November 18, 2018

কক্সবাজারে শুক্রবার থেকে শুরু সাংগ্রাই উৎসব


অজিত কুমার দাশ হিমু,কক্সবাজারঃ  বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠি রাখাইন সম্প্রদায়ের প্রাণের উৎসব জলকেলী। তাদের এ উৎসব  সাংগ্রেং পোয়ে বা জলকেলী নামেই পরিচিত। এই জলকেলী উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা ১২এপ্রিল থেকে শুরু হলেও ১৫এপ্রিল শুক্রবার থেকে শুরু হবে মূল উৎসব চলবে ২০এপ্রিল পর্যন্ত। এ উপলক্ষে কক্সবাজারের রাখাইন পল্লীতে উৎসবের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষ শুরু হচ্ছে। ‘সাংগ্রেং পোয়ে’ বা জলকেলীর মূল উৎসব শুরু হবে ১৫ এপ্রিল। তবে পুজা পার্বনের মাধ্যমে এর আনুষ্ঠানিকতা ইতিপূর্বে শুরু হয়েছে । ১৪এপ্রিল রাখাইন মগী সনের ১৩৭৭ বর্ষের বিদায়। ১৫এপ্রিল শুক্রবার শুরু হবে ১৩৭৮ মগী সন।

কক্সবাজারের রাখাইন পল্লী ঘুরে দেখা গেছে, রাখাইন জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকা গুলোতে রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকজন জলকেলী উৎসব ও পুজা পার্বনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের শহর কক্সবাজারে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী রাখাইনদের নববর্ষ উৎসব প্রতি বছরের মত এবারও বেশ ঝাঁকঝমকপূর্ণভাবে উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়েছে রাখাইন জনগোষ্ঠী। এ উপলক্ষে কক্সবাজার পৌরসভার ১৭টি রাখাইন পাড়ায় সম্পন্ন হয়েছে উৎসবের সকল       প্রস্তুতি।

রাখাইনদের এ উৎসবের মূল লক্ষ্য অতীতের সকল ব্যাথা-বেদনা, গ্লানি ভূলে গিয়ে ভ্রাতৃত্ববোধের মাধ্যমে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়া।

এদিকে কক্সবাজার শহরের রাখাইন সম্প্রদায় ১৫ এপ্রিল শুক্রবার পাড়ায় পাড়ায় জলকেলিতে মেতে উঠবে। ১৬ এপ্রিল মোমবাতি প্রজ্জলন, পুষ্প অর্পণসহ ধর্মীয় পূজায় ব্যস্ত থাকবে সকলে। এরপর ১৭, ১৮ ও ১৯ এপ্রিল মূল কাঙ্খিত জলকেলি উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এবার জলকেলিতে বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১৫টি প্যান্ডেল করা হবে। প্যান্ডেল গুলো হলো- পূর্ব মাছ বাজার (বড় বাজার), পূর্ব মাছ বাজার (ভাতঘর রোড), পশ্চিম মাছ বাজার ( ছালাম মার্কেট পিছন), চাউল বাজার (ফুলবাগ সড়ক) টেকপাড়া (কাজী অফিস, ওয়েলফেয়ার পার্শে), মাঝের ঘাট (হাঙর পাড়া), বৌদ্ধ মন্দির সড়কের ক্যাং পাড়ায় ৩ টি ও এস.এম.ক্যাং পাড়া (টংর পাড়া)। এসব এলাকায় দুপুর ২ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত জলকেলি হবে।

এ উৎসবে রাখাইন তরুণ-তরুণীরা নতুন ও আকর্ষণীয় পোশাক পরিধান করে সেজেগুজে রাস্তার মোড়ে মোড়ে এবং রাখাইন পল্লীতে তৈরি করা জলকেলী উৎসবের প্যান্ডেলে গিয়ে একে অপরকে পানি নিক্ষেপ করে আনন্দ প্রকাশ করবে। এসময় বাদ্য বাজিয়ে নাচ-গানসহ চলে আনন্দঘন অনুষ্ঠান। সাথে ঢাক-ঢোল আর কাঁশার তালে-তালে নেচে উঠবে রাখাইন আবাল-বৃদ্ধ-বণিতাদের প্রাণ।

কক্সবাজার শহরের বড় বাজার রাখাইন পল্লীর বাসিন্দা মালা রাখাইন বলেন, ‘আমরা একে অপরের গায়ে পানি ছিটানোর মধ্য দিয়ে পুরনো দিনের সকল ব্যাথা, বেদনা, হিংসা বিদ্বেষ ভুলে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছি। এটি আমাদের কাছে খুবই পবিত্র ও আনন্দের দিন।

কক্সবাজার শহরের বার্মিজ স্কুল রোডের বাসিন্দা কলেজ ছাত্র প্রে“সেন রাখাইন বলেন, ‘প্রতিবছরই আমরা তিন দিনব্যাপী ‘সাংগ্রে পোয়ে’ বা জলকেলী উৎসবের আয়োজন করে থাকি। এটি রাখাইন পল্লী ছাড়িয়ে পুরো এলাকা উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়।

কক্সবাজার সিটি কলেজের অধ্যক্ষ ও আরডিএফ’র সভাপতি ক্য থিং অং বলেন, ‘সাংগ্রে পোয়ে’ বা জলকেলী উৎসব হচ্ছে রাখাইনদের সামাজিক একটি উৎসব। শুক্রবার থেকে তিনদিন ব্যাপী সাংগ্রে শুরু হচ্ছে। রাখাইন সম্প্রদায়ের নর-নারীরা বুদ্ধের মূর্তিকে স্নান করানোর মাধ্যমে সামাজিক এ উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করবে। এটি চলবে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত।’

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ বলেন, রাখাইনদের জলকেলী উৎসব উপলক্ষে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাড়তি নিরাপত্তায় পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবও মাঠে থাকবে।
প্রসংগত, রাখাইন বা মগী ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১৪ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বিদায় নিচ্ছে রাখাইন পুরনো বছর ১৩৭৭। ১৫এপ্রিল শুক্রবার শুরু হবে ১৩৭৮ মগী সন। একই ক্যালেন্ডার প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারেও অনুসরণ করা হয়। সেখানেও এ ক্যালেন্ডারকে বার্মিজ ক্যালেন্ডার বলা হয়ে থাকে।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/১৩ এপ্রিল ২০১৬/রিপন ডেরি

Related posts