September 23, 2018

যেভাবে বিএনপি-জামায়াত পৌর নির্বাচনে কাজ করবে

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের বড় শরিক জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আসন্ন পৌর নির্বাচনে বিএনপির কোন সমঝোতা হয়নি। সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনাও আপাতত নেই। জামায়াত ‘একলা চলো’ পথে নেমেছে। নিজেদের মতো করেই তারা নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে। বিএনপি এবং জামায়াত মেয়র প্রার্থী ভাগাভাগির সমীকরণ বদলে নিয়েছে। নতুন কৌশলে সামনে অগ্রসর হচ্ছে তারা। আদালতের রায়ে নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় জামায়াতের দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ মার্কা নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ রহিত হওয়ায় ৪৪ পৌরসভায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তারা।

এর বাইরে ‘ডামি’ হিসাবেও আছেন প্রার্থীরা। একজন বাতিল হলে লড়াইয়ে থাকবেন বিকল্প জন। দেশের নির্বাচনযোগ্য ২৩৫টি পৌরসভার ভেতর এই ৪৪টি বাদে অন্যগুলোতে জামায়াত ‘ধানের শীষে’র প্রার্থির পক্ষে ভোট করবে। তবে এখানে শর্তের বাতাবরণ আছে। জামায়াতের কাউন্সিলর প্রার্থীর পক্ষে বিএনপিকে কাজ করতে হবে। আর যেসব পৌরসভায় মেয়র পদে ধানের শীষের প্রার্থী থাকবে না, সেখানে জামায়াতের ‘স্বতন্ত্র’ প্রার্থীকে সমর্থন দেবে বিএনপি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, জামায়াতের সঙ্গে ভাগাভাগির বিষয়টি জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিজেই দেখছেন।

পৌর নির্বাচনে সমন্বয় ও প্রত্যয়নকারী বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, জামায়াতের সঙ্গে আমাদের কোন সমঝোতা হয়নি। তারা তাদের মতো নির্বাচন করছেন, আমরা আমাদের মতো। তারা আমাদের কাছে কোন তালিকা দেয়নি। সংখ্যাও দাবি করেনি। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করার পর আমরা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিবো। যাচাই বাছাই করে দেখবো আমাদের প্রার্থীদের কি অবস্থা দাঁড়ায়। কেবল জামায়াত নয়, আমাদের সমমনা যারা আছেন; অবস্থা বুঝে তাদেরকেও সমর্থন দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। আমরা নির্বাচন করছি আন্দোলনের অংশ হিসাবে। প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের পৌর নির্বাচনে ৫০ পৌরসভায় মেয়র পদে জোটের সমর্থন চেয়েছিল জামায়াত। শেষ পর্যন্ত ২০টিতে ছাড় দেয় বিএনপি।

জানাগেছে, রংপুর বিভাগে ৯, রাজশাহী বিভাগে ১৭, খুলনা বিভাগে ১০, সিলেট বিভাগে ৩, চট্টগ্রাম বিভাগে ৪ এবং ঢাকা বিভাগে ১ জন স্বতন্ত্র হিসাবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জামায়াতের প্রার্থীরা। মূলত: আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি, মামলা, গ্রেফতার-দমন-পীড়ন এড়াতেই মনোনীতদের নাম প্রকাশ করেনি জামায়াত। ইতিমধ্যে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জামায়াতের প্রার্থী ভিপি সাহাবউদ্দিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে রিটার্নিং অফিস।

কাউন্সিলর পদে জামায়াতের প্রার্থী দুই শতাধিক

এদিকে পৌর মেয়র পদের চেয়ে কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে গুরুত্ব দিচ্ছে জামায়াত। কারণ এই পদে প্রার্থীর দলীয় পরিচিতি গোপন থাকছে। ফলে দুই শতাধিক কাউন্সিলর প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। জামায়াত তাদের প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করবে না। জানা গেছে, জামায়াত কৌশল পাল্টেছে তাদের কাউন্সিলর প্রার্থীদের বিজয়ী করতে। অতীতে উপজেলা নির্বাচনগুলোতে অনেক স্থানে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থন দিয়ে নিজেদের ভাইস-চেয়ারম্যান প্রার্থীদের বিজয়ী করতে সক্ষম হন। এবারো সেই কৌশল নিয়েছেন তারা। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন জেলাতে জামায়াতের ‘ভোটব্যাংক’ এখন মুখ্য ভূমিকা পালন করবে।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts