November 21, 2018

কবিতা ডালি ”বেদনার বালুচরে”


উৎপল দুটি হাত

জেবু নজরুল ইসলাম

অসংখ্য নক্ষত্ররা বিভাসিত করেছে রাতের সুনীল আকাশ
ঝিঁঝিঁপোকা, ঘাস ফড়িং ঘুমিয়েছে সেই কখন,
জোনাকিরা রাতের সৌন্দর্যকে করেছে আরো মোহনীয়,
শিউলি বকুলের সুরভীতে
মন কেনো জানি আজ অধীর উদাস।।

চলো এই নীরব নিঝুম মায়াময় রাতে
শিশিরে ভেজা ঘাসের উপরে বসে থাকি,
দেখবো উম্মন করা বাতাস কিভাবে তোমার
চুল নিয়ে খেলা করে, শুনবো দুজনে রাতের পাখিদের
আদর সোহাগ মাখা সুমধুর কথোপকথন ।

ওই যে দেখো, তারাদের আলোতে উজ্জ্বল আজ
রাতের পৃথিবী, চলো দেখি নক্ষত্ররা চোখের ইশারায়
কিভাবে কথা বলে, দেখবো দুজন কিভাবে চাঁদ
শুভ্র পুঞ্জ মেঘের আড়ালে লুকোচুরি খেলা করে,
হেমন্তের কুহেলী যখন ধীরে ধীরে নেমে এসে
ছুঁয়ে যাবে তোমায়, তখনি উৎপল দুটি হাত ধরে
তোমার নীলাভ নয়নে রাখবো নয়ন।

এমন মধুর মাধবী রাত আজ যেন এলো প্রথম
আমাকে ধরে রেখো নিবিড় বন্ধনে সারা নিশি
তোমার কোমলকমল বাহুডোরে,
ঘাসের বিছানায় হোক আজ আমাদের সুখের বাসর,
ভোর হবার আগেই প্রেমের গৌর মাধুরী পান করে নেবো,
অধরে অধরে হবে দুজনার সুখের মিলন।

উষ্ণতা চাই

জেবু নজরুল ইসলাম

শুধু চাই তোমার ক্ষণিকের উষ্ণতা
শরতের মাতাল হাওয়া উম্মনা করে মন,
হৃদয়ে এখন দারুণ তৃষ্ণা সাগরের মতো,
চিতার অনলে নয় তোমার উষ্ণতায়
পুড়ে ছারখার হতে মনে বড় সাধ,
তাই শুধু তোমার ক্ষণিকের উষ্ণতা চাই।

আমার ভেতরে বাহিরে উঠেছে ঝড়
উঠেছে মহাপ্রলয়, বিক্ষুব্ধ সমুদ্রের মতো
আছড়ে পড়ে ঢেউ বুকের ভেতর,
শুধু তোমার একটু স্পর্শ থামিয়ে দিতে পারে
হৃদয়ের এই হাহাকার,
তাই শুধু তোমার ক্ষণিকের উষ্ণতা চাই।

তোমার মৃণাল মৃদুল বাহুর আলিঙ্গনে
আমাকে জড়িয়ে নাও, অধরের উষ্ণ
চুম্বনে হৃদয় করে দাও এলোমেলো,
আমার নিঃশ্বাসে আমার বিশ্বাসে
তুমি ছাড়া আর কেউ নাই
তাই শুধু তোমার ক্ষণিকের উষ্ণতা চাই।

আমার কল্পনাও তুমি আমার স্বপ্নও তুমি
তুমি আমার বুকের অনন্ত তৃষ্ণা,
আহো-রাত্রি তোমাকে বুকের গোপন গভীরে
ধরে রাখি, তবুও কেন দূরে থেকে শুধু
মায়া বাড়ও, তুমি কি কেবলি বনের পাখি?
এই হৃদয়ে তুমি ছাড়া আর কেউ নাই,
তাই শুধু তোমার ক্ষণিকের উষ্ণতা চাই।

সুধা সমতুল

জেবু নজরুল ইসলাম

তোমার পৃথিবীতে থেকে রৌদ্রতাপ হয়ে গেছে দূর
গোধূলির আবীরে রাঙ্গিয়ে গেছে দিগন্ত,
ধীরে ধীরে ঘনিয়ে এসেছে স্বরনালী সন্ধ্যা
হয়তো আমল বাতাস বয়ে উতলা আকুল,
রজনীগন্ধা ঢেলে দিয়েছে সুধা শীতল মধুর।

তুমি মন্দির নয়নে তাকিয়ে সম্মুখে
সাজাও করবী মালতী কিংবা বেলি ফুল দিয়ে,
চাঁদের জ্যোৎস্না ঢেলে দেয় তখন সুধা সমতুল,
স্নিগ্ধ প্রভাসে মোহনীয় তুমি আনমনে গেয়ে যাও গান
এমনি সময়ে প্রিয়া মনে পড়ে কি আমাকে?

কখন উঠবে ঝড় তোমার মনের গহিনে
শেফালির মতো করবে কখন সুরভীতে
মুগ্ধ আমায়, হৃদয় আমার ব্যাকুল করে দেয়
ভোরের বাতাস, তোমার ভুবনের ডুবে থাকে মন,
আসবে কবে অন্ধকারে বুকের গভীরে চকি

পলকবিহীন

জেবু নজরুল ইসলা

বুকের সমস্ত ভালবাসা
ঢেলে দিয়েছি আকাতরে,
তবুও এমন কেন হলো জানি না,
ভালবাসা চলে গেছে শেষবারের মতো
বসন্তঋতুর ন্যায় ছুঁয়ে দিয়ে আমাকে।

নীলাঞ্জনশোভিত নয়ন দুটি স্থির
পলকবিহীন,
চোখে মুখে যেন ভীষণ আকুতি,
বলা হলো না জীবনের শেষ কথা
অসহায় স্তন্ধ হয়ে আছে আঁখি দুটি।

চঞ্চল অস্থির জনপদ শ্রান্ত ক্লান্ত হয়ে
ঝিমিয়ে গেছে, বুকের ভেতর শুনা যায়
বিরহী ঘুঘুর আর্তচিৎকার,গাছের পাতারা
নির্বাক নয়নে তাকিয়ে আছে
বাতাস যেন বদ্ধ হয়ে গেছে চিরতরে,
ক্ষণে ক্ষণে ঝিল্লির ক্ষুদ্ধ কণ্ঠ স্বরে
কেঁপে কেঁপে উঠে সাথীহারা অন্তর।

অপলক তাকিয়ে শুধু ভেবেছি
ভালবাসা আর ফিরে আসবে না আর
এই মাটির পৃথিবীর পরে,
ভয়াল ভ্রূকুটি হানি বিক্ষুব্ধ বৈশাখী
নিয়ে গেছে তাকে দূর বহু দূরে।

ফোঁটা ফোঁটা অশ্রু

জেবু নজরুল ইসলাম

একদিন শুধু একদিন তোমার দুচোখে ফোঁটা ফোঁটা
অশ্রু ঝরতে দেখেছিলাম, তোমার দীর্ঘ নিঃশ্বাসে
আমার বুকের ভেতর কেঁপে কেঁপে উঠেছিল সেদিন।

ধূসর স্মৃতির ভার আজো আমাকে কাঁদায়
একাকী বিজনে সেই কথা যখনি মনে পড়ে
আমার দুচোখে আজ তেমনি ফোঁটা ফোঁটা অশ্রু ঝরে।

কি ভীষণ কষ্টে তুমি হয়েছিলে সেই মুহূর্তে পাথর মূর্তি
তোমাকে হারিয়ে আজ আমি বুঝি পলে পলে।

বুকের গহিনে উঠেছিল তোমার বিক্ষুব্ধ ঢেউ
চারপাশ থেকে তোমায় সবাই দেখেছিল
আমি ছাড়া বুঝে নাই কেউ।

সেদিন তোমাকে বিদায় দিয়ে সারা রাত কেঁদেছি
অবুঝের মতো ফিরিয়ে দিয়ে অনুভব করেছি
তোমার অস্ফুট ব্যথার প্রতিটি নিঃশ্বাস।

যখন বুঝতে পারলাম তুমি বিহীন জীবন হবে
পত্রপল্লবহীন গাছের মতো, তুমি ছাড়া জীবনে
নেমে আসবে তিমিরে প্রচ্ছন্ন রাত্রি অবিরত,
তোমাকে ফিরে পাবার জন্য তখন অনুতাপের দহনে
শ্রাবণধারার মতো সারা রাত্রি কেঁদেছি।

আমার অন্তরের ডাকে তুমি ফিরে এসেছিলে
তোমাকে বুকে ধরে ছোট শিশুর মতো ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে
কেঁদেছিলাম, আমাকে আদরে আদরে কান্না থামিয়ে ছিলে,
আজও ঠিক মনে আছে। এখন আবার গভীর নিশীথে কাঁদি
আজ আর কেউ নেই আমার কান্না থামাবা

একবার চাই রাঙাতে

জেবু নজরুল ইসলাম

তুমি হয়তো এখন লক্ষ লক্ষ মাইল সুদূর
নীলিমার কাছাকাছি,
তোমাকে নিয়ে ভাবনার
অন্তরালে পাক খাই আহো-নিশি
নদীর জলের শেষাংশের মতো ,
তথাপি চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করে
ভালবাসি প্রিয়া শুধু তমাকেই ভালবাসি।

বড় সাধ জাগে মনে তোমার শাড়ীর আঁচলে
মুছে নিতে কপালের ঘাম,
শিশিরের মতো ভিজে যেতে
ইচ্ছে করে তোমার উষ্ণধারায়,
চোখে চোখ, হাতে হাত রেখে
তোমার অধরের রাখতে চাই আমার তৃষিত অধর।

তোমায় ভালবাসার উষ্ণতা দিয়ে
ভরে দিতে চাই,
ভুরু যুগল, গলার কালো তিল,
ছুঁয়ে ছুঁয়ে অমৃত নির্ঝরে ভাসিয়ে দিতে চাই তোমাকে।

সন্ধ্যার বিহঙ্গের ন্যায় তোমাকে নিয়ে
ঘরে ফিরতে চায় অতৃপ্ত হৃদয়,
তোমার সুপেলব বাহু ডোরে
নিজকে সঁপে দিয়ে বড় সাধ মনে,
তোমার রঙ্গে রঞ্জিত হয়ে
একবার চাই নিজেকে রাঙাতে
গোধূলির আবীরের মতো ।
প্রশান্ত মধুর

জেবু নজরুল ইসলাম

ভেবেছিলাম তোমার আকাশের কোমল হৃদয়
ছুঁয়ে দেবো একদিন,
দেখবো গোধূলির সোনালি রঙ,
সন্ধ্যার আলো ছায়ার লুকুচুরি খেলা
তোমার নয়নে রেখে নয়ন।

ছুটে যেতে ছেয়ে ছিলাম তোমাকে নিয়ে নীলগিরি
যেখানে হাত বাড়ালে স্পর্শ করা যায়
থোকা থোকা শুভ্র পুঞ্জ মেঘ, চেয়েছিলাম
মাধব কুণ্ডের স্বচ্ছ ঝর্ণাধারায় নিচে
একসাথে দাঁড়াবো দুজন।

ভেবেছিলাম হিজল তমাল বৃক্ষের নিচে বসে দেখবো
কার্তিকের প্রগাঢ় নীল নির্মল আকাশ,
সন্ধ্যার হিমেল বাতাসের সাথে জ্যোৎস্না লোকের
জ্যোতিরময় খেলা, রাতের জ্যোৎস্নার মাঝে
যেভাবে নীল হারায়, ঠিক তেমনি আমিও
হারাতে চেয়েছিলাম তোমার মৃণাল হৃদয়ের
আঙ্গিনায়।

দেখা হলো না দুজনে বসে কার্তিকের অসীমাকাশে
মণিদীপ্ত আলোক মুকুর, দেখা হলো না
শুভ্র পুঞ্জ মেঘে খেলা, হলো না দেখা কিভাবে
হয় হেমন্তের সন্ধ্যা প্রশান্ত মধুর।

একদিন শুধু একবার

জেবু নজরুল ইসলাম

একদিন শুধু একবার তোমায় ছুঁয়ে দেখবো
গন্ধ নেবো প্রাণ ভরে তোমার শাড়ীর আঁচলের,
বাহু বন্ধনে রেখে কালো কুন্তলে বিলি কেটে
দেবো ধীরে ধীরে,
তাও একদিন শুধু একবার।

