September 20, 2018

ঐশীর মৃত্যুদণ্ড স্থগিত

ঐশী রহমান

পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না রহমানকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া মেয়ে ঐশী রহমানের আপিল গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তাঁর জরিমানা স্থগিত করেছেন আদালত।
আজ সোমবার বিচারপতি মোয়াজ্জেম হোসেন ও বিচারপতি বদিউজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চে আপিলের শুনানি গ্রহণ করে এ আদেশ দেওয়া হয়। শুনানির সময় ঐশীর পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট সুজিত চ্যাটার্জি বাপ্পী। গতকাল রোববার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ঐশী রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন।
অ্যাডভোকেট সুজিত চ্যাটার্জি বাপ্পী এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘আপিল গ্রহণ করায় ঐশীর আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডের কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। আর আদালত ২০ হাজার টাকা জরিমানাও স্থগিত করেছেন।’
এর আগে গতকাল আপিল আবেদন শেষে ঐশীর আইনজীবী মাহবুব হাসান রানা জানান, ২৫টি যুক্তি দেখিয়ে ২৫ পৃষ্ঠার আপিল আবেদন করা হয়েছে।
আইনজীবী দাবি করেন, নিম্ন আদালতে ঐশীর ডিএনএ টেস্ট সঠিক ছিল না। ঐশী অপ্রাপ্তবয়স্ক। তাই তাঁর বিচার হওয়া উচিত শিশু ট্রাইব্যুনালে। যে আদালতে বিচার হয়েছে, তা সঠিক ছিল না।
বাবা-মাকে হত্যার দায়ে গত ১২ নভেম্বর ঢাকার ৩ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাঈদ আহমেদ রায়ে ঐশীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন।
২০১৩ সালের ১৬ আগস্ট রাজধানীর মালিবাগের চামেলীবাগের বাসা থেকে পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না রহমানের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় ১৭ আগস্ট নিহত মাহফুজুর রহমানের ছোট ভাই মো. মশিউর রহমান রুবেল পল্টন থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। একই দিন পল্টন থানায় আত্মসমর্পণ করেন ঐশী।
২০১৪ সালের ৯ মার্চ ঐশীকে প্রধান আসামি করে তিনজনের বিরুদ্ধে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক আবুল খায়ের।
পরে গত বছরের ৩০ নভেম্বর ঢাকার ৩ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ বি এম সাজেদুর রহমান তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এ মামলায় বিভিন্ন সময়ে ৪৯ সাক্ষীর মধ্যে ৩৭ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন।

Related posts