December 11, 2018

একাত্তরের কণ্ঠযোদ্ধা সুব্রত সেনগুপ্ত আর নেই

Captureঢাকা::একাত্তরের কণ্ঠযোদ্ধা, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী ও গীতিকার সুব্রত সেনগুপ্ত আর নেই। মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন তার স্ত্রী জলি সেনগুপ্ত।

আজ মঙ্গলবার ভোরে প্রোস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত এই শিল্পী ঢাকার গ্রিন লাইফ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ফোন আসে, তার অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে। পরে সাড়ে ৬টার দিকে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে যান।’

তিনি আরো জানান, ‘হাসপাতাল থেকে তার স্বামীর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে পোস্তগলা মহাশ্মশানে, সেখানেই শেষকৃত্য হবে।’

গত ২৬ মে হঠাৎ সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে সুব্রত সেনগুপ্তকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে গ্রিন লাইফের আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন বেশ কিছুদিন।

চিকিৎসকরা আগেই জানিয়েছিলেন, সুব্রত সেনগুপ্তের প্রোস্টেট গ্ল্যান্ডের ক্যান্সার শরীরের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়েছে। সেইসঙ্গে স্পাইনাল কর্ড, বক্ষ, নিউরো ও ইউরোলজি সমস্যাসহ শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি।

স্বদেশী আন্দোলনের নেতা সুধীর সেনগুপ্তের ছেলে সুব্রত সেনগুপ্ত। প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার তার মায়ের আপন বোন। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর সময় ঢাকার সেগুনবাগিচায় ওস্তাদ বারীণ মজুমদারের সঙ্গীত মহাবিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন সুব্রত সেনগুপ্ত।

মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পর এক পর্যায়ে কসবা হয়ে আগরতলা চলে যান তিনি। সেখান থেকে যান কলকাতায়, যোগ দেন বালীগঞ্জ সার্কুলার রোডে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে। গীতিকার সুব্রত সেনগুপ্ত একুশে ফেব্র্রুয়ারি নিয়ে ১৬০টি গান, আর বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ৫৫৫টি গান রচনা করেছেন বলে জানান তার স্ত্রী।

‘রক্ত চাই রক্ত চাই, অত্যাচারীর রক্ত চাই’, ‘ছোটরে সবাই বাঁধ ভাঙা অগণিত গ্রাম মজুর কিষাণ’, ‘শোন জনতা গণ জনতা’সহ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধের অনেক গান রচনা করেছেন একাত্তরের এ কণ্ঠযোদ্ধা। স্বদেশী আন্দোলনের নেতা সুধীর সেনগুপ্তের ছেলে সুব্রত সেনগুপ্ত। প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার তার মায়ের আপন বোন।

Related posts