November 16, 2018

এত চেষ্টার পরও ‘শনির দশা’ কাটছেই না চট্টগ্রাম বিএনপির

ঢাকাঃ ছয় জনের নগর কমিটি দিয়ে চট্টগ্রামে ৭ বছর পার, এখন আবার ৩ জনের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। সবার প্রশ্ন এই ৩ জনের কমিটি দিয়ে নগর কমিটি কয় বছর পার করবে?

বিএনপি ক্ষমতা ছড়ার পর থেকে চট্টগ্রাম উত্তরে মৃতপ্রায় বিএনপি। দক্ষিণের বিরোধ্ও কাটাছে না প্রতিষ্ঠার পর থেকে। যুবদলের গ্রুপিং অস্থিরতা তো আছেই। ছাত্রদলে বুড়োরা রাজত্ব দখলে আছে ১ যুগ ধরে। সবমিলে কেন্দ্রীয় বিএনপির এত চেষ্টার পরও চট্টগ্রাম বিএনপির ‘শনির দশা’ যেন কাটছেই না। একের পর এক বিরোধ আছেই। এবার গুঞ্জন শুরু হয়েছে আশনুরুপ পদ না পেয়ে পদত্যাগ করতে পারেন চট্টগ্রামের দুই নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান ও খন্দকার গোলাম আকবর।

এ গুঞ্জনে দিকহারা চট্টগ্রাম বিএনপি তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা। সিনিয়র নেতারা যদি পদ নিয়ে এ রকম টালবাহানা করে তাহলে জুনিয়ররা যাবে কোথায়। শুধু তাই নয়, ৩ জনের নগর কমিটিতেও রয়েছে বিরোধ। এ তিন জনের মধ্যে নগর কমিটির সহ সভাপতি আবু সুফিয়ানও পদত্যাগের হুমকি দিচ্ছে। ফলে অনেকটা টালমাটাল হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম বিএনপি।

জানা যায়, এক সময় চট্টগ্রামকে বিএনপির ঘাটি বলা হতো। কেন্দ্রীয় বিএনপিতে চট্টগ্রামের ডজন খানেক নেতা শীর্ষ পর্যায়ে ছিল। বর্তমানের ২/১ জন ছাড়া কেন্দ্রে চট্টগ্রামের নেতারা অনেকটা কোনঠাসা। ঢাকা ও আশপাশের নেতারা চট্টগ্রামের নেতাদের ব্যাপারে নানা কানাগুশা করে দলের চেয়ারপার্সন ও তারেক জিয়ার কান বারি করে বলে চট্টগ্রামের বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতাদের অভিযোগ। এ কারণে চট্টগ্রামের নেতাদের প্রতি বিমাতাসূলত আচরণ করতেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চট্টগ্রামের ব্যাপারে বেগম খালেদা জিয়ার সবচেয়ে বেশি কাছের মানুষ ছিল আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও আবদুল্লাহ আল নোমান। চট্টগ্রামের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত আসলে এ দুই নেতার পরামর্শের মাধ্যমে হতো । কিন্তু বর্তমানে কেন্দ্রীয় বিএনপির নগর কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে দলের মহাসচিব মীর্জা ফখরুলের একক সিদ্ধান্তে। এ বিষয়টি মানতে পারেনি আবদুল্লাহ আল নোমান। তিনি নিজের ব্যাপারে যতটুকু হতাশ হয়েছেন তার চেয়ে বেশি হতাশ হয়েছেন নগর কমিটি নিয়ে। এরআগে ২০১০ সালে ৭ জন বিশিষ্ট নগর কমিটি গঠন করা হয়েছে। এরমধ্যে ২০১১ সালে দস্তগীর চৌধুরী মারা গেলে ৬ জনের কমিটি দিয়ে ৭ বছর পার হয়। এবারের ৩ জনের কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় বিএনপি ভুল করেছে বলে দাবি করেন আবদুল্লাহ আল নোমান।

তবে কমিটির ব্যাপারে নগর কমিটির সভাপতি ডা: শাহদাত হোসেন জানান, গত কমিটি ৭ বছর পার করলেও এবারের কমিটি খুব শীঘ্রই হবে। আমরা চেষ্টা করবো মিলেমিশে কাজ করতে। তবে বিএনপির বড় দলতো কিছুটা সমস্যাতো থাকবেই।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক গাজী শাহজাহান জুয়েলকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে কোন পদ দেয়া হয়নি। এ দুই জনের মধ্যে বিরোধ চলছে গত ৪ বছর ধরে। দুই জনের বিরোধের কারণে বিপর্যস্ত দক্ষিণ জেলা বিএনপি। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপিতে আরো বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা রয়েছে এরমধ্যে সাবেক সভাপতি আহমদ খলিল খান, বর্তমান সহ সভাপতি ও সাবেক সাংসদ সরওয়ার জামাল নিজাম। এ তিন নেতাকেও কেন্দ্রীয় বিএনপিতে মূল্যায়ন করা হয়নি। ফলে তাদের মধ্যেও রয়েছে চাপা ক্ষোভ।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী জানান, দলের চেয়ারপার্সন যা ভাল মনে করেছে তা সিদ্ধান্ত নিয়েছে এখানে আমার কিছু বলার নেই। আমি জিয়ার সৈনিক দলের কাজ করে যাব। তবে দক্ষিণ জেলা বিএনপিকে ঢেলে সাজাতে কেন্দ্রের উদ্যোগ নেয়া উচিত।

এছাড়াও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি এক সময় সাকা পরিবারের নিয়ন্ত্রণ থাকলেও পরবর্তীতে আসলাম চৌধুরীকে দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু এতেও নানা সমস্যা ওই সময় কমিটির সদস্য আবদুল্লাহ হাসানের সাথে বিরোধে জড়িয়ে কোন গতি হয়নি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির। পরে আসলাম চৌধুরীকে জেলে যেতে হয়। আসলাম চৌধুরী জেলে গিয়ে আরো বিপর্যস্ত হয়ে পরে উত্তর জেলা বিএনপি।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলার গিয়াস কাদের চৌধুরীকে ভাইস চেয়ারম্যান ও সাকার ছেলে হুম্মামকে সদস্য করায় আবারো উত্তর জেলা বিএনপিতে সাকা যুগের আবাস পাচ্ছে নেতাকর্মীরা। এখানে নেতাকর্মীদের দাবি, পরিচ্ছন রাজনৈতিক ভিপি নাজিমকে দায়িত্ব দিয়ে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপিতে ঢেলে সাজানো উচিত।

এ ব্যাপারে উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি ভিপি নাজিম উদ্দিন জানান, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপিতে বাঁচাতে হবে। দলকে বাঁচাতে নেতাকর্মীরা সক্রিয় থাকলেও কেন্দ্রের পক্ষ থেকে কোন দিক নির্দেশনা নেই। দলের নেতাকর্মীরা কেন্দ্রের দিকে থাকিয়ে আছে। তবে বিতর্কিতদের দিয়ে কমিটি হলে দলের মধ্যে হতাশা চলে আসবে।

Related posts