September 25, 2018

ওবামার ২০১৬ সালের পরিকল্পনা

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কঃ  মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ২০১৬ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন শেষ করতে যাচ্ছেন বারাক ওবামা। দেশটির সংবিধান অনুসারে, এরপর আর রাষ্ট্রপতি হতে পারবেন না তিনি। প্রেসিডেন্ট পদে একই ব্যক্তির দুইবারের বেশি থাকার নিয়ম নেই যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে। তাই নিঃসন্দেহে এই বছরটি বারাক ওবামার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বেশ কিছু এজেন্ডাকে গুরুত্ব দিয়ে চলতি বছরের কার্যতালিকা প্রস্তুত করেছেন ওবামা। এর মধ্যে ইরানের সাথে ছয় বিশ্বশক্তির পরমাণু চুক্তি কার্যকর এবং কিউবা সফরকে ২০১৬’র অগ্রাধিকার কাজের তালিকায় রেখেছেন তিনি।

আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে ইরানের সাথে সম্পাদিত ছয় বিশ্বশক্তির পরমাণু চুক্তি। বছরের শুরুতেই উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ইউরেনিয়ামের পরিবর্তে ইরানের বাইরে দেশটির স্বল্প সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রপ্তানির বিষয়কে চুক্তির একটি প্রধান অর্জন বলে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা বেন রডস। তিনি বলেন, এতে চুক্তি অনুসারে তেহরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পথ সুগম হলো।

২০১৬ সালে হাওয়াই দ্বীপে ওবামার বার্ষিক ছুটি বাতিলের কথা জানিয়ে রডস সাংবাদিকদের বলেন, ইরান চুক্তির বাস্তবায়ন চলতি বছর হোয়াইট হাউজের অগ্রাধিকার কাজগুলোর মধ্যে একটি। তিনি আরো বলেন, ২০১৬ সালে ওবামার বেশ কিছু বড় ধরনের লক্ষ্য আছে। এর মধ্যে: চীন, জাপান, পোল্যান্ড, জার্মানি, পেরু এবং লাওস সফরের কথা রয়েছে। চলতি বছরের শেষের দিকে লাওসে এশিয়ান অর্থনৈতিক সম্মেলনে যোগ দেয়ার কথা ভাবছেন ওবামা। এটাই হবে প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের লাওস সফর। এ বছরে ওবামার ভ্রমণ তালিকার শীর্ষে রয়েছে কিউবা সফর। তবে দেশটির সাথে এখনো বেশ কিছু অমিমাংসিত বিষয় রয়ে যাওয়ায় সমাজতান্ত্রিক দেশ কিউবাতে ওবামার সফর নিশ্চিত করতে উভয় দেশকে একসাথে কাজ করতে হবে বলে জানিয়েছেন রডস।

যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যে কিছু অমিমাংসিত বিষয় এ বছরেও নিষ্পত্তি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে স্বীকার করে রডস বলেন, ‘কেউ আশা করেনা যে ২০১৬ সালেই কিউবা একটি বহুদলীয় গণতন্ত্রের দেশে পরিণত হবে।’

এছাড়া চলতি মাসের ১২ তারিখে বাৎসরিক ‘স্টেট অব ইউনিয়ন’ বক্তৃতায় জঙ্গি সংগঠন আইএস ইস্যু নিয়ে কথা বলবেন ওবামা। বিদায়ী বছরে আইএস ইস্যুকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবেন তিনি এবং এই গোষ্ঠিটির কথা মাথায় রেখেই এ বছরের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ করবেন। আইএস নির্মূলে সাংবাদিকদের সামনে ওবামার একটি সন্ত্রাস-বিরোধী পরিকল্পনা তুলে ধরেন রডস। ওবামা তার শাসনামলেই এর বাস্তবায়ন শুরু করবেন এবং এটি দেশটির ভবিষ্যৎ নেতাদেরও সহায়তা করবে। এর লক্ষ্য হবে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে একটি ইতি টানা।

মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেন, ‘হোয়াইট হাউজ আশা করে, দেশটির আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এমন কোনো মন্তব্য করবেন না, যাতে সন্ত্রাসীরা এটিকে তাদের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।’ মার্কিন রিপাবলিকান দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুসলিম বিদ্বেষী বক্তব্যকে ইতিমধ্যে দলে সদস্য সংগ্রহের কাজে ব্যবহার করছে আল কায়েদার সাথে সম্পর্কিত সোমলিয়ার আল শাবাব জঙ্গি গোষ্ঠি।

পরোক্ষভাবে ট্রাম্পের সমালোচনা করে রডস বলেন, ‘আমরা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছি। ইসলামের বিরুদ্ধে না।’

সূত্র: সিএনএন।
দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts