November 18, 2018

এখনো শঙ্কা কাটেনি আ’লীগের!

বিএনপি জোটের আন্দোলন নিয়ে ভীতি এখনো কাটেনি আওয়ামী লীগের। পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি জোট আবারো সরকার পতন আন্দোলনের হুমকি দেয়ায় দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিতর্কিত নির্বাচনের দুই বছর পূর্তি সামনে থাকায় সেই শঙ্কা আরো গভীর হচ্ছে। ৫ জানুয়ারিকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের তৃণমূলপর্যায়ের নেতাকর্মীদের অগ্রিম বিশেষ সতর্ক বার্তা পাঠিয়েছে দলটির হাইকমান্ড।

দলটির নেতারা মনে করছেন, সরকারের পক্ষ থেকে পৌরসভা নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও বিএনপি তা মানতে চাইছে না। তারা ছোটখাটো ইস্যুকে বড় করে দেখানোর চেষ্টা করছে। প্রকৃতপক্ষে পৌরসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা বিএনপির মূল উদ্দেশ্য নয়। টানা তিন মাসের আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে দিশেহারা বিএনপি রাজনীতিতে টিকে থাকার চেষ্টা করছে। দীর্ঘ দিন লন্ডনে অবস্থান করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও তার ছেলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান আন্দোলনের নতুন নকশা তৈরি করেছেন। ফলে ৫ জানুয়ারি সামনে থাকায় ঠুনকো বিষয় নিয়ে এই পৌরসভা নির্বাচনকে ইস্যু করে বিএনপি একটি গণ্ডগোল পাকানোর চেষ্টা করছে যেমনটি অতীতেও দেখা গেছে। তারা আবারো জ্বালাও-পোড়াও করে সরকারের উন্নয়নকার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্র করছে।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড.হাছান মাহমুদ বলেছেন,‘বিএনপি ভালোভাবেই জানে অতীতে যাদের জ্বালাও-পোড়াও করেছে, আবার সেই মানুষের কাছে ভোট চাচ্ছে, সেই প্রভাব এই পৌরসভা নির্বাচনে পড়বে। জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করা শুরু করেছে। তারা জয়লাভ করতে পারবে না এটা নিশ্চিত হয়ে গেছে। তাদের উদ্দেশ্য এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা নয়, এই নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশে একটি বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করা’। তিনি বলেন, ‘বিএনপি গত ৫ জানুয়ারি থেকে শুরু করে টানা আন্দোলন করে সারা দেশে ব্যাপকভাবে অগ্নিসংযোগ, জ্বালাও-পোড়াও করেছে। সামনে ৫ জানুয়ারিকে ঘিরে তারা আবারো জ্বালাও-পোড়াও করার পরিকল্পনা করছে। ইতোমধ্যে আমাদের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছি। বিএনপিকে অতীতের মতো সেই অগ্নি-সন্ত্রাস করার সুযোগ দেয়া হবে না’।

বিতর্কিত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের এক বছর পেরোনোর মাথায় গত ৬ জানুয়ারি থেকে সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচির ডাক দেয় বিএনপি জোট। টানা হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি নিয়ে বেশ বিপাকে ছিল ক্ষমতাসীন এ দলটি। প্রশাসনের ওপর ভর করে বিরোধী জোটের নেতাকর্মীদের হটিয়ে আন্দোলন দমনে সফল হলেও কার্যত পুরো দেশ অচল হয়ে পড়ে। বিএনপি জোটের আন্দোলন চলাকালে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে, বিনিয়োগে স্থবিরতা নেমে আসে, মানুষের জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হয়। কোনো সমঝোতা ছাড়াই টানা তিন মাসের আন্দোলন থেমে গেলেও শঙ্কা এখনো কাটেনি। আগামী ৩০ ডিসেম্বর পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে তৃণমূলপর্যায়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে।

দলটির হাইকমান্ড থেকে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার কথা বললেও তৃণমূলপর্যায়ের অভ্যন্তরীণ কোন্দল দৃশ্যমান হওয়া, তাদের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান ও সংঘর্ষ দানা বেঁধে ওঠা, বিরোধী জোটের প্রার্থীসহ শীর্ষ নেতাদের ওপর হামলা এবং কেন্দ্রের নির্দেশনা পুরোপুরি উপেক্ষা করে নির্বাচনী মাঠে বিদ্রোহ শুরুর ঘটনায় চিন্তিত হয়ে পড়েছেন শীর্ষ নেতারা। তৃণমূলের পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়েও শঙ্কা কাজ করছে। সম্প্রতি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহ, প্রচার সম্পাদক ফারুক হোসেনসহ শীর্ষপর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতা দলের মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচার চালাতে গিয়ে দেশের অর্ধশতাধিক জায়গায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাধার সম্মুখীন হয়েছেন।

রোববার জাতীয় প্রেস কাবে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম বলেছেন, পৌর নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে সরকারের আগেই ইসির বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। গত সোমবার কুমিল্লার চান্দিনায় দলের মেয়র প্রার্থীর পক্ষে প্রচার চালাতে গিয়ে বিএনপির ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ আল নোমান বলেছেন, পৌর নির্বাচনে কোনো প্রকার ষড়যন্ত্র হলে জনগণকে সাথে নিয়ে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হবে। ফলে পৌর নির্বাচন ইস্যুতে বিএনপি জোটের আগেভাগে দিয়ে রাখা সরকার পতন আন্দোলনের হুমকিও আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক লে. কর্নেল (অব:) মুহাম্মদ ফারুক খান বলেন, আমরা জানি বিএনপি সব সময় ভুল পথে চলে এসেছে। পৌরসভা নির্বাচন তো একটি উছিলামাত্র। আন্দোলন করে সরকার পতন ঘটানো যাবে না। তিনি বলেন, এর আগেও বিএনপি সারা দেশে তিন মাস জ্বালাও-পোড়াও করেছে, তাদের আন্দোলনে জনগণের কোনো সমর্থন ছিল না। জনগণ এই পথেও আর হাঁটবে না। ফারুক খান বলেন, বিএনপির সব সময় একই উদ্দেশ্য বাংলাদেশের মানুষকে কষ্ট দেয়া, দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করার অপচেষ্টা চালানো। আমি বলব, বিদেশীদের কাছে ধরনা দিয়েও লাভ নেই। তাদের গণতান্ত্রিক পন্থায় রাজনীতি করতে হবে।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts