September 21, 2018

একদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ছিল!

তরুণ নেতৃত্বের কথা মাথায় রেখে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠার পরপরই ১৯৭৯ সালের ১ জানুয়ারি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই থেকে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সব সংকটে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয় সংগঠনটি। বিশেষ করে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সংগঠনটির বেশ ভূমিকা ছিল। ছাত্রদের অধিকার আদায়েও অবদান রাখার ইতিহাস আছে এ সংগঠনের। কিন্তু সেই ছাত্রদলকে ভুলতে বসেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীরা। ছাত্রদল নিয়ে কথা উঠলেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের বলতে শোনা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল আছে না কি, মনে হয় একসময় ছিল!

ছাত্রদলের এমন দশার কারণ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কমিটি না থাকাকেই দুষছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান নেতারা। তারা বলছেন, সাড়ে চার বছর ধরে কমিটি না থাকলে কারা ছাত্রদল করবে? বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান নেতাদের অনেকেই বিয়ে করে সন্তানের জনক হয়ে গেছেন। অনেকে ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রচার সম্পাদক নুরুল হুদা সোহেল বাংলামেইলকে বলেন, ‘বর্তমানে যারা দায়িত্বে আছেন তাদের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই এ অবস্থা। আমরা যারা আছি তারা চেষ্টা করছি সংগঠনকে গোছানোর জন্য। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কমিটি না থাকায় পেরে উঠছি না।’

‘মামলা, অত্যাচার সহ্য করে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। আমরা চাই ছাত্রদের দিয়ে ছাত্রদলের কমিটি গঠন করা হোক,’ বলেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কর্মী মার্কেটিং বিভাগের এমবিএ শিক্ষার্থী মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন কমিটি না হওয়ায় এই নাজুক অবস্থা। কমিটি হলে সব ঠিক হয়ে যাবে। অনুরোধ করি, খুব তাড়াতাড়ি যেন কমিটি দেয়া হয়। না হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এ সংগঠনকে চালিয়ে নেয়া খুব কষ্ট হবে।’

২০১১ সালের ২৯ মার্চ ছাত্রদল চবি শাখার মাত্র তিন সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় সংসদ। আমিনুল ইসলাম তৌহিদকে সভাপতি, নেছারুল ইসলামকে জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ও সাইফুদ্দিন সালাম মিঠুকে সাধারণ সম্পাদক করে এ কমিটি গঠন করা হয়। এর পর ওই বছরের সেপ্টেম্বরে ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি কেন্দ্রে জমা দেয় তিনজনের ওই কমিটি।

কিন্তু সাড়ে চার বছরেও অনুমোদন পায়নি ওই কমিটি। এ নিয়ে সংগঠনটিতে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। দ্বিধান্বিত নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বিভক্তি। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন জাতীয় দিবসে আলাদা গ্রুপে এসে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে দেখা গেছে।

ফলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অভিভাবকহীন হয়ে চলছে ছাত্রদলের কর্মকাণ্ড। অনেকটা অদৃশ্য হয়ে আছে সংগঠনটি। ছাত্রদলকে পুরোপুরি ভুলতে বসেছে তরুণ প্রজন্ম। এ অবস্থা চলতে থাকলে একসময় এ সংগঠনকে সবাই ভুলে যাবে বলে মনে করছেন অনেকেই।

একাধিক সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আমিনুল ইসলাম তৌহিদ ১৯৯৮-৯৯ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন। তিনি মাস্টার্স শেষ করেছেন ২০০৫ সালে। কিন্তু এখনও তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে নিজেকে দাবি করেন।

সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন সালাম মিঠু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষে। তিনি ছাত্রত্ব ধরে রাখতে মাস্টার্সে দুই বার ড্রপ দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী দু’বার ড্রপ দিলে ছাত্রত্ব বাতিল হয়ে যায়। সে হিসেবে তার ছাত্রত্ব নেই। এ ছাড়াও তিনি বিয়ে করে সন্তানের বাবাও হয়েছেন বলে জানা গেছে।

একইভাবে ছাত্রত্ব নেই কমিটির অপর নেতা সিনিয়র সহ-সভাপতি নেসারুল ইসলাম নাজমুলের। তিনি ১৯৯৯-২০০০ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। প্রথম বর্ষের পরীক্ষায় অংশ না নিয়ে ফের ২০০০-০১ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন। একাধিকবার পরীক্ষায় অংশ না নিয়ে ছাত্রত্ব টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেন তিনি।

অবশেষে ২০০৮ সালে অনার্স চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেন। কিন্ত নির্দিষ্ট পয়েন্ট অর্জন করতে না পারায় তিনি মাস্টার্সে ভর্তি হতে পারেননি। ছাত্রত্ব ধরে রাখতে বাধ্য হয়ে ২০১০ সালে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন সালাম মিঠু বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একপক্ষীয় ভূমিকার কারণে আমরা কোনো অনুষ্ঠান করতে পারি না। ছাত্রদল কোনো মিছিল–মিটিং করলে তারা বাধা দেয় অথচ রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ছাত্রলীগ নিয়মিত প্রোগ্রাম করছে।’

ছাত্রত্ব না থাকা ও বিয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি কোনো পদ চাই না। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে তাড়াতাড়ি কমিটি হোক সেটা চাই এবং এ কমিটিতে যাতে নিয়মিত শিক্ষার্থী থাকে সে আশাই করি।’

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান সরাসরি ফোনে চারদিন ধরে যোগাযোগ করতে না পারলেও পরে ভাইভারে তিনি বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে উদ্যোগ নিয়েছি পুরো ছাত্রদলকে পুনর্গঠন করা হবে। সে হিসেবে আগামী জানুয়ারিতে ঢাকার সব শাখায় ছাত্রদলের কমিটি দেয়ার পরই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটি দেয়া হবে।’বা.মে.

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts