September 23, 2018

কচুয়ার কৃষকলীগ নেতা হত্যা মামলায় ৬ জনের ফাঁসি!

এ কে আজাদ,
চাঁদপুর প্রতিনিধিঃ
চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার শংকরপুর গ্রামের উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি অলিউল্লাহ হত্যা মামলায় ছয়জন আসামীকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন চট্টগ্রাম দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার সকালে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মুহিতুল হক এনাম চৌধুরী এ রায় প্রদান করেন।

ট্রাইব্যুনালের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট আইয়ুব খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ২০১৪ সালের ৩০ জুলাই কোরবানির ঈদের রাতে কচুয়া উপজেলার শংকরপুর গ্রামের ইউনিয়নের অলিউল্যাহ মৃধাকে কুপিয়ে হত্যার পর নিহতের স্ত্রী জয়নব বেগম কচুয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ৩১ মার্চ ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৬ সালের ৬ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। এরপর মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।

এই মামলার অভিযোগ গঠনের পর বিভিন্ন সময়ে ১৫ জন সাক্ষী এই মামলায় সাক্ষ্য প্রদান করেন। সাক্ষ্য শেষে মোট ১০ আসামির মধ্যে ৬ জনের অপরাধ প্রমানিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্বে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। বাকী চার জনের অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দিয়েছে আদালত।

ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন; আবদুল কাদের মৃধা, নাজমুল হাসান, আবদুল হামিদ, মেহেদী হাসান, গৌরব ও হারুণ মৃধা। দন্ডপ্রাপ্ত ৬ আসামীর মধ্যে ৩ জনই মৃত অলিউল্লার ভাতিজা। দন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা সবাই বর্তমানে পলাতক আছেন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চার আসামিকে খালাস দেন আদালত। খালাস প্রপ্তরা হলেন,আবু তাহের,আক্তার হোসেন,মোয়াজ্জেম হোসেন ও জাকির হোসেন।

রায় ঘোষনার পর এক প্রতিক্রিয়ায় মৃত অলিউল্লার স্ত্রী জয়নব বেগম জানান,আমার স্বামী আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতো। কিন্তু তার তিন ভাতিজাসহ আসামিরা সবাই বিএনপির রাজনীতি করতো। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও সম্পত্তিগত বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে আমার স্বামীকে খুন করা হয়। ৬ আসামির মৃত্যুদন্ড হয়েছে শুনে ভাল লাগছে। তবে সকল আসামীর এই শাস্তি হলে আরও খুশি হতাম।

Related posts