November 16, 2018

এখন খালেদার হাতে একগুচ্ছ পরিকল্পনা?

একগুচ্ছ পরিকল্পনা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া হাতে

স্টাফ রিপোর্টারঃ    বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দেশে ফিরে তিন দিন বিশ্রাম নিয়ে অফিস শুরু করেছেন। পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একগুচ্ছ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন তিনি। এর মধ্যে দ্রুত দল গোছানোর কাজটি তালিকার শীর্ষে রয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যেই দল নতুনভাবে সাজাতে চান তিনি। দল সাজিয়ে পরিকল্পনা রয়েছে নতুন বছরের শুরু থেকে নির্বাচন ইস্যুতে মনোযোগ দেয়ার। কঠোর কোনো কর্মসূচি না এলেও ৫ জানুয়ারি বিতর্কিত নির্বাচনের দ্বিতীয় বছর পূর্তিকে ঘিরে দেশজুড়ে সভা-সমাবেশের ঘোষণা আসতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

দীর্ঘ ৬৬ দিন পর লন্ডন থেকে ফিরে গত রাতে প্রথম অফিস করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। সিনিয়র বেশ কয়েকজন নেতার সাথে কথা বলেছেন তিনি। তৃণমূল সংগঠন পুনর্বিন্যাসের বিষয়ে খোঁজ নিয়েছেন, দিয়েছেন নতুন নির্দেশনা।

খালেদা জিয়া দল পুনর্গঠনে কী পদক্ষেপ নেন, সে দিকেই এখন দলীয় নেতাকর্মীরা তাকিয়ে আছেন। বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, কয়েক মাস ধরে তৃণমূলে দল পুনর্গঠনের কাজ চললেও এখন কেন্দ্র গোছানোর কাজে নিজেই হাত দেবেন বিএনপি প্রধান।

দলের শীর্ষ এক নেতা জানান, শিগগিরই দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটি এবং ২০ দলীয় জোটের বৈঠক ডাকবেন খালেদা জিয়া। বৈঠকে তিনি লন্ডন সফরের নির্যাস তুলে ধরার পাশাপাশি দল পুনর্গঠন নিয়ে নিজস্ব ভাবনার কথা সিনিয়র নেতাদের জানাবেন। সেভাবেই সব কাজ এগিয়ে যাবে। দলের ওই নেতা জানান, সংবাদ সম্মেলন করে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে দলের অবস্থান তুলে ধরতে পারেন বেগম খালেদা জিয়া। সরকারবিরোধী একটি বৃহত্তর ঐক্য গড়ার ওপর জোর দেয়া হতে পারে। জোট না করে সরকারের বাইরে থাকা দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করার পরিকল্পনাও রয়েছে বেগম জিয়ার।

গত আগস্ট মাস থেকে শুরু হয়েছে বিএনপির তৃণমূল সংগঠন গোছানোর কার্যক্রম। ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জেলা, উপজেলা, থানাসহ অন্যান্য ইউনিট পুনর্গঠনের নির্দেশ দেয়া হলেও তা সম্ভব হয়নি। ৭৫টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে হাতেগোনা এক-দু’টি জেলায় সম্মেলন হয়েছে বলে জানা গেছে। বহু জেলায় তেমন কোনো কাজই হয়নি।

সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকা বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মো: শাহজাহান বলেন, ‘ম্যাডাম দেশে ফিরেছেন। এ পর্যন্ত জেলা দল পুনর্গঠনের যে কাজ হয়েছে, তা বিস্তারিত তাকে আমরা জানাব। তারপর তিনি যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেভাবে পরবর্তী কাজ শুরু হবে।’ তিনি জানান, প্রায় ২৫টি জেলা সম্মেলনের জন্য প্রস্তুত আছে। কিছু জেলায় এখনো তেমন কোনো কাজ হয়নি।

জানা গেছে, লন্ডনে সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে বড় ছেলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে কথা বলেছেন খালেদা জিয়া। এতে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন, কেন্দ্র গোছাতে ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের স্থান দেয়াসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। সিদ্ধান্ত হয়েছে দ্রুত সময়ের মধ্যে দলের জাতীয় কাউন্সিল করার।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিএনপির কেন্দ্রে এবার ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। দলের স্থায়ী কমিটি থেকে শুরু করে নির্বাহী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে অপেক্ষাকৃত তরুণ ও সাচ্চা নেতাদের পদায়ন করা হবে। তবে কাউকে বাদ দেয়ার পক্ষে নন বিএনপি প্রধান। পদের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হলেও সবাইকে নিয়ে একসাথে নতুন লক্ষ্যে এগোতে চান তিনি।

ঢাকা মহানগর বিএনপি, অঙ্গসংগঠন ছাত্রদলের বিভিন্ন শাখা কমিটি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন হতে পারে শিগগিরই। বিশেষ করে যুবদলের কমিটি নিয়ে নেতাকর্মীরা অপেক্ষার প্রহর গুনছেন।

এ দিকে পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে কি না সে ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি দল। তবে স্থানীয় বিএনপি ইতোমধ্যে পৌর নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি শুরু করেছে। গ্রেফতার এড়িয়ে এসব প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে নানামুখী তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি   স্টাফ রিপোর্টারঃ

Related posts