জের হোসিয়ারী পন্য দিয়েই সাজবে তাদের দোকন। এ কারণে এখন পুরোদমে ব্যস্ত দেশের বৃহৎ রেডিমেট তৈরী পোশাক বিক্রির এলাকা নারায়নগঞ্জের নয়ামাটি, উকিলপাড়া, দেওভোগসহ আশেপাশ্বের এলাকা।

সূত্র জানায়, আসন্ন ঈদ-উল-ফিতর সামনে রেখে ঈদের মাস খানেক পূর্ব থেকেই নগরীর পোশাক প্রস্তুতকারী পাইকারী দোকানগুলোতে ধুম বিক্রিতে ঈদ আমেজ পরিলক্ষিত হয়।
পোশাক প্রস্তুত পাইকারী মার্কেট হিসেবে খ্যাত নগরীর দেওভোগস্থ কাঠের দোতলা নামক স্থানে শনিবার সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ঈদ ও দূর্গোৎসবকে সামনে রেখে কারিগররা বিভিন্ন রকমের পোশাক তৈরী করে স্তুপ করে রেখেছে।

বিক্রেতারা জানান, পোশাক প্রস্তুতকারী পাইকারী মার্কেটগুলো থেকে প্রতিবছরই দেশের বিভিন্ন জেলাতে মাল সরবরাহ হয়। পর্যাপ্ত পরিমানে পোশাক বিক্রির জন্য প্রস্তুত আছে। তবে মফস্বল ক্রেতারা পুরোদমে এখনো আসা শুরু করেনি।

গত ২ বছর আগে ঈদকে সামনে রেখে এক মাসে প্রতিটি দোকানে কমপক্ষে ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকারও বেশি বিক্রি হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে রোযার শুরু হওয়ায় প্রথম থেকেই ৪ থেকে ৬ লাখ টাকা প্রতিদিন আমদানী হচ্ছে। জানান গেছে, গত বছরও হরতাল অবরোধ থাকাতে ঈদুল আযহাকে সামন রেখে দুরাবস্থা অবস্থা ছিল। এমনিতে সারা বছর ব্যবসা ভালো হয়নি, ব্যাংক লোন ও বাকীতে মাল ক্রয়-বিক্রয় করায় অনেক ব্যবসায়ী বসে বসে পুঁজি খেয়ে ফেলেছে। তাই বিগত দিন গুলোর ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবার বিক্রয়ের প্রত্যাশাটা ব্যবসায়ীদের একটু বেশি।
দেওভোগ হাকিম প্লাজার নিউ রকি ফ্যাশনের কর্মকর্তা মোঃ রফিক, একই মার্কেটের দোকানদার মহসীন ব্যাপারী ও জাহাংগীর আলম লাইভ নারায়ণগঞ্জকে জানান, হলুদ বাটলে যেমন হাত হলদে লাগে ঠিক তেমনি বর্তমানে এই ব্যবসায় সীমিত লাভ থাকে। বর্তমানে কোন রকম বেঁচে আছেন মালিকরা। তবে গত বছর থেকে এই বছর ভালো বিক্রি হবে বলে এক মত পোষন করে তারা আরো জানান, চট্টগ্রাম ও নওগায় সবচেয়ে বেশি মাল বিক্রি করে। একই সাথে সদরঘাট ও কালীগঞ্জ তো আছে।

এ বিষয়ে হাকিম মার্কেটের নিউরা ফ্যাশনের মালিক ও পাইকারী পোশাক ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মোঃ ফারুক হাওলাদার লাইভ নারায়ণগঞ্জকে জানান, সমিতিটির আওতায় দশটি মার্কেটে মোট ৫’শ ৫০টি দোকান আছে যাদের অবস্থা বর্তমানে একটু ভালো। আমি আশা করি এবার বেচা কেনা ভালো হবে। ইতিমধ্যে প্রতিদিন ভালো বিক্রি হচ্ছে আরো বিক্রি ভালো হবে কেননা মফস্বল পাইকাররা এখনও মাল ক্রয় করতে আসেনি।
তিনি আরো বলেন, আমাদের সমিতির আওতায় ৫’শ ৫০টি দোকানে এই বছর যদি দেশে কোন প্রকার প্রাকৃতিক, রাজনৈতিক সৃস্ট সমস্যা না হয় তাহলে প্রায় ৩’শ থেকে ৪’শ কোটি টাকার পোশাক বিক্রি বেড়ে যাবে।

এব্যাপারে বাংলাদেশ হোসিয়ারি এসোসিয়েশেনর সভাপতি নাজমুল আলম সজল লাইভ নারায়নগঞ্জকে জানান, গত তিন বছরের মধ্যে এবার বেশি বিক্রি হবে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভালো। প্রায় ৪’শ থেকে ৫’শ কোটি টাকার রেডিমেট পোষাকের ব্যবসা হবে বলে তিনি আশাবাদী।

কর কমাতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাই

২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ তাদের মতামত ও প্রত্যাশ প্রকাশ করতে শুরু করেছেন। এ বাজেট নিয়ে রয়েছে নানা ভাবনা আর প্রত্যাশা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মূলত কেমন বাজেট চাই, তাই তুলে ধরছেন নিজ নিজ অবস্থান থেকে। বাজেট নিয়ে এ সকল মানুষের চিন্তা ভাবনা তুলে ধরতে লাইভ নারায়ণগঞ্জের নিয়মিত আয়োজন বাজেট প্রত্যাশা ২০১৬। এ পর্বে পড়–ন বাজেট নিয়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বিকেএমইএ’র সাবেক প্রথম সহ সভাপতি, এক্সর্পোটার্স অ্যাসোসিশন অব বাংলাদেশের (ইএবি)’র পরিচালক, ইর্ন্ডাষ্ট্রি স্কিলস কাউন্সিল(আইএসসি)-আরএমজি’র চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাতেম এর বাজেট প্রত্যাশা।

বৃহস্পতিার (২ জুন) সংসদে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থান করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এমন সাহসী বাজেটের জন্য অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে এ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট প্রতিক্রিয়া মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে তৈরি পোশাক খাত নিয়ে বেশ কিছু চাওয়া ছিলো কিন্তু আমরা তা পাইনি। মূলত আমাদের দাবিগুলোর বা আলোচনার কোন প্রতিফলন হয়নি।

মোহাম্মদ হাতেম বলেন, আগামী অর্থবছরের বাজেটে পোশাক রপ্তানির এফওবি (ফ্রেইড অন বোর্ড) মূল্যের ওপর দেড় শতাংশ হারে উৎসে কর কর্তনের প্রস্তাব করা হয়। যা পূর্বে ছিলো দশমিক ৬০ শতাংশ। এটা আমাদের জন্য বাড়তি বোঝা। এ মূহুর্তে এতো চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করে গড়ে ১ থেকে ২ শতাংশ মুনাফা হয়। কোনো কোনো কারখানা ৫ শতাংশ মুনাফাও করে। তাও আবার মোট কারখানার গুলোর ২০ভাগ মুনাফা করতে পারলেও বাকিরা বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেকে অনেক সময় লাভ করতে পারে না। তবুও তাকে উৎসে কর দিতে হবে। যদি কারখানা প্রতি গড়ে ৩ শতাংশ মুনাফা ধরা হয় এবং দেড় শতাংশ উৎসে কর পরিশোধ করতে হয় তাহলে মোট কর হার দাঁড়াচ্ছে ৫০ শতাংশ। বিশ্বের কোন দেশে এমন উদাহরণ নেই। এ বিষয়ে আমি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। একই সাথে অর্থমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করবো যাতে এ উৎসে কর কমানো হয়।

মোহাম্মদ হাতেম বলেন, বিশ্ব ব্যাপী চাপের মুখে বাংলাদেশের তৈরি পোশক খাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। বিনিয়োগ হয়েছে অনেক। অনেকটা সরকারের উপরেও বর্তায়। আমাদের বিনিয়োগে অগ্নি-নিরাপত্তা সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানি করার ক্ষেত্রে সুবিধা না দিয়ে এখানেও মুনাফা করছে সরকার। এ ব্যাপারে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেয়া দরকার।

