November 15, 2018

ওসির বিরুদ্ধে মামলা চট্টগ্রামে শাড়ি ধরে টানাটানি

187

চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থানার ওসির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। মারধর, ঘরে ঢুকে ভাঙচুর ও শাড়ি ধরে টানাটানি করে শ্লীতাহানির চেষ্টা করার অভিযোগে এক নারী এই মামলা করেন।
গতকাল সকালে মামলাটি আমলে নিয়ে আদালত তা তদন্তের নির্দেশ দেন। তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন পাহাড়তলী থানার ওসি রঞ্জিত বড়ুয়া। তিনি বলেন, কোনো কারণ ছাড়া আমি কেন কাউকে হয়রানি করতে যাবো। বড় ধরনের অপরাধ থেকে বাঁচতে ওই মহিলা এমন কাণ্ড করেছেন।

তিনি এই বিষয়ে আরো বলেন, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে বাদী বিবাদী দুই পক্ষকে শান্ত করতে সেদিন তার বাড়িতে গিয়েছিলাম। কিন্তু গিয়ে দেখি ওই মহিলা ভীষণ ঝগড়াটে। বারবার তেড়ে আসছিল।
আদালত সূত্র জানায়, ওই মহিলার দায়ের করা মামলাটি তদন্তে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে একজন এসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে। আগামী ২৮শে মার্চের মধ্যে এই বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন হাজির করার নির্দেশ দেন বিচারক। এর আগে সকাল ১১টায় একজন নারী পাহাড়তলী থানার ওসি রঞ্জিত বড়ুয়াসহ ৩ জনকে আসামি করেন। এতে পাহাড়তলী থানার দক্ষিণ কাট্টলী ওয়ার্ডের আব্দুর পাড়ার বাবুল মেম্বারের বাড়ির সুলতান আহমেদ (৫০) ও ইমতিয়া আহমেদ (৩০) নামের দুইজনকেও আসামি করা হয়েছে।

৩২৩, ৩৫৪, ৪২৭, ২৪৭, ২৪৮, ৫০৬ ও ১০৯ ধারায় মামলাটি করেন তিনি।
এতে তিনি বলেন, বিনা ওয়ারেন্টে ওই পুলিশ কর্মকর্তা কিছুদিন আগে তার বাসায় ঢুকে সব জিনিসপত্র তছনছ করেন। একপর্যায়ে পরিবারের সব সদস্যকে হয়রানি করার পর তার গায়ে হাত দেয়ার চেষ্টা করলে তিনি বাধা দেন। অভিযোগ শুনে মহানগর হাকিম রহমত আলী ঘটনাটি তদন্ত করার নির্দেশ দেন।
জানতে চাইলে এই বিষয়ে মানবজমিনের সঙ্গে কথা হয় নগর পুলিশের এডিসি মুক্তাকী ইবনু মিনানের সঙ্গে। তিনি বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই পুলিশ আইনেও শাস্তি পাবেন ওই ওসি। আগামী ২৮শে মার্চের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

জানতে চাইলে বাদী নুর জাহান আক্তার জুলি বলেন, গত ১৪ই জানুয়ারি বিকাল ৪টায় যোগসাজশে আমাকে শ্লীতনাহানি করা হয়। ওসি এর আগেও অপর দুই আসামির পক্ষ নিয়ে আদালতে দায়ের করা দুটি মামলা তুলে নেয়ার জন্য নানা হুমকি দেয়। কিন্তু আমি রাজি না হওয়ায় ঘটনার দিন বাড়িতে গিয়ে মামলা তুলে নেয়ার জন্য গালিগালাজ করতে থাকেন।

তিনি বলেন, একপর্যায়ে আমার নাকে ঘুষি মারে। মাটিতে শুয়ে পড়লে লাথি মারে। স্বামী না থাকায় শাড়ি ধরে টান দেয়।

আদালতের আরেকটি সূত্র জানায়, গত এক বছরে চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানার ওসিদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, শ্লীতনাহানি ও কুপ্রস্তাব দেয়ার অভিযোগে একাধিক মামলা হয়েছে। বোয়ালখালীতে এক তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে ওসি নিজেই ওই মহিলাকে কু প্রস্তাব দেন।

যা নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরে ওই তরুণী আদালতে মামলা করেন। এতে বলা হয়, গত ২৭শে আগস্ট বাদিনীকে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে মামলার কাজের কথা বলে নিয়ে যান ওসি তদন্ত ওমর ফারুক। কিন্তু এই সময় ওই তরুণীর ছোট ভাই থাকায় তিনি ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। কেবল তাই নয়, ধর্ষণের ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে বাদিনীকে একাধিকবার কুপ্রস্তাব দেন ওই ওসি।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts