November 17, 2018

“এমন নিরাপত্তা পৃথিবীতে আর কেউ দিতে পারবে না”

স্পোর্টস  ডেস্ক: অনেক জল্পনা-কল্পনার পর নিশ্চিত হয়েছে ইংল্যান্ডের বাংলাদেশ সফর। নিরাপত্তা ইস্যুতেই এতোদিন ঝুলছিল এই সফরের ভাগ্য। ইংল্যান্ড সফরে আসার সবুজ সংকেত দিলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পাবে। এদিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন ইংল্যান্ডকে নিরাপত্তা দিয়ে নজির স্থাপন করার প্রতিশ্রুতি দেন।

শুক্রবার নিজ বাসভবনে নাজমুল হাসান পাপন বলেন, “ইংল্যান্ডকে যে মানের নিরাপত্তা পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে সেটি পৃথিবীর আর কেউই দেয় না। পৃথিবীর কোনো দেশই কিন্তু নিরাপদ না। যে কোনো জায়গায় এমন কিছু হতে পারে। তবে কোথায় হবে, কবে হবে এটা কেউ জানে না। আর আমার ধারণা ছিল এর চেয়ে ভালো নিরাপত্তা পরিকল্পনা কেউ করতে পারবে না।”

বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে বুধবার (১৭ আগস্ট) ঢাকায় এসেছিল ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) নিরাপত্তা বিষয়ক প্রতিনিধি দলের তিন সদস্য পরামর্শক রেগ ডিক্যাসন, প্রফেশনাল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (পিসিও) প্রধান নির্বাহী ডেভিড লেদারডেল ও ইসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স ডিরেক্টর জন ক্যার। তারা মিরপুর, চট্টগ্রাম ও ফতুল্লার ভেন্যু পরিদর্শনের পাশাপাশি সম্ভাব্য টিম হোটেল, মাঠ ও বিমান বন্দর সব জায়গায় পরিদর্শন করেছেন। এছাড়া দেশের কয়েকটি নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার সাথে কথা বলেছেন তারা। এর বাইরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও একটি সভা হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের নেয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা প্রতিনিধি দলের সামনে পেশ করা হয়। যা দেখে সন্তুষ্ট প্রকাশ করেছিলো ইংল্যান্ডের প্রতিনিধি দলটি। এ প্রসঙ্গে পাপন বলেন, “কাল কি হবে সেটা কিন্তু আমরা জানি না। ওরা এসে দেখে গেছে, সেই হিসেবে বলেছে, এখানে ক্রিকেট খেলতে কোনো সমস্যা তারা দেখছে না। আমরা যে পরিকল্পনা দিয়েছি তাতে তারা (সফর) নিরাপদ মনে করছে। পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে তারা অন্য চিন্তা করতেও পারে।”

ইসিবির প্রতিনিধি দলটির ঢাকা এবং চট্টগ্রামের হোটেল ও মাঠের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো অভিযোগ ছিল না, কেননা পুলিশ এবং সামরিক বাহিনী দ্বারা হোটেল এবং মাঠ ঘেরাও করা থাকবে। নিজেদের পরিকল্পনায় আস্থা রেখে পাপন বলেন, “আমরা যে নিরাপত্তার পরিকল্পনা দিয়েছি, তা ভেদ করে কিছু করা খুব কঠিন। হঠাৎ করে যে কোনো জায়গায় হামলা হতে পারে। তবে যেখানে আগে থেকে নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে, সেখানে এমন হামলা হতে পারে না।”

ইংল্যান্ডের বাংলাদেশ সফরে আসবে অনেক ইংলিশ সমর্থকও। তারা হয়তো একটু সস্তা হোটেলে উঠবেন। পাশাপাশি তাদের ঘোরাফেরার একটি বিষয়টিও থাকবে। তাই ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল ও মিডিয়ার পাশাপাশি ইংল্যান্ডের সমর্থকদের নিরাপত্তা নিয়েও চিন্তিত ইসিবি। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড থেকে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রদানে তাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে। সমর্থকদের নিরাপত্তা নিয়ে পাপন বলেন, “শুধু খেলোয়াড় নয়, ইংল্যান্ড থেকে যত দর্শক-সমর্থক, সাংবাদিক কিংবা খেলোয়াড়দের পরিবার যারাই আসবে। আমাদের যদি আগে থেকে জানানো হয়, কোথায় থাকবে এবং তাদের বিস্তারিত পরিচয়। সেক্ষেত্রে আমরা অবশ্যই তাদের থাকার জায়গায় যথাযথ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেবো। এছাড়া মাঠের ভেতরে ওদের আলাদা নিরাপত্তা বেষ্টনীর ব্যবস্থা করা হবে। শুধু খেলোয়াড় নয়, সকলের ব্যবস্থাই করবো আমরা। আমার দৃঢ় বিশ্বাস ইংল্যান্ডের এই সফর নিয়ে কোনও ঝামেলা হবে না।”

ইংল্যান্ডের প্রত্যেক খেলোয়াড়কে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ব্রিফিং করা হয়েছে। তারপর খেলোয়াড়দের আসা না আসার বিষয়টি ছেড়ে দেয়া হয়েছে তাদের উপরই। ইসিবি আলাদা করে কোনো চাপও দিচ্ছে না। এই বিষয়ে পাপন বলেন, “খেলোয়াড়দের জন্য নিরাপত্তার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এখানে ওরা খেলোয়াড়দের জন্য বিষয়টি উন্মুক্ত রেখেছে। এখানে কারও যদি ব্যক্তিগত সমস্যা থাকে তাহলে ভিন্ন ব্যাপার। আমাদের তরফ থেকে আমরা এতটুকুই বলতে পারি, বাংলাদেশের সরকার যে নিরাপত্তা পরিকল্পনা দিয়েছে তার চেয়ে অনেক বেশি নিরাপত্তা পাওয়া যাবে।”

এদিকে ইতিমধ্যে শোনা যাচ্ছে, ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড থেকে বাংলাদেশ সফরে সবুজ সংকেত দেয়া হলেও ইংল্যান্ডের ক্রিকেটার অ্যালেস্টার কুক ও স্টুয়ার্ড বোর্ড আসবে না বাংলাদেশ সফরে! ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়েই আসতে চাইছে না তারা বলে গুঞ্জন উঠেছে। এ প্রসঙ্গে বিসিবি প্রধান বলেন, “কোনও একটা খেলোয়াড়ের আসা না আসা তার ব্যাপার। এখানে আমাদের বোর্ডের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করাটা কঠিন। হয়ত বাংলাদেশের কোনো খেলোয়াড়ের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ থাকলে এটা সম্ভব। তবে আমরা বলে দিতে পারি, তোমরা আসো এখানে। খেলার জন্য এটা নিরাপদ। এটা বলা ছাড়া তেমন কিছুই করার নেই। আমার ধারণা তাদের সেরা দল আসবে।”

উল্লেখ্য, গুলশানের হলি আর্টিজান ও শোলাকিয়ার ঈদগাহে জঙ্গী হামলার ঘটনায় ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়। অবশেষে বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) ইংল্যান্ড বাংলাদেশ সফরে আসার সবুজ সংকেত হয়। তিনটি একদিনের ম্যাচ ও দুইটি টেস্ট খেলতে ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকায় পা রাখবে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল।

Related posts