বিকেএমইএ’র সাবেক সহ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, পোশাকশিল্পের প্রাতিষ্ঠানিক বা করপোরেট কর ৩৫ শতাংশ থেকে হ্রাস করে ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। যা পূর্বে ছিলো ১০শতাংশ। যা পরবর্তীতে বাড়িয়ে ৩৫ শতাংশ করা হয়। পোশাক খাতে ‘২০২১’র যে লক্ষ্য মাত্র রয়েছে সে অনুপাতে অনেক বিনিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে। করপোরেট কর ২০ শতাংশ রাখা হলে বিনিয়োগে গতি পাবে না।

বাজেটের অনেক কিছুই এখনো পরিস্কার নয় উল্লেখ করে মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ভ্যাট ও ট্যাক্স নিয়ে নানা হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। যদিও গার্মেন্টস ১০০ শতাংশ ভ্যাট মুক্ত। তারপরেও বিভিন্ন ভাবে চাপ দেয়া হচ্ছে আমাদের।

তিনি আরো বলেন, এভাবে উৎসে করসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা না দিলে তৈরি পোশাক খাতে গতি থাকবে না। বিনিয়োগ হবে না। আগামী এক দু’বছরে বন্ধ হয়ে যাবে বহু কারখানা। শিল্পের সংকট বাড়বে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কোনোভাবেই ধরে রাখা সম্ভব হবে না।

মোহাম্মদ হাতেম বলেন, আগামী অর্থবছরের বাজেটে পোশাক খাতে সাড়ে ৪হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা রাখা হয়েছে। কিন্তু আমরা মনে করি এতো বড় একটি খাতে এর পরিমান বাড়ানো উৎচিত।

আগামী পর্বে পড়–ন বাংলাদেশ হোসিয়ারি এসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমুল আলম সজল এর হোসিয়ারি শিল্প নিয়ে বাজেট প্রত্যাশা।

শেষ ভালো যার সব ভালো তার

নারায়ণগঞ্জের গত ২ পর্বের ভোট গ্রহণকে কেন্দ্র করে কয়েক জনের প্রাণহানীসহ আহত হয় ৫শতাধিকেরও বেশি। তবে তৃতীয় ধাপে (দেশের শেষ ধাপ) বন্দরের ৫ ইউপিতে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ নির্বাচন বন্দরের মানুষের ভালোবাসার বহি:প্রকাশ বলে দাবি করছেন অনেকে। বন্দরের মানুষ প্রমান করে দিয়েছেন তারা কতটা শান্তিপূর্ণ। যদিও বেশ কিছু অনিয়মও দেখা গেছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে এমনটি আগে কখনো দেখা যায়নি। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার পর থেকে জেলায় হিংসা ও হানাহানির যে চিত্র দেখা গেছে তা ইতিপূর্বে আর ঘটেনি। প ম ধাপের (নারায়ণগঞ্জে দ্বিতীয়) ভোট গ্রহণের দিনেও সহিংসতায় সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী প্রাণ হারিয়েছেন সোনারগাঁয়ের ২ জন। এ যেন জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচনের উৎসব নয়, খুনোখুনির মহাউৎসব। এর প্রতিফল না ঘটিয়ে ইউপির নির্বাচন কেমন হওয়া প্রয়োজন তারই উদাহরণ সৃষ্টি করলো বন্দরবাসী। একই সাথে কিছুটা হলেও কলঙ্ক মুছলো ইসি’র। হাফ ছেড়ে বাঁচলো প্রশাসন। কথায় আছে শেষ ভালো যার সব ভালো তার।
এদিকে শনিবার সকাল ৮টা থেকে বন্দর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদের জন্য মোট ২৮ প্রার্থীর শুরু হয় তুমূল লড়াই। এ লড়াই পেশীশক্তির নয় ছিলো ভোটের লড়াই। ভালোবাসার লড়াই। নিজ নিজ এলাকার উন্নয়নের কর্ণধার নির্বাচনে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তীব্র গড়মে লাইনে দাঁড়িয়ে প্রায় সোয়া লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে। তবে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিলো অনেক বেশী। অনেকে ভোটদিতে খুব ভোরেই কেন্দ্রে এসে পৌছে। ভোট গ্রহণ সকাল ৮টায় হলেও সাড়ে ৭টায় অনেকে লাইনে দাঁড়ায়।

মাধবপাসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রথম ভোটটি দেন আলেয়া বেগম। তিনি লাইভ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, সবার আগে ভোট দিতে এতো সকালে এসেছি। সবার আগে ভোট দিতে পেরে খুবই আনন্দিত।

নির্ধারিত সময়ে বিকেল ৪টায় মোট ৫৪টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ শেষ হয়। শুরু হয় ভোট গণনা। পাশা পাশি বাড়তে থাকে প্রার্থীসহ ভোটার দের হৃদস্পন্দন।

অবশেষে বুকের ধুক ধুকানির অবসান ঘটিয়ে বন্দর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের মোট ২৮জন চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিদের মধ্যে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত ৫ চেয়াম্যানের নাম ঘোষণা করা হয়। বন্দর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার নেতেৃত্বে বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী হাবিব উপজেলা নির্বাচন কন্ট্রোল থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে বেসরকারি ভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন। এহসান উদ্দিন, দেলোয়ার হোসেন প্রধান, মাকসুদ হোসেন লাঙ্গল প্রতীকে এবং এম এ সালাম ও মাসুম আহাম্মেদ নৌকা প্রতীকে বিজয়ী হয়েছেন।

বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে এহসান উদ্দিন লাঙ্গল প্রতীকে ৮হাজার ৩’শ ৩৯ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন রফিকুল ইসলাম প্রতীক নৌকা তিনি ৬হাজার ৬’শ ১২ ভোট পান।

কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দেলোয়ার হোসেন প্রধান লাঙ্গল প্রতীকে ১১হাজার ২’শ ১৪ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন জাহাঙ্গীর আলম প্রতীক নৌকা তিনি ৮হাজার ৩’শ ৮৪ ভোট পান।

মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে এম এ সালাম নৌকা প্রতীকে ৫হাজার ২’শ ২৭ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন মাজহারুল ইসলাম হিরণ প্রতীক ধানেরশীষ তিনি ৪’শ ৯’শ ৩৩ ভোট পান।

ধামগড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে মাসুম আহাম্মেদ নৌকা প্রতীকে ৭হাজার ২’ ৮২ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন কামাল হোসেন প্রতীক লাঙ্গল তিনি ৬হাজার ১’শ ১১ ভোট পান।

মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে মাকসুদ হোসেন লাঙ্গল প্রতীকে ১২হাজার ৩’শ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন কাদিও ডিলার প্রতীক নৌকা তিনি ৩হাজার ৯’শ ৪৭ ভোট পান।

প্রসঙ্গত, বন্দর উপজেলার ৫টি ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এর মধ্যে আওয়ামীলীগের ৫ জন, জাতিয় পার্টি ৪ জন, বিএনপি থেকে ২ জন, বিদ্রহী ৩ জন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলো ১৪ জন।

ইউপি সদস্য সংরক্ষিতসহ ৫ ইউপির ৪৫ ওয়ার্ডে ৩’শও বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। বন্দর উপজেলাতে মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ১০হাজার ৬’শ ৭৬ জন। নারী ভোটার সংখ্যা ৫৪ হাজার ৪’শ ৯৫ জন ও পুরুষ ৫৬ হাজার ১’শ ৮১ জন। কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদে ভোটার সংখ্যা ৩৪ হাজার ১’শ ৫৪, বন্দর ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ২২হাজার ৫’শ ৪৩ জন, মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদে ভোটার সংখ্যা ১৯ হাজার ৭’শ ৮ জন, ধামঘর ইউনিয়ন পরিষদে ভোটার সংখ্যা ১৯ হাজার ৩’শ ৬৭ জন ও মদনপুড় ইউনিয়ন পরিষদে ভোটার সংখ্যা ১৪ হাজার ৯’শ ১৩ জন।

