September 22, 2018

এশিয়ার একমাত্র ঘূর্ণায়মান নাট্যমঞ্চ ময়মনসিংহে

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল এক সময় ছিল অত্যন্ত বৈচিত্রপূর্ণ । নাটক,সাহিত্য , সংস্কৃতি প্রভৃতিতে ছিল মুক্তাগাছার জমিদারদের স্বতঃস্ফ’র্ত অংশগ্রহণ। মুক্তাগাছার নাটকের ঐতিহ্য দীর্ঘকালের । নাট্যমন্ডপে এক সময় ছিল ঘূর্ণায়মান মঞ্চ।অথচ আজ সংস্কারের অভাবে বিনষ্ট হচ্ছে এশিয়ার একমাত্র ঘূর্ণায়মান নাট্যমঞ্চ ভূপেন্দ্র রঙ্গপীঠ

জমিদার জগৎ কিশোর আচার্য চৌধুরীর পুত্র কুমার ভূপেন্দ্র কিশোর ছিলেন নাটকপ্রিয়। ভূপেন্দ্র কিশোরের নামানুসারেই ভূপেন্দ্র রঙ্গপীঠ নামে মঞ্চটি তৈরী করা হয়। এটি ছিল তৎকালীন ভারতীয় উপমহাদেশে কলকাতার বাইরে (এশিয়ায়) প্রথম এধরনের মঞ্চ।

উনবিংশ শতকের তিরিশের দশকেই যে মুক্তাগাছায় আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছিল এটা তারই প্রমাণ। মঞ্চের দুই পাশে ছিল হারমোনিয়াম ও তবলাবাদকের জন্য আলাদা আলাদা দুইটি স্থান, দক্ষিণ দিকে পারফরমারদের বিশ্রামগৃহ , পিছনে গ্রিনরুম। গ্রিনরুমের পাশেই ছোট ছোট প্রকোষ্ঠ যাতে রয়েছে লোহার তৈরী ছোট ছোট সিন্ধুক । জমিদাররা পারফমৃার নিয়ে আসতেন শহর থেকে এমনকি সুদূর কলকাতা থেকে । পুরো শীতকাল ধরে এখানে বিভিন্ন নাটক মঞ্চস্থ হতো।

জানা যায়, রংপুরের আঞ্চলিক ভাষায় রচিত ছেড়াতার নামক বিখ্যাত নাটকটি মুক্তাগাছার কথ্য ভাষায় রুপান্তরিত করে মঞ্চায়নের পর ভূপেন্দ্র রঙ্গপীঠের শিল্পীরা প্রচুর প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন।

ভূপেন্দ্র রঙ্গপীঠের শিল্পীদের অভিনীত আরো কিছু বিখ্যাত নাটকের মধ্যে “বিসর্জন,ব্যপিকা বিদায়, রামের সুমতি , মানময়ী গার্লস স্কুল, সীতা , রমা , বিজয়া, কাশীনাথ , কারাগার , মরি কাশিম, চাঁদ সওদাগর. প্রভৃতি নাটক বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য ।

জমিদারী প্রথা বিলুপ্তির পর ১৯৫৮ সালে ফোরটি ব্রাদার্স নামে একটি সংগঠনের সৃষ্টি হয়। এই সংগঠনের মঞ্চায়িত উল্লেখযোগ্য নাটক ছিল পাহাড়ী ফুল, বেদের মেয়ে, টিপু সুলতান, হায়দার আলী, গাঁয়ের বধূ , মহুয়া, নদের চাঁদ, পথের শেষে ইত্যাদি। দীর্ঘদিন পর ১৯৮২ সালে ১৬ টি সংগঠনের অংশগ্রহনে নাট্য প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয় এখানে।এই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় ১৯৮৬ সালে ভূপেন্দ্র রঙ্গপীঠের ধ্বংস স্তুপে শেষবারের মত অনুষ্ঠিত হয় ওরা আছে বলে।এর পর আর কোন নাটক এই মঞ্চে মঞ্চস্থ হয়নি।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts