November 15, 2018

একটি ছবিতেই গুলশান হত্যার রহস্য উদঘাটন!

ঢাকাঃ রক্ত, লাশের সারি হাসনাতের খানাপিনা ও একটি ছবিই বলে দিচ্ছে গুলশানে জঙ্গি হামলা ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী কারা? ছবিতে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে ১ জুলাই রাতে জঙ্গি হামলায় অংশ নেয়া রোহানের সঙ্গে ছাদে শলাপরামর্শ করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. হাসনাত ও কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তাহমিদ খান। রোহানের পায়ের জুতো তখন রক্তাক্ত। তারমানে পুলিশের হাতে আটক হাসনাত ও তাহমদিই গুলশান হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী? তদন্তকারীদের কাছে একটি বিষয়ের অত্যন্ত বিস্ময়ের মনে হয়েছে, তা হলো ২০টি লাশের মধ্যে বসে কীভাবে জঙ্গিদের সাথে একই টেবিলে বসে হাসনাত করিম সম্পূর্ণ সুস্থভাবে রাতের খাবার খেতে পারেন?

রেস্টুরেন্টের সহকারী বাবুর্চি মিরাজ তদন্ত দলের কাছে দেয়া তার জবানবন্দিতে চাঞ্চল্যকর এ তথ্য দেন। তিনি তার জবানবন্দিতে বলেন, পাঁচ জঙ্গির সঙ্গে বসে স্ত্রী ও শিশুসন্তানদের নিয়ে তার রান্না করা খাবার খান হাসনাত করিম। এ সময় খাবার টেবিলে তাহমিদ খানও বসেছিলেন।

তদন্ত সূত্র আরও জানায়, হত্যাকাণ্ড চালানোর আগে রেস্টুরেন্টের ভেতরে থাকা বেশকিছু লোককে অস্ত্রের মুখে বিভিন্ন বাথরুমে বন্দি করে রাখা হয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে হাসনাত করিম ও তাহমিদ ছিলেন পুরোপুরি মুক্ত। এদের দু’জনকে বাথরুমে আটকে রাখা তো দূরের কথা তারা পুরোপুরি মুক্ত অবস্থায় রেস্টুরেন্টের ভেতর ইচ্ছেমতো ঘুরে বেড়াতে পেরেছে। তাদের সন্দেহ করার ক্ষেত্রে এটিই অন্যতম ক্লু।

এছাড়া নারকীয় এই হত্যাযজ্ঞের মধ্যেই পরদিন ভোরে ভবনের ছাদে হাসনাত করিমকে ধূমপান করতে দেখা যায়। অথচ তখন ছিল পবিত্র রমজান মাস। হাসনাত করিম গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে নিজেকে ধার্মিক বলে দাবি করলেও সেদিন তিনি রাতের খাবার খেয়েও রোজা রাখেননি। এই তথ্যও তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ভাবিয়ে তুলেছে।

এছাড়া গোয়েন্দাদের জেরার মুখে হাসনাত বলেন, মাঝে মাঝে তিনি রোজা রাখেন। আবার মাঝে মাঝে রাখেন না। এশার নামাজ এবং তারাবি না পড়ে সপরিবারে কেন হলি আর্টিজানে এসেছিলেন-এমন প্রশ্নেরও কোনো সদুত্তর দেননি হাসনাত করিম।

উল্লেখ্য, রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে হাসনাত রেজা করিম ও তাহমিদ হাসিব খানকে রিমান্ডে (জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজত) নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম (সিটি) ইউনিট। হাসনাত ও তাহমিদকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হলে আদালত আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত ১ জুলাই রাতে গুলশানের ২ নম্বর সেকশনের ৭৯ নম্বর রোডে হলি আর্টিজান বেকারি রেস্টুরেন্টে হামলা চালিয়ে ১৭ বিদেশিসহ ২০ জনকে হত্যা করেছিল জঙ্গিরা। প্রাথমিক অভিযান চালাতে গিয়ে প্রাণ হারান পুলিশের দুই কর্মকর্তা। জিম্মিদের উদ্ধার করতে পরদিন সকালে কমান্ডো অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নিহত হয় পাঁচ জঙ্গিসহ ছয়জন। আহত একজন চিকিৎ্সাধীন অবস্থায় পরে হাসপাতালে মারা যায়। অভিযান শেষ হওয়ার আগেই ভোরের দিকে হাসনাত করিম রেস্তোরাঁ থেকে বেরিয়ে আসেন সপরিবারে। হাসনাত ও তাঁর পরিবারের সদস্যসহ মোট ৩২ জন উদ্ধার হন হলি আর্টিজান থেকে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন তাহমিদও। ৩২ জনকেই পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পর অন্যরা ছাড়া পেলেও হাসনাত ও তাহমিদকে নিজেদের হেফাজতে রাখে পুলিশ।

গুলশানে হামলার পরদিন হাসনাত, তাহমিদসহ ৩২ জনকে হেফাজতে নিয়ে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে সাক্ষ্য নেওয়া হয়। তবে সেই সময় জিজ্ঞাসাবাদে হাসনাত ও তাহমিদের কথাবার্তা এবং আচরণে সন্দেহ দেখা দিলে তাঁদের নজরদারির মধ্যে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রাখেন গোয়েন্দারা।

Related posts