শিশুদের হাত ধরে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ

আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে  আজকের শিশুরা এবং আজকের শিশুদের হাত ধরেই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ তাই অধিক হারে গ্রন্থাগার ব্যবহার এবং পাঠ্যপুস্তক ছাড়াও সৃজনশীল বইপাঠে  মনোযোগী হতে হবে।  জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগার, নারায়ণগঞ্জ কর্তৃক আয়োজিত রচনা, হাতের সুন্দর লেখা,আবৃত্তি এবং বইপাঠ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী  অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে  অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি)  শাহীন আরা বেগম এ কথা বলেন । সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয়াধীন গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রনাধীন নারায়ণগঞ্জ জেলা সরকারী গণগ্রন্থাগার কর্তৃক বিভিন্ন জাতীয়- গুরুত্বপূর্ন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত রচনা,হাতের সুন্দর লেখা, আবৃত্তি ও বইপাঠ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান  ০৫ জুন’২০১৬ রবিবার বেলা ১১.০০ ঘটিকার সময় জেলা প্রশাসক নারায়ণগঞ্জ এর সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগার, নারায়ণগঞ্জের লাইব্রেরিয়ান এম এম মোশারফ হোসেন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত  সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলহাজ্ব লায়ন মোঃ মোজাম্মেল হক ভূইঁয়া। প্রধান অতিথি আরো বলেন, মাদক ও নেশার সাথে সম্পৃক্ত না হয়ে, অন্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ না করে এবং  অন্যের ভাল মতামতকে মূল্য দিয়ে আলোকিত মানুষ হওয়ার জন্য অধিক হারে সৃজনশীল পুস্তক পাঠে মনোযোগী হতে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি আহবান জানান। তাছাড়া  অভিভাবক ও শিক্ষকদের এ ব্যাপারে আরো  সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার জন্য অনুরোধ জানান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আদর্শ স্কুল,   নারায়ণগঞ্জ-এর প্রধান শিক্ষক মোঃ আজিজুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ কলেজের শিক্ষক এস এম আরিফ মিহির। বিজয়ী প্রতিযোগীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন, হরিহরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী শাহরিয়া সুলতানা তবি এবং শাহীন স্কুলের ছাত্র ইতেসাফুল হাসান খান। পরে প্রধান অতিথি বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার ও সনদপত্র বিতরণ করেন।

না’গঞ্জবাসী ৭ দুর্ভোগে চিন্তিত

আসছে রমজান কিন্তু পবিত্র এ মাসকে নিয়ে মহাচিন্তিত নারায়ণগঞ্জবাসী। আর এ চিন্তার মূল কারণ ৭টি। শহরবাসী বলছে, এ ৭ দুর্ভোগ যদি শহরে না থাকে তাহলে নারায়ণগঞ্জবাসী আরো ভালোভাবে বসবাস করতে পারতো।

সংশ্লিষ্টদের ওই ৬ কারণ হলো – প্রচন্ড যানজট, নিত্যপণ্যের উর্দ্ধগতি, ভেজাল খাদ্যের প্রভাব, মার্কেট ও ব্যাংকগুলোতে নিরাপত্তা, বিদ্যুতের লোডশেডিং, গ্যাস ও পানির সংকট।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, রোজা আসলেই নারায়ণগঞ্জ শহরে যানজট বেড়ে যায়। ফুটপাতে হকারদের কারণে লোকজন বেশীরভাগ রাস্তায় নেমে হাটাচলা করে। এছাড়া এ রোজার সময়ে শহরের বাইরের অনুমোদনহীন অনেক রিকশা ও যানবাহনও শহরে প্রবেশ করে। এতে করে যানজট লেগেই থাকে। ফলে রোজা রাখা নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়।

রোজা আসলেই নিত্যপণ্য বিশেষ করে ইফতার সংশ্লিষ্ট পণ্যের দাম থাকে উর্দ্ধমুখী। এতে করে বেশীরভাগ লোকজনদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। ইতোমধ্যে জিনিসপত্রের দাম বেড়েই চলেছে। ইতোমধ্যে পেয়াজের দাম বেড়ে হয়েছে ১০০ টাকা কেজি আর রসুন ৯০ টাকা ও আদা দেশি ৮০ চায়না ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চিনি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা, আটা ২৬ থেকে ২৭ টাকা, ময়দা ৩০ থেকে ৩২ টাকা, গুড়া হলুদ ২০০ টাকা, মরিচ গুড়া ১৯০ টাকা, মিনিকেট চাউল ৪৪, নাদির শাইল ৪৬, লতা ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা, লবণ ৩০ থেকে ৩২ টাকা, সাদা ঝিরা ৩৬০ টাকা, এলাচ ১ হাজার টাকা , দারচিনি ৩০০ টাকা, তেজপাতা ১৮০ টাকা, সয়াবিন তেল ১ নম্বর ৮৮ টাকা, কোয়ালিটি ৭৫টাকা, বেসন ১২০ টাকা, মসুরী ১০৮ থেকে ১৪০ টাকা, ডাবলী ৫০ টাকা, কিছমিছ ২৬০ থেকে ৩৬০ টাকা পর্যন্ত ধরে বিক্রি হচ্ছে। এসব পণ্যের প্রকার ভেদে ২ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত ব্যবধান রয়েছে বাজারে। প্রতি কেজি বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা, শসা মানভেদে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৪০ থেকে ৫০ টাকা, টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকা, গাজর ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ধনে পাতা ১০০ গ্রাম ৩০ টাকা, দেশি ধনে পাতা আটি প্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা ধরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও বাজারে ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৮৮ থেকে ১০০ টাকা, বেসন ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, ডাবলি ৫০ টাকা ধরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও খেজুর বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত।

