March 23, 2019

এক মাসের মধ্যে অ-ব্যবস্থাপনার পরিবর্তন করুন অন্যথায় কঠোর হতে বাধ্য হবো সরকারি হাসপাতালে ডাক্তাদের উদ্যেশ্যে ডা. দীপু মনি

1এ কে আজাদ, চাঁদপুর ঃ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি বলেছেন, এক মাসের মধ্যে হাসপাতালের অ-ব্যবস্থাপনার পরিবর্তন করুন অন্যথায় কঠোর হতে বাধ্য হবো। সরকারী হাসপাতালে রোগীদের চাপ থাকবেই। কিন্তু রোগীদের যথাযথ সেবা প্রদান করতে হবে। হাসপাতালের যারা দায়িত্বে রয়েছেন তাদের অবহেলায় রোগীদের ভোগান্তি কিন্তু সহ্য করা হবে না। এই হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা যথাযথ না হলে আমি আরোও কঠোর হব। কারণ এখানে যারা চিকিৎসা নিতে আসেন তারা আমাকে ভোট দিয়েছেন। নির্বাচিত করেছেন। আর তারা আপনাদের অবহেলায় সঠিক সেবা পাবে না তা আমি কখনো মেনে নেব না। সোমবার (২১ আগষ্ট) বিকেলে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসকদের সাথে মত বিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আমার কাছে অভিযোগ আছে বলে দীপু মনি বলেন, যে হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক নিজেই দেরীতে আসেন। সেই হাসপাতালে চিকিৎসকরা তো দেরীতে আসবেনই এটাই সাভাবিক। দ্বায়িত্বশীল লোক যদি তার দ্বায়িত্বটুকু সঠীক ভাবে পালন না করেন তাকেত দ্বায়িত্বশীল বলাও অন্যায়। আমার কাছে অভিযোগ রয়েছে চিকিৎসকরা নিজেরা চেম্বারে রোগী দেখে, নিজেদের বাসা-বাড়িরসহ নিজেদের অন্যান্য ব্যক্তিগত কাজ শেষ করে ১১ টা থেকে সাড়ে ১১ টায় হাসপাতালে আসেন। কিন্তু হাসপাতালে আসার কথা সকাল সাড়ে ৮টায়। আপনাদেরকে আগামী ১ মাসের সময় দিলাম। যদি আপনারা নিজেদের এবং হাসপাতালের এই অ-ব্যবস্থাপনার পরিবর্তন না করেন। তাহলে আমি হাসপাতালে ডিজিটাল মেশিন বসাতে বাধ্য হব। এই মেশিনের মাধ্যমে আপনাদের সময় মত উপস্থিতি নির্ধারন করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।তিনি আরো বলেন, ইমার্জেন্সীতে ৪জন ডাক্তার ৮ ঘন্টা করে চিকিৎসা সেবা দেয়ার কথা থাকলেও সেখানে তারা ৪ ঘন্টা করে ভাগ কওে চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। দয়া করে এ কাজটুকু করবেন না। একটু চিন্তা করে দেখেন জনগনের ট্যাক্সের টাকায় আপনারা বেতন নিচ্ছেন। তাদের সেবা দেওয়ার জন্যই সরকার এখানে আপনাদের নিয়োগ দিয়েছেন। অনেকে সঠীক কাজটুকু করেন না, আবার অনেকে অর্ধেক কাজটুকুও করেন না। বিষয়টি এখন আমার পর্যায়ে রয়েছে। যদি জনগনের পর্যায়ে চলে যায় তাহলে কঠিন সম্মূখীন হতে হবে। আজ আমি অনেক কঠিন কথা বলেছি। তার কারন হল আমি একজন চিকিৎসক হয়ে সঠিক সেবা প্রদান করতে পারছি না। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. প্রদীপ কুমার দত্তের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জেলা সির্ভিল সার্জন ডা. মতিউর রহমান, পরিবার পরিকল্পনা কল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইলিয়াস, জেলা বিএম এর সভাপতি ডা. নূরুল হুদা, সাধারণ সম্পাদক ডা. মাহমুদুন নবী মাসুম, কাউন্সিলর ফরিদা ইলিয়াস, এড. সাইফুদ্দিন বাবু। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাসুদ হোসেন, জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শামছুল হক মন্টু পাটওয়ারী, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. সালেহ আহমেদ, সিরাজুম মুনির, গাইনী বিশেষজ্ঞ ডা ফাতেমা বেগম, কার্ডিলোজিস্ট ডা. জাহাঙ্গীর আলম, ডা. মুনতাকিম হায়দার, সার্জারী কনসালটেন্ট ডা. মনিরুল ইসলাম, হাসানুর রহমান, অর্থোপেডিক ডা. শাহদাত হোসেনসহ অন্যান্যরা উপস্থি ছিলেন। সভায় চিকিৎসকরা ডা. দীপু মনি এমপি কে সময়মত হাসপাতালে আসার প্রতিশ্রুতি দেন। এর আগে ডা. দীপু মনি এমপি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।

Related posts