November 21, 2018

এবার নিউটনের চার নম্বর সূত্র!

এক্স -মেন, অ্যাপোক্যালিপস

ব্রায়ান সিঙ্গার পরিচালিত ‘এক্স -মেন, অ্যাপোক্যালিপস’ মুক্তি পাচ্ছে ২৭ মে৷ মার্ভেল কমিক্স -এর এক্স -মেন চরিত্রদের নিয়ে তৈরি এই আমেরিকান সুপার -হিরো ফিল্ম এই সিরিজের ৯ নম্বর ইনস্টলমেন্ট৷ ছবিতে অভিনয় করেছেন জেমস ম্যাকক্যাভয়, মাইকেল ফাসবেন্ডার, জেনিফার লরেন্স প্রমুখ৷ এই ছবির সিনেম্যাটোগ্রাফার নিউটন টমাস সিগেল৷ নিউটনকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ডিজিটাল পদ্ধতিতে যে রূপান্তরিত হল এই সিনেমা তার ফলে কি আপনার নিজের কাজের পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তন এল? কারণ, প্রথম দুটো ছবি আপনি করেছিলেন সেলুলয়েডে এবং তারপর ‘ডেজ অফ ফিউচার পাস্ট’ করলেন অ্যালেক্সা -য়৷ এই প্রশ্নের উত্তরে নিউটন জানিয়েছেন, ‘যখন আমরা স্থির করি সুপারম্যান করব তখন আমরা ঠিক করেছিলাম ছবিটা ৭০ মিমি -তে করব৷ কারণ ছবিটার ক্ল্যাসিকাল এবং বিগার দ্যান লাইফ চরিত্রের জন্য আমরা এটা চেয়েছিলাম৷ কিন্তু কাজটা করতে গিয়ে দেখলাম সেটা সম্ভব হচ্ছে না৷ তখন স্টুডিও আমাদের বলেছিল ফর্ম্যাট বদল করতে আমরা পারি৷ অর্থাৎ, ছবির গ্র্যাফিক কোয়ালিটির জন্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে আমরা যেতে পারি৷ তখন ডিজিটাল পদ্ধতিটা অনেক নতুনব্যাপার৷ প্যানাভিশন একটা নতুন ডিজিটাল ক্যামেরা বাজারে এনেছিল৷ আমরা প্রায় গিনিপিগের মতো সেই ক্যামেরা ব্যবহার করলাম ছবিতে৷ ফলে একটা নতুন ধরনের সুপারহিরো মুভি তৈরি হল৷ এর পরে যখন ‘ডেজ অফ ফিউচার পাস্ট ‘ করার সময় এল ততদিনে আমরা ডিজিটাল জগতে প্রবেশ করে গিয়েছি৷ কিন্তু পরিচালক ব্রায়ান থ্রি -ডি করার ব্যাপারে বেশ প্রাচীন পন্থী ছিল৷ ফলে একটা টেকনোলজির পরিবর্তন হলেও এসথেটিক্স -এর তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি৷ আমরা তখনো এমনভাবে শ্যুট করছি যেন ফিল্মেই শ্যুটিং করছি৷ ফলে গুরুতর শিফটিং তেমন কিছু হয়নি৷ কিন্তু অ্যাপোক্যালিপস যখন আমরা করি তখন শুরুতে আমরা ‘অ্যালেক্সা মিনি’ দিয়ে শুরু করেছিলাম, পরে আমরা সরে আসি ‘রেড’ ক্যামেরায়৷ কারণ সেই সময় রেড ক্যামেরায় এক নতুন ধরনের সেন্সার লাগানো হয় যেটা অনেকটা অ্যালেক্সার মতো কাজ দিয়েছিল৷ কিন্তু, ক্যামেরার সাইজের জন্য আমরা শেষ পর্যন্ত রেড ক্যামেরাতেই কাজ করি৷’ নিউটনকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল শ্যুটিং করার সময় তিনি কি কমিক বুক-এর বিশেষ ফ্রেমিংয়ের কথা মাথায় রেখেছিলেন? এর উত্তরে নিউটন জানিয়েছেন, ‘আমার মনে হয় না কোনো বিশেষ ইমেজ আমরা মূল বই থেকে রেপ্লিকেট করতে চেষ্টা করেছি৷ কিন্তু এটাও ঠিক যখন আমরা কাজটা করছি তখন আমাদের মাথায় কমিক বুকের ডিজাইনটা অবচেতনে ছিল৷ ব্রায়ান কখনোই এই ধরনের রেফারেন্স খুব সচেতনভাবে ব্যবহার করে না৷ কিন্তু সে এটাও চায় না যে তার ছবি দেখে কমিক পাঠকরা ঠকে গিয়েছি এমন চিন্ত -ভাবনা করে৷ ‘তার কাছে পরের প্রশ্ন ছিল এমন কোনো বিশেষ কালার প্যালেট কি তিনি ‘অ্যাপোক্যালিপস’-এর জন্য সচেতনভাবে মাথায় রেখেছিলেন? এই প্রশ্নের উত্তরে নিউটন জবাব দিয়েছেন, ‘এই ছবিতেই রং নিয়ে আমি প্রচুর ভাবনা চিন্তা করেছি৷ কারণ, এই ছবি গল্প আমেরিকা থেকে পোল্যান্ড হয়ে জার্মানি পেরিয়ে মিশরে এসে শেষ হয়েছে৷ তাই নানা রকম কালার প্যালেট আমাকে ভাবতেই হয়েছে৷ যেমন, আমেরিকার জন্য আমি বেছে নিয়েছি নিউট্রাল প্যালেট, পোল্যান্ডের জন্য একটু উষ্ণ প্যালেট যাতে একটা রোম্যান্টিক লুক আসে, জার্মানির জন্য একটু সবুজ ভাব আনতে চেয়েছি, মিশরের জন্য এনেছি সোনালি রং -এর ছোঁয়া৷ সব মিলিয়ে ‘এক্স -মেন’ ছবির মধ্যে ‘অ্যাপোক্যালিপস’ একটা ব্যতিক্রম রং -এর দিক থেকে৷’

Related posts