রোজার মধ্যে বিভিন্ন ফলমূলে ক্ষতিকারক ফরমালিন ও কার্বাইড ব্যবহার করা হয়। এছাড়া ইফতারী অনেক সামগ্রীতে ব্যবহৃত হয় বিষাক্ত ক্ষতিকারক রঙ যা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক। এজন্য শহরবাসী নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের দাবী জানিয়েছে।

রোজার সময়ে ঈদকে সামনে রেখে শহরের মার্কেট ও বিপনী বিতানগুলোতে লোকজনদের উপস্থিতি বেড়ে যায়। ঘটে ছিনতাই ও পকেট কাটার ঘটনা। এছাড়া ব্যাংকগুলোতেও অনেক ব্যবসায়ী টাকা লেনদেন করে থাকে।

তবে সর্বোপরি তিনটি সমস্যা সবচেয়ে ভাবনার বিষয়। প্রচ- গরমের এ মৌসুমে বিদ্যুতের লোডশেডিং, গ্যাস ও পানির সংকট এখনই ভাবিয়ে তুলেছে সবাইকে।

আদালতে স্বামী হত্যার দ্বায় স্বীকার

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় ব্যান্ড শিল্পী হাসান ইসলাম সুমনকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে তার স্ত্রী সায়মা। রোববার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জাহান ১৬৪ ধারায় সায়মার দেয়া জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন।
জানা গেছে, পাশের বাড়ির যুবক সালাউদ্দিনের সঙ্গে ৬ মাস পূর্বে সায়মার পরকিয়ার সম্পর্ক হয়। এরপর বিভিন্ন স্থানে তাদের দেখা সাক্ষাৎও হয়। তারা দুজনে একই এলাকার ও পাশের হওয়ায় পরকিয়ার বিষয়টি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। একপ র্যায়ে সালাউদ্দিনের পরিবারের লোকজন বিষয়টি জেনে সায়মার স্বামী সুমনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্টুডিওতে গিয়ে সুমনকে হুমকি দিয়ে আসে। এনিয়ে সুমন ও সায়মার মধ্যে ঝগড়া হয়। এতে সুমন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টায় সায়মাকে ফোন দেয় সালাউদ্দিন। এনিয়ে ফের তাদের স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে পিছন থেকে সুমনকে ছুড়িকাঘাত করে সায়মা।
কোর্ট পুলিশের এসআই গোলাম হোসেন এর সত্যতা স্বীকার করে বলেন, শনিবার বিকেলে সায়মাকে ২দিনের রিমান্ডে নিয়েছিলেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। পরে রোববার সায়মা দোষস্বীকার করেছে।

নিহত সুমন ফতুল্লার নন্দলালপুর কবরস্থান রোড এলাকার মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে আর সায়মা ফতুল্লার দেওভোগ আখড়া এলাকার সোবহানের মেয়ে। ভয়েস বাংলা নামে সুমনের একটি ব্যান্ড দল ছিলো। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টায় সুমনের নিজ বাড়িতেই এঘটনা ঘটে। পরে লাশ নিয়ে শহরের ৩০০ শয্যা খানপুর হাসপাতালে ফেলে পালানোর সময় রাত ২টায় স্ত্রী সায়মাকে আটক করে পুলিশে দেয় জনতা।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার এসআই মজিবুর রহমান জানান, সায়মার দেয়া জবানবন্দি পর্যালোচনা করে পরোকিয়া প্রেমিক ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাড়ছে ডায়রিয়া<<ওষুধ মিলছে না হাসপাতালে

গত কয়েকদিনের প্রখর তাপে নারায়ণগঞ্জে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীর চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা থাকলেও নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট  হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকায় শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত রোগীরা নানা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। এমনকি বিভিন্ন জেলা হতে আগত রোগীরা নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল সহ ঢাকামুখী বিভিন্ন হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।

ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীদের জন্য প্রচুর ওষুধ সাপ্লাই থাকলেও রোগীরা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিনিয়ত হাসপাতালে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত ডায়রিয়া রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসলে ও সঠিকভাবে চিকিৎসা পাচ্ছে না।

রোববার সকালে ফতুল্লা থানার কাশিপুর এলাকার সাহাবুদ্দিন মিয়ার স্ত্রী সাহারা বেগম ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হলে চিকিৎসার জন্য ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নিয়ে যায়। খাবারের স্যালাইন বাদে বাকী সকল ওষুধ বাইরের ফার্মেসি থেকে ক্রয় করতে হচ্ছে বলে সাহাবুদ্দিন মিয়া জানান। এমনকি সরকারী সাপ্লাইকৃত খাবারের স্যালাইন রোগীকে রিলিজ দেয়ার সময় কয়েক প্যাকেট হাতে ধরিয়ে দিয়ে বকশিস নামে বিভিন্ন শ্রেনীর কর্মচারীরা ফায়দা লুটে যাচ্ছে বলে একাধিক রোগীরা অভিযোগ করে।

সেবা পাচ্ছে না না’গঞ্জ পশু হাসপাতালে

নারায়ণগঞ্জ পশু হাসপাতালে সঠিক সেবা পাওয়া যাচ্ছে না অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। নারায়লগঞ্জ জেলার বিভিন্ন থানা ভিওিক এলাকার লোকজন পশু-পাখীর চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যায়। অথচ চিকিৎসকের শরনাপন্ন হওয়ান জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষামান থাকতে হয় বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগে জানা যায়, বহু পশু-পাখী পালনকারীরা তাদের জীবনের ঝুকি নিয়ে চিকিৎসার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। অবশেষে চিকিৎসা পেলে ও প্রচুর ওষুধ প্রেশক্রিপশন করে বাহিরের ফার্মেসী থেকে কেনার জন্য পরামর্শ দেয় ডা: কবিরউদ্দীন আহমেদ। অথচ সরকারীভাবে বিভিন্ন ওষুধ সাপ্লাই থাকলে ও কোন কিছুই পাচ্ছে না পশু-পাখী পালনকারীরা।

উল্লেখ্য যে, শহরের খানপুর ব্রাঞ্জ রোড এলাকার মো: আসলাম মিয়া তার পালিত ছাগলের চিকিৎসার জন্য গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮ টায় পশু হাসপাতালে যায়। পরবর্তীতে ঘন্টার পর ঘন্টা অতিবাহিত হবার পর আসলাম সহ অন্যান্য লোকজন উত্তেজিত হয় চিকিৎসককে না পেয়ে। অপরদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে সহযোগী মো: আক্তার কর্তব্যরত চিকিৎসক কবিরউদ্দীনকে ফোন দেয়। এক পর্যায়ে আক্তারকে চিকিৎসার জন্য নির্দেশ দেয়। তবে বিষয়টি বেআইনী বিধায় আক্তার কোন পশু-প্রানীকে চিকিৎসা না দিয়ে বিরোধ থাকে। প্রায় ৩ ঘন্টার পর বেলা সাড়ে ১১ টায় হাসাপাতালে পৌছায় ডা: কবিরউদ্দীন। তার পরে মনগড়া একগাধা ওষুধ লিখে সকলকে বিদায় দেন। অথচ হাসপাতালে সরকারী ওষুধ সাপ্লাই থাকলে ও কেউ পাচ্ছে না। এই ধরনের অভিযোগ রয়েছে অহরহ।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি ৫ মে ২০১৬

Related posts