September 25, 2018

এবার কিশোরী-তরুণীর পছন্দের শীর্ষে ইন্ডিয়ান শারারা

ঢাকাঃ জমে ওঠা শুরু করেছে ঈদবাজার। গরম ও যানজট উপেক্ষা করেই ক্রেতারা আসছেন রাজধানীর ফ্যাশন হাউস, মার্কেট, বিপণিবিতান ও শপিংমলে। তবে শুরুতেই ঈদের বাজার অনেকটা চড়া বলে অভিযোগ করছেন ক্রেতারা। অন্যদিকে ক্রেতার সংখ্যা ও বিক্রি এখনও বাড়েনি বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। তবে অনেক ব্যবসায়ী গতবারের তুলনায় ভাল বিক্রির আশা করছেন। বলছেন, আজ শুক্রবার থেকেই পুরোদমে জমে উঠবে ঈদের বাজার।

রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচারপার্ক, নিউমার্কেট, গাউছিয়া, চাঁদনী চক, ইস্টার্ন প্লাজা, ইস্টার্ন মল্লিকা, আজিজ সুপার মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, আকর্ষণীয় সব পোশাকের সংগ্রহ রয়েছে প্রতিটি দোকানেই। বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে সব ক’টি বিপণি কেন্দ্র। লোকসমাগমও বেশ ভাল। এখনও পুরোদমে কেনাকাটা শুরু না হলেও ক্রেতারা মার্কেট ঘুরে ঘুরে দেখছেন, দাম সম্পর্কে ধারণা নিচ্ছেন। পছন্দমাফিক পোশাক পেয়ে গেলে কিনেও ফেলছেন। দেশের বাইরে কিংবা গ্রামে যারা উপহার পাঠাচ্ছেন মার্কেটে তাদের আনাগোনাই সবচেয়ে বেশি। দোকানিরা জানালেন, ঈদবাজার এরই মধ্যে জমজমাট হয়ে উঠেছে। তারা আশা করছেন, ভিড় এড়াতে মার্কেটে আসা মানুষের এই দেখাদেখি আজ শুক্রবার থেকে থাকবে না। ক্রেতা ও বেচাকেনা দুটোই বাড়বে বলে বলে আশা করছেন বিক্রেতারা। বিক্রেতাদের অনেকেই জানালেন, চাকরিজীবীদের হাতে বেতন-বোনাসের টাকা এলেই কেনাকাটায় সরগরম হয়ে উঠবে ঈদবাজার।

বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার দেশী পোশাকের পাশাপাশি রয়েছে ইন্ডিয়ান পোশাকের সমারোহ। বাহারি রঙের কারুকাজ আর নজরকাড়া ডিজাইনের কারণে খুব সহজেই এসব পোশাক আকৃষ্ট করছে ক্রেতাদের। রয়েছে ইন্ডিয়ান সিরিয়াল, সিনেমার অনুকরণে পোশাক। এছাড়া পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, চীন এমনকি ইতালিসহ ইউরোপ ও আমেরিকার পণ্য ফ্যাশনের বাড়তি আবহ সৃষ্টি করেছে এবারের ঈদ বাজারে। বিক্রেতারা জানালেন, ভারতের কাশ্মীরী ডিজাইন, সিকোয়েন্সের কাজ, জরি-সুতোর বাহারি নক্সার শাড়ি, পাকিস্তানী ঝলমলে কাপড়ে বাহারি সুতোর কাজ করা কাপড়, উজ্জ্বল রঙের জর্জেট, টিস্যু প্রভৃতি কাপড়ে জরি, চুমকি, সুতি কাপড়ে দেশীয় আল্পনার সুতো, এপিক ও স্ক্রিন-ব্লুক-বাটিকের পোশাক সম্ভার দারুণ আকর্ষণ করেছে ক্রেতাদের। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ- নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মতোই সব ধরনের কাপড়ের দাম গত বছরের তুলনায় এবার অনেক বেশি হাঁকা হচ্ছে।

রাজধানীর আজিজ সুপার মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে দেশী পোশাকের বিশাল সমারোহ। সেখানে দেশাল, মেঘ, নোঙর, বরণ, কে-ক্রাফট, ঢোল, নহলি, গ্রাম বাংলার মেলা, দেশিয়া, প্রভৃতি দোকান ঘুরে দেখা যায় দেশী পোশাকের অপূর্ব সমাহার। সুতি কাপড়ের ওপর রঙ-বেরঙয়ের সুতার কাজ আর বাহারি ডিজাইনের এসব পোশাক কিনতে প্রতিদিন ক্রেতারা ভিড় জমাচ্ছেন সেখানে। মানে ভাল এবং মূল্য নাগালের মধ্যে থাকায় ক্রেতাদের অন্যতম পছন্দের তালিকায় রয়েছে এ মার্কেটটি। সেখানে পাওয়া যাচ্ছে মেয়েদের ফতুয়া, লং কামিজ, সালোয়ার কামিজ, থ্রিপিস, ম্যাচিং ওড়না, সালোয়ার, জুয়েলারি সবকিছুই। ছেলেদের জন্য রয়েছে পাঞ্জাবি, ফতুয়া, টিশার্ট। মেয়েদের ফতুয়ার মূল্য ৬০০ থেকে শুরু করে ১২০০ টাকা পর্যন্ত। সালোয়ার কামিজের মূল্য ১০০০ থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত। ছেলেদের পাঞ্জাবি মিলছে ৭০০ থেকে শুরু করে ৩০০০ টাকার মধ্যে। রয়েছে সিল্ক, কটনের পাঞ্জাবি।

রাজধানীর নিম্নমধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে উচ্চবিত্ত পর্যন্ত সবশ্রেণীর মানুষের কেনাকাটার পছন্দের জায়গা নিউমার্কেট। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মধ্যে সুই থেকে পরিধেয় বস্ত্র, গৃহস্থালির অত্যাবশ্যকীয় পণ্য, নারীদের সাজগোজের আইটেম, কাঁচাবাজার, উপহারসামগ্রী, স্বর্ণালঙ্কার, ব্যাগ সব সময়ের মহামূল্যবান উপহার বইসহ এমন কোন জিনিস নেই যা পাওয়া যায় না এই মার্কেটটিতে। শাড়ি ও বাচ্চাদের পোশাক, শার্ট-প্যান্ট, থান কাপড় থেকে শুরু সবই রয়েছে এখানে। যে কারণে এই মার্কেটে প্রায় সারা বছরই ভিড় লেগে থাকে। ঈদ বাজার বলে তো কথাই নেই। বৃহস্পতিবার নিউমার্কেটের ল্যাকমি ফ্যাশন, ফ্যাশন হাউজ, কোয়ালিটি ফ্যাশন, শাওন ফ্যাশন, মিলন গার্মেন্টস, ড্রেস সেন্টার, মল্লিকা, ঊর্মি, ফারিহা- এসব দোকানে দেখা যায় দেশী সুতি ও ইন্ডিয়ান থ্রিপিসের সমাহার। রয়েছে বাচ্চাদের পোশাক। এবার ঈদে তরুণীদের নজর কেড়েছে ইন্ডিয়ান শারারা নামক পোশাক। নেটের তৈরি গর্জিয়াস কাজ করা এই পোশাকটিতে আগ্রহ এবার কিশোরী তরুণী সবার। এই ড্রেসটি এবারের ঈদে সবার পছন্দের শীর্ষে রয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। ড্রেস সেন্টারের বিক্রেতা রাসেল আহম্মেদ বলেন, শারারা এবার সব বয়সী মেয়েদের পছন্দের তালিকায় ১ নম্বর। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সুলতান নামের পোশাকটি। দোকানটিতে ১৮০০ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা দামের পোশাক রয়েছে।

তবে কেনাকাটায় অভিজাত শপিংমলগুলোর তুলনায় কোন অংশেই পিছিয়ে নেই রাজধানীর ফুটপাথগুলো। বায়তুল মোকাররম, গুলিস্তান, মতিঝিল, দৈনিক বাংলা, পল্টন, মিরপুর, এলিফ্যান্ট রোড, মৌচাক মার্কেটের সামনের ফুটপাথগুলোতে বেচাকেনা চলছে ধুমছে। ক্রেতারা বলছেন, ফুটপাথের দোকানগুলোতে নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ক্রেতাদের জিনিসপত্র বেশি পাওয়া যায়। কোন কোন ক্ষেত্রে ভাল শার্ট, প্যান্ট, ছোটদের সব ধরনের পোশাক, সালোয়ার কামিজ, থ্রিপিসও পাওয়া যাচ্ছে ফুটপাথে। রাজধানীর বিভিন্ন মেগাশপে যেসব জামাকাপড় ১ হাজার থেকে ১২শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে- হুবহু একই মানের জামাকাপড় অর্ধেক দামে পাওয়া যাচ্ছে ফুটপাথের দোকানগুলোতে।জনকণ্ঠ

Related posts