September 25, 2018

এবার খুশকির বিরুদ্ধে যুদ্ধ!

gশীতকালে শুষ্ক মৌসুমে আমাদের চুল ও ত্বক রুক্ষ হয়ে পড়ে। দেখা দেয় খুশকি সমস্যা। এতে চুল উজ্জ্বলতা হারায়, মলিন দেখায় আপনাকে। তবে খুব চিন্তার কিছু নেই, কিছু পদ্ধতি মানলে চুলের খুশকি দূর হয়ে যাবে সহজেই। জেনে নেয়া যাক সেগুলো-

# যাদের খুশকি বেশি হয়, তাঁরা প্রতিদিন চুলে পরিমিত শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন।

# চুলের খুশকি নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনতে হবে। মাথার ত্বক ভালো রাখতে প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি খেতে হবে। চর্বিজাতীয় খাবার খুশকি রোধে সহায়তা করে।

# চুল খুশকিমুক্ত রাখার অন্যতম উপায় হচ্ছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা। চুল অপরিষ্কার থাকলেই খুশকি বেশি হয়। অনেকেই ভেজা অবস্থায় চুল বেঁধে রাখেন। এটা ঠিক নয়। চুল ভালো করে মুছে নিতে হবে। এরপর ধীরে ধীরে মোটা দাঁতের চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ে নিতে হবে।

# চুল ভিজিয়ে নিন। এরপর এক টেবিল চামচ খাবার সোডা নিয়ে চুলের গোড়ায় লাগিয়ে ম্যাসেজ করুন। এক মিনিট পর ভালো করে চুল ধুয়ে শুকিয়ে নিন। উল্লেখ্য, এভাবে চুল ধোয়ার সময় বা পরে কখনও শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন না।

# বড় দুই চামুচ পাতি লেবুর রস ভালো করে চুলের গোড়ায় লাগিয়ে নিন। এর কিছুক্ষণ পরে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এবার বড় এক কাপ পানি নিয়ে তার মধ্যে বড় এক টেবিল চামুচ পাতি লেবুর রস মিশিয়ে নিন। এরপর এই পানি দিয়েই পুরো চুল ধুয়ে ফেলুন। এই পদ্ধতি ব্যবহারের প্রথম দিকে আপনার চুল হয়ে উঠতে পারে শুষ্ক। কিন্তু চিন্তার কোনো কারণ নেই, এতে আপনার চুলের গোড়া থেকেই প্রাকৃতিকভাবে তেল উৎপন্ন হবে।

# আধা কাপ গ্রিক ইয়োগার্ট নিন। একটি লেবু অর্ধেক করে কেটে চামচে নিয়ে চুলার উপর ধরে রাখুন ২০ সেকেন্ড। সামান্য ঠাণ্ডা হলে লেবুর রস বের করে দইয়ের সঙ্গে মেশান। ১ টেবিল চামচ মধু ও কয়েক ফোঁটা টি ট্রি অয়েল মেশান।
মোটা দাঁতের চিরুনি দিয়ে চুলের জট খুলে নিন। চুল অতিরিক্ত শুষ্ক হলে সামান্য নারিকেল তেল লাগিয়ে তারপর আঁচড়ান চুল। হেয়ার প্যাক আঙ্গুলের সাহায্যে চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত লাগান। চুল হালকা করে খোঁপা করে নিন। এক ঘণ্টা পর শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে কন্ডিশনার ব্যবহার করুন।

# খুশকি দূর করতে চুল ধুয়ে তাতে কিটোকোনাজল শ্যাম্পু লাগিয়ে দুই থেকে পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। এরপর চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। এভাবে সপ্তাহে দুইবার করে তিন থেকে চারবার ব্যবহারে খুশকি কমে যাবে। যাদের নিয়মিত খুশকি হয়, তারা এক বা দুই সপ্তাহ পরপর খুশকি প্রতিরোধক হিসেবে এই শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন।

# মনে রাখতে হবে, খুশকি একটি রোগ, যা নির্দিষ্ট কিছু কারণে হয়ে থাকে। তাই রোগের চিকিৎসা করতে যেমন ওষুধের প্রয়োজন হয়, তেমনি খুশকি দূর করতেও যথাযথ ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে। এটাও মনে রাখা দরকার যে যদি খুশকির যথাযথ চিকিৎসা করানো না হয়, তবে ভবিষ্যতে জটিলতা সৃষ্টি হবে এবং এই জটিলতারও আবার অন্য ধরনের ওষুধের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

Related posts