মধু পূর্ণিমায় খোলা আকাশের নিচে
তোমাকে নিয়ে কাটিয়ে দেবো সারা রাত,
নক্ষত্ররা ছেয়ে দেখবে আমাদের,
নয়নের সুধা ঢেলে নেবো নয়নে
তাও একদিন শুধু একবার।

খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে মাথা রেখে
তোমার কোলে, দেখবো সূর্য উদয়,
মেঘনা নদীর তীরে গোধূলি বেলায়
বসে দুজনে, দেখবো সূর্য ডুবার পালা,
আর তিন নদীর মোহনায় তোমাকে নিয়ে
কাটবো সাঁতার, তাও একদিন শুধু একবার।

অলস দুপুরে প্রাণ ভরে ভালবাসবো তোমায়
প্রেমের অমিয় সুধা নেবো টেনে রাঙ্গা অধরের,
দুজনে হারিয়ে যাবো পলকে পলকে
অসীমের অজানায়,
তাও একদিন শুধু একবার।
বুকের মোহনায়

জেবু নজরুল ইসলাম

একদিন স্বপ্নের আবীরে রাঙ্গা ছিলো আমার দুটি আঁখি।
ছিলো আশা, ছিলো বুক ভরা ভালবাসা,
তোমাকে নিয়ে অনাগত দিনের সুখ স্বপ্নে
ছিলাম বিভোর, যেদিন তুমি এসে দাঁড়ালে পাশে।

প্রতিদিন তোমার হাতে তুলে দিতাম
একটি করে লাল গোলাপ, দিন দিন তুমি হয়ে
উঠলে আমার কাছে দেবী সমতুল্য, আর আমি
হয়ে গেলাম ভালবাসার ভিখারি।

অহো-রাত্রি তোমার সাধনায় নিমগ্ন থাকলাম
পূজারী হয়ে, তোমার একটি আসন
হয়ে গেলো হৃদয়ের মণি কোঠায়,
তেমনি আমিও তোমার দুর্ভেদ্য প্রাচীর ডিঙ্গিয়ে
পৌঁছে গেলাম একদিন তোমার হৃদয়ের আঙ্গিনায়।

কি প্রচণ্ড তৃষ্ণা ছিলো দুজনার বুকের গভীরে
একবার নয় বার বার ছুঁয়ে দেখতাম দুজন দুজনাকে ,
ভালবাসার অনন্ত নিবাস হলো আমাদের
ছোট্ট একটি ঘর, পায়রার মতো আদরে
আদরে রাঙ্গিয়ে যেতো দুজনার তৃষিত অধর।

একদিন এক ঝড়ে তুমি হারিয়ে গেলে
আর কোনদিন ফিরে এলে না,
আজো তাই স্বপ্নের ফানুস উড়াই আমি
অসীমের নীলিমায়, এখনো তুমি আছো
আমার বুকে জীবন্ত, আমার ভালবাসার
সাধ থেকে গেলো আহত বুকের মোহনায়।
ভাবনা

জেবু নজরুল ইসলাম

আমার ভাবনার দিগন্তে হয়নি কখনো সূর্যাস্ত
শুধু তোমাকে রেখেছি আমার স্বপ্নিল
ভাবনার হৃদয়ের গভীরে।

তোমাকে কখনো সাজাই আকাশের নীলে
কখনো বা রঙ ধনুর সাত রং দিয়ে,
অন্তহীন ভাবনায় তুমি ছাড়া আর কেহ নাই।

একটু ভালবাসার জন্য ভীষণ অধীর এই হৃদয়
ভাবতে ভাবতে কখনো নতজানু কখনো বিষণ্ণ
কাতর, তারপর ধীরে ধীরে তোমার মূর্তি
গড়ে তুলি হৃদয়ের করিডোরে।

তুমি নিশ্চিন্তে দূরে বসে থেকে
দেখে যাও আমার আহাজারি,
আর মুচকি হেসে লুকিয়ে থাকো
আমার বুকের অন্তরালে,
প্রাত্যহিক জীবনের কলরবেও
আমার ভাবনা অটুট থাকে,
শুধু তুমি অধরাই থেকে গেলে
আমার জীবনে চিরকাল।

প্রতিদিন প্রগাঢ় অনুভবের নিমগ্নতায়
আমি তোমাকে খুঁজি, কখনো খুঁজি
প্রকৃতির সবুজে কখনো গোধূলির আবীরে,
জীবনের দুঃখগুলো অশ্রু হয়ে ঝরে পড়ে
তবুও তোমাকে খুঁজি আহো-রাত্রি
আমার বুকের অঙ্গিনায়।

মোহনীয় কণ্ঠ

জেবু নজরুল ইসলাম

কি এমন মোহমুগ্ধ শক্তি ধরে রেখেছো
তোমার কণ্ঠের নিভৃতে, যতই শুনি
ততোই মুগ্ধতা এসে কুয়াশার মতো
আমার সমস্ত অন্তর আবৃত করে ফেলে,
ইচ্ছে করে সারা দিন, সারা রাত্রি, সারা মাস,
কিংবা সারা বছর শুনি তোমার মোহনীয় কণ্ঠের ধ্বনি।

তোমার অমল কণ্ঠের স্বর যখন আমায়
ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায়, আমি তন্ময় হয়ে শ্রবণ করি,
মন চায় তোমাতে দ্রবীভূত হই চিরতরে,
তাকিয়ে থাকি স্থির নক্ষত্রের মতো
আর একটু একটু করে হারাতে থাকি
তোমার হৃদয়ের নীলিমায়।

তুমি যখন ললিত কণ্ঠে কথা বলো
আমি ভেতরে ভেতরে অস্থির হই
খাঁচায় বন্দি পাখির মতো, ইচ্ছে করে
ছুটে যাই তোমার কাছে, রাখি তোমাকে দুহতের
উষ্ণ বন্ধনে, আর ধীরে ধীরে পান করি
তোমার কণ্ঠের অমিয় সুধা।

মনের অগোচরে তোমার কণ্ঠের মাধুরী
দিয়ে আমায় কখন বেঁধে ফেললে আষ্টেপৃষ্ঠে,
বুকের গহিনে উথাল পাতাল ঢেউ খেলে
সারাক্ষণ, কি করি কোথায় যাবো বুঝতে
পারি না, হৃদপিণ্ডের মাঝখানে কেবলি
শুনি তোমারই আহাজারি, আমার কেন
এলোমেলো করে দিলে ওগো মায়াবী নারী।

অনুভব

জেবু নজরুল ইসলাম
অনুভব অনুভূতির সাগরে ভাসলাম
তোমাকে নিয়ে কাল সারা রাত।

উতল যামিনীর বাতাসে উচ্ছলিত মন
কখনো হয়েছিল পুলকিত, আবার কখনো
অধীর উতল, অসীম সাগরের অথৈ জলে
ভাসতে ভাসতে নিশি হলো ভোর।

তোমার স্পর্শগুলো নিশীথের আঁধারে
অনুভব করেছি বুকের গভীরে,
বেদনার আবীরে ঢাকা ছিলো সমস্ত হৃদয়
অনুভুতিতে ছিল এক মহা সুখ, তবুও অমিয় তৃপ্তিতে
ভরে উঠেছিলো অতৃপ্ত বুক।

স্মৃতিগুলো যখন ধীরে ধীরে নেমে আসলো
দুচোখের পাতায় শুভ্র পুঞ্জ মেঘের মতো,
রাত্রির সুস্নিগ্ধোজ্যোতির
অসীম নীলিমায় ভেসে বেড়ালাম,
আর তোমার উষ্ণ সান্নিধ্যের প্রত্যাশায় ছিলাম
ভীষণ অধীর।

তুমি যখন আমার হৃদয়ের মাঝখানে
এসে দাঁড়ালে, তোমার মুগ্ধ সুরভীতে ছিলাম
বিহ্বল, তোমাকে দেখতে দেখতে
যামিনী চলে গেলো আর তুমি চলে গেলে
আঁখির আড়ালে।

অনামিকা

জেবু নজরুল ইসলাম

আমাকে ভালবেসো না অনামিকা
তাতে কষ্টই পাবে আর সুখ তোমার
চিরদিনই থেকে যাবে অধরা।

আমি পথ ভোলা এক পথিক,
সূর্য উদয় থেকে রাত্রির অন্ধকারে
হেঁটে চলেছি, পথের সন্ধান খুঁজে পাইনি এখনো।

যাকে আমার এই হৃদয় পেতে চায় অনিবার
সেতো তুমি নও, তবুও কেন এসে সম্মুখে
দাড়াও, কেনো পথ আগলে রাখো বার বার।

আমি পারবো না দিতে তোমাকে ভালবাসা
এমন কি ক্ষণিকের তৃপ্তিও হয়তো দেয়া
হবে না কোনদিন।

তুমিত আমার সবেই জেনেছো তবুও
কেনো ফিরে ফিরে আসো?
আমি শুধু একজনকে ভালবেসে ছিলাম
আজো ভালবাসি তাকে, যদিও সে আমার
নয়ন সম্মুখে নাই কিন্তু হৃদয়ের সম্পূর্ণ
আসন দখন করে বসে আছে।

আমি এখনো ক্ষণিকের জন্য তাকে
ভুলতে পারিনি, তার সাথে আমার অনেক কথা
বলা বাকী রয়ে গেছে, অনামিকা আমাকে তুমি
ভালবেসো না তাতে শুধু শুধু কষ্টই পাবে
কখনো আমাকে পাবে না।

পরশ

জেবু নজরুল ইসলাম

তোমাকে ভালবাসি বলে ভাল লাগে জোনাকির আলো
ভালো লাগে হেমন্তের আকাশে থোকা থোকা শুভ্র পুঞ্জ মেঘ,
মুগ্ধ থাকি ফুলের সুরভীতে, তোমার মৃণাল আঙ্গুলের
ছোঁয়া না পেলে মিটবে না এই হৃদয়ের হাহাকার,
থাকবে অনন্ত তৃষ্ণা বুকের গভীরে চিরকাল।

তোমাকে ভালবাসি বলেই দুনয়নে ঘুম নাই,
ভালবাসি বলে তোমার হৃদয়ের গোপন গভীরে হারাই,
তোমাকে ভালবাসি বলে বার বার আনমনা হয়ে যাই,
ভালবাসি বলে বুকের নিভৃতে অহো-রাত্রি তোমাকে খুঁজে পাই।

তোমার মাধবী সুতনুর বিমুগ্ধ সুরভী
বাতাসে ভেসে এলে তরঙ্গ উঠে বুকের ভেতর,
তোমার হাতের স্পর্শ বিনা আমার বুকের হেমন্তের প্রকৃতি
রক্তরাগ রত্নলোকে পরিপূর্ণ হবে না কোনদিন,
এই বুকের গহিনে নামবে না বর্ষা,
আসবে না ফিরে উম্মনা বসন্ত বাতাস।

তোমাকে ভালবাসি বলে ভালো লাগে
প্রভাতের পাখির কূজন, ভালো লাগে
বসন্ত বাতাস, কখনো গোধূলি লগ্ন,
কখনো বা যামিনীর আকাশ কিংবা অসংখ্য
নক্ষত্রমণ্ডলী।

তোমাকে ভাবতেই মদির আবেশে
ক্ষণে ক্ষণে হই শিহরিত,
তোমার চোখের সমুদ্রে মুক্তা খুঁজি অবিরত,
তোমার আঙ্গুলের ডগার একটু পরশ
যেন স্পর্শ করে সমস্ত শরীর।
বিভোর

জেবু নজরুল ইসলাম

আমি একটু একটু করে রং ধনুর মতো মিশি
তোমার চিরহরিৎ বুকের নীলিমায়,
যখন তুমি ধীরে ধীরে বিকশিত হও
নীল পদ্মের মতো আমার বুকের করিডোরে।

মনে পড়ে কত সহস্র সন্ধ্যার অন্ধকারে
ফিরতাম একসাথে দুজন,
আকাশ প্রদীপ জ্বেলে রাখতো, তারাগুলো মিটি মিটি
নয়নে তাকিয়ে থাকতো চেয়ে, সন্ধ্যার ধূসর
আলোয় পাখিরা নীড়ে ফিরে যেতো
তেমনি আমারও ফিরে আসতাম
তোমার মৃণাল মৃদুল
হাতখানা রেখে দুহাতের আলিঙ্গনে।

উচ্ছ্বল হাসির নির্ঝরে সারাপথ শীতল করে
রাখতে আমাকে,
মোহগ্রস্থ হয়ে থাকতাম তোমার
মাধুরী প্রচ্ছন্ন কণ্ঠের স্বরে,
ভুলে যেতাম নিমিষে জীবনের কষ্টগুলো,
ইচ্ছে হতো তোমাকে নিয়ে
অজানায় চলে যাই দূর থেকে বহু দূর,
তোমার ছোট ছোট
কথাগুলো মনে হতো অমৃত মধুর।

তোমাকে বাড়ীর আঙ্গিনায় পৌঁছে দিতেই
মনের আলো নিভে যেতো অস্তমিত সূর্যের মতো,
মধ্য রাতের দুঃস্বপ্ন মনে হতো সমস্ত সময়কাল,
তথাপিও বিভোর থাকতাম তোমার ফেলে যাওয়া
বিমুগ্ধ সুরভীতে।

এখনো ভাবি

জেবু নজরুল ইসলাম

শীতের রৌদ্রের উষ্ণতায় আজো আমি
তোমার স্পর্শের সুখ খুঁজে পাই,
কনকনে হিমেল বাতাস, ক্ষুধিত মৌটুসির মতো
বুকের গভীর থেকে বের হয়ে আসে
তপ্ত দীর্ঘ নিঃশ্বাস।

মনে পড়ে বার বার জীবনের প্রথম
মধুময় স্মৃতি কথা,
হয়তো কোনদিন আসিবে না ফিরে আর
সেইদিন আবার, বুকের গভীরে থেকে গেলো
কিছু দুঃখ কিছু ব্যথা।

কাক ডাকা ভোরে শিউলী তলায়
ছুটে যাওয়া,
মালা গেঁথে খোঁপায় পরিয়ে দেয়া,
সেই সুখ সেই আনন্দ এখনো ভাবি,
এখনো দুচোখের পাতায় লেগে আছে
উষ্ণ চুম্বনের অমিয় স্বাদ, অনুভবের
সাগরে ডুব দিয়ে হারিয়ে যাই
যখন গভীর হয় রাত।

এখনো পাখির ডাকে ঘুম ভাঙ্গে
দুটি চোখ বন্ধ করে ভাবি
হয়তো তুমি ফিরে আসবে
আবার হবে দুজনার দেখা।

অহো-রাত্রি

জেবু নজরুল ইসলাম

হৃদয়ের সমস্ত আসন তুমি দখল করে নিয়েছ বলেই
অহো-রাত্রি মনে পড়ে, যে দিকেই তাকাই তোমার
সোনামুখ ভেসে উঠে,
ভালবাসি বলেইত এতো কাছে টানি,
তোমার মাঝে বিলীন থাকি সারাক্ষণ,
ক্ষুধিত চিলের মতো তোমার পাশে ফিরে ফিরে আসি,
ইচ্ছে করে হৃদয়ের কাছে পেতে তোমাকে তখন।

গোধূলির আবীরে আকাশ যখন রাঙিয়ে যায়
সাঁঝের আকাশ হয় নীলিমায় নীল,
সন্ধ্যায় পাখিরা আপন কুলায় ফিরে আসে,
ইচ্ছে করে হৃদয়ের কাছে পেতে তোমাকে তখন।

হয়ে গেছো তুমি আমার কাব্যের প্রাণ,
অহো-রাত্রির ভাবনা, আমার স্বপ্নের পৃথিবীর
সুখের একমাত্র অনুভুতি, প্রশান্তির নিকেতন,
তোমাকে ভাবলে একবার ভোরের শীতল শিশির
নামে আসে বুকের গভীরে, ইচ্ছে করে
হৃদয়ের কাছে পেতে তোমাকে তখন।

শরতের সকালে শিউলীগুলো যখন
দুহাতে তুলেনি, তোমার মূর্তি গড়ে উঠে
বুকের ভেতর, শ্রাবণ সন্ধ্যার বৃষ্টির মতো
সুখের অনুভুতিতে মন ভরে যায়, ইচ্ছে করে
হৃদয়ের কাছে পেতে তোমাকে তখন।

প্রেমের এক মহাখেলা

জেবু নজরুল ইসলাম

তোমাকে ভালবেসে মহাকালের
যে তৃষ্ণা থেকে গেলো হৃদয়ের গভীরে,
এ জনমে মিটিবে না সেই তৃষ্ণা
মিটিবে না এই তৃষিত বুকের অনন্ত হাহাকার।

তোমার দেহ তোমার মন
আকাশের নীলিমার মতো,
তোমাকে নিয়ে সারাটি জীবন ভেবে গেলাম
স্পর্শ কিংবা হৃদয়ের ত্রিসীমানায়
পৌঁছতে পারিনি কখনো।

তোমাকে ভীষণ ভালবাসি বলে
থাকি মগ্ন তোমায় নিয়ে অনুক্ষণ,
একবার ভাবলে তোমাকে
দুঃখগুলো মুহূর্তে মিলিয়ে যায়
ভাদ্রের বৃষ্টির মতো।

যখনি তোমাকে ভাবি শিশিরের মতো
ভিজে যায় মন,
বুকের আঙ্গিনায় নেমে আসে বসন্ত
ফুলগুলো বিকশিত হয় এক একটি করে,
নৈঃশব্দ্য তখন করতালি দেয় সুনিপুণ হাতে।

তোমাকে যতই গভীর ভাবে ভালবাসলাম
তুমি শুধু দিয়ে গেলে অবহেলা,
আমার হৃদয়ের সাথে করে গেলে
সুচতুর ভাবে প্রেমের এক মহাখেলা।

হৃদয়ের দুয়ার

জেবু নজরুল ইসলাম

তোমার সুস্নিগ্ধ সুধাময় বুকের
সোনার দরজা এখন কি খোলা আছে?
আমার হৃদয়ের আহাজারি আমার হৃদয়ের ডাক
তোমার হৃদয় শুনতে পায় না কেন?
নাকি শামুকের মতো বন্ধ করে রেখেছো
তোমার বুকের সোনার দুয়ার।

তুমি অতিথি পাখির মতো ভিন দেশে
চলে গেলে, ভুলে গেলে আমার
এতো দিনের ভালবাসা, আমিতো তোমার কাছে
এমন কিছুই চাইনি শুধু একটু ভালবাসা ছাড়া।

কতো হাজার সকাল কতো হাজার সন্ধ্যা
একসাথে ঘুরেছি, তোমার মুগ্ধ সুরভীতে
উৎফুল্ল থাকতো মন, দুষ্ট চোখের মিট মিট চাহনি
আর অধরের ভাঁজের হাসি দিয়ে
আমাকে বিমোহিত রাখতে সারাক্ষন
মনে পড়ে কি?

জানি একদিন তোমার মোহ কেটে যাবে
ভেঙ্গে যাবে ভুল, সেই দিন তুমি ফিরে এসো,
আমি আবার তোমাকে আগের মতো ভালবাসবো,
তোমার জন্য আমার হৃদয়ের দুয়ার
খোলা আছে প্রথম দিনের মতো।

মাধবী স্বপন

জেবু নজরুল ইসলাম

এই হৃদয়, এই দেহ, এই মন,
বার বার নতজানু হয়ে আসে,
জানো প্রিয়া তোমার ভালবাসার
ঐশ্বর্যের কাছে।

দিন-রাত্রির সহস্র ব্যস্ততার মাঝে
তোমাকে মনে পড়ে অনিবার,
তুমি ফিরে এসো “প্রিয়া”
তুমি ফিরে এসো আর একটিবার।

সমস্ত বুক জুড়ে তোমার জন্য
অনন্ত হাহাকার, সময় যে কাটে না গো,
আশান্ত তরঙ্গ উঠে অনুক্ষণ
কেবলি বুকের গভীরে।

জ্যোৎস্নালোকে রজনীর বাতাসে
তোমার মাধবী তনুর সুরভী
এখনো ভেসে আসে, নিমেশে নিমেশে
উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়ি সৌন্দর্যের আবেশে।

ইচ্ছে করে তোমার অরবিন্দ বাহুর বন্ধনে
নিজকে সমর্পণ করে দিতে,
তোমায় খুব কাছে পেতে ইচ্ছে করে
গোধূলি বেলায় কিংবা
কোজাগরী পূর্ণিমার নিশীথে।

তোমাকে নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে মস্তিষ্কের ভেতর
এক অনুপম ভুবন, আমার দিগন্তে বসে
তোমায় নিয়ে দেখি এক মাধবী স্বপন।
একবার বলো ভালবাসি

জেবু নজরুল ইসলাম

যদি একবার বলো ভালবাসি
এই রুধিরাক্ত হৃদয় খানা
তুলে দেবো তোমার মৃণাল মৃদুল হাতে।

যদি একবার বলো ভালবাসি
সারারাত্রি কাটিয়ে দেবো দুজনে
রজনীগন্ধার সুরভিত আঙ্গিনায়।

যদি একবার বলো ভালবাসি
ঝিনুকের বুক ছিঁড়ে মুক্তা এনে দেবো
তোমার মদির নয়ন সম্মুখে।

যদি একবার বলো ভালবাসি
দিবা-রাত্রি ঘুরে বেড়াবো
তোমার বুকের গভীর অরণ্যে।

যদি একবার বলো ভালবাসি
গোধূলির আবীরের মতো রাঙ্গিয়ে দেবো
তোমার সোনার হৃদয়,
ঢেলে দিয়ে বুকের সমস্ত ভালবাসা।

যদি একবার বলো ভালবাসি
হংস মিথুন হয়ে উড়ে বেড়াবো
আকাশের নীলিমায়।

যদি একবার বলো ভালবাসি
হাসি আর খুশীতে ভরে দেবো জীবন
কিছুই থাকবে না চাহিবার।

যদি হৃদয়ের সাথে হৃদয় মিশিয়ে
একবার বলো ভালবাসি,
আদরে আর সোহাগে
জীবনের পরিপূর্ণতা এনে দেবো
ঠিক আগের মতো আবার।
বেদনার বালুচরে

জেবু নজরুল ইসলা্লা

তোমাকে নিয়ে হয়নি আজো
ভাবনার পরিসমাপ্তি,
ভেবেছিলাম তুমি হবে আমার
ঘুম ভাঙ্গা স্নিগ্ধ সকাল,
হবে তুমি উত্তপ্ত রোদে শীতল বাতাস।

বড় সাধ ছিলো তুমি হবে আমার দিগন্তে
গোধূলির সোনালী আবীর,
নিঝুম সন্ধ্যায় নীড়ে ফেরা পাখির কলতান।

তোমার সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকে
হৃদয়ের আড়ালে, মোহিত হয়ে উঠে মন
তোমার জন্য বসন্তের ঊষায় কিংবা
সন্ধ্যাকালে।

তোমাকে নিয়ে স্বপ্নের সাধগুলো
রয়ে গেলো বেদনার বালুচরে,
কল্পনায় আঁকা আলপনাগুলো
ভোরের শিশিরের মতো ভিজে যায়
দুচোখের লোনাজলে।

অতৃপ্ত স্বপ্নগুলো এখনো আমাকে
মধ্যরাতের কুহেলীর মতো ঘিরে থাকে,
তুমি আমার বুকের গভীরে আছো বলেই
এখনো মনে হয় পৃথিবীকে সুন্দর,
তোমাকে নিয়ে বাঁধতে চেয়েছিলাম
স্বপ্নিল সুখের ছোট্ট একটি ঘর।

ত্রিশ বছর পর

জেবু নজরুল ইসলাম

সুখের আতিশয্যে না দুঃখের দহনে
কাটছে তোমার দিনগুলো
আজ আর আমার জানা নাই,
পচিশ বছর আগে তোমার সাথে
একবার নয়নে নয়ন মিলন হয়েছিলো,
মুগ্ধ হয়ে দেখেছিলাম তোমাকে।

বার বার মনে পড়ছিলো তোমার আমার
যৌবনের প্রথম দিকের স্মৃতিগুলো,
ভীষণ আগ্রহ জেগেছিলো মনে
তোমার সাথে একবার কথা বলি,
হৃদয়ের সাধ হৃদয়ে মিশে গেলো সফেনের মতো
কথা বলা হলো না দুজনার।

ত্রিশ বছর পর আবার তোমার সাথে দেখা হলো
আমার বাড়ীর আঙ্গিনায়,
নিজেকে আর ধরে রাখতে পারিনি
জানতে চাইলাম “কেমন আছো তুমি”
নির্লিপ্ত নয়ন হাসি নেই মুখে
অপলক আমার চোখে চোখ রেখে
বলেছিলে “ ভাল” আর কিছুই জানতে
ইচ্চে হলো না, শুধু মনে পড়ছিলো
একদিন আমিই ছিলাম তোমার
দুনয়নের আলো।
কান পেতে শুনে যাও

