November 19, 2018

কক্সবাজারে এটা কি, রাস্তা না খাল?

390

অজিত কুমার দাশ
কক্সবাজার থেকেঃ
বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। এ শহরের পর্যটকদের আবাসস্থল হোটেল-মোটেল জোনের ৫ নং সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। কিছু দিন আগেও এই সড়কে পর্যটকদের চলাচল ছিল লক্ষনীয়। আনবিক শক্তি কমিশনমুখী এই সড়ক দিয়ে ভিআইপি দর্শনার্থীরা সমুদ্র সৈকতে নামে। পাশাপাশি সৈকতের বালিয়াড়ীতে গবেষণা কাজের জন্য এই সড়ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই সড়কটির পাশে হোটেল ওশান প্যারাডইস ও ডিভাইন ইকো রিসোর্ট এন্ড রেস্টুরেন্টসহ বেশ কয়েকটি নামিদামি আবাসিক হোটেলের অবস্থান। কিন্তু প্রবল বৃষ্টিতে উজান থেকে আসা পাহাড়ী ঢলে ৯’শ ফুট দৈর্ঘ্যের সড়কটির পুরোটাই সাগরের সাথে মিশে গেছে। দিন দিন সরে পড়ছে অবশিষ্ট মাটিও। একারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে আশপাশের আবাসিক হোটেল-কটেজগুলোও।

মূলতঃ সড়কটি টেকসই হলেও ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এজন্য কক্সবাজার পৌরসভা, হোটেল ওশান প্যারাডাইজ ও ফকির গ্রুপ কর্তৃপক্ষকে দায়ী করা হচ্ছে। তাছাড়া হোটেল মোটেল জোনে পৌরসভার নিয়ন্ত্রণহীন ক্ষমতা ও প্লট মালিকদের কান্ডজ্ঞানহীনতার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, কলাতলীর বড়ছরা থেকে শুরু করে বিমানবন্দরের পাশ দিয়ে সাগরে প্রবাহিত ছরার উপরে পৌরসভা কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার যে ড্রেন করেছে, তাতে পুকুর চুরি হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের প্রধান এই নালাটি জেলা প্রশাসনের খাতায় ১৬ ফুট ছরা বলে উল্লেখ থাকলেও সঙ্কুচিত করে ৮-১০ ফুটের একটি ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। এতে করে বিস্তীর্ণ হোটেল মোটেল জোনের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্থ হয়েছে।

এব্যাপারে কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হলেও অনেক বিষয়ে তিনি তেমন কিছু জানেন না বলে উত্তর দেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, হোটেল মোটেল জোনে পৌরসভার ড্রেন নির্মাণে অনিয়ম হয়েছে। প্রতিটি প্লট থেকে ড্রেনে পানি ঢুকার পথ রাখা হয়নি। স্বাভাবিক মাটির চেয়ে উচু করে ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। এ কারণে গতিপথ না পেয়ে সড়ক দিয়েই পানি চলছে। ভেঙে যাচ্ছে সৈকত এলাকার রাস্তাঘাট। ডুবে যাচ্ছে হোটেল মোটেল ও আবাসিক কটেজ। তাছাড়া গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রণীত মাষ্টার প্ল্যানের আওতায় সড়কটি পড়লেও দীর্ঘ দিন ধরে সংস্কার করা হয়নি। দায়িত্বহীনতা দেখিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

391

১৯ জুলাই মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিন দেখা গেছে, হোটেল-মোটেল জোনের ৫ নং সড়ক হয়ে পানি পড়ছে সোজা সাগরে। চলমান এই পানির গতির ধাক্কায় পার্শ্ববর্তী ‘ডিভাইন ইকো রিসোর্ট এন্ড রেস্টুরেন্ট’ এর সীমানা ভেঙে যাচ্ছে। সরে পড়ছে আশপাশের বসতবাড়ী ও স্থাপনার মাটি। আর পানির তোড়ে ভেঙে যাওয়া রাস্তার উপর বস্তা ফেলে ভাঙন রোধে চেষ্টা করছে স্থানীয়রা।

স্থানীয় ব্যবসায়ী হাসিব উদ্দিন আহমদ জানান, পৌরসভার ড্রেন নির্মাণে অনিয়ম হওয়ায় পুরো হোটেল-মোটেল জোনেই পানি জমে থাকে। ড্রেনের পানি রাস্তা দিয়ে চলছে। ভেঙে পড়ছে পথঘাট। পৌরসভা ও সংশ্লিষ্টরা পানি সরানোর কোন উদ্যোগ নেয়নি। যে কারণে আশপাশের স্থাপনাসমূহ ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এরপরও তিনি সাধ্য মতো শ্রমিক দিয়ে পানি নিষ্কাষণের ব্যবস্থা করছেন বলে জানান।

তার অভিযোগ, সংকীর্ণ ড্রেনের কারণে গতিপথ না পেয়ে পানি জমে আছে। অথচ প্রশাসন তা না দেখে চলাচলের রাস্তা কেটে দিয়ে পানি যাওয়ার ব্যবস্থা করছেন। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক বলে জানান ব্যবসায়ী শাওন। একই কথা স্থানীদেরও। তাদের দাবি, ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত করা হোক। তাহলে শহর পরিচ্ছন্ন থাকবে।

আনবিক শক্তি কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গবেষণাসহ আনবিক শক্তি কমিশনের সমুদ্র সৈকতের সাথে যোগাযোগের এক মাত্র সড়ক এটি। মাস্টার প্ল্যানের এই ৫নং সড়কটি তাতে অনেক কাজ দিয়েছে। কিন্তু সড়কটি বিলীন হয়ে যাওয়ায় সেই সুবিধা থেকে বি ত হয়েছে আনবিক শক্তি কমিশন।

কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম সিকদার জানান, পৌরসভা এবং সরকারের বিভিন্ন দপ্তর লাখ লাখ টাকা রাজস্ব নিলেও হোটেল মোটেল জোনের সংযোগ সড়ক, বর্জ্য ও পানি নিষ্কাশনে তেমন কোন ব্যবস্থা নেই। এভাবে চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যৎ হোটেল মোটেল জোন একটি বিশাল ‘ময়লার ডিপু’তে পরিণত হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এ প্রসঙ্গে বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি পৌরসভাকে দোষারোপ করে বলেন, নালা-নর্দমা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা পৌরসভার দায়িত্ব। তাদের অনেকবার এ বিষয়ে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এরপরও কেন গুরুত্ব দিচ্ছে না তা খতিয়ে দেখবেন বলে জানান জেলা প্রশাসক। তবে, জলাবদ্ধতার জন্য স্থানীয় কিছু হোটেল ব্যবসায়ী দায়ী বলে জেলা প্রশাসক মন্তব্য করেন।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts