September 18, 2018

একটি নতুন প্লাটফর্ম তৈরির আহবান মওদুদের

ঢাকাঃ  দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে একটি নতুন প্লাটফর্ম তৈরি করতে হবে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথি হিসাবে দর্শক সারিতে বসে আলোচনা সভা শুনেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। রোববার বিকেল ৪.২২মিনিটে তিনি আসার পরেই রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এ আলোচনাসভা শুরু হয়।

মওদুদ আহমেদ বলেন, “এতো অত্যাচার, নির্যাতন জুলুম চলছে তারপরও বিএনপির মাঠ পর্যায়ের একজন কর্মীও তো বিএনপি ছেড়ে যায়নি। বিএনপির এখন ক্রান্তিকাল চলছে। এটা সাময়িক। হতাশার কিছু নেই। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। তবে এটা বিএনপির একার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই নতুন একটি প্লাটফর্ম তৈরি করতে হবে। এ প্লাটফর্মে সকল পেশার মানুষকে একত্রিত করতে হবে।”

তিনি বলেন, “আজ দেশের মানুষের ভোট দেয়ার অধিকার হরণ করা হয়েছে। যার বড় প্রমাণ ইউপি নির্বাচন। এটা কোনো নির্বাচন হলো? অর্থহীন নির্বাচন।”

বিএনপি নেতা বলেন, “বিএনপি একটি উদার গণতান্ত্রিক মধ্যপন্থি দল। বিএনপি জঙ্গি- সন্ত্রাস, উগ্রপন্থিতে বিশ্বাস করে না, ঘৃণা করি। যেকোনো হত্যার নিন্দা জানাই। তাই হত্যাকারীদের কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না এর জবাব সরকারকেই দিতে হবে।”

মওদুদ বলেন, “দেশে গণতন্ত্র না আসলে জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের উত্থান অবধারিত। যারা বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে ষড়যন্ত্র করছেন তাদের জানিয়ে দিতে চাই বাংলাদেশকে আমরা জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদী রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চাই না।”

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, “বিগতদিনে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে আন্দোলন করেছিল। বলতে পারেন আমরা সফল হইনি। আন্দোলন করি না এটা বলা ঠিক না। বিশ হাজারের বেশি মামলায় লক্ষাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেফতার করে জেলখানা ভরে ফেলেছে।”

তিনি বলেন, “একটি কথা স্পষ্ট করে বলে দিচ্ছি বিএনপি আছে, বিএনপি থাকবে। বিএনপিকে ঠেকানো যাবে না। সময়ে তারা তাদের কাজ করবেই “

অভিযোগ করে আব্বাস বলেন, এখন সভা-সমাবেশ, মিছিল করতে দেয়া হয় না। এটা লাগে ওটা লাগে। অনুমতি নিতে গেলে দেয় না। যা সরকারের স্বৈরাচারী মনোভাব।”

তিনি বলেন, “দেশের স্বাধীনতার ইতিহাস রচনাকারী জিয়াউর রহমান। আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা যুদ্ধ করেনি ভারত থেকে এসে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মানুষের কাছে শুনেছে। আওয়ামী লীগের অন্যায় অত্যাচার প্রতিরোধ করতেই বিএনপির সৃষ্টি করা হয়েছে। তাই আজকে শহীদ জিয়ার নাম শুনলেই আওয়ামী লীগের ঘাত্রদাহ হয়ে যায়। কারণ জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। শহীদ জিয়াউর রহমান না হলে আওয়ামী লীগ রাজনীতি করার সুযোগ পেত না।”

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. খন্দকার মোস্তাহিদুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মাহবুব উল্লাহ, ছাত্রমৈত্রীর সাবেক সভাপতি আতাউর রহমান ঢালি প্রমুখ।

আলোচনা সভায় দর্শকসারীতে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমার, শামসুজ্জামান দুদু, অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, এম এ হালিম, ব্যারিস্টার হায়দার আলী, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সালাম, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলম, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন, মহিলা সভানেত্রী নূরে আরা সাফা, সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ক ম মোজ্জামেল হক, ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসান প্রমুখ।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি ২৯ মে ২০১৬

Related posts