November 19, 2018

ঐক্যে নয়, বিভক্তিতেই অনড় জাসদের দুই গ্রুপ

ঢাকাঃ   ক্ষমতাসীন জোটের অন্যতম শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জাসদের দুই গ্রুপই বিভক্তিতে অনড় থাকার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে এক গ্রুপ অপর গ্রুপের প্রতি আন্তরিকতার অভিযোগ তোলে।

রাজধানীর লালমাটিয়ায় বৃহস্পতিবার জাসদের সাংসদ লুৎফা তাহেরের বাসার দুই গ্রুপের উপস্থিতিতে বৈঠক হয়। সেখানে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে বৈঠকসূত্র নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, দুই গ্রুপকেই জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ করতে দলের মধ্যে একটি গ্রুপ সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। সে লক্ষ্যেই বৃহস্পতিবার দলের এই সাংসদের বাসায় বৈঠকে মিলিত হয় উভয় গ্রুপ। বৈঠকটি রাত ৮টায় শুরু হয়ে শেষ হয় সাড়ে ১০টায়। বৈঠকে জাসদের বিভক্ত দুই গ্রুপের সিনিয়র নেতারা ছিলেন।

বৈঠকে ইনু-শিরীন গ্রুপ আম্বিয়া-বাদল গ্রুপকে তাদের গ্রুপে আসার আহ্বান জানান। কিন্তু আম্বিয়া-বাদল গ্রুপ বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত করে আগের ইনু-আম্বিয়া কমিটি করার প্রস্তাব দেন। এতে দুই পক্ষই সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।

এ ব্যাপারে জাসদের একাংশের সভাপতি শরীফ নূরুল আম্বিয়া বলেন, ‘আমাদের কাছে ঐক্যের দরজা খোলা আছে। তবে তারা (ইনু-শিরীন) ঐক্যবদ্ধে আন্তরিক নয়। তারা মুখে ঐক্যের কথা বললেও তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে।’

তবে অপর অংশের নেতাদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

বৈঠকে অংশ নেওয়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সদস্য জানান, দলটির দুই গ্রুপই মতানৈক্য ও ভুল-বোঝাবুঝির কারণে সাময়িক বিভক্ত হলেও সময়ের প্রয়োজনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে উভয় গ্রুপকে ঐক্যবদ্ধ করতে দল এবং দলের বাইরে আমরা কাজ করছি। উভয়পক্ষই কিছু বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছালে শিগগিরই ঐক্য প্রক্রিয়া দৃশ্যমান হবে।

উভয়পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ করতে ইতোমধ্যেই দলের তৃণমূল নেতাদের দিয়ে চাপ প্রয়োগ করা শুরু হয়েছে। এটা আরো গতিশীল করা হবে। সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী তৃণমূলের কমিটিগুলো দিয়ে বিভিন্ন প্রক্রিয়া ও কৌশলে এই চাপ দেওয়া হচ্ছে। এরপর সেটাতেও দৃশ্যমান ফলাফল না এলে তৃণমূল নেতৃত্বের মাধ্যমে বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়ে উভয়গ্রুপকে চাপ দেওয়া হবে বলেও জানান বৈঠকে অংশ নেওয়া কয়েকজন।

তবে এর আগে জাসদের ভাঙন রোধ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ না হলে কেন্দ্রীয় নেতাদের ঘেরাও করে জাসদের রাজনীতি সমুন্নত রাখতে বাধ্য করবেন বলে হুমকি দিয়েছিলেন জাসদ রংপুর বিভাগের নেতা-কর্মীরা। গত ৩ এপ্রিল জাসদ রংপুর বিভাগের আয়োজনে নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তারা।

এদিকে, ক্ষমতাসীন ১৪ দলের মুখপাত্র ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, জাসদ নিয়ে আমরা একটু সমস্যার মধ্যে আছি। সামনে সাংবাদিক বন্ধুরা আছেন, তবুও বলছি, জাসদকে আপনারা চাপ দিন যাতে ঐক্যবদ্ধ থাকে। গত ৩১ মার্চ ‘স্বাধীনতা দিবস’ উপলক্ষে রাজধানীর সেগুনবাগিচার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে ১৪ দলের শরিক গণতন্ত্রী পার্টির আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

গত ১১ মার্চ শহীদ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাসদের সম্মেলন হয়। ১২ মার্চ মহানগর নাট্যমঞ্চে কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক পদে নেতা নির্বাচন নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে বিরোধ ও মতপার্থক্য শুরু হয়। একপক্ষ হাসানুল হক ইনুকে সভাপতি ও শিরিন আখতারকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে। অপরপক্ষ শরীফ নুরুল আম্বিয়াকে সভাপতি ও নাজমুল হক প্রধানকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করে।

ইতোমধ্যে উভয় গ্রুপের মধ্যে মশাল প্রতীক নিয়ে আইনি লড়াই শুরু হলে নিবন্ধন ও দলীয় প্রতীক ‘মশাল’ পেয়েছে তথ্যমন্ত্রী ও একাংশের সভাপতি হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বাধীন জাসদ।

গত ১৩ এপ্রিল হাসানুল হক ইনুর অনুকূলে দলের নিবন্ধন ও মশাল সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সম্প্রতি জাসদ দুটি অংশে বিভক্ত হওয়ার পরে উভয়পক্ষ নিজেদের গ্রুপকে জাসদের মূল দল দাবি করে নির্বাচন কমিশনের কাছে দলীয় নিবন্ধন ও প্রতীক বরাদ্দ চেয়ে চিঠি দেয়। একইসঙ্গে তারা দুই অংশই চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে তাদের নিজ নিজ সমর্থিত প্রার্থীদের অনুকূলে দলীয় প্রতীক বরাদ্দেও ইসিকে পৃথক চিঠি দেয়। নির্বাচন কমিশন জাসদের উভয় অংশকে ডেকে শুনানির ব্যবস্থা করে। শুনানি শেষে কমিশন হাসানুল হক ইনুকে দলের নিবন্ধন ও প্রতীক বরাদ্দের সিদ্ধান্ত দেয়। রাইজিংবিডি

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/২২ এপ্রিল ২০১৬

Related posts