September 24, 2018

এক নজরে নারায়ণগঞ্জ

20

রফিকুল ইসলাম রফিক,নারায়ণগঞ্জঃ  নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এক নবজাতককে জীবিত উদ্ধার করেছে এলাকাবাসী। গতকাল সকালে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের দুধঘাটা গ্রামের রাস্তার পাশের কলাবাগানের ভেতর থেকে ওই নবজাতককে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ওই এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। তবে প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত নবজাতকের বাবা-মা’র পরিচয় পাওয়া যায়নি।

এলাকাবাসী জানায়, দুধঘাটা গ্রামের আব্দুর রশিদ সরকারের বাড়ির পার্শ্ববর্তী রাস্তার পাশের একটি কলাবাগানের ভেতরে গতকাল সকালে স্থানীয়রা দীর্ঘ সময় ধরে নবজাতকের কান্না শুনতে পায়। পরে স্থানীয়রা জড়ো হয়ে ওই কলাবাগানের ভেতর থেকে রক্তমাখা কাপড়ে মোড়ানো নবজাতককে জীবিত উদ্ধার করে  দুধঘাটা গ্রামের প্রকৌশলী সামছুল হকের বাড়িতে নিয়ে যায়।

সামছুল হক জানান, সকালে কলাবগানের ভেতরে কান্নার শব্দ পেয়ে মাহিলউদ্দিন নামের তার এক প্রতিবেশী এলাকাবাসীকে নিয়ে ওই মেয়ে নবজাতককে জীবিত উদ্ধার করে তার বাড়িতে রেখে যায়।
তিনি আরো জানান, এব্যাপারে পিরোজপুর ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামকে অবহিত করা হয়েছে। কেউ যদি নবজাতকটিকে লালন পালন করতে আগ্রহ প্রকাশ করে তাহলে আইন মোতাবেক তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সিটিজেন চার্টার বিষয়ে মতবিনিময় সভা শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সভা কক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় নাগরিক সেবায় সাধারণ মানুষ যেন কোন প্রকার ভোগান্তিতে না পরে এ জন্য দিক নির্দেশনা দিয়েছেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনভেন্স ইউনিটের মহা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. আব্দুল হালিম।

এর প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক আনিছুর রহমান নাগরিক সেবার বিভিন্ন বিষয়ে উপস্থাপন করেন এবং কোন প্রকার ভোগান্তি ছাড়া নাগরিক সেবা প্রদানের আশ্বাস দেন। এছাড়াও তিনি প্রধান অতিথির বিভিন্ন দিক নির্দেশনা মূলক বক্তব্য অনুসারে কাজ করার আশ্বাস দেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক আনিছুর রহমান মিঞার সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারের উপ পরিচালক ইসরাত হোসেন খান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ছরোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গাউছুল আজম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শাহীন আরা বেগম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নজরুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল মজুমদার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজা আক্তার চৌধুরী প্রমুখ।

নারায়ণগঞ্জ-রংপুর রুটে চলাচলকারী একটি যাত্রীবাহী পরিবহনের বাসে চাঁদাবাজী কালে ফতুল্লার পাগলা মুন্সিখোলা এলাকা থেকে এসএম সোহাগ ওরফে মামুন নামে এক চাঁদাবাজকে পিটুনী দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে বাস চালক ও হেলপার। বৃহস্পতিবার রাতে আটকের পর শুক্রবার দুপুরে বাসের মালিক বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেফতারকৃত সোহাগ ওরফে মামুন বন্দর উপজেলার উইলসন রোডের এসএম বাবুলের ছেলে। গত বছরের ৩ মে পরিবহনে চাঁদাবাজীর অভিযোগে পুলিশ সোহাগ ওরফে মামুনকে আরো একবার গ্রেফতার করেছিল।

