November 21, 2018

এত ধকল সামলাতে পারবেন তো মুস্তাফিজ?


স্পোর্টস ডেস্কঃ ‘কাটার-মাস্টার’, ‘ক্রিকেট সেনসেশন’; কত নামেই না ডাকা হচ্ছে মুস্তাফিুজর রহমানকে! আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকে মাত্র এক বছরের মধ্যেই বাংলাদেশের এই বাঁহাতি পেসার পরিণত হয়েছেন ‘বিশ্ব ক্রিকেটের অসামান্য সম্পদে’। আর এমন এক সম্পদকে নিয়ে যে ক্রিকেটবিশ্বে টানাটানি শুরু হবে, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। প্রথমবারের মতো ভারতের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা, আইপিএলে খেলতে গিয়ে ক্রিকেটবিশ্বের নজর আরো ভালোভাবে কেড়েছেন মুস্তাফিজ। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আয়োজিত টি-টোয়েন্টি লিগের দলগুলোও যে তাঁকে পেতে চাইবে, সে আভাস এখনই পাওয়া যাচ্ছে ভালোমতো। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, মাত্র ২০ বছর বয়সে এত ধকল মুস্তাফিজ সামলাতে পারবেন তো?

এ বছরের শুরু থেকে একটানা খেলে যাচ্ছেন মুস্তাফিজ। গত জানুয়ারিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ দিয়ে শুরু করেছিলেন। এর পর ছিল এশিয়া কাপ ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এশিয়া কাপের তিনটি ম্যাচ খেলে পড়েছিলেন ইনজুরির কবলে। মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল বেশ কয়েকটি ম্যাচ। ইনজুরি কাটিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ফিরে অবশ্য দেখিয়েছিলেন দারুণ নৈপুণ্য। তিন ম্যাচে নিয়েছিলেন নয়টি উইকেট।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ করেই মুস্তাফিজ গেছেন আইপিএলে খেলতে। সেখানেও শুরু থেকে এত অসাধারণ বোলিং করছেন যে তাঁকে দল থেকে বাদ দেওয়ার কথা চিন্তাও করতে পারছে না সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। মুস্তাফিজের কারণে মাঠে নামারই সুযোগ পাচ্ছেন না নিউজিল্যান্ডের তারকা পেসার ট্রেন্ট বোল্ট, যাঁকে হায়দরাবাদ দলে ভিড়িয়েছিল প্রায় ১০ লাখ ডলারের বিনিময়ে। ১০ ম্যাচ খেলে মুস্তাফিজ এখন পর্যন্ত নিয়েছেন ১৩টি উইকেট। কমপক্ষে ‌১০ ওভার বল করেছেন এমন বোলারদের মধ্যে মুস্তাফিজের ইকোনমি রেট সবচেয়ে কম। ওভারপ্রতি তিনি দিয়েছেন মাত্র ৬.১৮ রান।

মুস্তাফিজের দুর্দান্ত নৈপুণ্যের সুবাদে সানরাইজার্সও এখন আছে আইপিএলের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে। গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে প্লে-অফ খেলাও প্রায় নিশ্চিত মুস্তাফিজদের। তার মানে আইপিএলে মুস্তাফিজকে ব্যস্ত থাকতে হবে মে মাসের পুরোটাই। এরপর আবার ইংল্যান্ডে কাউন্টি ক্রিকেট খেলতে যাওয়ার কথা ‘ফিজের’। এবারের মৌসুমের জন্য তাঁকে দলে ভিড়িয়েছে সাসেক্স। ২০ মে থেকে শুরু হতে যাওয়া ন্যাটওয়েস্ট টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে খেলার কথা মুস্তাফিজের। কিন্তু একটানা এভাবে খেলে যাওয়ার ধকল তিনি সামলাতে পারবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। পেস বোলারদের ইনজুরি আশঙ্কা এমনিতেই একটু বেশি থাকে। সেখানে মাত্র ২০ বছর বয়সেই এভাবে খেলতে থাকলে দীর্ঘ মেয়াদে মুস্তাফিজের সম্ভাবনাময় ক্রিকেট ক্যারিয়ারটা হুমকির মুখে পড়বে কি না, সে প্রশ্ন না তুলে উপায় থাকছে না।

সাসেক্সের কোচ মার্ক ডেভিস এখনো মুস্তাফিজকে দলে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। সম্প্রতি তিনি বলেছেন, ‘এখনো কোনো কিছু নিশ্চিত হয়নি। কিন্তু আমি খুবই আত্মবিশ্বাসী যে, তিনি আমাদের সঙ্গে যোগ দেবেন। মুস্তাফিজ সম্ভবত এ সময়ের সেরা বোলার। ফলে তাঁকে পাওয়ার ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আমরা এ বিষয়ে জানতে পারব।’

মুস্তাফিজকে নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড অবশ্য আছে সতর্ক অবস্থানে। এ মাসের শুরুতে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইংল্যান্ডে খেলতে যাওয়ার জন্য এনওসি না-ও দেওয়া হতে পারে মুস্তাফিজকে। বিসিবি ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান অবশ্য সরাসরি কিছু বলেননি। তিনি বলেছিলেন, ‘এ মৌসুমের কাউন্টি ক্রিকেটে মুস্তাফিজের অংশগ্রহণের ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এটা অবশ্য তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ওপরে নির্ভর করছে। আমরা শুধু তাকে পরামর্শ দিতে পারি।’ মুস্তাফিজ নিজে এখন কী সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটাই দেখার বিষয়।এনটিভি

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/১২ মে ২০১৬

Related posts