September 18, 2018

এসবি খালের পঁচা পানি পরিবেশ দূষণ করে জনস্বাস্থ্যকে ফেলছে হুমকির মুখে

3এ কে আজাদ, চাঁদপুর : শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত এসবি খাল এক সময় শহরের পানি নিষ্কাশনের প্রধান ভূমিকা রাখতো। কিন্তু খালের কিছু অংশ এখন ময়লা আর্বজনায় ভরপুর হয়ে পড়ে আছে। পঁচা পানিতে পরিবেশ দূষণ করে জনস্বাস্থ্যকে ফেলছে হুমকির মুখে। খালের ভিতর ময়লা আর অবর্জনার স্তুপে ভরে খালের পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে অস্বস্থিকর এক পরিবেশের সৃষ্টি হয়ে দাঁড়িয়েছে শহরবাসীর জন্য। যদিও এসবি খালের সম্মুখ অংশ পৌরসভা কর্তৃক প্রতি বছরই পরিস্কার করা হলেও খালের কোড়ালিয়া এলাকায় ভিতরের অংশ পরিস্কার করা হচ্ছে না। অন্যদিকে কোড়ালিয়া এলাকায় গিয়ে দেখা গেল এ খালের সমাপ্তি ঘটেছে। যার কারনে পয়ঃনিষ্কাশনে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। বর্তমানে সামান্য বৃষ্টি হলেই শহরময় পানিতে তলিয়ে যায়। এসবি খাল উদ্ধারে বহু আন্দোলন হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। অবৈধভাবে খাল দখলকারীদের চিহ্নিত করে খাল উদ্ধারের দাবী এখন চাঁদপুর পৌরবাসীর। যদিও ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক ঘোষণা দিয়েছেন, খাল উদ্ধারে সকল ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে পঁচা পানির খালের দুর্গন্ধময় পরিবেশে মশার বংশ বিস্তার বেড়েছে। যার কারনে এ মশার কামরে অনেকের ডেঙ্গু, চিকুন গুনিয়াসহ ম্যালেরিয়ায় রোগে আক্রান্ত হয়েছে। চাঁদপুর শহরের দু’টি মৌজায় বিভক্ত এই এসবি খালটি। দক্ষিণে শ্রীরামদী এবং উত্তরে বিষ্ণুদী। চাঁদপুর শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া এসবি খালটি মেঘনা নদী থেকে পানি নিয়ে ডাকাতিয়া নদীতে সরবরাহ করতো। জোয়ার ভাটার দোলায় চড়ে এক সময়ে বড় বড় পালতোলা নৌকা চলাচল করতো এই খালটি দিয়ে। জোয়ার ভাটার কারনে খালের পানি সবসময় থাকতো স্বচ্ছ। এর ফলে এলাকার মানুষ এ খালে সাঁতরিয়ে গোসল করতো পাশাপাশি তাদের দৈনন্দিন কাজগুলো করে নিতো। বর্ষাকালে জোয়ারের সময় নদীর পানি বেরে গেলে এ এসবি খালটি ছিলো চাঁদপুর শহরের রক্ষাকবজ। পানির চাপ এ খালটি ধারণ করে রাখতো। ফলে ভরা বর্ষায়ও জোয়ারের পানি বৃদ্ধিতে শহরের আশপাশ ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হলেও খাল দিয়ে দ্রুত পানি নেমে যেতো। বর্তমানে শহরের কোড়ালিয়া এলাকায় তো এখন আর এই এসবি খালের কোনো অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া কঠিন। শহরের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র এসবি খালটি ভূমি দস্যু আর খালের পার্শ্ববর্তী বাড়িগুলোর মালিকদের লালসার কুদৃষ্টি পড়ে খালটি এখন তার মৃত্যুর প্রহর গুণছে। যদিও আশির দশক হতে খালের দু’পাশ দখল হতে থাকায় খালটি রুপ নেয় একটি নালায়।

pic2 (2)

এছাড়া শহরের সিংহভাগ সুয়ারেজ লাইনগুলো এ খালটির সাথে সংযুক্ত। শহরের সকল পয়-নিস্কাশনের পানিগুলো এসে এ খালে পড়ছে। এদিকে ২০০৭ (ওয়ান ইলেভেন) সেনা সমর্থিত সরকার আসার পর, এসবি খাল দখলমুক্ত করে পূর্বের চেহারায় ফিরিয়ে আনার কাজে হাত দেয় চাঁদপুরে অবস্থানরত সেনাবাহিনী। তখন চাঁদপুরের প্রশাসন ও পৌর প্রশাসনকে সাথে নিয়েই এই খালটি পুনরুদ্ধার কাজে হাত দেন। জেএম সেনগুপ্ত রোড এলাকায় খালের উপর যেসব দোকানপাট ছিলো সব ২৪ ঘন্টার নোটিশে উচ্ছেদ করে কোড়ালিয়ার অংশসহ পুরো খালপাড় পরিষ্কার করে পূর্বের ন্যায় মেঘনার সাথে খালটির সংযোগ করে দেয়া হয়।কিন্তু সেনাশাসিত সরকার বিদায় নেয়ার পর গণতান্ত্রিক সরকার যখন ক্ষমতায় আসলো তখন আবার খালটি দখলের প্রক্রিয়া শুরু হতে থাকে। কিছু লোক নানাভাবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করতে থাকে যে, খালে তাদের সম্পত্তি রয়েছে। আর এ অজুহাতেই খাল ভরাট করে দখল করার প্রক্রিয়া শুরু করে। এখনো অনবরত দখল হচ্ছে এসবি খাল নামের বর্তমান এই নালাটি। এক সময় হয়তো খালটি ইটপাথরের অট্টালিকার মাঝে বিলীন হয়ে যাবে। কারন ইতোমধ্যে চাঁদপুরের কয়েকটি বিলীন হয়ে এখন শুধু সরকারি-বেসরকারি অট্টালিকার মধ্যে হারিয়ে আছে। তবে বিষয়টি বর্তমানে চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের নজরে রয়েছে। অচিরেই এই খালটিকে দখল মুক্ত করার ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান প্রশাসন। তবে এতটুকু বলা যায়, যারা খালটি দখল করে আছে তারা প্রভাব খাটিয়ে দখল করে আছে। পরিবেশবিদসহ এলাকার সাধারণ মানুষরা বলছে অচিরেই যদি এর একটি বিহিত করা না হয় তাহলে খালটি বিলিন হয়ে যেতে পারে এবং জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে রূপ নিয়ে চাঁদপুর শহরের বেশীর ভাগ এলাকা। এসবি খাল ফিরে পাক তার হারানো যৌবন। প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠুক প্রকৃতি। অভিশাপ থেকে মুক্তি হউক- শহরবাসীর এটাই প্রত্যাশা।

Related posts