November 17, 2018

‘কইলে মায় মাইর খায়, আর না কইলে বাবায় হারাম খায়’

রফিকুল ইসলাম রফিকঃ  জমাট বেঁধেছে নারায়ণগঞ্জ জেলার রাজনৈতিক অঙ্গণে। এক সময়ে জেলাটি আন্দোলন  সংগ্রাম ও রাজনীতির সূতিকাগার হিসেবে খ্যাত থাকলেও বর্তমান তা নিষ্ক্রিয় হওয়ার পথে। বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দরা যার যার স্ব-স্ব অবস্থান থেকে নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত, অপরদিকে জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দদের নিজেদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে নেই সাংগঠনিক কর্মকান্ড। আবার অনেকেই ক্ষমতাসীনদের সাথে আঁতাত করে চলছে। কেউবা মামালার শিকার হয়ে কারাগারে বা আত্মগোপনে। অপর দিকে প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমানের মৃত্যুর পর জাতীয় পার্টি প্রায় বিলিন হওয়ার পথে। এ জেলায় ৫টি আসনের মধ্যে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাংসদ ৩ জন অপর দিকে জাতীয় পার্টির সাংসদ ২ জন হওয়ার পরও নেই কোন সাংগঠনিক কর্মকান্ড। আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে চলছে জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টি। বর্তমানে জেলা ও মহানগরের পার্টির অফিস নেই।

এ বিষয় আওয়ামী লীগের তৃনমূলের নেতৃবৃন্দরা বলেন, নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি এখন পকেট নীতিতে পরিনত হয়েছে। কিভাবে, কার, চাটু কারিতা করে মালা-মাল হওয়া যায় নেতাকর্মীরা এখন সেই বিষয় নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তারা যে কোন দলের সদস্য বা পদ পদবি নিয়ে আছেন সেটা নিয়ে তাদের কোন মাথা ব্যথা নেই। দুর্নীতিবাজ সরকার খালেদাকে ক্ষমতাচুত্য করার জন্য লগি বৈঠার আন্দোলনে আমরা রাজপথ কাপিয়েছি। পুলিশের লাঠির আঘাত, টিয়ার সেলের কষ্ট আমরা ভোগ করেছি। খোদ সাংসদ শামীম ওসমানও কিছু দিন আগে বলে গেছেন তৃনমূল কখনো বেইমানী করে না। অথচ সেই তৃনমূলের দিকে তাদের কোন নজর নেই।

অপর দিকে জাতীয় পার্টির তৃনমূল বলেন, আমাদের রাজনৈতিক শিক্ষা গুরু প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমানের মৃত্যুর পর এই জেলা থেকে জাতীয় পার্টির অস্তিত্ব বিলিন হয়ে গেছে। বর্তমান যারা জাতীয় পার্টির রাজনীতি করেন তারা শুধু দলকে ভালবেসে করছেন। কিন্তু কোন দলীয় কর্মসূচী নেই। এখন আর কেউ তূনমূলের খোঁজ খবর রাখেন না। আমরা এতো দিন দলের জন্য কাজ করেছি। বিনিময় কিছুই পাই নি। আমাদের এই জেলায় ২ জন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য রয়েছেন। দলের সাংগঠনিক কর্মকান্ড চাঙ্গা রাখতে তাদের কোন উদ্যোগ নেই। হয়তোবা কিছু দিন পর এই জেলায় জাতীয় পার্টির কোন অস্তিত্ব থাকবে না।

তারা আরও বলেন, বড় দুঃখের সাথে বলতে হয় জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দদের বসার জন্য বর্তমান একটি অফিসও নেই। তবে বর্তমান ৫ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমান একাধিকবার জাতীয় পার্টির অফিস নিয়ে দেয়ার ঘোষনা দিয়ে আসলেও, এখনো সেটা মঞ্চ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। এর বাস্তবায়ন এখনো চোখে পড়ছেনা।

এ দিকে বিএনপির তৃনমূল বলেন, ‘কইলে মায় মাইর খায়, আর না কইলে বাবায় হারাম খায়’, আমাদের অবস্থা এখন এই রকম। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির অঘোষিত কমিটির কর্ণধার এড. তৈমূর আলম খন্দকার, সাধারণ সম্পাদক কাজী মনিরুজ্জামান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক এড. আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস। তিনজন তিন মেরুর বাসিন্দা সভাপতি নিজেকে জাহির করার জন্য সব সময় ব্যস্ত থাকেন, সাধারন সম্পাদক ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত আর সাংগঠনিক সম্পাদকের গুণের তো কোন শেষ নেই। তিনি যদিও বিএনপির গুরুত্বপুর্ন পদ নিয়ে বসে আছেন কিন্তু কাজ করে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের পক্ষে। সে বিএনপিতে থেকে আওয়ামী লীগের দালালি করে বেড়াছেন। জেলা কমিটির কোন সাংগঠনিক কর্মকান্ডকে শক্তিশালী করার জন্য তার কোন উদ্যোগ নেই।

এছাড়াও এই জেলার বিএনপির রাজনীতি কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়ে পরেছে। ফতুল্লায় শাহ আলম, রুপগঞ্জে কাজী মনির, বন্দরে এড.আবুল কালাম, আড়াই হাজারে খসরু এবং সারা জেলায় বিছিন্ন ভাবে তৈমূরের অবস্থান আর এ ভাবেই নিজেদের বলয় থেকে নিজেদের অবস্থান নিয়ে রাজনীতি করে যাচ্ছে। আর এই অবস্থা থেকে একটুও পিছিয়ে নেই বিএনপির সহযোগী সংগঠনগুলো। ফলে এই জেলায় বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থান একেবারে ঝিমিয়ে পড়েছে। এই অবস্থান থেকে উত্তোলন করতে হলে অবশ্যই নতুন কমিটি ঘোষণা করতে হবে।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/১০ মে ২০১৬

Related posts