September 21, 2018

কাগজ কুড়োনী, এখন বছরে আয় ১কোটি!

গুজরাট

ভারতের গুজরাট রাজ্যের মঞ্জুলা বাঘেলা একসময় কাজ করতেন টোকাইয়ের। রাস্তায় রাস্তায় কাগজ কুড়াতেন। এছাড়াও মাসিক ৩০০ টাকায় ১৯৮১ সালে পৌর কর্তৃপক্ষের ঝাড়ুদার হিসেবেও কাজ করেছেন বেশ কয়েকদিন। কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও সত্য আজ তার বার্ষিক আয় এক কোটি ২৫ লাখ টাকা।

১৯৮৩ সালে ঝাড়ুদারদের নিয়েই একটি প্রতিষ্ঠান খুলেছিলেন তিনি। নাম দিয়েছিলেন ‘শ্রী সৌন্দর্য সাফাই উৎকর্ষ মহিলা সেবা সখারি মণ্ডলী লিমিটেড’। যে প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো পণ্য বিক্রি করা হয় না। বরং সরবরাহ করা হয় সেবা। বিভিন্ন নামিদামি বহুজাতিক সংস্থা‚ আবাসন প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন জায়গায় পরিষ্কারের জন্য এবং ঘরের কাজের জন্য কর্মী সরবরাহ করে সংস্থাটি। ৬০ বছর বয়সী মঞ্জুলা জানান, বর্তমানে প্রতিষ্ঠান‚ আবাসন মিলিয়ে মোট ৪৫টি জায়গায় কর্মী জোগান দেয় এই প্রতিষ্ঠান।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার কাছে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মঞ্জুলা আরো জানান, শুরুতে কো-অপারেটিভ এ সংস্থার সদস্য ছিলেন ৪০ জন। এখন সেই সংখ্যা পৌঁছেছে চার হাজারে। এর বেশির ভাগ সদস্যই একসময় হয় কাগজ কুড়াতেন অথবা পৌর কর্তৃপক্ষের ঝাড়ুদারের কাজ করতেন। আর এখন তাদের হাতে শোভা পায় ঘর ও অফিস পরিষ্কারের বিভিন্ন উন্নত যন্ত্রপাতি। ঘর পরিষ্কারের ছোটখাটো যন্ত্রের পাশাপাশি রাস্তা পরিষ্কারের জন্য রোড ক্লিনার‚ ভ্যাকুয়াম ক্লিনার‚ মপারের মতো যন্ত্র ব্যবহারে দক্ষ করা হয়েছে এই নারীদের। এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বিভিন্ন সরকারি কার্যালয়েও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন মঞ্জুলার সংস্থার কর্মীরা।

মঞ্জুলা জানান, এই সংস্থা একদিনে গড়ে ওঠেনি। আস্তে আস্তে শুরু করে এই সংস্থাটি এখন গুজরাট, আহমেদাবাদ এমনকি দিল্লির মানুষের ঘরের কাজের সহযোগী জোগান দিয়ে চলছে। তিনিই এখন এই সংস্থার প্রধান। তার দেখাদেখি আরো অনেকে এই উদ্যোগ নিয়েছে। এদিকে মঞ্জুলার উদ্যোগের বার্ষিক আয় দাঁড়িয়েছে এক কোটি ২৫ লাখ টাকা।

Related posts