September 22, 2018

এখনো রাজপথেই রাত-দিন কাটাচ্ছেন এরদোয়ান সমর্থকরা!

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কঃ সেনা অভ্যুত্থান ব্যর্থ হয়েছে তুরস্কে। এরপর থেকে এ পর্যন্ত পুলিশ, বিচার বিভাগ, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীতে আনা হয়েছে ব্যাপক পরিবর্তন। বরখাস্ত করা হয়েছে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েক হাজার কর্মকর্তা কর্মচারীকে। তবে শঙ্কা এখনো কাটেনি। বিশৃঙ্খলার সুযোগে আবারো অভ্যুত্থানের চেষ্টা করতে পারে সেনাবাহিনীর কোনো অংশ।

আশঙ্কা থেকেই তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারার রাস্তায় রাতদিন কাটাচ্ছেন এরদোয়ানের লাখো সমর্থক। শুক্রবার অভ্যুত্থান চেষ্টার সময় থেকেই রাজপথে আছেন তারা। প্রথমবার যেভাবে গণঅভ্যুত্থানের জোয়ারে সেনা অভ্যুত্থান ভেসে গিয়েছিল, সেভাবেই পরবর্তী যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে চান তারা।

শুক্রবার এরদোয়ানের আহ্বানেই রাস্তায় নেমে এসেছিল কয়েক লাখ লোক। বিভিন্ন মসজিদ থেকেও জনগণকে রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানানো হয়। রোববার সম্মিলিত জনতার উদ্দেশ্যে এরদোয়ান জানিয়েছেন, তারা তুরস্কে মৃত্যুদণ্ড পুনর্বহালের যে দাবি করেছেন সংসদ তা বিবেচনা করবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা এই দাবিকে উপেক্ষা করতে পারি না। গণতন্ত্রে জনগণ যা বলে তাই হবে।’ এই সপ্তাহজুড়ে রাজপথে থাকার জন্যও জনগণের প্রতি আহ্বান জানান এরদোয়ান। রোববার দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে শহরের বিভিন্ন চত্ত্বর এবং রাজপথে জড়ো হওয়া মানুষের সংখ্যা বেড়ে যায়।

ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগ দিতে আইন সংস্কারের অংশ হিসেবে ২০০৪ সালে মৃত্যুদণ্ডের আইন রহিত করে তুরস্ক। তবে এই আইন পুনর্বহাল করলে তুরস্ক ইইউ স্ট্যাটাস হারাবে বলে সোমবার জানিয়েছে জার্মানি। তুর্কি প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম জানান, মৃত্যুদণ্ড পুনর্বহালের জন্য তুরস্ক তড়িঘড়ি করবে না। তবে জনগণের দাবিও ফেলে দেয়া যায় না।

উল্লেখ্য, একসময় উসমানীয় খেলাফতের কেন্দ্র ছিল বর্তমান তুরস্ক। ষোল শতকে বিশ্বের সবচে ক্ষমতামশালী সেনাবাহিনী ছিল উসমানীয় খেলাফতের। এই সময়ে তারা তাদের শাসন এতটাই বিস্তৃত করেছিল যে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা গেট পর্যন্ত তারা চলে গিয়েছিল। কিন্তু শিল্পায়নে ব্যর্থ হয়ে উনিশ শতকে এসে ‘ইউরোপের রুগ্ন ব্যক্তি’তে পরিণত হয় উসমানীয় সাম্রাজ্য।

পনের শতক থেকে উসমানীয় সাম্রাজ্যের সুলতানরা খেলাফত দাবি করতে থাকেন এবং ধীরে ধীরে তারা মুসলিম বিশ্বের নেতা ও প্রতিনিধিতে পরিণত হন। খেলাফত সর্বোচ্চ সীমায় পৌছানোর সময় উসমানীয়রা তুরস্কের কনস্টান্টিনোপল থেকে আনাতোলিয়া, মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ অঞ্চল, উত্তর আফ্রিকা, ককেশাস এবং পূর্ব ইউরোপের বিশাল এলাকা শাসন করতেন।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষ নাগাদ উসমানীয়রা দৃশ্যত তাদের সমগ্র সাম্রাজ্য হারায়। সিংহাসন এবং উসমানীয় রাজবংশকে টিকিয়ে রাখার জন্য সুলতান মিত্রশক্তিকে সহযোগিতা করতে সম্মত হন। তিনি সংসদ বিলুপ্ত করেন এবং তরুণ তুর্কিদের ছেড়ে যাওয়া সরকারের স্থান নিতে মিত্রশক্তির সামরিক প্রশাসনকে অনুমতি দেন। ১৯২৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত এই খেলাফত টিকে ছিল। খেলাফতের সর্বশেষ খলিফা ছিলেন দ্বিতীয় আবদুল মজিদ।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts