October 20, 2018

এ বেঁচে থাকা অনেক কষ্টের : শেখ হাসিনা

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পঁচাত্তরে পরিবারের ১৮ সদস্যকে হারিয়েছিলাম। বঙ্গবন্ধুকে ৩ বছর না পেরোতেই হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধুকে যারা বাঁচাতে এসেছিলেন তাদেরও হত্যা করা হয়। আজ আমার এ বেঁচে থাকা অনেক কষ্টের, অনেক দুঃখের।আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে সভাপতির ভাষণে এসব কথা বলেন শেখি হাসিনা।

তিন আরও বলেন, আওয়ামী লীগকে এগিয়ে নিয়েছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তারাই দলের প্রাণ। কত মানুষ আঘাত পেয়েছেন, পঙ্গু হয়েছেন, দল করতে গিয়ে ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তাদের অবদান অনেক।

শেখ হাসিনা বলেন, পঁচাত্তরে পরিবারের ১৮ সদস্যকে হারিয়েছিলাম। বঙ্গবন্ধুকে ৩ বছর না পেরোতেই হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধুকে যারা বাঁচাতে এসেছিলেন তাদেরও হত্যা করা হয়। আজ আমার এ বেঁচে থাকা অনেক কষ্টের, অনেক দুঃখের।

বাংলাদেশের মাটি, এই ভূখণ্ড সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে বা প্রতিবেশি কোনো দেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর জন্য ব্যবহার করতে দেয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ৭৫ এর ১৫ আগস্ট এসেছিল এমন একটি সময়ে যখন জাতির জনক যুদ্ধ বিধ্বস্ত একটি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই সময় অমানিশার অন্ধকার, ১৫ আগস্ট হত্যা করা হলো জাতির পিতাকে, হত্যা করা হলো মা ফজিলাতুলন্নোছকে, আমার দুই ভাইকে, শেখ জামাল ও শেখ কামাল, সাথে তাদের নববধুকে, আমার দশ বছরের ভাই শিশু রাসেলকেও হত্যা করা হলো।

আবদুর রব সেরিনিয়াবাত, তৎকালীন কৃষিমন্ত্রী, সেই সাথে তার ১০ বছরের সন্তানকে, পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হলো।

তিনি বলেন, একুশে আগস্ট আমাকে হত্যা করতে চেয়েছে। শত আঘাত প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগ সংগ্রাম করে গেছে। কত মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে, কত মানুষ আঘাতে পঙ্গু হয়েছে।বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন। আজকের এই দিনে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা ভাসানীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এই উপমহাদেশের প্রাচীনতম সংঘঠনগুলোর মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশ একটি জাতিরাষ্ট্র, বাঙালি হিসেবে মর্যাদা পেয়েছি বিশ্ব দরবারে। আমাদের মাতৃভাষা বাংলায় কথা বলার অধিকার পেয়েছি। যা পয়েছি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে অর্জন করেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৪৯ সাল থেকে আওয়ামী লীগ এদেশের মানুষের মুক্তির জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছে। ৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শত প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে সংগ্রাম করেছেন এদেশের মানুষ। যার নেতৃত্ব দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দাঁড়িয়ে তিনি ঘোষণা করেছিলেন ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলার মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে।

Related posts