September 23, 2018

এবার বিএনপি ছাড়লেন পরিতোষ চক্রবর্তী

ঢাকাঃ দলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পর দলের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে তিনজন কেন্দ্রীয় নেতা পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগের হুমকি দিয়ে রেখেছেন আরও কয়েকজন। এরই ধারাবাহিকতায় বিএনপি ছাড়লেন রংপুর জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও বদরগঞ্জ উপজেলা সভাপতি অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তী।

বৃহস্পতিবার বিএনপির এই স্থানীয় নেতা পদত্যাগ করেছেন বলে নিজেই নিশ্চিত করেছেন।

পদত্যাগপত্রে শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করলেও তিনি দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সমালোচনা করে বক্তব্য দিয়েছেন। তার দাবি,সদ্য ঘোষিত কমিটিতে গঠনতন্ত্রের নিয়মনীতি মানা হয়নি। ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ণ করা হয়নি। এছাড়া রংপুর বিএনপিকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

গত শনিবার ঘোষিত কমিটিতে রংপুর মহানগর সভাপতি মোজাফফর হোসেনকে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সম্পাদক এবং জেলা সহ-সভাপতি নুর মোহাম্মদ মণ্ডল ও মহানগর সহসভাপতি সাহিদা রহমান জোৎস্নাকে নির্বাহী কমিটির সদস্য করা হয়েছে।

পরিতোষ চক্রবর্তী বলেন,‘দলের জেলা সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং মহানগরের সাধারণ সম্পাদককেও কমিটিতে রাখা যেত। কিন্তু তাদের রাখা হয়নি। তাই যে দলে ত্যাগী নেতার মূল্যায়ন নেই সে দলে আর নয়।আমি পদত্যাগপত্র সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি।’

তবে সংশ্লিষ্ট বলতে তিনি কাকে বুঝিয়েছেন তা তিনি জানাননি।

এ বিষয়ে জানতে জেলা বিএনপির সভাপতি এমদাদুল হক ভরসার সঙ্গে কথা বলতে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ধরেননি।

গত ১৯মার্চ জাতীয় কাউন্সিলের প্রায় পাঁচমাস পর ৫০২ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করে বিএনপি। কমিটি ঘোষণার পর থেকে এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা। অবমূল্যায়ণ, অবনমনের অভিযোগ করছেন অনেকেই। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন ভাইস চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক আলী ফালু,সহ-প্রচার সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম ও নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল।

এছাড়াও ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খন্দকার পদ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে।

বিএনপিতে আসার আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়ে রংপুর-৩ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন পরিতোষ চক্রবর্তী। ১৯৯৫ সালে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। তখন থেকে বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন।

Related posts