জেবু নজরুল ইসলাম

শুধু একদিন শুধু একবার এসে
দেখে যাও,
তোমাকে বুকের নিভৃতে রেখে কিভাবে
দিনগুলো হয় অতিবাহিত,
হৃদয় গহিনে এখন শ্রাবণের অবিরাম কান্না
তবুও অনুরাগ দীপ্ত চোখে
তুমিই হলে সুমধুর রঙিন স্বপন।

যে দিকে তাকাই মুহূর্তেই পূর্ণিমার চাঁদের মতো
উদ্ভাসিত হয় তোমার মুখচ্ছবি,
উম্মনা করে দেয় রাঙ্গা অধরের
আত্ম ভোলা হাসি, যেন অস্তরাগ
সোনালি রবি।

যখন নিশীথে মনের জানালা খুলে
একলা ঘরে বসে থাকি,
তুমি চুপি চুপি নেমে আসো
আমার বুকের সবুজ কুঞ্জ বনে,
হিম হিম বাতাসে উতলা হৃদয়
এমন সুন্দর যামিনীতে সাধ জাগে
তোমার হাত ধরে সারা পৃথিবী
একবার ঘুরে আসি।

রাধা যেমন রাত্রি-দিন জপেছিলো
শ্রী কৃষ্ণের নাম, তেমনি এইবুকে
কান পেতে শুনে যাও,
এই হৃদয় কিভাবে জপে তোমাকে
দিন-রাত অবিরাম।
পাখি নেই

জেবু নজরুল ইসলাম

শিশিরে সিক্ত ভোরের বাতাস যখন ছুঁয়ে দেয় মন,
সাগরের ঊর্মির মতো তরঙ্গ উঠে বুকের ভেতর কেবল।
প্রজাপতির মতো উচ্ছ্বাস নিয়ে ঘুরিফিরি চারিদিক
পলাশ শিমুলের আবীরে রাঙ্গিয়ে উঠে হৃদয়
তখন বারবার মনে পড়ে তোমাকে।

ভেবেছিলাম তুমি হবে আমার নীলাকাশ অথবা স্বপ্নের পৃথিবী
আমি হবো সেই সুনীল গগনের শুভ্র পুঞ্জ মেঘ কিংবা মুক্ত বিহঙ্গ,
ঘুরে বেড়াবো সপ্নময় পৃথিবীতে সারাদিন,
তোমাকে দেখতে দেখতে আর ভালবেসে কেটে যাবে
জীবনের আধেক সময়, দুনয়নের পরিতৃপ্তির পূর্ণতার আগে,
না মিটিতে ভালবাসার সাধ তুমি আমায় করে দিলে একা,
এখন এই হৃদয় কেবলি শূণ্য শুধুই ফাঁকা।

প্রতিটি নিশীথ তোমার জন্য হাহাকার করে বুকের ভেতর।
বলতে পারো? আর কতো ভালবাসলে
বন্ধ হবে আমার চোখের অশ্রু,
আর কতো ভালবাসলে আমার বুকের ভেতর
জমাট বাঁধা কষ্টগুলো বরফের মতো গলে যাবে,
আর কতো ভালবাসলে তুমি ফিরে আসবে,
হাতে হাত, রাখবে নয়নে নয়ন, প্রজাপতির মতো
ঘুরে বেড়াবে আমার দিগন্তে সারাক্ষণ।

জানি কিছু দিন পর থাকবে না তোমার দুচোখের নেশা।
আমার অতৃপ্ত বুকের দীর্ঘ নিঃশ্বাস
বাতাসে ভেসে তোমাকে ছুঁয়ে দিবে একদিন।
সেদিন হয়তো তুমি ফিরে আসবে
আমার দুচোখের জল মুছে দিতে,
এসে দেখবে পাখি নাই উড়ে গেছে
শুধু শুণ্য খাঁচা পড়ে আছে।
আমারি আঙ্গিনায়

জেবু নজরুল ইসলাম

ফুলেরা সৌরভ দিয়েছে বিলায়ে গোধূলি বেলায়
পাতাগুলো খেয়েছিলো দোল আনমনে
পাখির কলতানে মুখরিত সাঁঝে
সমুদ্রের মতো তরঙ্গ উঠেছিলো বুকের গহিনে
যখন তুমি এসেছিলে সন্ধ্যায় আমারি আঙ্গিনায়।

অনেক দিনের পর উঠেছিলো চাঁদ আমার আকাশে
ছোট ছোট তারারা দেখেছিলো তোমাকে আঁখি মেলে
তোমার জ্যোৎস্নায় বিভাসিত ছিলো আমার ভুবন
তৃষিত অন্তর ক্ষণে ক্ষণে হয়েছিলো উদ্বেলিত
যখন তুমি ছড়ালে সুরভী দক্ষিণা বাতাসে।

তোমায় পেয়ে কাছে কতকথা উঠেছিলো মনে
বুকের নিভৃতে কুসুম মদিরা স্নাত উচ্ছ্বলতা
তোমার গন্ধে হৃদয় বাতাসের মতো দিশেহারা
নয়নে নয়ন অধরে অধর হলো সুমধুর মিলন
কম্পিত দেহ নিয়েছি শেষে দুহাতের আলিঙ্গনে।
অতৃপ্ত মন

জেবু নজরুল ইসলাম

প্রতিদিন সোনালি বিকালে তোমার জন্য
প্রতিক্ষায় থাকে মন,
বুকের নিতলে উথলে উথলে উঠে
রাগ ভৈরবীর সুর,
ময়ূরীর মতো পেখম মেলে
ছুটে চলি সপ্তাকাশে,
হয় না মনে এই জনমে
তোমার জন্য অপেক্ষার হবে শেষ।

নির্ঝরের ছন্দ একদিন জানি থেমে যাবে
তেমনি থেমে যাবে পাখিদের কলতান,
হিমালয় গলে হবে বরফের নদী,
তবুও তোমার জন্য অপেক্ষায়
থাকবে এই অতৃপ্ত মন।

হয়তো একদিন রজনীগন্ধা ছড়াবে না সুরভী
মাধবী লতা খাবে না বাতাসে দোল,
প্রত্যূষে যাবে না শুনা পাখিদের কূজন
আসবে না বসন্ত আর আমার ভুবনে,
তবুও তোমার জন্য অপেক্ষায়
থাকবে এই অতৃপ্ত মন।

একদিন নিষ্প্রভ হবে কোজাগরী চাঁদ
সূর্যের রশ্মিতে থাকবে না প্রচণ্ড উত্তাপ,
সুনীল আকাশ হবে বিবর্ণ
প্রাণহীন জুঁইয়ের মতো,
তবুও তোমার জন্য অপেক্ষায়
থাকবে এই অতৃপ্ত মন।
সুখের অনুভব

জেবু নজরুল ইসলাম

রাত জাগা পাখির মতো
তোমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখি,
স্বপ্নের জাল বুনতে বুনতে নিশি হয় ভো্‌র,
নিদ্রাহীন দুচোখ ঘুমে ঢুলু ঢুলু
তথাপি কোন ক্লান্তি নেই,
নেই কোন অবসাদ,
সুদূর নক্ষত্রের মতো অপলক তাকিয়ে থাকি।

শিশির স্নাত ভোরের গোলাপের মতো
অন্তহীন অপেক্ষা তোমার জন্য,
হৃদয়ের পাহাড় কেটে মসৃণ করে রেখেছি পথ
তুমি আসবে বলে আমার হৃদয় আঙ্গিনায়।

হয়তো কোনদিনও জানা হবে না তোমার
তৃষ্ণার্ত দুটিচোখ তোমাকে দেখার নেশায়
ছিলো চঞ্চল, ছিলো ব্যাকুল,
তোমার উৎপল হাতের একটু স্পর্শ পেতে
এই মন ছিলো উম্মন অধীর,
বুকের নিভৃতে এখন সাহারার তৃষ্ণা
এই তৃষ্ণা যাবে না কোনদিনও,
যদি না দেখা পাই তোমাকে একবার।

তুমি যে আমার সুখের অনুভব
প্রত্যূষের হিমেল কুহেলী আর শীতল বাতাস,
গোধূলির সোনালি আবীর
সন্ধ্যার জোনাকির স্নিগ্ধ আলো,
তোমাকে ভাবতে ভাবতে সুখের স্রোতে
অবগাহন করি রাত্রি-দিন কিংবা অষ্টপ্রহর।

উম্মাদ প্রেমিক

জেবু নজরুল ইসলাম

অপেক্ষা করেছি সুদীর্ঘ দিন-রাত্রি
তোমার মুখে একটি কথা শোনার জন্য,
পেরিয়ে গেছে জীবন থেকে বহু মাস বহু বছর
শেষ পর্যন্ত তুমি বলেছিলে, আমি এক উম্মাদ প্রেমিক।

দেখেছি আমি তোমার ওষ্ঠে আত্ম-ভোলা হাসি
দেখেছ ঐ অভিরাম দুটি চোখে স্বপ্ন রাশি রাশি,
সেইদিন থেকে আমার ধ্যান, জ্ঞান, জপ, তপ,
শুধু তোমারি জন্য, হয়ে উঠলাম পুজারি তোমার,
তুমি ছাড়া ভাবনার জগতে আর যে পাই না কিছু।

তোমাকে নিয়ে অনুরাগ দুচোখে স্বপ্ন দেখি
কখনো বাতাসের মতো ছুটে চলি, খাল বিল নালা
কিংবা অলি গলি, কখনো বা হই আমি বহতা নদী,
তোমার হৃদয়ে মিলনের মাঝে প্রশান্তি মিলে,
আমি যে এক উম্মাদ প্রেমিক।

আমার আকাশে যখন তুমি চাঁদ হয়ে উঠো উদ্ভাসি
আমি ভাবি ঐ উঠেছে বসন্ত পূর্ণিমা বুঝি,
অপলক নয়নে চেয়ে চেয়ে মনের জানালা খুলে দেই
তোমার আলোয় হতে বিভাসিত, ভালবাসতে চাই তোমাকে
সারাটি জনম উম্মাদ প্রেমিকের মতো।

শিশিরের স্পর্শ না পেলে যেমন সবুজ গুল্ম লতা কিংবা
ঘাসগুলো ভীষণ কষ্টে থাকে, তেমনি তোমায় বুকের নিভৃতে
না পেলে শ্রাবণের মতো কাঁদে মন অবিরত,
তোমাকে রাখতে চাই হৃদয়ের পাপড়িতে আর চাই ভালবাসতে
উম্মাদ প্রেমিকের মতো।
সৌন্দর্যের নীল

জেবু নজরুল ইসলাম

হৃদয়ের প্রেম হৃদয় নিভৃতে হয়
কখনো সবুজ আবার কখনো অন্ধকার,
তোমার ছোঁয়া পাই না বলে মন চঞ্চল অধীর,
দুচোখে সৌন্দর্যের নীল যেন ধূসর মলিন।

তোমার জন্য অপেক্ষা করতে করতে
আমার গগনের নক্ষত্ররা এখন
হয়ে গেছে ম্লান,
চারিদিকে কাকের ডিমের মতো
রাশি রাশি মেঘের পাহাড়,
ধীরে ধীরে সন্ধ্যা এসেছে নেমে,
বিভাসিত হয় না আর আমার আকাশ।

ভোরের বাতাসে পাই না এখন
শিশিরের গন্ধ কিংবা বেলির সুরভী,
বহুদিন হলো রাঙ্গা রোদের স্পর্শ পায় না শরীর,
ডাহুকের বিলাপে বিষণ্ণ মন
তোমাকে খুঁজে বেড়ায় চারিদিক,
তোমার শূন্যতায় হৃদয় নরম কাতর।

আর একবার শুধু একটিবার
তোমার ভিজে চুলের গন্ধ দিয়ে
আমায় করে দিয়ে যাও বিমোহিত,
জোনাকির মতো উড়ে এসে
আলোকিত করে দাও আমার তিমির ভুবন,
তোমার জন্য হোক না ব্যাকুল কিছুক্ষণ
আমার তৃষ্ণার্ত নয়ন।
প্রিয়তমা

জেবু নজরুল ইসলাম
কখনো তৃষিত নয়নে
কখনো বা অবসাদগ্রস্ত মনে
তোমার জন্য অপেক্ষায় আছি
সুদীর্ঘ দিবস সুদীর্ঘ রজনী।

আমি জানি আসবে তুমি খুব ভোরে
উচ্ছ্বসিত সৌন্দর্য আবেশে,
বেলিফুলের মালায় গেঁথে কবরী
মাধবী তনুর গন্ধ ছড়াবে বাতাসে।

তুমি আসবে ভেবেই ক্ষণে ক্ষণে
অনুভব করি শিহরণ,
তোমার কমল কোমল দুবাহুর বন্ধনে
নিজকে সোপে দিতে সমস্ত দেহ মন
প্রস্তত করে রেখেছি,
তোমাকে বরণ করে নিতে
সাজিয়েছি বাড়ী ঘর আঙ্গিনা।

লাল সূর্য পূর্ব দিগন্তে উঠার আগেই
তুমি চলে আসবে জানি,
তোমার পদযুগল ভূমি স্পর্শ করার
সাথে সাথে আনন্দে ফেটে পড়বে
শহর, গ্রাম, পাড়া, মহল্লার অলিগলি,
তোমাকে বুকের নিভৃতে পাওয়ার জন্য
কাটিয়েছি বসন্তের শেষ রজনী।
আসার সময় সাথে করে নিয়ে এসো
সাদা কালো রাশি রাশি মেঘের পাহাড়,
শীতল ধারায় শান্ত করবো উত্তপ্ত দেহ-মন,
তুমি চলে এসো প্রত্যূষে
সবাইকে করে দিয়ে অবাক, এসো এসো হে
প্রিয়তমা বৈশাখী

প্রিয়া

জেবু নজরুল ইসলাম

আমার করেছো উম্মাদ নিঃশেষ করিয়ে তুমি
হৃদয় ব্যাকুল এখন নয়ন অধীর
তোমার ধ্যানে থাকি নিমগ্ন সাধকের মতো
এক শিহরণে মাঝে মাঝে কেঁপে কেঁপে উঠি
যখন বাতাসের মতো হৃদয় আমার দিয়ে যাও চুমি।

স্থির নক্ষত্রের মতো তোমার পানে চেয়ে থাকি
তোমার সুন্দরের অপরূপ জ্যোতিতে হই মিশে একাকার
ভুলে যাই অতীত স্মৃতি, দুঃখ ব্যথা সব যায় মিশে
সফনের মত, মুগ্ধতা এসে ছুঁয়ে ছুঁয়ে করে উতলা
যখন তোমার আঁখিতে রাখি আঁখি।

তোমার সোনা মুখ বার বার উঠে ভেসে চোখের তারায়
উম্মন মন আর তৃষিত নয়নে চেয়ে থাকি অপলক
শিশিরে ভেজা নিশি চলে যায় আসে সোনালি প্রভাত
তোমার ছোঁয়া পেলে হৃদয় আঙ্গিনায় নেমে আসবে নব বসন্ত
এসো প্রিয়া তোমায় নিয়ে গহিন অরণ্যে আর একবার হারাই।

বুকের গোপন গভীরে

জেবু নজরুল ইসলাম

তোমার আমার একদিন ঠিকই দেখা হবে
হয়তো শ্রাবণের বর্ষণ মুখর কোন সন্ধ্যায়
কিংবা বসন্তের কোন এক স্নিগ্ধ সকালে,
যেভাবে মানসীর মতো শরতের মনোমুগ্ধকর
কোন এক গোধূলি বেলায়
একবার তুমি এসেছিলে আমার ভুবনে।

এখনো তোমাকে নীরবে নিভৃতে এতো ভালবাসি
এখনো বুকের তপ্ত দহন মিটাতে তোমাকে এতো চাই কাছে।

এই যে এতো হাহাকার, এই যে এতো চাওয়া,
কেনো্, তা কি জানো?
মাধবী লতার মতো তুমি আমার হৃদয় কে
ভালবাসা শিকড়ে জড়িয়ে রেখেছ বলে।

বৈশাখী মেঘের মতো ভাসতে ভাসতে একদিন তুমি
এসে দাঁড়াবে আমার আকাশে
সেই দিন আর বেশী দূরে নয়,
হয়তো তুমি হবে তখন ক্ষয়ে যাওয়া চাঁদ
অথবা নিশীথে ঝরে যাওয়া শিউলি,
তখনো তোমাকে আমি ভালবাসবো
যেভাবে ভালবেসেছিলাম প্রথম।

ফুলের মতো রেখে দেবো তোমায়
বুকের গোপন গভীরে,
হংস মিথুন হয়ে উড়ে যাবো দুজন
দূর থেকে বহু দূরে,
প্রকৃতির রূপ রস গন্ধ আমি খুঁজে নেবো
তোমার হৃদয়ের গহিন অরণ্য থেকে,
অখণ্ড সময় কাটাতে চাই বালুকা বেলায়
অথবা সমুদ্র সৈকতে, বড় সাধ এখন
আরো বহু বছর বেঁচে থাকি
তোমার অমৃত ভালবাসা পেতে।

আমার ভুবনে

জেবু নজরুল ইসলাম

বসন্ত এসে যখন ছুঁয়ে দেয় সজীব হয়ে উঠে প্রকৃতি
তার লাবণ্য ছোঁয়ায় অধীর হয় অন্তর,
জাগিয়ে তুলে সুপ্ত ভালবাসা হৃদয় গহিনে,
শুধু ছুঁয়ে দিতে পারেনি তোমার অবুঝ মন
এবারো ফুটেনি ফুল আমার আঙ্গিনায়।

কোকিল আর ডাহুকের মতো একটানা আর্ত-চিৎকার
বুকের নিতলে কেবল,
উম্মনা করে তুলে যখন তখন বসন্ত সমীরণ।

ডালে ডালে ফুটে ফুল
প্রকৃতি সাজে নব বধুর মতো,
চেয়ে থেকে অপলক আনমনে তোমাকে সাজাই
মনের মাধুরী আর রং ধনুর সাত রং মিশিয়ে।

তোমার নীলাকাশে শুভ্র পুঞ্জ মেঘের মতো ভেসে যাই
এখনো দিতে পারিনি শীতল স্পর্শ তোমার
হৃদয় শাখায়, নদী আঁকা বাঁকা পথে
ছুড়তে ছুড়তে একদিন সাগরে যেমন মিশে,
তেমনি তোমার পানসীও ভিড়বে
অবশেষে আমার মোহনায়।

আমার অন্তরের ডাক বয়ে নিয়ে গেছে
দক্ষিণা বাতাস,
কোন এক বসন্তে তোমার হৃদয়ে পৌঁছে যাবে
সেদিন নম্রনেত্রে পদ্মপায়ে
তুমি আসবে জানি আমার ভুবনে।

কেটে যায় নিশি

জেবু নজরুল ইসলাম

চারিদিকে অন্ধকার
তবুও তোমার ক্ষণিকের সৌন্দর্যের স্পর্শে
আমার দিগন্ত রাঙায়ে তুলে
জোনাকির আলোর মতো।

তোমার সাথে দেখা হবে না এমন কথা
কি করে বলি,
দুটি চোখ যখন বন্ধ করি
রক্তমুখী নত সন্ধ্যার মতো
তুমি চলে আসো আমার নয়ন তারায়,
আমি মন্থর চরণে আঁধারের ওড়না টেনে
হারিয়ে যাই তোমার নন্দিত নীলিমায়।

রজনী ঘনায়ে আসে নিঃশব্দ নীরবে,
যখন ঘুমিয়ে থাকি
তুমি চলে আসো অতি ধীরে
আমার হৃদয়ে করিডোরে,
তোমার সুরভীতে মুগ্ধ মন
তোমাতেই নিমগ্ন থাকে,
তোমাকে বুকে রেখে কেটে যায় নিশি।

বসন্তের উদাস দুপুরে যখন একা একা
দাঁড়িয়ে থাকি জানালার পাশে,
আমাকে আনমনা করে দেয় দক্ষিণা বাতাস
মনে হয় ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায় আমাকে
তোমার উষ্ণ নিঃশ্বাস,
নির্লিপ্ত নয়নে তাকিয়ে থাকি যতদূর দৃষ্টি যায়
সেখানে তুমি ছাড়া আর কিছু নাই।
বিরহীর অন্তর

জেবু নজরুল ইসলাম

সন্ধ্যার বিভাসিত তারাদের মতো
আশার আলো জ্বেলে দুচোখে তাকিয়ে থাকি,
কখনো নীলাকাশ পানে
কখনো বা সবুজ অরণ্যের দিকে,
শুধু একটু ছোঁয়া পেতে তোমার
শুভ্র স্নিগ্ধ কিংবা গৌর জ্যোতির।

আমিতো তোমারি ভিখারি
তোমারি কাঙ্গাল, তোমার সবিই আছে
তুমি দিতে পারো অকাতরে,
আমি নিঃস্ব আমি রিক্ত
আমার কিছুই নেই তোমাকে দেবার
শুধু এই অতৃপ্ত বুকের ভালবাসা ছাড়া।

তোমার নীলিমার স্রোতে একাকার হতে
দুচোখে ঘুম নেই, ব্যাকুল চিত্ত উদাস নয়ন,
কতো আশা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি, মনে হয়
হাজার বছর, তুমি করুণা করে হলেও
একাবার এসে ছুঁয়ে যাও এই বিরহীর অন্তর।

তোমাকে মনে মনে কত ডাকি, কতো কাছে চাই,
কতো ভালবাসি, তোমার দ্যুতির যদি একটু ছোঁয়া পাই
এই জীবন বদলে যাবে আমুল,
একবার এসে আমাকে জড়িয়ে নাও
তোমার অরবিন্দ বাহুর উষ্ণ বন্ধনে
এই জীবনে আর কিছুই চাওয়ার নেই
শুধু তোমার জ্যোতির স্পর্শ ছাড়া।

তৃষিত হৃদয় মহল

জেবু নজরুল ইসলাম

বন উপবনে এমন কি পবনে
আমি তোমার কথা শুনি,
ধীরে ধীরে যায় অস্ত প্রভাকর
সোনালি রোদের রঙ ছড়িয়ে পড়ে
অযত্নে পড়ে থাকা ঘাসে,
আনমনে চেয়ে থাকি অখণ্ড নীরাবতায় ছেয়ে যায় মন
স্বপ্নের জাল বুনি তবুও তোমাকে নিয়ে দুচোখে।

চেয়ে দেখি তোমার এলোচুল উড়ে সন্ধ্যার বাতাসে-
চুপি চুপি কুহেলী নেমে আসে পৃথিবীর পরে,
হলুদপাখি, মাছরাঙ্গা, ধবল বক ফিরে গেছে নীড়ে-
সৌন্দর্যের নীল স্বপ্ন মিশে যায় সফেনের মতো-
তখনো আমি শুনিতে পাই তোমার হাসির ধ্বনি-
মন আমার ভেসে বেড়ায় সাদা সাদা মেঘের দেশে।

বসে আছি আমের ডালের ছায়ায়
কান পেতে থাকি হয়তো শুনিব তোমার
পায়ের নূপুরের রিনিঝিনি,
অবুঝ হৃদয় কিছুই চায় না বুঝিতে, শুনেনা কোন
কথা, মানে না শাসন, শুধু একবার পেতে চায়
ভালবাসার একটু ছোঁয়া-
আমার তৃষিত হৃদয় মহল।

সৌন্দর্যের রশ্মি

জেবু নজরুল ইসলাম

নিশি চলে গেলে আসে ভোর
চারিদিকে থাকে তখন অখণ্ড নীরবতা
কোকিল কণ্ঠে তুলে ভৈরবী সুর,
হিজল বনে ঘুঘু ডাকে,
সোনালি রৌদ্রের মতো তোমার সৌন্দর্যের রশ্মি
যখন আমায় ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায়,
প্রকৃতির মতো আমারও ভাঙ্গে ঘুম।

কাতর দুটি চোখ আমার কখনো অধীর
কখন বা গভীর উদাস।
একটু ছোঁয়া একটু ভালবাসা জন্য
মনে কতো সাধ কতো আকাঙ্ক্ষা,
মাছরাঙ্গা পাখিটির মতো অনিমেষ চেয়ে থাকি
ভেসে উঠে চোখের গোপন গভীরে
নিস্তব্ধ করুণ মায়ায় ভরা এক সোনা মুখ।

তোমার মৃদু মৃদু কথাগুলো যখন ভেসে আসে
বাতাসে, আমি কান পেতে শুনি সেই অমৃত বচন,
গোধূলির আলোয় রাঙ্গানো তোমার দুটি চোখ
আমার নয়ন তারায় নক্ষত্রের মতো ভাসে,
জানি তোমার সাথে হয়তো কখনো
আর হবে না দেখা, হবে না গল্প আর কোনদিন,
তবুও তোমাকে যখন ভাবী, এক অনাবিল উচ্ছ্বাসে
ভরে উঠে আমার তৃষ্ণার্ত বুক।
অভিরাম বুকের

জেবু নজরুল ইসলাম

কেন তুমি দূরে থাকো, কেন এতো মায়া জাগাও,
লাল পদ্মের ডাঁটার মতো
তোমার কোমল হাতের একটু উষ্ণ ছোঁয়া পেতে
বুকের ভেতর সারাক্ষণ কেমন জানি করে।

যখনি তোমাকে ভাবি এই তৃষ্ণার্ত মন
গোলাপি আবীরে রাঙিয়ে উঠে,
সুখের তৃপ্তিতে ভরে যায় হৃদয়
নদীর জলের মতো কানায় কানায়।

আহা যদি হতাম বৈশাখী কিংবা শ্রাবণের বৃষ্টি
তোমার সোনার অঙ্গ চুয়ে চুয়ে ঝরে পড়তাম নিরবদি,
আর যদি তুমি হতে সাগর তোমার মাঝে বিলীন হতে
নদী হয়ে আসতাম ছুটে মিশে হতে একাকার,
কাটতাম সাঁতার দিবা-নিশি অবিরাম।

তোমাকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে যেতাম নিরন্তর
যদি হতাম দক্ষিণা বাতাস,তুমি শুভ্র মেঘ মালা হলে
আমি হতাম সুনীল আকাশ,
তুমি যদি হতে ছন্দময়ী ঝর্ণা
হতাম আমি স্বচ্ছ জল তোমার অভিরাম বুকের,
তোমার পানে চেয়ে চেয়ে
কাটিয়ে দিতাম অখণ্ড সময়
নিশীথের নক্ষত্রদের মতো অবিকল।
দুবাহুর আলিঙ্গনে

জেবু নজরুল ইসলাম

তুমি আর আমি তিলে তিলে
গড়ে তুলেছিলাম আমাদের ভালবাসার
এক নৈসর্গিক নন্দিত স্বপ্নের ভুবন।

আমাদের স্বপ্নের নিসর্গকে সাজিয়ে ছিলাম
ভালবাসার অনুরাগে, যেখানে ছিলো শিউলী,
বকুল, রজনীগন্ধার সুভাসিত কুসুম কানন,
গাছের শাখায়, পাতার আড়ালে বসে তাকিয়ে থাকতো
হলুদ পাখি,স্পন্দনহীন নয়নে থাকতো চেয়ে নীলাকাশ
অবিরাম ছুঁয়ে ছুঁয়ে যেতো তোমাকে দক্ষিণা বাতাস।

প্রত্যূষে উঠে একসাথে দুজন
দেখেছি বহুদিন কুয়াশা আবৃত সকাল
কুহেলীর হিমেল গভীরে
মাঝে মাঝে তুমি হারিয়ে যেতে নিমিষে,
তোমাকে খুঁজে খুঁজে বের করে নিতাম
রাখতাম দুবাহুর আলিঙ্গনে।
এমনিভাবে দুজন দুজনাকে খুব কাছে পেয়েছি
পাশাপাশি বসে তুমি আর আমি কতদিন গোধূলি আবীর রাঙান
সোনালি বিকাল দেখেছি।

ভোরের স্নিগ্ধ অনিল আসতো বয়ে নিয়ে
রাতের আঁধারে বিকশিত ফুলের সুরভী,
মুগ্ধ হয়ে তুমি নিতে প্রগাঢ় নিঃশ্বাস
উৎফুল্ল বুকের নিতলে,
অপলক তাকিয়ে থেকে হারিয়ে যেতাম
তোমার সৌন্দর্যের গভীর থেকে গভীরে।
মৃণাল বুকে

জেবু নজরুল ইসলাম

জীবন ম্রিয়মাণ গ্রীষ্মের তাপদাহে
তোমার শীতল হাতের স্পর্শ পেতে
হৃদয় এখন ব্যকুল অধীর,
তোমায় খুঁজতে খুঁজতে হয়েছে মন
নিশীথে ঝরে পড়া বিবর্ণ কামিনী,
কোন সুদূরে বসে আছো ওগো সুদূরিকা
কেনো তুমি হলে আজ দূর নিহারিকা।

গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত কিছুই মানে না মন
রাত জাগা পাখির মতো অপেক্ষায় কাটে প্রহর,
শুধু পেতে চায় তোমার কুমুদ হাতের একটুখানি আদর।

বৈশাখী পূর্ণিমা চাঁদের মতো ক্ষণে ক্ষণে
মায়া বাড়াও বুকের গহিনে কেবল,মনে মনে কতো চাই,
কতো ডাকি,জোনাকির মতো মিটি মিটি আলো জ্বেলে
তুমি শুধু দূরে থাকো।

কি এমন ক্ষতি হবে তোমার যদি একবার পাশে এসে বসো
কি এমন অন্যায় হবে যদি আবার প্রথম দিনের মতো ভালবাস,
ছুঁয়ে দাও অধরে অধর, হাতে রাখো হাত,
ছড়াও সুরভী তোমার আগের মতো।

আর কতদিন আর কতকাল
রাখবে আমায় ভালবাসার কাঙাল করে,
শিশিরের মতো নিঃশব্দে ডানা মেলে চলে এসো একদিন,
তোমার মৃণাল বুকে মাথা রেখে
ঐ নীলাভ আঁখিতে রাখবো আঁখি, এখনো বুঝনি
তুমি যে আমার হৃদয়ে লালিত পরাণ পাখি।

একটি রঙ্গিন চিঠি

জেবু নজরুল ইসলাম

কেন জানিনা মানেনা হৃদয়
মনে পড়ে শুধু মনে পড়ে তোমাকে,
বুকের নিভৃতে আজ বৈশাখী খরতাপ, জীবন ওষ্ঠাগত প্রচণ্ড তৃষ্ণায়,
চারিদিক শূন্য আর প্রগাঢ় অন্ধকার, দৃষ্টির সীমানায় আজ আর আলো নাই,
রাত্রি নেই, দিন নেই, মনে পড়ে শুধু মনে পড়ে তোমাকে।

আশায় আশায় থাকি আর তোমাকে মনে মনে খুঁজি
তোমার প্রিয় স্থানগুলো এখনো ঘুরে ফিরে দেখি,
কখনো পাথর মূর্তির মতো অপলক চেয়ে থাকি
কখনো বা শরতের মেঘের মতো স্মৃতির দিগন্তে ভাসি,
প্রতিদিন প্রতিক্ষণ অপেক্ষায় থাকি তুমি আসবে
তোমার সাথে দেখা হবে, কিংবা পাবো
তোমার হাতের লিখা একটি রঙিন চিঠি।

দুই নয়নে যখন ভেসে উঠে তোমার সোনা মুখ
বিজলির মতো প্রভাসিত হয়ে উঠে এই অশান্ত অতৃপ্ত বুক,
যখন তুমি ধীরে ধীরে মিশে যাও নীলিমায়, দুচোখ বেয়ে
ফোঁটা ফোঁটা অশ্রু ঝরে, মন হয় ব্যথিত ব্যাকুল, বাষ্পরুদ্ধ হয় কণ্ঠ,
সমস্ত হৃদয় জুড়ে বর্ষা নামে শ্রাবণের বৃষ্টির মতো অবিকল।

ক্লান্তিহীন শুধু অপেক্ষা, এই অবিরাম অপেক্ষার কোন দিনও শেষ
হবে কিনা জানি না, কতো হাজার দিবস হাজার রজনী চলে গেলো
তুমিত আর ফিরে এলে না, বুকের ভেতর তোমার জন্য কতো সাধ,
কতো আকাঙ্ক্ষা, তোমাকে ঘিরে কতো নতুন নতুন স্বপ্ন দেখি এখনো,
আর কতকাল দূরে থাকবে, এবার ফিরে আসো
না হয় লিখিও আমার জন্য একটি রঙিন চিঠি।

তোমার ছবি

জেবু নজরুল ইসলাম

দিনের শেষে রক্তমুখী নত সন্ধ্যা
মৌন মুগ্ধ স্থির নয়নে অপলক তাকিয়ে থেকে
নিঃশব্দ ধীর পদে যেভাবে আস্তে আস্তে
নেমে আসে পৃথিবীর পরে,
তুমিও তেমনি শিউলীর সুরভীতে করে গাহন
শিশিরের মতো অঞ্জন মাখিত নম্রনেত্রে
চেয়ে চেয়ে ধীর পদক্ষেপে চলে এসো
নিশীথে আমার মধুর স্বপনে।

স্বর্ণময়ী ঊষার জ্যোতিময় শোভা ধারণ করে
যখন তুমি আমার ঘুমন্ত শরীরে
ক্ষণিকের সুখের কোমল স্পর্শ দাও,
বুকের ভেতর তখন সৌন্দর্যের শতদলগুলো
চেয়ে থাকে আঁখি মেলে,
তোমার স্নিগ্ধ দ্যুতি থাকে সারাক্ষণ আমার পিছে
ছায়ার মতো, ক্ষণিকের জন্য ভুলে যাই
জীবনের দুঃখ ব্যথা আছে যতো।

কোন বিশ্বপার কিংবা কোন স্বর্গলোক থেকে
সুখগুলো এনে দাও স্তরে স্তরে,
সবার অলক্ষিতে অন্তর্হিত হও সূর্য উঠার আগে,
তারপরে অষ্টপ্রহর তোমাকে নিয়ে ভাবি
আর চেয়ে থাকি হৃদয় গভীরে
যেখানে অঙ্কিত আছে তোমার ছবি।
শিহরণ

জেবু নজরুল ইসলাম

হৃদয় বাগিচায় ফুটিয়ে রেখেছি একটি লাল গোলাপ
যখন তুমি আসবে আমার ছোট্ট নীড়ে,
পরিয়ে দেব বহুদিনের পরিচর্যায় লালিত লাল গোলাপটি
তোমার সুষমামণ্ডিত সোনার খোঁপায়।
কতদিন দেখিনা লাজুক লাজুক মায়াবী চাহনি
কতদিন দেখিনা মিষ্টি অধরের দুষ্টু হাসি,
এবার এলে নিজ হাতে বানাবো তোমার জন্য
একটি অমূল্য মালা, আর যে সহে নাগো,
এবার এসে শেষ করে দাও দীর্ঘ দিনের অপেক্ষার পালা।

যদি তুমি শুধু একাটিবার বলো ফিরে আসবে
আমি খাল, বিল, নদী, নালা, ডিঙাব দুর্ভেদ্য প্রাচির,
ডিঙাব হিমালয়, পাড়ি দেবো মহা সাগর, তবুও ছুটে আসব
দুরন্ত মেঘের মত তোমার কাছে দুহাতে করে নিতে বরণ।

তুমি যে আমার সবুজ বনভূমি, স্বপ্নের নীলাকাশ,
আমার নীলিমায় তুমি জলে ভরা শুভ্র পুঞ্জ মেঘ,
বৈশাখী পূর্ণিমার জোছনা রাশি রাশি, তুমিত জানো না প্রিয়া
এখনো তোমায় আমি কত যে ভালবাসি।

তুমি চলে এসো একদিন কোন এক মধু পূর্ণিমা রাতে
দাঁড়াবো দুজন মাধবী তলে একসাথে,
দক্ষিণা বাতাস করবে শীতল দুজনার মন
মদির আবেশে ক্ষণে ক্ষণে হবো আমারা
কখনো অধীর কখনো উতল,
কেঁপে কেঁপে উঠবে বুক সুখের উল্লাসে,
রক্ত কণিকায় জাগবে তখন সুমধুর শিহরণ।
দীপিকা

জেবু নজরুল ইসলাম

দীপিকা, তোমার মন খরস্রোতা নদীর মত
কখনো চঞ্চল কখনো উদ্দাম,
ছুটে চলেছে সম্মুখে আঁকা বাঁকা পথ ধরে,
ভেবেছিলাম তোমার নদীতে বাসাবো নৌকা
আর সাঁতার কাটবো অবিরাম।

তোমার নদীর বিক্ষুব্ধ তরঙ্গ দেখে
মুগ্ধ হয়েছি শত সহস্র বার,
বিস্ময় হয়নি কখনো বরং প্রতিদিন করেছি
তোমার সৌন্দর্যের সুবর্ণ মাধুরী অবলোকন।

জানো দীপিকা, এই পৃথিবীতে কোন কিছুই
চিরস্থায়ী নয়, শুক্লপক্ষ কৃষ্ণপক্ষ
বিহঙ্গের মতো ডানা মালে একদিন উড়ে যায় শূন্যতায়,
মহাকালের ইশারায় নিবে উল্কার প্রদীপ,
লক্ষ লক্ষ তারকামণ্ডলী ছড়ায় তার দ্যুতি,
এইভাবে আলো আর আঁধারের খেলা চলে অবিরত,
তোমার পথ চেয়ে এখনো বসে আছি, হয়তো দেখতে দেখতে
কেটে যাবে তোমার আমার জীবনের আধেক বেলা।

আমি স্বর্গের আলো তোমার মাঝে খুঁজে পেয়েছি
তাইত সেই জ্যোতির স্রোতে তোমাকে নিয়ে ভাসি,
প্রতি মুহূর্ত তোমার ভাবনায় থাকি নিমজ্জিত
তোমাকে নিয়ে লিখে যাই প্রতিদিন প্রেমের লিপিকা,
তুমি কি আজো বুঝনি?
তোমাকে আমি প্রচণ্ড ভালবাসি দীপিকা।

অনুভব

জেবু নজরুল ইসলাম

যেখানে সেখানে হঠাৎ কেন তোমায় এতো ভাবি?
কেন তুমি সুনীল আকাশের মতো সুন্দর আমার দুচোখে?
আমার চিন্তায় চেতনায় তুমি নেমে আসো
নিশির শিশিরের মতো নিঃশব্দ নীরবে,
যখন তুমি অঙ্গে ঢেউ তুলে ধীরে ধীরে চলে যাও
হেমন্তের রাঙ্গা গোধূলির মতো এতো কেন ভাল লাগে তোমাকে?
তবে কি আমি তোমায় ভালবাসে ফেলেছি?

তুমি শরতের রজনীতে ফুটা শিউলীর মতো
সুরভী ছড়িয়ে দাও বাতাসে,সেই মদির গন্ধে
আমি থাকি বিভোর থাকি নির্বাক,
তোমার দুচোখের মায়া আমার কাছে
দিনে দিনে প্রিয় থেকে প্রিয়তর হয়ে উঠেছে,
তবে কি আমি তোমায় ভালবাসে ফেলেছি?

তুমি চৈত্রের রৌদ্রে সোনালি চিলের মতো
যখন উড়ে যাও, আমি অবাক নয়নে তাকিয়ে থাকি,
সন্ধ্যায় আবার যখন শালিকের মতো ঘরে ফেরো
তখনো তোমায় আমি মায়াবী চাঁদের মতো চেয়ে চেয়ে দেখি,
আমার দুচোখে তুমি এক ধপ ধপে সাদা কবুতর,
বুকের ভেতর কল্লোলিত এক প্রশান্তির নির্ঝর,
তোমার জন্য অন্তরে দুঃখ অনুভব করি সারাক্ষণ
তবে কি আমি তোমায় ভালবাসে ফেলেছি?

আমার চোখের ভেতর নক্ষত্রের মতো তোমার নিবাস,
বেদনার আগুণে পোড়ে যায় আমার সুনীল বাসনা,
শুভ্র পুঞ্জ মেঘের মতো উড়ে যায় মনের আকাঙ্ক্ষা যতো
জ্বলে যায় পুড়ে যায় হৃদয় নিভৃতে অবিরত,
প্রচণ্ড খরায় বুক যেন চৌচির, এলোমেলো ভাবনা এসে
কেন আমায় ঘিরে থাকে,
তবে কি আমি তোমায় ভালবাসে ফেলেছি?
তৃষিত অধর

জেবু নজরুল ইসলাম

আকাশের নক্ষত্রদের মতো
তুমি একাকী জ্বলতে জ্বলতে আলো ছড়াও
আবার নিভে যাও আপনমনে নীরবে নিভৃতে।

চেয়ে থাকো করুণ আর নির্বাক নয়নে
তোমারও কি তারাদের মতো কামনা বাসনা,
চাওয়া পাওয়ার কিছুই নেই?

তোমাকে পাওয়ার সাধ কত যুগ শত জনমের
দূর থেকে শুধু তৃষ্ণা বাড়াও আর তরঙ্গ তুলো হৃদয় মাঝে,
তুমি কি কেবলি সুদূর নিহারিকা হয়ে থেকে যাবে চিরকাল?
আর কতকাল কতবছর থাকবে অধরা, এবার দাও না ধরা,
আমার পিয়াসিত দুহাতের সুমধুর আলিঙ্গনে।

তোমার কৈরব হাতে রাখতে চাই হাত
মৃণাল মৃদুল অধরে রাখতে চাই তৃষিত অধর,
সমস্ত ভালবাসা ঢেলে দিতে অনিবার ইচ্ছে করে নির্ঝরের মতো
যাহা এতকাল রক্ষিত রেখেছি বুকের গভীরে গোপন।

তুষের অনল কিংবা ধুপের মতো কেন নীরবে জ্বলে জ্বলে
নিজেকে করে দিতে চাও নিঃশেষ, আমার পাশে আসো,
রঙধনুর মতো তোমার জীবন রাঙিয়ে দেবো,
বিলি কাটবো কালো কুঞ্চিত কুন্তলে, দৃষ্টি নন্দিত
তোমার ঐ সোনার খোঁপায় হবো শিউলী মালা,
হতে চাই অঞ্জন তোমার অভিরাম দুচোখের।

আমি দিয়েছি হাত বাড়িয়ে তুমি শক্ত করে ধরো
শুরু হোক দুজনের নতুন জীবন, নতুন করে পথে চলা,
শ্রাবণের বৃষ্টিতে ধুয়ে যাক জীবনের যতো দুঃখ যতো জ্বালা।

চোখ

জেবু নজরুল ইসলাম

প্রকৃতি যেন সব সুন্দর ঢেলে দিয়েছে
তোমার ঐ নীলাভ দুটি চোখে,
বিহ্বল হয়েছে মন হৃদয় উতল
কোমল মাধুরী যেন ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায়
তোমার আঁখির গভীর থেকে আমার তৃষিত অন্তর।

মুহূর্তে মুহূর্তে দেখি বার বার দেখি
যতোই দেখি ততোই হই বিমোহিত,
নয়ন ফেরানো যায় না তোমার নয়নে রাখিলা নয়ন
মুগ্ধতার কোন সুবর্ণ জ্যোতি রেখেছ ধরে
ঐ ঐশ্বর্যময় আঁখির গভীরে গোপন।

তোমার মদির চোখে যখনি রাখি চোখ
হৃদয়ে বাড়ে শুধু অনন্ত তৃষ্ণা,
এই জনমে হয়তো কোনদিনও মিটবে না
বুকের অনন্ত পিপাসা, এই মন হয়েছে আজ
তৃষিত চাতকের মতো, শুধু চেয়ে চেয়ে
অষ্টপ্রহর সময় কাটে অবিরত।

হেমন্তের শুভ্র মেঘের মমতা যখন দেখি
ঐ দুটি চোখে, দুরন্ত ঝড় উঠে বৈশাখের মতো
বুকের নিভৃতে তখন, ঐ দুটি আঁখি আমি খুঁজে ফেরেছি
কতো যুগ কতকাল হয়তো হবে হাজার বছর,
ইচ্ছে করে শতবার মরে যাই বার বার বেঁচে উঠি,
পান করি ঐ নক্ষত্রের মতো প্রভাসিত নয়নের অমৃত সুধা।

উষ্ণতার শেষ রেশ

জেবু নজরুল ইসলাম

শুধু তোমাকেই দিতে চাই
আমার বুকের নিতলে লুকানো উষ্ণতার শেষ রেশটুকু
আর চাই ঢেলে দিতে ভালবাসা অবশিষ্ট নির্যাস,
রেখে দিও খুব যত্ন করে
তোমার পেলব দেহের ভাঁজে ভাঁজে,
কিংবা সুধামাখা সুরভিত হৃদয়ের গোপন কুঠিরে।

যদি কোনদিন মনে পড়ে
শ্রাবণ সন্ধ্যায় অবিরাম বর্ষণে,
ঝিনুকের মতো তোমার মন মন্দিরের
সোনার দুয়ার ধীরে ধীরে খুলে দিও,
তোমাকে রাখবে সজীব রাখবে প্রাণবন্ত
আমার দেয়া উষ্ণতার অমিয় সুধা।

যদি কোনদিন আমার জন্য বিচলিত হয় মন
কিংবা ক্ষণে ক্ষণে হয় শিহরিত
তুমি যেওনা ছুটে পাহাড় অরণ্য কিংবা সমুদ্র তীরে,
অতি সন্তর্পণে আঁখি দুটি বন্ধ করে নিও
চলে যেও তোমার হৃদয়ের নীলিমায়,
আমার দেওয়া উষ্ণতায় আমাকেই খুঁজে পাবে
আমি যে আছি তোমার মৃণাল বুকের গভীর থেকে গভীরে।
নীলাম্বরের নীলিমায়

জেবু নজরুল ইসলাম

তুমি আর আমি দুজন পৃথিবীর দুই প্রান্তে
কেউ কার দেখি নাই কোনদিন,
হয়নি সুমধুর আলাপ রাখিনি হাতের উপরে হাত
কিংবা নীলাভ নয়নে নয়ন।

তবু কেন মনে হয় যুগ যুগ ধরে তোমাকে চিনি
তবে কি পূর্ব জনমে আমাদের ছিলো কোন পরিচয়?
অদৃশ্য রহস্যের মায়াজাল ছিন্ন করে
কবে কোন শুভক্ষণে মদির সমীরণে ভেসে এলে
দাঁড়ালে হৃদয় নিকুঞ্জে,
হলে গাঢ় থেকে গাঢ়তর।

তুমি কি তবে বসন্তের রাণী?
কখন ছুঁয়ে দিলে আমার তৃষিত অন্তর,
তোমাকে কখনো ভাবিনি
এমন কি কখনো করিনি কামনা,
কেন আজ বলতে পারো
তোমাকে বার বার মনে পড়ে
কেন হয়ে যাই ক্ষণে ক্ষণে আনমনা।

বুকের গভীরে যেন মধুপের ব্যাকুল গুঞ্জন
কর্ণ কুহরে শুনি ককিলের কূজন,
তবে কি তুমি স্নিগ্ধ আঁখির দীপশিখা জ্বেলে
নেমে এলে হৃদয়ের আঙ্গিনায়?
যখন তুমি কল্পনায় ধরা দিলে
নাও গো তুলে তোমার কোমলকমল বাহু ডোরে
রাঙিয়ে নাও তোমার নীলাম্বরের নীলিমায়।

আলিঙ্গনে

জেবু নজরুল ইসলাম

গোধূলির রঙ যখন মিশে যায়
সন্ধ্যা নেমে আসে সন্তর্পণে পৃথিবীর পরে,
বিহঙ্গের মতো তুমিও ঘরে ফিরে যাও
অঙ্গে অঙ্গে যমুনার ঢেউ তুলে,
বিস্ময় বিমুগ্ধ স্থির নক্ষত্রের মতো চেয়ে থাকি
আর হারিয়ে যাই তোমার নন্দিত তরঙ্গে,
একাকার হয় মন তোমার শুভ্র মাধুরীর নীলা নিকতনে।

তোমায় ছুঁয়ে ছুঁয়ে দক্ষিণা সমীরণ
রজনীগন্ধার সুধা স্নিগ্ধতর সুরভী ছড়ায়,
বেণী দুটি দোলে দোলে উঠে মাধবীর মতো
মুগ্ধ নয়ন ক্ষণে ক্ষণে হয় উতলা আকুল,
তোমার আলপনা আঁকি আর মূর্তি গড়ি তুলি
হৃদয় কুঞ্জবনে, তুমি বিসর্পিত বিজলী রেখার মতো
হারিয়ে যাও চকিতে গোপনে।

মন মননে, চিন্তা চেতেনায়, ধ্যান জ্ঞানে,
নিরন্তর তোমাকে অনুভব করি, তোমার বুকের
সবুজ অরণ্যে বিচরণ করতে করতে
কেটে যায় নিশীথের আঁধার আসে সোনালি সকাল,
দিগ দিগন্তে ভেসে যাই শরতের মেঘের মতো
যখন তুমি আমাকে প্রচ্ছন্ন করে রাখো
পদ্মের ডাঁটার মতো কোমল বাহুর আলিঙ্গনে।
তারাদের ভিড়ে

জেবু নজরুল ইসলাম

অগণিত তারাদের সাথে
আমিও জেগে ছিলাম কাল সারারাত,
দেখেছি রাশি রাশি মেঘের পাহাড়
শুনেছি ডাহুকের বুক ফাটা আর্তনাদ,
বাতাস ছুঁয়েছে মন খেয়েছে লুটুপুটি
চিরহরিৎ কোমল ঘাসে।

কালরাতে উঠেনি চাঁদ আকাশে
চারিদিকে মৃদু আলো মৃদু অন্ধকার,
তবুও তারারা যেন তোমার মতো অধর মেলে
চোখে চোখে হাসে, শুধু ছিলাম ক্লান্ত প্রাণ নিয়ে
সবুজ ঘাসের উপরে বসে।

নরম নীলাভ আলো নেমে এসেছে যেন
পৃথিবীর পরে, ঘাসের গন্ধ বাতাবীলেবুর মতো
করেছে অধীর করেছে উম্মন, সন্তর্পণে লক্ষ্মী পেচার মতো
হৃদয় আমার করেছে তোমার দিগন্তে বিচরণ।

আকাশ ভরা সরিষা ফুলের মতো
অজস্র তারা, তোমার কোমল মাধুরীর প্রতিম
আমায় করেছে অভিভূত, তোমারে খুঁজেছি কতো
শুভ্র পুঞ্জ মেঘের দেশে, আকাশের নীলে
আর রাশি রাশি তারাদের ভিড়ে।
পিঙ্গল নয়নে নয়ন

জেবু নজরুল ইসলাম।

নিশীথের আঁধারে যে এসে ধর দেয়
দিনের আলোয় কোথায় সে লুকিয়ে থাকে,
স্পর্শের বাহিরে থেকে যে আমায় ভালবাসে
যার সোনামুখ দেখিনি এখনো, রাখা হয়নি
পিঙ্গল নয়নে নয়ন।

অন্ধকারে তার দুটি চোখ নক্ষত্রের মতো জ্বলে
মুখ তার ঝিলের জলে বিকশিত কুমুদের মতো,
ঘাসফড়িঙের দেহেরমত রঙ তার, ময়ূরের
সবুজ নীল ডানার অবিকল শাড়ী পরে
চুপি চুপি এসে বসে বুকের নিভৃতে।

আমার দিগন্ত এখন নিবিড় মেঘে ঢাকা
এখানে আলো নেই ভালবাসা বলে কিছু নেই,
আছে প্রচন্ড নীরবতা।
ভালাবাসার করুণায় ভিজিয়ে দিতে কিংবা
শীতের সকালের সূর্যের মতো উষ্ণতা বিলাতে
কোন বিলুপ্ত নগরী থেকে এলে তুমি নারী।

সৌন্দর্যের জ্যোতি ছড়িয়ে দিলে আমার
দুচোখে, তোমার জন্য এখন হাহাকার শুধু বুকে।
বার বার তোমার মুখখানা ভেসে উঠে,
আর আঁধারে নয় এবার আলোয় টলমল
সকালে চলে এসো, হাতের বন্ধনে রেখে হাত
আসো শিশিরে ভেজা ঘাসের বিছানায় বসে
আমরা দুজনে গল্প করি।

কত নামে তোমাকে ডাকি

জেবু নজরুল ইসলা

মানবী নয় যেন মোমের পুতুল, আবার কখনো মনে হয়
শরতে আকাশের সাদা সাদা মেঘের দেহ, একটু উষ্ণতায়
ঝরে পড়ে ফোঁটা ফোঁটা শিশির কণা, সমস্ত অবয়ব জুড়ে
বসে থাকে বিন্দু বিন্দু মুক্তার দানা, ভিজে যায় নিমিষেই
শাড়ীর আঁচলে ঢাকা মৃণাল মৃদুল সোনার শরীর।

তোমার চোখের পানে তাকালে দেখি সমুদ্রের নীল,
গোধূলির সোনালি আলো, অলস দুপুরের একরাশ নীরবতা,
দুটি চোখ দুরন্ত পায়রার মতো ঘুরে ফিরে
নীরবে যেন বলে যায় কত কথা।

তুমি যেন নয়ন বিমোহিত এক ভোরের পাখী
দূর থেকে দেখা যায়, কাছে গেলে যাও উড়ে,
আপন আলোয় আপনি আলোকিত, তোমার রশ্মির
একটু ছোঁয়া পেতে কতো চাই মনে মনে,
ইচ্ছে করে পাশে বসে শত নামে তোমাকে ডাকি।

মিষ্টি একটা সুরভী এসে ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায়
তুমি যখন হেঁটে যাও, চুলগুলো এলোমেলো
করে মিলন উম্মত্ত মাতাল সমীরণ,
মন আমার ছুটে চলে স্ফীত বেলুনের মতো
আকাশের নীলিমায় ।

খরার কবলে নিপতিত দিগন্তে আমার নেমে আসে
শ্রাবণের ঢল যখন তোমাকে দেখি,
পলকে পলকে কেঁপে কেঁপে উঠি, মন চায় তোমায়
দুবাহুর বন্ধনে রাখি সারাটি জীবন,
কেন করে দিলে হৃদয় আমার অধীর উম্মন।

এখন শুধু স্বপ্ন

জেবু নজরুল ইসলাম ।

তোমার যমুনার তীরে আমার নামটি কি
এখনো লিখা আছে মোহিনী? নাকি উত্তাল তরঙ্গের
সাথে সে নাম মুছে গেছে সাগরের লোনা জলে,
নক্ষত্রের মতো এখনো আছো তুমি আমার দিগন্তে ভাস্বর,
হৃদয়ের মাঝখানে তোমার নামটি আজো লিখা আছে অবিনশ্বর।

তোমাকে নিয়ে ছিলো কতো সাধ, কতো আকাঙ্খা,
মনে মনে দেখেছি কতো স্বপ্ন অষ্টপ্রহর
হৃদয়ের পাতা গুলো উল্টে একবার দেখে যাও
এখনো পাবে তার জীবন্ত স্বাক্ষর।

বড় সাধ ছিলো সকালে নদীর ঢেউয়ের তালে তালে
ভেসে যাবো দুজন দূর থেকে বহু দূর কিংবা
হংস মিথুন হয়ে ডানা মেলে উড়ে যাবো সুদূর আকাশে,
বিস্তৃত নীলিমায় ঘুরে ঘুরে ফিরে আসবো আবার
আমাদের ছোট্ট নীড়ে সন্ধ্যার আলো-আঁধারে।

আমার সাধ, আমার আকাঙ্ক্ষা এখন শুধু স্বপ্ন।
হলো না আমাদের হেমন্তের ভোরে হাতে হাত ধরে
শিশিরে ভেজা ঘসের উপরে হাঁটা, হলো না নেয়া অমৃতের স্বাদ
হারিয়ে গিয়ে প্রগাঢ় কুয়াশায় ছোট ছোট চুম্বনে।

তুমিত জানো না মোহিনী তোমার জন্য
এখনো মাধবী তলে দাঁড়িয়ে থাকি কখনো অলস দুপুরে
কখনো সন্ধ্যায়, প্রত্যূষে উঠে শিউলী কুঁড়াই, বকুলের মালা গাঁথি,
মালা আর ফুলগুলো ভাসিয়ে দেই নদীর জলে,
যদি কোনদিন ফিরে আসো, আমার স্বপ্নগুলো
একটি একটি করে পূরণ করে দেবেতো মোহিনী?

নীরবে গোপনে

জেবু নজরুল ইসলাম

তোমার নিবিড় কুঞ্চিত কালো চুলে
এখনো কি আছে শিউলীর সুরভী?
এখনো কি আছে ঐ দুটি আঁখিতে
জোনাকির মায়াবী আলোর মতো
মনোমুগ্ধকর আকর্ষণ?
নাকি ধীরে ধীরে হারিয়ে গেছে
অধীর উতল করা গন্ধ,
নিষ্প্রভ হয়ে গেছে দৃষ্টি মুগ্ধ জ্যোতি,
সময়ের আবর্তনে কাল থেকে কালান্তরে।

দেখেছিলাম তোমায় বসন্তের
স্নিগ্ধময় কোনো এক সকালে,
চোখে চোখ রাখতেই নিমিষে হারালাম
তোমার নীলে নিজেকে রাঙ্গালাম,
দেখলাম উজ্জ্বল ভোরের আকাশ
তোমার চোখের গভীরে।

ক্ষণিকের জন্য হলেও সেই দিন
তুমি বিমুগ্ধ করেছিলে আমাকে,
দেখেছি পলাশের রাঙ্গা আবীর তোমার অধরে,
গোধূলির কোমল আলোর মতো সুবর্ণ মাধুরী
তোমার মুখে, চোখে চোখে কতো কথা হয়েছিল
নীরবে গোপনে,হৃদয় সমুদ্রে হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নকে
আবার খুঁজে পেয়েছিলাম যখন প্রগাঢ় চুম্বন
বিনিময় হলো নয়নে নয়নে।

হৃদয় লুণ্ঠন

জেবু নজরুল ইসলাম

আমিতো ভালোই ছিলাম নীরবে নিভৃতে
আপনার মাঝে আপনি বিভোর,
কারো পানে চেয়ে দেখিনি,
এমন কি প্রকৃতির রূপও
ভালো করে তাকিয়ে দেখিনি কখনো।

তবে কেন আমার হৃদয় হরণ করে নিলে
কেনো করে দিলে শান্ত মনকে উচাটন।

কোন কিছুই আজ আর ভালো লাগেনা
ক্ষুধা নেই, তৃষ্ণা নেই,
খাওয়া দাওয়াতে মন নেই,
কেনো নিশীথে ঘুম কেড়ে নিলে দুচোখের।

অধীর উদাস থাকি শুধু তোমার জন্য
দিনের আলোয় রাত্রির আঁধারে,
আমার চিন্তা চেতনায়, ধ্যান জ্ঞানে,
হৃদয়ের গভীর থেকে গভীরে,
তুমি থাকো এখন সদা
অন্তরের একান্ত অনুভবে।

যখন তুমি করে নিলে হৃদয় লুণ্ঠন
তবে কেন মায়াবী চাঁদের মতো দূরে থাকো,
এবার দাও গো ধরা হে সুন্দর,
একবার এসে দাঁড়াও সম্মুখে
আমি দেখিতে চাই তোমার রূপের মাধুরী,
হৃদয় বিভাসিত হোক তোমার জ্যোতির স্পর্শে
শান্ত হোক আমার তৃষিত নয়ন।
অবারিত সুন্দর

জেবু নজরুল ইসলাম

বিধতা যখন ঢেলে দিয়েছে তোমায়
সীমাহীন সুন্দর, এমন কি ক্ষতি হবে ওগো
এই অতৃপ্ত মন যদি ছুঁয়ে দিতে চায়
তোমার কুমুদ হৃদয়।

কিসের এত লজ্জা কিসের ভয়
চলো চলে যাই হেমন্তের শুভ্র পুঞ্জ মেঘের দেশে
সেখানে সাজাবো আমাদের সুখের বাসর।

আর যদি যেতে চাও অচিন কোন গাঁয়ে
আমি হবো কৃষাণ আর তুমি হবে কৃষাণী,
কার্তিকের কুয়াশায় আবৃত কাক ডাকা ভোরে
চলে যাবো দুজনে সবুজ বিস্তৃত মাঠে,
পাখীদের মতো বাঁধবো বাসা দুজনে
মাঠের পাশে হরিৎ কুঞ্জবনে।

তোমার হাতের ছোঁয়ায়
ফলবে সেখানে সোনালি ফসল,
ভরে যাবে মাঠ আর মাঠ, অলস দুপুরে
বৃক্ষের সুশীতল ছায়ায় বসবো আমরা,
পাখীদের কলতানে ঢুলু ঢুলু হবে
তোমার অরবিন্দ নয়ন।

যখন ঘুমিয়ে পড়বে তুমি সবুজ ঘাসের উপর
এলিয়ে দিয়ে ঘামে ভেজা ক্লান্ত কোমল শরীর,
পাখীরা গাইবে গান দেখবে আমাদের নন্দিত বাসর,
আর আমি, শুধু চেয়ে চেয়ে দেখবো তোমায়,
দেখবো তোমার অবারিত সুন্দর।

Related posts