November 16, 2018

‘এ ষড়যন্ত্র ব্যক্তি জয়ের বিরুদ্ধে নয়, গোটা জাতির বিরুদ্ধে’

হাকিকুল ইসলাম খোকন, বিশেষ সংবাদদাতাঃ  বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক অবৈতনিক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ করে হত্যার ষড়যন্ত্র প্রসঙ্গে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রবীন নেতা এবং শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, ‘একাত্তরের কায়দায় বাংলাদেশকে আবারো মেধাশূন্য করার গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ডিজিটাল বাংলাদেশের মূল কারিগর সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে। আর এ ষড়যন্ত্র ব্যক্তি জয়ের বিরুদ্ধে নয়, গোটা বাঙালি জাতিকে আবারো অধগতির পথে নিয়ে যাবার ষড়যন্ত্র। এ ষড়যন্ত্র গোটা জাতির বিরুদ্ধে’।

নিউইয়র্কে গত ১ মে রোববার রাতে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের এক সমাবেশে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু আরো উল্লেখ করেন, ‘জয়ের বিরুদ্ধে এই অপহরণ-ষড়যন্ত্র বাংলাদেশে যদি হতো এবং সে জন্যে যদি কাউকে গ্রেফতার বা বিচারের মুখোমুখী  করা হতো তাহলে জ্ঞানপাপীরা তারস্বরে চিৎকার করতো যে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জনে বিএনপির ঐসব লোকের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকার উঠেপড়ে লেগেছে। কিন্তু জয়কে অপহরণ এবং তারপর তাকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র হয়েছে এই যুক্তরাষ্ট্রে এবং যুক্তরাষ্ট্র বিচার বিভাগে তা উদঘাটিত হয়েছে।’ শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, ‘এহেন ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীকে ইস্পাতদৃঢ় ঐক্য গড়তে হবে। সকল অনৈক্য দূরে ঠেলে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যের বিকল্প নেই।’ বাংলাদেশে এবং সুদূর এ প্রবাসে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকদের অতন্দ্র প্রহরীর ভ’মিকায় অবতীর্ণ হয়ে ষড়যন্ত্রের বিষদাঁত ভেঙ্গে দেয়ার আহবান জানান শিল্পমন্ত্রী আমু।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আয়োজিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন  আমু আরো বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাঙালিরা আবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জেগে উঠেছে। বাংলাদেশ দৃপ্ত প্রত্যয়ে এগিয়ে চলেছে। বাঙালির এই উত্থানকে যারা সহ্য করতে পারছে না তারা নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলা ছাড়া আরো ২০ বার শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়।’ শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন  আমু উল্লেখ করেন, ‘কিন্তু রাখে আল্লাহ মারে কে? মহান রাব্বুল আল-আমিন নিজে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। বাংলার মানুষের অন্ন-বস্ত্র-চিকিৎসা-শিক্ষা আর বাসস্থানের প্রত্যাশা পূরণের জন্যেই আল্লাহ তা’লা শেখ হাসিনাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন।’
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেস্টা মন্ডলীর অন্যতম সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত রাজনৈতিক শক্তি ক্ষমতায় থাকলে ২০৪১ সালের অনেক আগেই বাংলাদেশ বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম ধনী রাষ্ট্রে পরিণত হবে।’ শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন  আমু উল্লেখ করেন, ‘পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতিরজনককে সপরিবারে হত্যার পর একই বছরের ৩ নভেম্বর কারাগারে জাতীয় ৪ নেতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের প্রেতাত্মা জিয়াউর রহমানেরা ক্ষমতা দখল করেছিল। জিয়ার নেতৃত্বে একাত্তরের পরাজিত সাম্প্রদায়িক শক্তি আবারো রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হয়।’ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধুলিসাত করার জঘন্য চেষ্টা চালানো হয় দীর্ঘ ২১ বছরে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ আবারো রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হবার পরই বাঙালি স্বত্তা জাগ্রত হতে থাকে। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আবারো সরকার গঠিত হবার পর বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্তির প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হয়েছে। বাংলাদেশকে একাত্তরের হায়েনা মুক্ত করার কার্যক্রম চলছে সমগ্র জনগোষ্ঠির ম্যান্ডেট গ্রহণের পর।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দ বসারত আলীর সভাপতিত্বে জ্যাকসন হাইটস সংলগ্ন নান্দুস পার্টি সেন্টারে এ সমাবেশ পরিচালনা করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমেদ। ‘জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু’ শ্লোগানে মুখরিত পরিবেশে আওয়ামী লীগের এই নেতাকে পর্যায়ক্রমে ফুলেল শুভেচ্ছা জানায় যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ এবং শ্রমিক লীগের নেতা-কর্মীরা।  অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আব্দুর রহিম বাদশা, চন্দন দত্ত, মাহবুবুর রহমান টুকু, ফরিদ আলম, এডভোকেট শাহ বখতিয়ার, আবুল মনসুর খান, শাহীন আজমল,সুবল দেবনাথ , জাহিদ হাসান, দরুদ মিয়া রুনেল। মঞ্চে উপবেশনকারি নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর ডাঃ মাসুদুর হাসান,সহ সভাপতি আকতার হোসেন,শামসুদ্দিন আজাদ এবং লুৎফুল করিম প্রমুখ।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/২ মে ২০১৬

Related posts