November 18, 2018

এককালের প্রমত্তা ব্রহ্মপুত্র নদ এখন গো-চারণ ভূমি

ccccccc

আজিজুর রহমান ভূঞা বাবুল, ময়মনসিংহ বিভাগীয় ব্যুরো ঃ
এককালের প্রমত্তা ব্রহ্মপুত্র নদ এখন গরু-ছাগলের চারণ ভূমি। যে ব্রহ্মপুত্রের বুকে বছরের ১২ মাস ¯্রােতের কল কল ধ্বনি শোনাযেতো, সেই ব্রহ্মপুত্র নদ এখন স্্েরাতহীন। তিব্বতের কৈলাস পর্বতের হিম শীতল জলপ্রপাত, মানস সরোবরের নীলপদ্ম বিধৌত জলরাশি ও চেমাইয়াং ডং হিমবাহের ¯্রােতে সৃষ্ট প্রমত্তা ব্রহ্মপুত্রের সেই আদি রূপের বিবরণ এখন শুধু ভৌগোলিক ইতিহাস হাতরালেই জানা যাবে। দখল, দূষণ আর দীর্ঘদিন ড্রেজিং না করায় ব্রহ্মপুত্র এখন যৌবনহারা মৃতপ্রায়।
জেগে উঠছে মাইলের পর মাইল চর, কোথাও এক ফোটা পানি নেই।

ময়মনসিংহ অঞ্চলের ময়মনসিংহ সদর, ঈশ্বরগঞ্জ, ত্রিশাল, নান্দাইল,গফরগাঁওয়ের বুক চিরে বয়ে চলা প্রমত্তা ব্রহ্মপুত্রের বুকে আজ জেগে উঠেছে বিশাল চর। দিনে দিনে চর হয়ে উঠেছে গরু-ছাগলের চারণভূমি। এখন কোথাও কোথাও উত্তাল ব্রহ্মপুত্র নদের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়াই দুষ্কর। যেন মানচিত্র থেকে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। এই হল ময়মনসিংহের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র নদের বর্তমান হাল।

এক সময় দেশের অভ্যন্তরে দীর্ঘ এই নদকে ঘিরে দু’পাড়ের হাজারো মানুষের জীবিকা ও বসতবাড়ির সংস্থান গড়ে উঠেছিল। এলাকার বয়স্ক মুরুব্বীদের মতে, ময়মনসিংহের কোনো কোনো এলাকায় ব্রহ্মপুত্র ৭ থেকে ১২ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রশস্ত ছিল। সেকালের উত্তাল খর¯্রােতা পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ আজ যৌবনহারা, মরা খালে পরিণত হওয়ায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের ৫৪৩১ বর্গকিলোমিটার অববাহিকা এবং তার শাখা ও উপনদীগুলো প্রায় দুই হাজার বর্গকিলোমিটার অববাহিকায় বসবাসকারী বৃহত্তর ময়মনসিংহের এক কোটি মানুষ আজ পানির সুবিধাসহ চাষবাস থেকে বঞ্চিত।

ব্রহ্মপুত্র নদ আসামের ধুবড়ি থেকে নেমে দক্ষিণ-পূর্বমুখী কুড়িগ্রামের চিলমারী হয়ে ফুলছড়ি, হরিচন্ডী, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের খোলাবাড়ি এলাকায় যমুনার সঙ্গে মিলিত হয়েছে। সেখান থেকে জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর, মেলান্দহ, জামালপুর সদর, ময়মনসিংহ জেলার ময়মনসিংহ সদর, ঈশ্বরগঞ্জ, ত্রিশাল, নান্দাইল, গফরগাঁও, কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর, কটিয়াদি, কুলিয়ারচর, ভৈরব উপজেলার প্রায় ২৫০ কিলোমিটার প্রবাহিত হওয়ার পর পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ভৈরবে মেঘনা নদীতে পতিত হয়েছে।
cccccc

সেই উত্তাল নদকে ঘিরে প্রাচীন আমলে বিভিন্ন স্থানে নৌ-বন্দর ও বাণিজ্য কেন্দ্র গড়ে উঠেছিল। যুদ্ধ-বিগ্রহের জন্য সৈন্য ও গোলাবারুদ এই নৌপথেই আনা নেয়া হতো। এর শাখাগুলোও ছিল প্রবল খর¯্রােতা। কিন্তু কালের বিবর্তনে অধিকাংশ শাখা নদীর চিহ্ন পর্যন্ত আজ আর খুঁজে পাওয়া যায় না।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, পানি প্রবাহের পাশাপাশি ¯্রােত না থাকায় ভরাট হয়ে যাচ্ছে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ।
ময়মনসিংহ অঞ্চলে ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকায় পরিবেশ বিপর্যয়সহ কৃষি আবাদে নেমে এসেছে ভয়াবহ বিপর্যয়। নদের তলদেশে পানি না থাকায় সেচনির্ভর কৃষকরা পড়েছেন মহাসংকটে।

নদের উভয় পাড়ের মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিগত ৫৫ বছরেও কোনো ড্রেজিং না হওয়ায় নদের তলদেশে পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। এক কালের উত্তাল নদ ছন্দ হারিয়ে আজ মরা খালে পরিণত হয়েছে। বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে জীববৈচিত্রসহ মৎস্য সম্পদ ও নানা জলজ প্রাণী। হাজারো জেলে পরিবার তাদের বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে জীবিকার তাগিদে অন্য পেশা বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে।

অনেক সমৃদ্ধ ইতিহাসের নীরব সাক্ষী ব্রহ্মপুত্রের অস্তিত্ব আজ নাব্য সংকটে বিপন্ন। ব্রহ্মপুত্র নদের ড্রেজিং করে এর নাব্য ফিরিয়ে আনা ময়মনসিংহ অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে।##

Related posts