মামলার বাদী কর্ণফুলি পরিবহনের (ঢাকা ব ১৪-০৭৬৫) মালিক হান্নান প্রধান জানান, নারয়ণগঞ্জ থেকে রংপুর রুটে কর্ণফুলি, বুড়িগঙ্গা, প গড় ট্রাভেলস, নিউ তিশা, সোনারগাঁ বাংলা, সোনিয়া ডিলাক্স, স্বপ্না-শান্ত পরিবহন চলাচল করে। এসব গাড়ি থামিয়ে সোহাগ ওরফে মামুন ব্যাপক চাঁদাবাজী করতো। তার চাঁদাবাজীতে অতিষ্ট হয়ে পড়েছিল বাস চালক ও হেলপাররা। পরে সকল পরিবহনের মালিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে এর প্রতিবাদ জানায়। এতেও চাঁদাবাজরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে। একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের পাগলা মুন্সিখোলা এলাকায় রংপুরগামী কর্ণফুলি পরিবহনের বাস আটকিয়ে চালক বাচ্চু মিয়া ও হেলাপার শামীম মিয়াকে হুমকী দিয়ে ২৫শ’ টাকা ছিনিয়ে নেয়। এসয় আরও টাকা দাবী করলে চালক ও হেলাপার ওই চাঁদাবাজকে আটক করে পিটুনী দিয়ে পুলিশে সোর্পদ করে।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসাদুজ্জামান জানান, তদন্ত করে আরো যারা জড়িত রয়েছে তাদের বিষয়ে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে শুক্রবার সন্ধার পর থেকে অনুষ্ঠিত হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের বুড়াবুড়ির পূজা। গাছের গুঁড়ির মধ্যখানে বুড়াবুড়ির প্রতিমা রেখে খাবার, কবুতর সহ নানা সামগ্রী উৎসর্গ করে পৌষ সংক্রান্তির এ পূজা দেওয়া হয়।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দিলীপ কুমার মন্ডল জানান, ফতুল্লার হরিহরপাড়া শীর্ষ মহল, পাগলা, ফতুল্লা রেলস্টেশন, দেওভোগ লোকনাথ মন্দির বটতলায় বুড়াবুড়ির পূজা আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সন্ধার পর থেকে প্রতিটি পূজার স্থানে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীড় হয়েছে। এ পূজা উপলক্ষে সপ্তাহ ব্যাপী বারোয়ারী মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সিদ্ধিরগঞ্জে ৬ বছরের এক শিশুকে রাজিব (২৮) নামে এক যুবক ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে। ১ম শ্রেণীর ঐ ছাত্রী বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে মামলাটি দায়ের করেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানায়। বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটায় সিদ্ধিরগঞ্জের এনায়েতনগর বৌবাজার এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে বলে জানায় মামলার বাদী। শিশুটি তাতখানা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ম শ্রেণীর ছাত্রী।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই মুাসদ আলম খান জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ওই শিশুটি খেলা করার সময় একই এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে রাজিব (২৮) শিশুটিকে পাশের একটি ঘরে নিয়ে যায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে সে চিৎকার করে। শিশুটির চিৎকাররে এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে লম্পট রাজিব পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার রাতে শিশুটির মা নাজমা বেগম বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সার্বিক) সরাফত উল্লাহ জানায়,  ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামীকে গ্রেফতারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের ৩৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে শুক্রবার বিকাল ৩টায় চাষাঢ়াস্থ নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারে শ্রমিক সমাবেশ ও শহরে লাল পতাকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। শ্রমিক সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রিয় কমিটির সভাপতি শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ স্কপ এর শীর্ষ নেতা শ্রমিক নেতা জাহেদুল হক মিলু।

সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লবের সভাপতিত্বে শ্রমিক সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজাতান্ত্রিক দল-বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা সমন্বয়ক নিখিল দাস, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাস, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদ, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম গোলক, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সহ-সভাপতি এমএ মিল্টন, রি-রোলিং স্টিল মিলস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক এসএম কাদির, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম শরীফ।

কমরেড জাহেদুল হক মিলু বলেন-জিনিস পত্রের দাম বাড়ছে, সংসার চালানোর খরচ বাড়ছে একথা বলে মন্ত্রী, এমপি, প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি সবার ভাতা বাড়ে, সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন বাড়ে কিন্তু শ্রমজীবি মানুষের বেতন বাড়ানোর ব্যাপারে তারা নিশ্চুপ। শ্রমিকদের কি বাসা ভাড়া দিতে হয় না? জিনিসপত্র কিনে খেতে হয় না? পে-স্কেলে এক বিরাট বৈষম্য করা হয়েছে। সর্বনি বেতন হবে ১৩৮০০ টাকা আর সর্বোচ্চ বেতন হবে দেড় লাখ টাকারও বেশি, অথচ তারা একই বাজার থেকে জিনিস কিনবে। এত বৈষম্য স্বত্বেও সরকার স্বীকার করেছে সর্বনি বেতন হবে ১৩৮০০ টাকা। তাহলে শ্রমিকদের ক্ষেত্রে বেতন কত হওয়া উচিত। অতীতে সব সময় পে-স্কেলের তুলনায় শ্রমিকদের বেতন বেশি থাকতো। কারণ, সরকারী কর্মচারীরা অনেক সুবিধা পায় বেসরকারী শ্রমিকরা পায় না। আমরা তাই বাজার দর, জীবন যাত্রার ব্যয় বিবেচনা করে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরী ১৫,০০০ হাজার টাকা দাবি করি।

