September 21, 2018

ওয়ার্নার ব্যাটে ফাইনালে মুস্তাফিজদের হায়দ্রাবাদ

স্পোর্টস ডেস্কঃ  ডেভিড ওয়ার্নার হিরো। বিপুল শর্মা প্বার্শনায়ক। দারুণ বিপদের মধ্যে ৫৮ বলে ৯৩ রানে অপরাজিত থাকলেন ওয়ার্নার। শুক্রবার ক্যাপ্টেন্স নকে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদকে ফাইনালে নিয়ে গিলেন তিনি। ১১ বলে ২৭ রানে অপরাজিত বিপুল। ওয়ার্নারের সাথে সপ্তম উইকেটে ২১ বলে তার ৪৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি। তাতেই গুজরাট লায়ন্সকে ৪ উইকেটে হারিয়ে বিদায় করে প্রথমবারের মতো আইপিএলের ফাইনালে উঠে গেলো মুস্তাফিজুর রহমানদের হায়দ্রাবাদ। ২৯ মে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর সাথে শিরোপা লড়াইয়ে নামবে তারা। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে অবশ্য সেমিফাইনাল হয়ে ওঠা এই দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচটি খেলতে পারেননি কাটার মাস্টার মুস্তাফিজ।

দিল্লিতে গুজরাট ৭ উইকেটে করেছিল ১৬২ রান। মহা গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে ওয়ার্নার ইনিংসের আদ্যন্ত ব্যাট করলেন। ১১৭ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে হারের শঙ্কায় ছিল হায়দ্রাবাদ। কিন্তু বিপুলের ঝড়ো ইনিংসের সাথে ওয়ার্নারের দায়িত্ববোধ গুজরাটের হাত থেকে ছিনিয়ে আনলো ম্যাচটি। ১৯.২ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে হলো লক্ষ্যপূরণ।

৩৫ বলে এবারের আইপিএলে নিজের অষ্টম ফিফটিটা করেছেন ওয়ার্নার। এই আসরের ইতিহাসে এক মৌসুমে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান (৭৭৯) এখন তার। ম্যাচ জমে ওঠে। গুজরাটের দিকে তখন খেলা। ১৪ ওভার শেষে ৫ উইকেটে ৯৭ রান হায়দ্রাবাদের। জিততে তখনো ৩৬ বলে ৬৬ রান দরকার। ডোয়াইন স্মিথের ওভারে এলো ১৯ রান। ওয়ার্নার নিয়েছেন ১৩, নামান ওঝা ৭। ওই ওভারে ম্যাচের মোড় ঘুরলো। যদিও পরের ওভারে স্মিথের স্বদেশী ডোয়াইন ব্রাভো ২ রান দিলেন। তুলে নিলেন ১০ রান করা ওঝাকে।

গুজরাট হয়তো তখন ফাইনালের সুবাস পাচ্ছে। কিন্তু বিপুল এসে হায়দ্রাবাদের আশাটা বাড়িয়ে দিলেন। শেষ ২ ওভারে লাগে ২৪ রান। ব্রাভোর প্রথম ৫ বলে ওয়ার্নার নিলেন ১১ রান। শেষ বলে ছক্কা হাঁকালেন বিপুল। ম্যাচ হায়দ্রাবাদের হাতের মুঠোয়। পরের দুই বলে খেলাটা শেষ করে দিলেন ওয়ার্নার। এবারের আসরে তার সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটি সাজানো ১১টি চার ও ৩টি ছক্কায়। শিখর ধাওয়ান (০), মজেজ হেনরিকেস (১১), যুবরাজ সিংরা (৮) এদিন হতাশ করেছেন ৮৪ রানে ৫ উইকেট হারালেও ওয়ার্নার প্রায় একা হাতেই ফাইনালে নিলেন দলকে।

এর আগে ওপেনিং থেকে ৫ নম্বরে নেমে অ্যারন ফিঞ্চ ৩২ বলে ৫০ রানের ইনিংস না খেললে গুজরাটের অবস্থা খারাপ হতে পারতো। ৬৩ রানে পড়েছে ৩ উইকেট। এরপর জুটি ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও ফিঞ্চের। ১৩ রানে বেঁচে যাওয়া ফিঞ্চ রড়ার জায়গা করেছেন।

ভুবনেশ্বর কুমার ব্রেক থ্রু দিয়েছেন প্রথম ওভারেই। একলব্য দিবেদি (৫) ওপেন করতে এসে ব্যর্থ। মুস্তাফিজের জায়গা নিয়ে এবারের আইপিএলে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই সফল ট্রেন্ট বোল্ট। গুজরাটের বিপজ্জনক অধিনায়ক সুরেশ রায়নাকে (১) তুলে নিয়েছেন। দিনেশ কার্তিক ও ম্যাককালাম ৪৪ রানের জুটি গড়ে ধ্বস সামলেছেন। কার্তিক মূল্যবান ২৬ রান দিয়ে ফিরেছেন।

এরপর ২ রানের ব্যবধানে ম্যাককালাম (৩২) ও ডোয়াইন স্মিথকে (১) হারিয়ে ফেলে আবার চাপে পড়ে গুজরাট। সেই চাপের মধ্যে ফিফটি তুলে নিয়েই বেন কাটিংয়ের শিকার হয়েছেন ফিঞ্চ। শেষে রানের চাকাটা দ্রুত ঘুরলো ডিজে ব্রাভোর ১০ বলে ২০ ও রবিন্দ্র জাদেজার ১৫ বলে অপরাজিত ১৯ রানের জন্য। ডেথ ওভারে মুস্তাফিজের অভাবে ভুগেছে হায়দ্রাবাদ। ভুবনেশ্বর ও বেন কাটিং ২টি করে উইকেট নেন। পরের গল্পটা ওয়ার্নারেরই।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি ২৮ মে ২০১৬

Related posts