November 21, 2018

একের পর এক খুন, এর পর সিরিয়ালে কে?

জাহিদুর রহমান,
ঝিনাইদহ থেকেঃ
ঝিনাইদহে একের পর এক ভিন্ন মতের মানুষ খুন হলেও দৃশ্যত কোন অগ্রগতি নেই। ফলে মানুষের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। এর আগে নিহত ঝিনাইদহে খ্রিষ্টান হোমিও চিকিৎসক সমির খাজা ও শিয়া মতালম্বি হোমিও চিকিৎসক আব্দুর রাজ্জাক হত্যা মামলার অগ্রগতি চলছে ঢিমেতালে। মামলা দুইটির মধ্যে সমির খাজা হত্যা মামলাটি ডিটেক্ট হয়েছে বলে দাবী করেছে পুলিশ। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক শাহিন উদ্দীন জানান, সমির হত্যা মামলায় ৪ জন গ্রেফতার আছে। অগ্রগতিও ভাল। তিনি দাবী করেন মামলাটি ডিটেক্ট হয়েছে।

এদিকে কালীগঞ্জের চাপালী গ্রামের আরেক হোমিও চিকিৎসক আব্দুর রাজ্জাক হত্যা মামলায় দুই জন গ্রেফতার আছে বলে জানিয়েছেন কালীগঞ্জ থানার ওসি আনোয়ার হোসেন। মামলা দুইটির তদন্তের এমন পর্যায়ে আবারো খুন হলেন মন্দিরের পুরোহিত আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলী ওরফে নন্দ। এই তিন হত্যাকান্ডের ব্যাপারে হুমকী পর্যবেক্ষন সাইটে আইএস এর নামে দায় স্বীকার করা হয়। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে আইসএস এর বিষয়ে বলা হয়েছে এ ধারণের দায় স্বীকার ভুয়া।

পুলিশ সুত্রে জানা গেছে এ বছরের ৭ জানুয়ারী ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কালুহাটী গ্রামের বেলেখাল বাজারে খুন হণ বর্ষিয়ান হোমিও চিকিৎসক সমির বিশ্বাস ওরফে সমির খাজা। নিজ চেম্বারে তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। এলাকাবাসির দাবী সমির খাজা এলাকায় খ্রিষ্টান মতবাদ প্রচার করতেন। তবে তার পরিবারের পক্ষ থেকে অস্বীকার করা হয় যে, সমির খ্রীষ্টান মতের নয়। এ ঘটনার পর সমির হত্যার দায় স্বীকার করে আইএস এর নামে দায় স্বীকার করে বিবৃতি প্রচার করা হয়।

এ বছরের ১৪ মার্চ কালীগঞ্জ শহরের নিমতলা এলাকার হোমিও চিকিৎসক আব্দুর রাজ্জাককে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি এলাকায় শিয়া মতবাদ প্রচার করতেন এমন তথ্য রয়েছে। আব্দুর রাজ্জাক হত্যার পরও আইএস দায় স্বীকার করে বিবৃতি দেয়। রাতে আব্দুর রাজ্জাক চাপালী গ্রামে যাওয়ার পথে তাকে হত্যা করা হয়। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার এসআই নীরব হোসেন জানান, মামলাটির তদন্ত এখনো চলছে। দুইজন গ্রেফতার করা হয়েছে। শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছুই বলা যাচ্ছে না।

এদিকে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি এসএম মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, এর আগে খ্রিষ্টান চিকিৎসক সমির খাজা ও শিয়া ধর্মালম্বি হোমিও চিকিৎসক কালীগঞ্জের আব্দুর রাজ্জাক হত্যার সাথে পুরোহিত হত্যার মিল রয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তিনি সাংবাদিকদের জানান,
এ ঘটনার সাথে নিঃসন্দেহে জঙ্গি সংগঠন জড়িত। তিনি বলেন, যারা স্বাধীনতা বিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাধাগ্রস্থ করতে চায়। তারাই এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত। এদিকে ঝিনাইদহে একের পর ভিন্ন মতালম্বি মতের মানুষ খুন হওয়ায় আতংক বিরাজ করছে।

ঝিনাইদহের আরও খবর………।।

দুই মহিলা মেম্বরের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষঃ আহত ১০

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ব্রাহিমপুর গ্রামে মঙ্গলবার বিকালে দুই মহিলা মেম্বরের সমর্থকদের মধ্যে সংঘের্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আবু বকর, ইয়াকুব হোসেন, নায়েব আলী ও মহরাজকে শৈলকুপা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বাকীরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। শৈলকুপা থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে নির্বাচন পরবর্তী সহিংস ঘটনার জরে ধরে উমেদপুর ইউনিয়নের মহিলা মেম্বর জুলেখা ও সাবেক মেম্বর রাফেজার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে এ ঘটনা ঘটে। তিনি জানান, বিকালে জুলেখার স্বামী মকছুদুল ইসলাম বাইসাইকেল যোগে গাড়াগঞ্জ বাজের আসছিলেন।

এ সময় রাফেজার সমর্থক আবু বকর তার বাইসাইকেল ভেঙ্গে দেয়। এ ঘটনায় জুলেখার সমর্থকরা আবু বকরকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেয়। ওসি জানান, এ খবর শৈলকুপার ইব্রাহিমপুর গ্রামে পৌছালে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন কমবেশি আহত হন। আহতদের মধ্যে ৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ বিষয়ে শৈলকুপা থানায় এখনো কোন মামলা হয়নি।

Related posts