নেতৃবৃন্দ বলেন দেশে শ্রম আইন, শ্রম বিধিমালা আছে। কিন্তু এগুলো মালিকের পক্ষে করা হয়েছে। শ্রম আইনে যে সামান্য অধিকার আছে মালিকরা তাও দিতে চায় না। যখন তখন ছাঁটাই, কারখানা বন্ধ করার হুমকি দেয়া হয়। রি-রোলিং মিলের শ্রমিকরা নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, সার্ভিস বুক, দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরন ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, নিরাপদ কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা কোন কিছুরই তোয়াক্কা করে না মালিকেরা। দেশে সবাই গণতন্ত্রের কথা বলে, কিন্তু ট্রেড ইউনিয়ন করা যে শ্রমিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার তা মলিকরা স্বীকার করতে চায়না।

নেতৃবৃন্দ বলেন, শ্রমিকরা সংখ্যায় বেশি কিন্তু অসংগঠিত। সংগঠন ছাড়া শ্রমিক অসহায়। সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট শ্রেণী সচেতন বিপ্লবী ধারার ট্রেড ইউনিয়ন গড়ে তোলার সংগ্রাম করছে। সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের পতাকাতলে সংগঠিত হউন। আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করুন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাকালীন নেতা ও স্থায়ী কমিটির সদস্য বিশিষ্ট নদী বিশেষজ্ঞ আর এ গনির মৃত্যুতে গভীর শোক, পরিবারের প্রতি সমবেদনা ও মরহুমার রুহের মাগফেরাত কামনা করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমূর আলম খন্দকার।

শোক বার্তায় তৈমূর আলম খন্দকার বলেন আর এ গনি ছিলেন বিএনপির প্রান। প্রচার বিমুখ আর এ গনির অক্লান্ত চেষ্টায় বিএনপি সাংগঠনিক ভাবে মহিরুহে পরিনত হয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে বিএনপি তথা জাতীয়তাবাদী শক্তি একজন অভিভাবক হারালো।

মরহুমের মৃত্যুতে গভীর শোক, পরিবারের প্রতি সমবেদনা ও মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহবায়ক মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ,সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক সানোয়ার হোসেন, যুগ্ম আহবায়ক আনোয়ার হোসেন আনু, মাসুদ রানা,সরকার আলম, রানা মুজিব,আক্তার হোসেন খোকন শাহ, জুয়েল প্রধান, জুয়েল রানা, সাগর প্রধান প্রমুখ।

শহীদ জিয়া আইনজীবী সংসদ নারায়ণগঞ্জ জেলার পক্ষ থেকে তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক ও বিদেহী আত্মার মাগ্‌ফেরাত কামনা করছে। শোক সন্তপ্ত পরিবার পরিজনদের প্রতি রইল গভীর সমবেদনা। নিবেদক অ্যাডভোকেট মোঃ আজিজ আল মামুন (সভাপতি), অ্যাডভোকেট এসএম গালিব (সাধারণ সম্পাদক), অ্যাডভোকেট মোঃ শরীফুল ইসলাম শিপলু (সাংগঠনিক সম্পাদক)।

আওয়ামীলীগ ও বিএনপি মেরুকরণের বাইরে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সকল বাম, প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে বিকল্প শক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশব্যাপী বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি পদযাত্রা ও হাটসভা অব্যাহত রেখেছে।

১৫ জানুয়ারী শুক্রবার বিকেল ৩টায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি বন্ধর থানা কমিটির উদ্যোগে বন্দর কেওঢালা বাসস্ট্যান্ড থেকে পদযাত্রা শুরু হয়ে জাঙ্গাইল, হালুয়াপাড়া, মালিভিটা হয়ে লাঙ্গলবন্দ এসে শেষ হয়। পদযাত্রার শুরুতে  কেওঢালা বাসস্ট্যান্ডে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বন্দর থানা কমিটির সদস্য  মোঃ ইব্রাহীম। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শিবনাথ চক্রবর্তী, জেলা কমিটির সদস্য দুলাল সাহা, বিমল কান্তি দাস, আব্দুল হাই শরীফ, রবীন্দ্র দাস, আঃ সালাম বাবুল, দিলীপ দাস, পাভেল খানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

নেতৃবৃন্দ বলেন-দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন ঠিকভাবে চলছে না। স্বাভাবিক জীবনের নিশ্চয়তা নেই। গ্রামীন বরাদ্দের টাকা লুটপাট হচ্ছে। কৃষকের সার জীব ও কৃষি উপকরণের দাম বাড়ানো হচ্ছে। দেশের প্রায় সকল ক্ষেত্রে চাকরি দেবার সময় লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়া হচ্ছে। উন্নয়নমূলক সকল কর্মকান্ডে শত শত কোটি টাকা দুর্নীতি হচ্ছে। দেশে একটা লুুটেরা ধনিক গোষ্ঠী গড়ে উঠেছে। প্রশাসন, রাজনীতি, আইন কানুন সবকিছুই তাদের আঙ্গুলের ইশারায় চলছে। আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামাত এরা সবাই এই লুটেরা গোষ্ঠীর পক্ষে রাজনীতি করছে। শ্রমিক কৃষক মেহনতি মানুষের পক্ষে বিকল্প শক্তি গড়ে তুলতে হবে। সরকারী কর্মচারীদের যে হারে বেতন বাড়ানো হয়েছে, বেসকারী শ্রমিকদের সে হারে বেতন বাড়াতে হবে।

ঘুষ, দুর্ণীতি, খুন, ধর্ষন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজদের প্রতিরোধ করতে হবে। স্বাধীনতাবিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল সম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দলগুলো ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। ইসলামের নামে জনগনকে বিভ্রান্ত করে তারা আফগানিস্তান, ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়ার মত বাংলাদেশকেও একটি সাম্প্রদায়িক জঙ্গী রাষ্ট্রে পরিণত করার স্বপ্ন দেখছে। আমেরিকা এদের সাহায্য সহযোগিতা করছে। যুদ্ধবাজ অস্ত্র ব্যবসায়ী আমেরিকা গোটা দুনিয়াকে একটি ভয়ঙ্কর যুদ্ধের মধ্যে ঠেলে দিতে চাইছে। দেশিবিদেশী এই ষড়যন্ত্রের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে সকল বাম গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ১৪ দলীয় জোট বা ২০ দলীয় জোট কোন পক্ষই প্রকৃতপক্ষে জনগনের বন্ধু নয়। লুটপাট, ব্যাক্তি স্বার্থ আর আন্তর্জাতিক যুদ্ধবাজদের খুশি করাই তাদের রাজনীতির মূল কথা। গত ৪৪ বছরের রাজনীতি তাই প্রমান করেছে। দেশ ও জনগনের পক্ষে বিকল্প একটি প্রগতিশীল রাজনৈতিক ধারা গড়ে তোলা ছাড়া অন্য কোন বিকল্প নেই।

সোনারগাঁয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধ সহ আহত ২০

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের বারদী ইউনিয়নের মসলন্দপুর গ্রামে বৃহস্পতিবার রাতে ও শুক্রবার সকালে আওয়ামীলীগ বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের টেঁটাবিদ্ধসহ কমপক্ষে ২০জন আহত হয়েছে। ঘটনার সময় ২টি ককটেল বিষ্ফোরনের ঘটনা ঘটেছে। আহতদের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। এঘটনায় সোনারগাঁ থানায় পৃথক ৩ টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর ওই এলাকায় পুলিশী টহল জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বারদী ইউনিয়নের মসলেন্দপুর গ্রামের আওয়ামীলীগ কর্মী ও ইউপি সদস্য হাব্বিুর রহমান হাবুর কাছ থেকে ব্যবসায়িক লেনদেনে টাকা পান বারদী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সানাউল্লাহ সানু। এ পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার রাতে শান্তির বাজার জামান প্লাজা এলাকায় হাবিবুর রহমান হাবুর সমর্থক নিপুন, বিল্লাল, নুর মোহাম্মদসহ ১০-১৫ জনের একটি দল সানু ও তার ম্যানেজার আমিনুলকে পিটিয়ে আহত করে। এসময় তাদের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ভাংচুর করে হামলাকারীরা। এসময় সানুর লোকজন হাবুর সমর্থক বিল্লাল হোসেনের একটি দোকান ভাংচুর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এঘটনার জের ধরে  শুক্রবার সকালে উভয় পক্ষের লোকজন উত্তোজিত হয়ে মসলন্দপুর গ্রামের চকে দেশীয় অস্ত্র টেঁটা, বল্লম, রামদা, চাইনিজ কুড়াল, লোহার রড, লাঠিসোটায় সজ্জিত হয়ে অবস্থান নেয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে মনু, শফিক, সাবলু, ফারুক, বিল্লাল, শাহজালাল, দুলাল, শহিদুল্লাহ, পাগলাসহ ২০জন আহত হয়। আহতদের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্রসহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে মনু, শফিক ও দুলাল টেঁটাবিদ্ধ হওয়ায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অবস্থা আশংকাজনক। এ ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় পৃথকভাবে বিএনপির পক্ষের সানাউল্লাহ সানু ও বিল্লাল হোসেন দুটি ও আওয়ামীলীগ পক্ষের বিল্লাল হোসেন বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর ওই এলাকায় পুলিশী টহল জোরদার করা হয়েছে।
এব্যাপারে বারদী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সানাউল্লাহ সানু জানান, হাবিবুর রহমানের কাছ থেকে আমার পাওনা টাকা চাওয়ার তার নেতৃত্বে আমাদের হামলা করে পিটিয়ে আহত করেছে। তাছাড়া আমার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ভাংচুর করেছে। পরে সকালে আমাদের লোকজনের উপর উত্তেজিত হয়ে চকে গিয়ে টেঁটা, বল্লম ও ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে ১০-১২জন লোক আহত করেছে।
অন্যদিকে আওয়ামীলীগ কর্মী হাবিবুর রহমানের দাবী, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সানাউল্লাহ সানুর লোকজন টেঁটা বল্লম নিয়ে হামলা চালিয়ে আমাদের ৭-১০জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেছে। আহতদের অবস্থা আশংকাজনক। তাছাড়া আমাদের একটি দোকানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করেছে।
সোনারগাঁ থানার ওসি শাহ মো. মঞ্জুর কাদের পিপিএম জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় ৩টি অভিযোগ গ্রহন করা হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ওই এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।

সোনারগাঁয়ে লোকজ মেলায় ছুটির দিনে উপচেপড়া ভিড়

সোনারগাঁয়ের লোকজ উৎসবে শুক্রবার ছুটির দিনে ছিল দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা দর্শনার্থীর পদ ভারে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো উৎসব চত্বর। বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন উৎসবে আসা দর্শনার্থীদের জন্য লোক জীবন প্রদর্শনী, লোকজ খেলাধুলা, লোক সংগীত ও লোকজ নৃত্যের আয়োজন করে। এদিকে দর্শনার্থীরা এ উৎসবে চিরায়ত বাংলার কারুশিল্পীদের তৈরী কারুপণ্যের প্রদর্শনী সরাসরি দেখার সুযোগ পায়। আগতদের জন্য ঐতিহ্যবাহী পুতুল নাচ ও বায়স্কোপ প্রদর্শনীরও ব্যবস্থা করে কর্তৃপক্ষ।
পরিবার পরিজন নিয়ে উৎসবে বেড়াতে আসা সবাই একই স্থানে লোক জীবনের এমন সমাবেশ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে স্বপরিবারে উৎসবে বেড়াতে আসা শিশু কিশোর পত্রিকা মাসিক টইটম্বুরের প্রধান চিত্র গ্রাহক মাজেদ চৌধুরী জানান, এখানে বেড়াতে না আসলে আমি জানতেই পারতাম না এদেশে লোক শিল্পের উপর এত সুন্দর একটি উৎসব হতে পারে।
ছুটির দিন হওয়ায় উৎসবের প্রতিটি স্টলে ছিল ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। নিজেদের পছন্দের কারুপণ্য ক্রয় করতে ব্যস্ত ছিলেন দর্শনার্থীরা। বিক্রেতাদের বেচাবিক্রি ভাল হওয়ায় তারাও ছিল বেশ খুশী। মাসব্যাপী এ লোকজ উৎসব চলবে আগামী ১২ ফেব্র“য়ারী পযর্ন্ত।
বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের পরিচালক কবি রবীন্দ্র গোপ জানান, বিপুল সংখ্যক ক্রেতা দর্শনার্থীর উপস্থিতিই প্রমান করেছে এবারের উৎসব বেশ জমে উঠবে। আশা করি দিন যত যাবে ক্রেতা দর্শনার্থীর সংখ্যা ততই বৃদ্ধি পাবে।

রূপগঞ্জে পিস্তলের গুলিসহ আটক ১
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পিস্তলের তিন রাউন্ড গুলিসহ একজনকে আটক করে র‌্যাব-১১। গত ১৪ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের চনপাড়া পূর্নবাসন এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়েছে।
র‌্যাব-১১এর দেয়া লিখিত অভিযোগে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে র‌্যাব-১১এর ডিএডি মো. আবুল হোসেন এর নেতৃত্বে র‌্যাব এর একটি দল রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়নের চনপাড়া পূর্নবাসন কেন্দ্রের ২নং ওয়ার্ডের চনপাড়া কমিউনিটি শৌচাগার প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের সামনে অভিযান চালিয়। এ সময় ২নং ওয়ার্ডের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে নূর আলম (২৮)কে পিস্তলের তিন রাউন্ড গুলিসহ আটক করে। এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

কা ন পৌর মেয়রের সাথে বণিক সমিতির মতবিনিময়
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে কা ন পৌরসভা ‘গ’ শ্রেণী থেকে ‘খ’ শ্রেণীতে উন্নীত হওয়া উপলক্ষ্যে কা ন বাজার বণিক সমিতির উদ্যোগে পৌর মেয়রের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে কা ন বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন পৌর মেয়র দেওয়ান আবুল বাশার বাদশা, পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী সাফায়েত সাদী, আবুল হাসানাত, কাউন্সিলর মফিকুল ইসলাম খান, রোকনউদ্দিন, বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান আবু বকর সিদ্দিকী, কা ন পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম মাষ্টার, এমায়েত হোসেন, মোস্তফা মোল্লা, মুকুল দেওয়ান, কামাল হোসেনসহ কা ন বাজারের ব্যবসায়ীসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিকর্গ। সভায় বক্তারা কা ন বাজারসহ পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় কিভাবে উন্নয়ন করা যায় সে বিষয়ে গুরুত্ব দেন। এসময় কা ন পৌরসভাকে ‘গ’ শ্রেণী থেকে ‘খ’ শ্রেণীতে উন্নীত হওয়ায় বণিক সমিতির উদ্যোগে কা ন পৌর মেয়রকে শুভেচ্ছা দেয়া হয়।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে এ চিঠি পৌরসভায় পৌঁছলে পৌরসভার সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আনন্দে মেতে উঠে। তারা পৌর মেয়র দেওয়ান আবুল বাশার বাদশাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন, পৌর সচিব এটিএম নুরে আলম সিদ্দিকী, হিসাব রক্ষক ইউসুফ আলী, সার্ভেয়ার মোস্তফা মোল্লা রইছউদ্দিন, জাবেদ হোসেন, বকুল মিয়া, কাউন্সিলরসহ ঠিকাদারবৃন্দ। সেসময় মেয়রের পক্ষ থেকে সকলের মাঝে মিষ্টি বিতরন করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০০২ সালে কা ন ইউনিয়ন পরিষদকে পৌরসভার আওতায় আনা হয়। এর পর থেকে এ পর্যন্ত এ পৌরসভা ‘গ’ শ্রেণীতে ছিল। গত ১২ জানুয়ারী রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের সহকারী সচিব এ,কে,এম আনিছুজ্জামানের দেয়া স্বাক্ষরিত একটি চিঠির মাধ্যমে এ পৌরসভাকে ‘খ’ শ্রেণীতে উন্নীত করা হয়েছে বলে কা ন পৌরসভাকে অবহিত করা হয়।

বন্দরে গুলি করে টাকা ও স্বর্ণাংলকার লুট

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় সৌদি প্রবাসির বাড়িতে গুলি ছুড়ে নগদ ২০লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটপাটসহ ব্যাপক ভাংচুর করেছে বন্দর উত্তরা লের শীর্ষ সন্ত্রাসী মনু বাহিনী। গত বৃহস্পতিবার রাতে বন্দরের মদনপুরের মুরাদপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রবাসি টিটুর বড় ভাই মনির হোসেন বাদি হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
মনির হোসেন জানান, দীর্ঘ ৯ বছর পর সৌদি আরব থেকে তার ছোট ভাই টিটু ২৫ দিন আগে ছুটিতে দেশে আসেন। এ খবর পেয়ে বন্দরের শীর্ষ সন্ত্রাসী নিহত কামরুজ্জামান কামুর ছোট ভাই সন্ত্রাসী মনিরুজ্জামান মনু মাইক্রোবাস যোগে তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের পাশে ‘বাংলাদেশ টিম্বার স মিল’ এর সামনে এসে ওৎপেতে থাকে। এসময় প্রবাসি টিটু কাঁচপুর থেকে বাজার নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে স মিলের সামনে পৌছালে তাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে ধাওয়া করে। তখন সে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেয়। ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী সন্ত্রাসী মনুর মামাতো ভাই ডাকাত উজ্জল ও ভাগিনা ডাকাত সালুকে মারধর করে। প্রবাসীকে হত্যার চেষ্টার সংবাদ পেয়ে পুলিশ এলে মনু বাহিনী আত্মগোপন করে থাকে। পুলিশ চলে যাওয়ার পর সন্ত্রাসী মনুর নেতৃত্বে ২৫/৩০ জন গুলি ছুড়তে ছুড়তে এসে প্রবাসীর বাড়িতে হামলা চালায় এ সময় সন্ত্রাসীরা ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর করে এবং বাড়ির কাজের জন্য ব্যাংক থেকে উত্তোলনকৃত নগদ ২০লাখ টাকা ও ২০ ভরি স্বর্ণলঙ্কারসহ আরও ১০ লাখ টাকা মামলা লুটপাট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় বন্দর থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ ১টি গুলির খোসা উদ্ধার করে।
বন্দর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নজরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ ঘটনায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। পুলিশ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে তৎপর রয়েছে।

সিদ্ধিরগঞ্জ তাঁতখানা স্কুলে বই কেলেংকারী মূল হোতা আ.লীগ নেতা এমএ বারীর বিচার দাবি

সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল ৮৯ নং তাঁতখানা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বই কেলেংকারী মূল হোতা স্কুল কমিটির সভাপতি ও গোদনাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি এমএ বারীসহ সংশ্লিষ্টদের বিচার দাবি করেছেন এলাকাবাসী। স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও গোদনাইল ইউনিয়ন আ’লীগ সভাপতি এমএ বারী, সদস্য গাজী সেলিম ও মাহবুব বিদ্যালয়ে ১৩শ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২০০ টাকার বিনিময় নতুন বই বিবতরণ করে। পরে এ ব্যাপারে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে ৩ জানুয়ারী উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মুমিনুল হক, সহকারী শিক্ষা অফিসার কানিজ ফাতেমাসহ একটি তদন্ত কমিটি বিদ্যালয় পরিদর্শন করে এ ঘটনার সত্যতা পেয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেন এবং ম্যানিজিং কমিটি বিলুপ্ত ঘোষনা করেন। এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, ১৩’শ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে মোট ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা তুলেন স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও গোদনাইল ইউনিয়ন আ’লীগ সভাপতি এমএ বারী, সদস্য গাজী সেলিম ও মাহবুব।
এদিকে বিলুপ্ত ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা তাদের এহেন কর্মকান্ড ও বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে ফের আনাগোনা করে তাদের বিরুদ্ধে কোন সাক্ষী না দিতে চাপ দেয়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অভিভাবক ও এলাকাবাসী ক্রমেই ফুঁসে উঠছে। তাদের দাবী কমিটি বিলুপ্ত করে শিক্ষা অফিসার নিজেদের দায় সারতে পারেনা। তারা দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রনালয় থেকে নতুন বছরের প্রথম দিন থেকে দেশের প্রতিটা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনা মূল্যে বই বিতরন করছে। কিন্তু ৮৯নং তাঁত খানা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের জিম্মি করে ১৩শ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২০০ টাকার বিনিময় নতুন বই তাদের হাতে তুলে দিয়েছে বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা এমএ বারীর নেতৃত্বে সদস্যরা। এ নিয়ে ২ জানুয়ারী কয়েক জন্য অভিভাবক স্কুলটিতে গিয়ে প্রতিবাদ করলে ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সদস্য বিএনপি নেতা সিদ্ধিরগঞ্জ থানা জিয়া শিশু কিশোর সংগঠনের সভাপতি গাজী সেলিম আহমেদ কয়েক জন্য মহিলা অভিভাবককে অকথ্য ভাষায় বকা ঝকা করে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেয়। এ ঘটনা অন্য অভিভাবকেরা প্রতিবাদ করলে গাজী সেলিম ও মাহাবুব ১৩শ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নেয়া টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয়টির বিলুপ্ত ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এম এ বারি বলেন, গাজী সেলিম ও মাহাবুব মিলে টাকা নিয়েছে। আমি বাঁধা দিলে গাজী সেলিম আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ পত্রিকার ছাপাবে বলে হুমকি দেয়। আর মাহাবুম সব সময় বলতো স্কুল থেকে যে কোন উপায়ে টাকা নিতে হবে। দল সব সময় ক্ষমতায় থাকবেনা। শুযোগ কাছে লাগান। তাদের দুজনের কাছে আমি জিম্মি ছিলাম।
এদিকে মাহাবুব বলেন, আমরা স্কুল কমিটির সভাপতি এম এ বারির কথা মত সব কাজ করেছি । বারি ও গাজী আমাকে দিয়ে এ কাছ করিয়েছেন। প্রথম দিন কয়েক শত শিক্ষার্থীর টাকা ফেরত দিলেও ৮শ শিক্ষার্থীর টাকা ফেরত দিতে মানা করছিল গাজী ও রাবি। আমি  তাদের কথা না শুনে বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে নেওয়া টাকা ফেরত দিচ্ছি। তার জন্য এম এ বারি আমার বিরুদ্ধে কথা বলছে।

সিদ্ধিরগঞ্জে গুলির ঘটনায় মামলা

সিদ্ধিরগঞ্জের নিউ লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিল স্কুল সংলগ্ন এলাকায় মাদক আটককে কেন্দ্র করে রুবেল মাদবর ও শামীম মাদবর নামের দুই যুবককে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ ও হামলার ঘটনা মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় আহত রুবেল মাদবরের বাবা মোঃ মনির হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-প্রচার সম্পাদক ইফতেখার আলম খোকনের বডিগার্ড গলাকাটা জসিমকে প্রধান আসামী করা হয়। এজহার নমীয় ৪ জন ছাড়াও অজ্ঞাত ৫/৬ জনকে আসামী করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী এলাকাবাসী ও হামলার শিকার আহত দুই যুবকরা জানান, নিউ লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিল স্কুল সংলগ্ন এলাকায় সজীব নামের এক মাদক ব্যবসায়ী একটি বস্তায় করে ফেনসিডিল নিয়ে যাচ্ছিল। এসময় ওই এলাকার রুবেল মাদবর ও শামীম মাদবর তাকে আটকিয়ে পুলিশকে খবর দেয়। সহযোগিকে আটকানোর খবর পেয়ে মাদক ব্যবসায়ী জসিম ওরফে গলাকাটা জসিম তার সহযোগী জামান, কুট্টি, রশিদুল, রাজু, মুন্না, ইন্দ্রজিৎসহ অন্য মাদক ব্যবসায়ীরা ঘটনাস্থলে পৌছে রুবেল ও শামীমকে লক্ষ্য দুই রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। তাদের নিক্ষিপ্ত গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলেও গুলি শরীরে বিদ্ধ হওয়ার ভয়ে রুবেল ও শামীম দৌড় দেয়নি। এসময় মাদক ব্যবসায়ীরা রুবেল মাদবরের মালিকানাধীন রুবেল ভেরাইটিজ নামে একটি মুদি দোকানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করে এবং রুবেল ও শামীমকে মারধর করে। এ খবর পেয়ে রুবেলের মা হাসিনা বেগম (৪৫) ছেলেকে বাঁচাতে ছুটে আসলে তার নাকমুখে পিস্তলের বাট দিয়ে আঘাত করে আহত করে বলে সাংবাদিকদের নিকট অভিযোগ করেন।

জসিম ওরফে গলাকাটা জসিম এক সময় ১০নং ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাধারান সম্পাদক এবং ক্রসফায়ারে নিহত সন্ত্রাসী রকমতের সহযোগী ছিল। বর্তমানে জসিম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-প্রচার সম্পাদক ইফতেখার আলম খোকনের বডিগার্ড। এলাকায় সে গলাকাটা ফেন্সি জসিম হিসেবে সু পরিচিত। আহত হাসিনা বেগম নাসিক ১০ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি লক্ষীনারায়ণ মাঝিপাড়া এলাকার বাসিন্দা মনির হোসেনের স্ত্রী ও অপর আহত রুবেল তাদের ছেলে। জসিম একই এলাকার মৃত রওশন আলীর ছেলে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, গলাকাটা ফেন্সি জসিম ইফতেখার আলম খোকনের ছায়ায় থেকে তার নাম ভেঙ্গে লক্ষীনারায়ণ ও আরামবাগ এলাকায় বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতার মাধ্যমে বিক্রয় করে থাকে। তার ভয়ে এলাকায় কেউ মুখ খুলতে পারেনা। খুচরা বিক্রেতা মাদকসহ প্রায় সময়ই পুলিশের হাতে ধরা খেলে জসিম থেকে যায় ধরাছোয়ার বাইরে।
এদিকে ১০ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মনির হোসেন বলেন, নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের এমপি শামীম ওসমানের নির্দেশে এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে তারা কাজ করছেন। এর ধারাবাহিকতায় মাদক বিক্রয়ে বাধা দিলে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঘটনাস্থলে যাওয়া সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই শামীম বলেন, গুলির বিষয়ে এলাকাবাসী বললেও কোন গুলির খোসা পাওয়া যায়নি। তবে একটি রামদা উদ্ধার করা হয়েছে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মু. সরাফত উল্লাহ জানায়, গুলি বর্ষণের কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। দুই গ্রুপের মারামারি ঘটনায় থানায় মামলা নেওয়া হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts