September 25, 2018

এবার ‘জামায়াতঘেঁষা’ এমপি হারুনের বিতর্কিত কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে স্থানীয় আ,লীগ

ঝালকাঠি প্রতিনিধি:: ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য বজলুল হক হারুনের (বি এইচ হারুন) বিতর্কিত কর্মকান্ডে জন্য এখন ওই দুই উপজেলার বেশির ভাগ নেতাই দলীয় পদ থেকে তাঁকে অপসারণের দাবি জানাচ্ছেন স্থানীয় আওয়ামীলীগের একটি অংশ। এদিকে এ অংশটি রাজাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হারুনকে আগামী সংসদ নির্বাচনে দল থেকে মনোনয়ন না দেওয়ারও দাবি তাঁদের। এমনকি তাঁকে মনোনয়ন দিলে গণপদত্যাগেরও হুমকি দিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের এ নেতারা। কিছুদিন পুর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় রাজধানীর বনানীর আলোচিত সেই দ্য রেইনট্রি হোটেলের মালিক মূলত এ সংসদ বি এইচ হারুন। তবে কাগজে-কলমে এর মালিকানা তাঁর স্ত্রী, তিন ছেলে ও মেয়ের নামে। স্থানীয় কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতারাই এখন বলছেন, বি এইচ হারুন ২০০০ সালের আগে আওয়ামী লীগের কেউ ছিলেন না। ওই বছর তাঁকে দলীয় সদস্য করার পর ২০০৮ সালে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর পরিবার মূলত স্বাধীনতাবিরোধী হিসেবে পরিচিত। আর তাই সংসদ সদস্য হয়ে তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের বাদ দিয়ে জামায়াত-শিবিরের লোকজন নিয়ে ওঠাবসা করছেন। আওয়ামী লীগের কোনো কর্মকান্ডেও তিনি অংশ নেন না। এদিকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের এ অংশটি আরো বলেন, বুলবুলে পাকিস্থান মেকাপম্যানখ্যাত আওয়ামীলীগের সংসদ বি এইচ হারুনের অপসারণের দাবিতে ইতিমধ্যে রাজাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশ, ছাত্রলীগের একাংশ ও যুবলীগের একাংশ সম্মিলিতভাবে সভা করেছে। হারুনের অপসারণের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে লিখিত পত্র পাঠানো হবে বলেও জানিয়েছেন তাঁরা। অপরদিকে রাজাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক ডেজলিং তালুকদার,আসলাম মৃধা সহ বেশকয়েকজন বলেন, ‘আমরা রাজাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ধর্ম মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদ থেকে বি এইচ হারুনের অপসারণ দাবি করছি।’ তারা বলেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সংসদ সদস্য বজলুল হক হারুনের অপসারণের দাবি জানিয়ে একটি পত্র দু-এক দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জেলা আওয়ামী লীগের কাছে পাঠানো হবে। এর পরও যদি তাঁকে অপসারণ করা না হয়, তাহলে দল থেকে আমরা গণপদত্যাগ করব বলে হুমকিদেয়।’ অন্যদিকে রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের আরো অভিযোগ, বি এইচ হারুন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর গত আট বছরে এলাকার তৃণমূল নেতাকর্মীদের কোনো খোঁজখবর নেননি। স্থানীয় নেতাদের উপেক্ষা করে তিনি তাঁর ভাই জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ও গালুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুল হক কামালকে দিয়ে রাজনৈতিক কর্মকান্ড চালাচ্ছেন। এর আগে তাঁকে রাজাপুরে অবাঞ্ছিতও ঘোষণা করেছিল উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশ। স্থানীয় নেতাদের অভিযোগ, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর রাজাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এক দিনের জন্যও এসে বসেননি হারুন। দলীয় কার্যালয়ের কোনো সভা-সমাবেশেও অংশ নিচ্ছেন না তিনি। পছন্দের কিছু লোক নিয়ে দলীয় কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। ঢাকায় গিয়েও তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারছে না স্থানীয় নেতাকর্মীরা। কাঁঠালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তরুণ সিকদার বলেন, ‘যারা দুঃসময়ে আওয়ামী লীগের ত্যাগী কর্মী ছিল, তাদের অবমূল্যায়ন করে বিএনপি-জামায়াতপন্থীদের পুনর্বাসন করছেন তিনি। সংসদ সদস্য বিএইচ হারুনের গ্রামের বাড়ি রাজাপুরের কানুদাশকাঠি। ওই এলাকারই নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘বাড়িতে এমপি সাহেব এলে কোনো নেতাকর্মীর খবর নেন না। এখানে কয়েকজন ঠিকাদার নিয়ে তিনি বৈঠক করেন।’ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, ধর্ম মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বি এইচ হারুনের বাবা আব্দুর রব স্বাধীনতাবিরোধী ছিলেন। কাঁঠালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তরুণ সিকদার বলেন, বজলুল হক হারুন কখনোই আওয়ামী লীগ ছিলেন না। তিনি ও তাঁর পরিবার ধর্মব্যবসায়ী। ওনার মতো লোক আওয়ামী লীগের এমপি হওয়ায় দলের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। আমরা বি এইচ হারুনের দলীয় পদ থেকে অপসারণ চাই।’ রাজাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক গিয়াসউদ্দিন মাতুব্বর বলেন, ‘স্বাধীনতাবিরোধী হওয়ায় আমরা বজলুল হক হারুনের মনোনয়নের বিরুদ্ধে ছিলাম, এখনো আছি। আজ রেইনট্রি কেলেঙ্কারির ঘটনায় লজ্জায় মাথা কাটা যাচ্ছে আমাদের।’

Related posts