September 23, 2018

এক নজরে নারায়ণগঞ্জ

73

রফিকুল ইসলাম রফিক,নারায়ণগঞ্জঃ   নারায়ণগঞ্জ কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০১৬ এর উদ্বোধন করেছেন অনুষ্ঠানের নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন।

শনিবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০ টায় নারায়ণগঞ্জ ওসমানী পৌর স্টেডিয়ামে এই বার্ষিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি আবু হাসনাত শহিদ বাদল।

উদ্বোধনের পর কলেজের বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুরু হয়। দিনব্যাপী ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শেষ হবার পর বিকেলে বিজয়ীদের মধ্যে পুরষ্কার বিতরণ করা হয়।

আনোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের সন্তানদের উৎসাহ প্রদান করা আমাদের দায়িত্ব। খেলাধুলা শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তি দেয়। আগামীতে যেন আর বড় পরিসরে এরকম আয়োজন করা যায় সেদিকে কলেজের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। তিনি বলেন, খেলাধুলার প্রতি ঝুঁকলে আমাদের সন্তানরা খারাপ কোন কাজে মনোনিবেশ করতে পারবে না।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অধিগ্রহণকৃত বিশাল এলাকাজুড়ে গড়ে ওঠা উপশহর পূর্বাচলে সবজি চাষের বিপ্লব ঘটিয়েছেন স্থানীয় কৃষক। এখানকার ৩৫গ্রামের কয়েক হাজার হেক্টর জমিতে সবজি চাষ করে তারা বদলে দিয়েছেন এলাকার দৃশ্যপট।

জানা যায়, চলতি মৌসুমে এরই মধ্যে এখানকার ৫ কোটি টাকার সবজি ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্রি হয়েছে। মৌসুম শেষে তা ১০ কোটিতে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখানকার সবজি রফতানি হচ্ছে বিদেশেও। এরই মধ্যে প্রায় অর্ধকোটি টাকার সবজি যুক্তরাজ্য, দুবাই, সৌদি আরব ও মালয়েশিয়ায় রফতানি হয়েছে। পূর্বাচল উপশহরের জমি এখন বিস্তীর্ণ সবজির ভূমি। পতিত সম্পত্তিতে সবজি চাষ করে ভাগ্য ফিরিয়েছেন হাজারো মানুষ। আধুনিক শহর গড়ার লক্ষ্যে রাজউক নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ সদর ও দাউদপুর ইউনিয়নের প্রায় ৩৫টি গ্রামের সাড়ে ৪ হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করে নব্বইয়ের দশকে। ওইসব জমিতে বালি ভরাট করা হলে বিশাল তেপান্তর মাঠে রূপ নেয় এলাকাগুলো। কৃষকরা গত কয়েক বছর আগে সেসব জমিতে সবজি চাষ শুরু করলে সত্যিই সোনা ফলাতে সক্ষম হন। এখানকার ৩৫ গ্রামের কয়েক হাজার কৃষক পরিবার সবজি চাষ করে পাল্টে দিয়েছেন এলাকার দৃশ্যপট। সবজি চাষ হচ্ছে আশপাশের গ্রামগুলোতেও।

সবজি চাষ করে এসব গ্রামের অনেকেই এখন স্বাবলম্বী। এলাকাগুলোর মধ্যে চাপরি, গোবিন্দপুর, কামতা, হারারবাড়ি, পরশি, কুমারটেক, বাতান, মাঝিপাড়া, কুচিলাগর, সুলপিনা, আলমপুরা, ইছাপুরা, বাড়িয়াছনি, গোয়ালপাড়া, কালনি, জিন্দা, ধামচি, ভোলান, হিরনাল, গুতিয়াবো, আগারপাড়া, বৈলদা, কুলপ, বীরহাটাবো, বাগলা, তীর মারা, আমদিয়া, রাতুরা, পলখান, পাঞ্জারা, বেলুন, গলান, আমারুন, কেতুন, পারাবরতা, বরকাউ, কালিকুটিসহ প্রায় ৩৫ গ্রামের হাজার হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষী সবজির আবাদ করে এখন সচ্ছল জীবনযাপন করছেন। সবজি চাষ লাভজনক হওয়ায় প্রতি বছর চাষীর সংখ্যা বাড়ছে। এসব এলাকায় টমেটো, শিম, কাঁকরোল, চিচিঙ্গা, করলা, বরবটি, শসা, কচু, ধুন্দুল, জিঙ্গা, বেগুন, লাউসহ কীটনাশকবিহীন বিভিন্ন সবজির চাষ হচ্ছে। রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের পরশী গ্রামের আলী হোসেন মাস্টার শিক্ষকতার পাশাপাশি নিড়ানি ও কাঁচি তুলে নিয়েছেন।

তার কথাথ ‘এলাকার জমিতে সোনা ফলে। একটু পরিশ্রম করলেই কৃষি কাজেও ভাগ্য খুলে যায়।’ এবার তিনি চার বিঘা জমিতে সবজি চাষ করছেন। চলতি বছর ৫ লাখ টাকার সবজি বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি। অন্যদিকে লাউ, শিম, টমেটো আর ফুলকপির আবাদ করে রূপগঞ্জের দাউদপুরের চাপরি, বাতান, কুচিলাগর, বৈলদা ও কুলপ এলাকার শত শত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষি এখন সচ্ছল জীবনযাপন করছেন। লাউ, টমেটো আর ফুলকপির চাষ লাভজনক হওয়ায় প্রতি বছর চাষীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। চলতি মৌসুমে এসব গ্রাম থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকার বিভিন্ন সবজি বিদেশে রফতানি হয়েছে বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জানা গেছে। দেশ-বিদেশ মিলিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫ কোটি টাকার সবজি বিক্রি হয়েছে। মৌসুম শেষে আরও ৫ কোটি টাকা আসবে বলে ধারণা করছেন তারা। চাষী রফিকুল ইসলাম, আবুল কালামসহ আরও অনেকেই জানান, সবজি উৎপাদনের পর চাষিদের বিক্রির জন্য কোনো চিন্তাই করতে হয় না। ফড়িয়ারা গ্রামে গ্রামে ঘুরে কিনে নিয়ে যান।

আর তারাই আবার পাইকারদের কাছে বিক্রি করেন। প্রতি গ্রামেই অসংখ্য ফড়িয়া রয়েছেন। আছেন পাইকারও। প্রতিদিন এখানে ৪০০ থেকে ৫০০ মণ টমেটো ও ৫ হাজার ফুলকপি-বাঁধাকপি বেচাকেনা হচ্ছে। দুপুরের পর থেকেই গ্রামা লের রাস্তার ধারে এবং এশিয়ান হাইওয়ে সড়ক ও কা ন-কুড়িল বিশ্বরোড সড়কের পাশে সবজির হাট বসে। সন্ধ্যা নাগাদ বেচাকেনা শেষ হয়। প্রতি রাতেই উপশহরের এসব এলাকা থেকে ট্রাকযোগে সবজি ঢাকায় নেয়া হয়। রূপগঞ্জের সবচেয়ে বড় সবজির বাজার ইছাপুরা ঘুরে দেখা গেছে এলাহি কান্ড। সবজি ক্রয় করে রাজধানীতে নিয়ে যাওয়ার জন্য বাজারে এসে ট্রলার ও ট্রাক ভিড় করছে। এগুলোই রাজধানী হয়ে ছড়িয়ে যায় দেশের বিভিন্ন বাজারে। বাড়িয়াছনি এলাকার কৃষক আবদুল বারেক মিয়া অন্যদের দেখাদেখি পূর্বাচলের জমিতে লাউ আর শিমের আবাদ করে সচ্ছল হয়েছেন। স্থানীয় সবজির পাইকার আনোয়ার আলী জানান, প্রতিদিন ২-৩টি ট্রাকযোগে কম করে ৬০০ থেকে ৮০০ মণ শিম ঢাকায় চালান করা হচ্ছে।

কুচিলা গ্রামের বৃদ্ধ মান্নান ব্যাপারি জানালেন, ‘বাপ-দাদারে দেখছি এই মাডিত তরকারি লাগায়। বিশ্বাস করেন, এহানে তরকারি লাগাইলে সবসময় ভালো ফলন ধরত। অহন এই মাডি যদিও আমাগো না, তারপরও মাডি আমাগো কথা হুনে। মাশাল্লাহ ভালো ফলন অইছে এইবার।’ কৃষক সোহরাব মিয়া বলেন, ‘লাল মাটির সবজি খাইতে স্বাদ আছে। আমগো বেচাও ভালাই অয়। তবে আগামীতে পূর্বাচলে ভবন নির্মাণের প্লান দেয়া হলে তাদের চাষাবাদ শেষ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করেন অনেকে। বর্তমানে অনেককে প্লট বুঝিয়ে দেয়ায় তাদের সবজিসহ টাকা-পয়সা ফেরত দিতে হচ্ছে বলে জানান কামতা গ্রামের মনিরুল মোল্লা। সূত্র : আলোকিত বাংলাদেশ।

দেশের রফতানিযোগ্য শাকসবজি ও ফলমূলের ২০ ভাগ শুধু যুক্তরাজ্যেই রফতানি হয়। বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর প্রচুর সবজি যায় বিদেশে। বেরাইদ এলাকার সবজি ব্যবসায়ী আবুল হোসেন জানান, ‘পূর্বাচলের সবজি সবেচেয়ে বেশি যুক্তরাজ্যেই রফতানি হচ্ছে। এরপরই বেশি যায় দুবাইতে। এছাড়া সৌদি আরব ও মালয়েশিয়ায় যাচ্ছে এখানকার সবজি। এখানে কীটনাশকবিহীন সবজি চাষ হয় বলেই বিদেশে কদর রয়েছে।’ রূপগঞ্জ ও দাউদপুর ইউনিয়নের ৩৫ গ্রামে ফরোমন ট্রাপ ব্যবহার করে এ এলাকার সবজি চাষ হয়। ফলে পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে রেহাই পাওয়া যায় বলে কৃষকরা জানান। রূপগঞ্জের সবজি এখন বিদেশে রফতানি হচ্ছে বলে জানান রূপগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুরাদুল হাসানও। প্রতি সপ্তাহে রফতানিকারকরা সরাসরি মাঠ থেকে কীটনাশকবিহীন সবজি তুলে নিয়ে যান। আর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাহবুবা ফেরদৌসী বলেন, সত্যিই রূপগঞ্জ সবজির গ্রাম। সম্পূর্ণ কীটনাশকবিহীন সবজি ফলে এ এলাকাগুলোতে। সরকারি সহযোগিতা পেলে তারা আরও ভালো করতেন। তবে যেহেতু জমিগুলো অধিগ্রহণ করা, তাই পরামর্শ আর দেখভালের বাইরে আমরা কৃষকদের খুব বেশি সহায়তা করতে পারি না।

সোনারগাঁও শ্রীশ্রী গৌরনিতাই আখড়ায় রবিবার থেকে ৫ দিন (৪০ প্রহর) ব্যাপী শ্রীশ্রী তারকব্রহ্ম মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠান শুরু হয়েছে। গতকাল শনিবার রাতে নামযজ্ঞের শুভ অধিবাস ও মঙ্গল ঘট স্থাপনের মধ্য দিয়ে কীর্ত্তনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত ৬ টি কীর্ত্তনিয়া দল হরিনাম পরিবেশন করবে।

সোনারগাঁও পৌরসভার বাণীনাথপুর এলাকায় অবস্থিত শ্রীশ্রী গৌরনিতাই আখড়ায় (১৭ তম) আজ রবিবার থেকে ৫ দিন (৪০ প্রহর) ব্যাপী শ্রীশ্রী তারকব্রহ্ম মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠান শুরু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার থকে ৩ দিন ব্যাপী গীতা পাঠ, ভাগবত পাঠ, মঙ্গল ঘট স্থাপন ও অধিবাস কীর্ত্তনের মধ্য দিয়ে নামযজ্ঞের শুভ আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। নামযজ্ঞ অনুষ্ঠানে হরিনাম কীর্ত্তন পরিবেশন করবেন আদি মুক্তি সম্প্রদায় (গোপালগঞ্জ), মিলন তীর্থ সম্প্রদায় (সাতক্ষীরা), মদন পাল সম্প্রদায় (লক্ষ্মীপুর), বিসখা সম্প্রদায় (লক্ষ্মীপুর), মা শীতলা সম্প্রদায় (গোপালগঞ্জ) ও জয় জগদানন্দ সম্প্রদায় (পিরোজপুর)।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts