September 24, 2018

কবি অপরাহ্ণ সুসমিতো’র গল্পগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

সদেরা সুজন,
কানাডা থেকেঃ
মন্ট্রিয়লে এখন সামার । চারিদিকে নানা উৎসব আর পিকনিকের ঢল। গতানুগতিক অনুষ্ঠানের ভিড়ে গত ৩১শে জুলাই রোববার সন্ধ্যায় একটু ভিন্ন রকম অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল আড়িয়াল প্রকাশনী।

মন্ট্রিয়লে বসবাসরত কবি ও গল্পকার অপরাহ্ণ সুসমিতো’র গল্পগ্রন্থ ‘চিড়িয়াখানা বা ফেসবুক ও অন্যান্য গল্প’ প্রকাশ করেছে আড়িয়াল প্রকাশন আর এই বইটিরই মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হলো মন্ট্রিয়লে, ৬৭৬৭ কোত দ্য নেইজ লাইব্রেরীর ৬০২ নম্বর হল রুমটিতে। সাথে ছিল গান ও কবিতার যুগলবন্দী ।

সন্তুর বাজার মৃদু ধ্বনি ছড়ায়ে আমন্ত্রিত দর্শক যখন আসন গ্রহন করলেন,উপস্থাপিকা ফারাহ ও মনি সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করলেন।

গল্পগ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করলেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় সাঈদা শের মনজু ও মুক্তিযুদ্ধের গবেষক,লেখক ও সম্প্রতি বাংলা একাডেমি পুরষ্কারপ্রাপ্ত তাজুল মোহাম্মদ। উন্মোচনের পরই শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখলেন সাঈদা শের মনজু।

গুনী লেখক তাজুল মোহাম্মদ স্মৃতিচারণ করলেন ২০১০ সালেও এই কবি অপরাহ্ণ সুসমিতো’র প্রথম কাব্য গ্রন্থ ‘তুমি পারো,ঐশ্বর্য’এর মোড়ক উন্মোচন করেছিলেন তিনি। লেখকের লেখার মান, শব্দ, আবেদন নিয়ে ছোট্ট অথচ মনোজ্ঞ বক্তব্য রাখেন।

আড়িয়াল প্রকাশনার কর্ণধার শামীম ওয়াহিদ লেখকের সাফল্য কামনা করে আমন্ত্রিত দর্শকদের ধন্যবাদ জানালেন । অবশ্য সভার শুরুতে উপস্থাপিকাদ্বয় মনি ও ফারাহ লেখক অপরাহ্ণ সুসমিতোকে নিয়ে গোছানো একটি ভূমিকা পাঠ করলেন।

মন্ট্রিয়লের সুপরিচিত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শামসাদ রানা আজকের এই গল্পগ্রন্থটি নিয়ে দীর্ঘ এক বুক রিভিউ পেশ করলেন। তিনি গল্পগ্রন্থটি থেকে বেছে বেছে ১০ টি গল্প নিয়ে চুল চেরা বিশ্লেষণ করলেন। বেশ গোছানো ও যথাযথ মান সম্পন্ন এই রিভিউ । শামসাদ রানার আলোচনার পর বইটি থেকে ৩টি অণুগল্প পাঠ করলেন মুফতি ফারুক,রুমানা নাহিদ সোবহান ও আফাজউদ্দিন তোতন আহমেদ।

বাছাইকৃত গল্প তিনটি ছিল যথাক্রমে ‘ইলতুতমিশ, নবম শ্রেনী ও বসাকপাড়া লেন’,’অড্রে হেপবার্ণ ও গ্রেগরী পেক’ ও ‘মেন্ডিস ও গৌরাঙ্গ’ ।

দর্শক শ্রোতা তন্ময় হয়ে শুনছিলেন তাদের গল্প পাঠের মোহনীয়তায় । সত্যি গুনী আবৃত্তিকার এই তিনজন।

সবশেষে গল্পকার অপরাহ্ণ সুসমিতো শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। তার লেখালেখির পটভূমি,সংগ্রাম,আগামী স্বপ্ন বর্ণনা করেন। প্রকাশক, দর্শক সহ উপস্থিত সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে প্রথম পর্বের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

শুরু হলো চা পর্ব ও বই প্রদর্শন ।

এখানে উল্লেখ্য যে আড়িয়াল প্রকাশনী থেকে নারী বিষয়ক মাসিক ম্যাগাজিন ‘নন্দিনী’র দ্বিতীয় সংখ্যার বিক্রি লব্ধ অর্থ বাংলাদেশের গুনী শিল্পী লাকি আখন্দের চিকিৎসা তহবিলে দান করা হবে।

৩০ মিনিট বিরতির পরই শুরু হলো গান ও কবিতার যুগলবন্দী। এ পর্বে আবৃত্তিকার সঞ্জীব দাশ উত্তম আবৃত্তি করেন : সৈয়দ শামসুল হকের নুরলদীনের সারা জীবন থেকে অংশবিশেষ,রবি ঠাকুরের বাঁশি, নির্মলেন্দু গুনের ওটা কিছু নয় ও সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের রুপালী মানবী।উত্তম খুব ভালো আবৃত্তি করেন। আজও করেছেন।

দিজেন্দ্রলাল রায় ও রবীন্দ্রনাথের গান করলেন স্বনামধন্যা রুমানা নাহিদ সোবহান। রুমানার গান যেন হলভর্তি দর্শকদের প্রাণ ভরালো ।

এরপরে আবৃত্তি পরিবেশন করতে এলেন সুন্দর কণ্ঠের আবুল জাকের । একে একে আবৃত্তি করলেন : সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবির মৃত্যু, জয় গোস্বামীর মেঘ বালিকা ও শামসুর রাহমানের বারবার ফিরে আসে।

আবুল জাকের যথারীতি তার মোহন কণ্ঠের মাধুর্যে সবাইকে মন ভরালেন।

সবশেষে গাইতে এলেন মন্ট্রিয়লের সপরিচিত কণ্ঠশিল্পী,সবার প্রিয় অনুজা দত্ত। বেশীরভাগ নজরুলের গান করলেন তার সুললিত ভঙ্গিমায় ।

গান ও কবিতার ফাঁকে ফাঁকে চমৎকার করে ধারা বর্ণনা করছিলেন গুনী উপস্থাপিকাদ্বয় ফারাহ ও মনি।

দর্শক আসনে আসীন বাংলাদেশ থেকে আগত জনপ্রিয় কণ্ঠ শিল্পী মাহমুদুজ্জামান বাবু’র তন্ময় হয়ে গান শোনাই বলে দিচ্ছিল আবৃত্তি ও গানের অপূর্ব এই যুগল পরিবেশনা ।

অনুষ্ঠানটির মিডিয়া পার্টনার ছিল সিবিএনএ, দেশদিগন্ত, নাগরিক টিভি ও আরটিভি। শব্দ প্রক্ষেপনে শংকর রায় চৌধুরী ও তার স্ত্রী আর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আবু হোসেন জয়।

অনুষ্ঠান যখন শেষ হলো ঘড়ির কাটায় তখন রাত ৯.৪৫ আর হলভর্তি দর্শকের মননে ছিল সুর আর কাব্য সুষমার অনুরণন, প্রকাশক আয়োজক শামীম ওয়াহিদের মুখে ছিল তৃপ্তির হাসি।

Related posts