November 21, 2018

কবুতর পালন করে স্বাবলম্বী মেধাবী ছাত্র রনি


নূরুল আমীন সিকদারঃ  কাপাসিয়া উপজেলার তাজউদ্দীন আদর্শ বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র ইসমাইল আকন্দ রনি কবুতর ৬০ জোড়া কবুতর পালন করে স্বাবলম্বী হয়েছে। রনি জর্দান প্রবাসী বিউটি বেগমের ছেলে। বিউটি বেগমের ৩ ছেলে কাপাসিয়া নতুন বাসস্টেন্ড এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন। রাঙামাটি জেলার পাকুদিয়া গ্রামে বিউটি বেগমের নিজ বাড়ি।

মেধাবী ছাত্র রনি বলেন, আমি প্রথমে সখের বশে কবুতর পালন করতে শুরু করি। আমার বড় ভাই বেল্লালের প্রেরণায় দিন দিন আমার খামারে কবুতর বাড়তে থাকে। বর্তমানে আমার ৪০ জোড়া গিরিবাজ ও ২০ জোড়া সিরাজি, গিয়াসুল, শাটিং, বোম্বাই, মুখিখল, জগাবিল, কিং, সটকিং, মশাল, ম্যগপাই, হোমা, গররা, র‌্যাংগসসহ দেশি কবুতর আছে।

রনির বড় ভাই বেল্লাল জানান, আপাতত কবুতরের বাচ্চা বিক্রি করছিনা। খামার বড় করার চেষ্টা করছি। কয়কে দিন আগে ১২ জোড়া কবুতর চুরি হয়েছে। তাতেও আমাদের মনোবল নষ্ট হয়নি। রনির বাড়ির মালিক আমিনুল ইসলাম শাহীন জানান, আমার বাড়াটিয়া বিউটি বেগমের ছেলে রনি ও তাঁর পরিবরকে কবুতর পালনে উৎসাহ দেই। আমি তাঁর খামারে প্রয়োজনীয় উপকরণ দিয়ে সাহায্য করব।

জানা যায়, রনি তাঁর স্কুলে ৮ম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। সে কবুতর পালনের পাশাপাশি নিয়মিত লেখাপড়া ও পরিবারের অন্যান্য দায়িত্ব পালন করছে। রনির এমন আগ্রহ দেখে স্কুলের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও আশপাশ মানুষের কবুতর পালনে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

উপজেলায় বানার হাওলা গ্রামের পারভেজ, আলম, রাউৎকোনা গ্রামের মহসীন মিয়া, বরজোনা গ্রামের আকরাম হোসেন, মোফাজ্জল, সবুজ, বেলাশী গ্রামের মোস্তাফা কবুতর পালন করে বেশ সুধিধাজন অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয় কবুতর ব্যবসায়ি জানান, বাজারে কবুতরের যেমন চাহিদা দামও খুব চড়া। এক জোড়া কবুতর প্রকারভেদে ৬০০ থেকে ৭০০০ টাকা পর্যন্ত। কবুতরের বাচ্চা প্রতি জোড়া ৩০০ টাকা।

কাপাসিয়া উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকতা ডা: আনিছুর রহমান বলেন, কাপাসিয়ায় কবুতর পালনে একটি সম্ভাবনাময় ও নিরাপদ স্থান। কবুতর পালন করে অল্প পুজিতে স্বল্প সময়ে বেশ লাভ করা যায়। আমি কবুতর পালন কারীদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। তবে কবুতরের রোগবালাই খুব কম।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/৭ মে ২০১৬

Related posts