September 19, 2018

এ অভিজ্ঞতা নতুন কিছু নয়—অর্থনীতিবীদ ড.দেবপ্রিয়

আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানিত ফেলো ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবীদ ড.দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

ঢাকাঃ  আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানিত ফেলো ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবীদ ড.দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মন্তব্য করে বলেছেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর পক্ষ থেকে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ তথ্য ও ব্যাংক হিসাব তলব করার এই অভিজ্ঞতা নতুন কিছু নয়।

বুধবার রাতে তার ও স্ত্রী ড. ইরিনা ভট্টাচার্যের গত ৮ বছরের ব্যাংক হিসাব ও শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ তথ্য জানতে চেয়ে এনবিআর থেকে যে চিঠি দেয়া হয়েছে তার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ড. দেবপ্রিয় বলেন, ‘জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আইন অনুযায়ী যা করণীয় তাই করবে। তবে এ অভিজ্ঞতা নতুন কিছু নয়। এর আগেও ২০০৩-০৪ সালে বিএনপি সরকারের আমলে অনুরুপ পদক্ষেপের মাধ্যমে আমাকে হয়রানি করা হয়েছিল।’

‘তাহলে এনবিআরের এবারের পদক্ষেপকেও হয়রানি মনে করছেন কি না’- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তাদের মনের কথা আমি কিভাবে বলতে পারবো! তবে আপনারা জ্ঞানী মানুষ, তাই আপনারাই এ ব্যাপারে বেশি ভালো বুঝবেন।’

প্রসঙ্গত,  গত ৪ জানুয়ারি এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের (সিআইসি) সহকারী পরিচালক নাসির উদ্দিন ড. দেবপ্রিয় ও তার স্ত্রীর শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ তথ্য ও ব্যাংক হিসাব তলব করে দু’টি পৃথক চিঠি প্রেরণ করেন। একটি বেসরকারি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে এবং অপরটি সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লি. (সিডিবিএল) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

বেসরকারি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে- দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ও তার স্ত্রী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের একক বা যৌথ নামে পরিচালিত ব্যাংক হিসাব, মেয়াদি আমানত হিসাব (এফডিআর ও এসটিডি হিসাবসহ যেকোনো ধরনের বা নামের মেয়াদি আমানত হিসাব), যে কোনো ধরনের বা মেয়াদের সঞ্চয়ী হিসাব, চলতি হিসাব, ঋণ হিসাব, ফরেন কারেন্সি অ্যাকাউন্ট, ক্রেডিট কার্ড, সঞ্চয়পত্র বা অন্য যেকোনো ধরনের সেভিংস ইন্সট্রুমেন্ট, ইনভেস্টমেন্ট স্কিম বা ডিপোজিট স্কিম বা অন্য যেকোনো ধরনের বা নামের হিসাব পরিচালিত বা রক্ষিত থাকলে ২০০৮ সালের ১ জুলাই থেকে হালনাগাদ বিবরণী ও ঋণের বিপরীতে রক্ষিত জামানতের বিবরণী পাঠাতে হবে। এর পাশাপাশি পূর্বে ছিল কিন্তু এখন বন্ধ হয়ে গেছে এমন হিসাবের তথ্যও পাঠাতে হবে।

এদিকে সিডিবিএলে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে- ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ও তার স্ত্রী ড. ইরিনা ভট্টাচার্য বা তাদের পরিবারের অন্য কোনো সদস্যের একক বা যৌথ নামে যেকোনো বিও হিসাব পরিচালিত বা রক্ষিত হয়ে থাকলে ওই হিসাবের ২০০৮ সালের ১ জুলাই থেকে হালনাগাদ বিবরণী জরুরি ভিত্তিতে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ১১৩(এফ) ধারার ক্ষমতাবলে পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি পূর্বে ছিল কিন্তু এখন বন্ধ হয়ে গেছে এমন বিও অ্যাকাউন্টের তথ্যও পাঠাতে হবে।

এসব চিঠি পাওয়ার সাতদিনের মধ্যে বেসরকারি ব্যাংক ও সিডিবিএলকে তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য দিতে ব্যর্থ হলে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা ১২৪(১) অনুযায়ী এককালীন ২৫ হাজার টাকা এবং পরবর্তী প্রতিদিনের জন্য ৫০০ টাকা জরিমানা করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে সিপিডির সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছিল, চলতি অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে আদায় প্রবণতা অনেক কম। আর স্পেক্ট্রামের নিলামের অর্থও চলতি বছর পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছর প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি হবে।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts