November 17, 2018

এ কেমন প্রতারণা, হতবাক গোয়েন্দা?


ঢাকাঃ  বিদেশি নাগরিকরা অভিনব প্রতারণায় জড়িয়ে পড়েছেন। প্রতারণার মাধ্যমে তারা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের টাকা চুরি করছেন। সমপ্রতি দুটি ঘটনায় ছয় ইরানি নাগরিকের নানা অপকর্মে হতবাক হয়ে পড়েছেন গোয়েন্দারা। এসব প্রতারণা সম্পর্কে জানিয়ে গত ২৮শে মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে চিঠি দিয়েছে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, সমপ্রতি বাংলাদেশে আসা কিছু বিদেশি নাগরিক বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণের উদ্দেশে বিভিন্ন রেন্ট এ কার থেকে বেশি ভাড়ায় প্রাইভেট গাড়ি ভাড়া নেয়। এরপর তারা দেশের বিভিন্ন পেট্রল পাম্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে টাকা বিনিময়ের সময়ে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের সঙ্গে কথোপকথন ও হাসি রহস্যের পরিবেশ সৃষ্টি করে। কর্মচারীরা বিদেশি বলে তাদেরকে সহজেই আস্থায় নেয়। এরপর অভিনব কায়দায় টাকা বদলানো বা ভাংতি করার অজুহাতে কর্মচারীদের বোকা বানিয়ে ক্যাশবাক্সে থাকা টাকা চুরি করে ওই এলাকা দ্রুত ত্যাগ করে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো স্পেশাল ব্রাঞ্চের চিঠিতে বলা হয়, বিদেশিরা দেশের বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে অপরাধ কর্মে তৎপর রয়েছে। এরই মধ্যে দুইটি ঘটনায় ইরানি নাগরিকদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের আটক করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিদেশিদের প্রতারণার বর্ণনা দিয়ে চিঠিতে বলা হয়, গত ১২ই মার্চ মাগুরা জেলায় অভিনব কায়দায় অপরাধ সংঘটিত হয়। ওই অপরাধের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দুইজন বিদেশি নাগরিককে দেখা যায়, তারা ঢাকা মেট্রো-গ-১৫-৯৬৮৯, একটি কালো রঙের প্রাইভেটকারে ভ্রমণ করে মাগুরা মহাসড়কের পাশে ভিটাসাইর নামক স্থানে ফাতেমা ফিলিং স্টেশন এবং মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানাধীন ওয়াপদা নামক এলাকায় এশিয়া ফিলিং স্টেশনে টাকা চুরি ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড করছেন। ঢাকা মেট্রো-গ-১৫-৯৬৮৯ গাড়িটি ওই বিদেশিরা কিভাবে ব্যবহার করছেন- এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য বিআরটিএ অফিসে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায়, গাড়ির প্রকৃত মালিক একজন সেনা কর্মকর্তা। গাড়িটি নিয়ে এখনও অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

স্পেশাল ব্রাঞ্চ সূত্রে জানা গেছে, বিদেশি নাগরিকদের প্রতারণা সম্পর্কে ঢাকার ধামরাই ও গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানায় দায়ের করা দুটি মামলার সন্ধান পেয়েছে তারা। এ দুই মামলায় ছয় জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে গত ৯ই ফেব্রুয়ারি ধামরাই থানায় পেনাল কোড-৪০৬/৪১৭ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। যার মামলা নং-০৬। এ মামলায় কিয়ানফার্ড আলী (পাসপোর্ট নং-এল২৭৯১৬৩৪১), সাফার সানাডি (পাসপোর্ট নং-জেড৩০৩৪৮০৫৮), কামাল সানডি (পাসপোর্ট নং-ই২৭৪৬১১৫১)কে আটক করা হয়। এছাড়া, গত ২০শে মার্চ গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানায় পেনাল কোডের ৩৮০/১১৪ ধারায় আরেকটি মামলা হয়েছে তিন বিদেশি নাগরিকের নামে। গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা নং- ৩২ এর ভিত্তিতে ফারজোলা কালকৌ (পাসপোর্ট নং-এফ৩৩৫৮৩৩৩০), হাদি গোবাদি (পাসপোর্ট নং-এ৩০৪৩৫৫২৫) ও রেজা পৌরসেইফি (পাসপোর্ট নং-পি৩২০১১৭৫৮)কে আটক করা হয়েছে। এদিকে বিদেশি নাগরিকদের অপরাধ কৌশল ও অপরাধের ধরন প্রতিরোধে পাঁচটি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে স্পেশাল ব্রাঞ্চের চিঠিতে।

এসব সুপারিশে অভিনব চুরি প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা এবং চেকপোস্ট, টহল পুলিশ ও অন্যান্য পুলিশি অভিযানে সতর্কতামূলক তল্লাশির ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া, সারা দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করে কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোসহ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। বিদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশে প্রবেশকালে তাদের ওপর নজরদারিসহ বাংলাদেশে অবস্থানের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা, ফোন নম্বর সংরক্ষণে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে আটক করা বিদেশি নাগরিকদের দোভাষীর মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদ করে সহযোগী আসামিদের বিষয়ে তথ্য ও রহস্য উদ্‌ঘাটনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেয়ার ব্যবস্থা নিতে হবে। উল্লেখ্য, জাল টাকা বানানোর জন্য ইতিপূর্বে অনেক নাইজেরিয়ান নাগরিক অভিযুক্ত হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে। এদিকে ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাস পররাষ্ট্র সচিবকে লেখা এক নোট ভারবালে ইরানি নাগরিক ফাতিহা অ্যামিউজগারকে হেনস্থা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ৪ঠা এপ্রিল পাঠানো নোট ভারবালে বলা হয়েছে, গত ২৪শে মার্চ সন্ধ্যা ছ’টায় পান্থপথের ইন্দিরা রোডের বাসায় ইরানি নাগরিক ফাতিহা অ্যামিউজগারের বাসায় কিছু লোক যায় বলে জানিয়েছে।

এ দলে পোশাক পরিহিত পুলিশ সদস্য ছাড়াও কিছু সাদা পোশাকের সদস্য ছিল। দরজায় কড়া নেড়ে তারা জানায়, বাসা তল্লাশি করতে এসেছেন তারা। দরজা খোলার জন্য অভদ্র ও কর্কশভাবে উচ্চস্বরে কথা বলতে থাকেন। ওই সময় তারা বাসার মালিকের নাম বলতে পারেননি। এমন ব্যবহার ভদ্র মহিলা ও তার সন্তানদের মারাত্মকভাবে আঘাত করেছে। ভদ্র মহিলা ওই সময় একা বাসায় থাকায় বুঝতে পারেননি কি করতে হবে। পুলিশ সদস্যদের কাছে সার্চ ওয়ারেন্ট চাইলেও তারা দেখাতে পারেনি। এ বিষয়টি ভদ্র মহিলা নিকটস্থ পুলিশ স্টেশনকে অবহিত করেছেন। তাদেরকে বলেছেন, এমন ঘটনা নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে। এ কারণে ইরান দূতাবাসের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করে দায়ী পুলিশ সদস্য ও ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার অনুরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি সার্চ ওয়ারেন্ট ও দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়া একজন ইরানি নাগরিকের বাসায় যাওয়ার জন্য ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/১১ এপ্রিল ২০১৬/রিপন ডেরি

Related posts